kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বই আলোচনা

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা প্রসঙ্গে

আলী হাবিব

২ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা প্রসঙ্গে

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা, যাযাবর স্বপন। প্রকাশক : রাইটার্স গিল্ড, প্রচ্ছদ : অপূর্ব খোন্দকার, মূল্য : ৩০০ টাকা

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস বারবার বিকৃত করার চেষ্টা করা হয়েছে। বাঙালির দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামকে বিকৃত করার চেষ্টা কম হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে এ দেশের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয়েছে মিথ্যা ইতিহাস। বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের মহান আদর্শকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টাও হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের রাজনৈতিক ইতিহাসকে অগ্রাহ্য করার অপচেষ্টাও কম হয়নি।

এটা স্বীকৃত ইতিহাস যে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন গণহত্যা শুরু করে তখন ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাড়ি থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। সেই ঘোষণায় তিনি বলেন, ‘এটাই হয়তো আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের মানুষকে আহবান জানাই, আপনারা যেখানেই থাকুন, আপনাদের সর্বস্ব দিয়ে দখলদার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যান। বাংলাদেশের মাটি থেকে সর্বশেষ পাকিস্তানি সৈন্যটিকে উত্খাত করা এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের আগ পর্যন্ত আপনাদের যুদ্ধ অব্যাহত থাকুক।’

একই সময়ে আরো একটি বার্তা পাঠানো হয়। সেই বার্তাটি ছিল এ রকম : ‘আজ বাংলাদেশ একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার রাতে পশ্চিম পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী হঠাৎ ঢাকার পিলখানা, রাজারবাগ ও ইপিআর সদর দপ্তরে হামলা চালায়। ঢাকা শহর এবং বাংলাদেশের অন্যান্য স্থানে, অনেক নিরপরাধ ও নিরস্ত্র মানুষ নিহত হয়েছে। একদিকে পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলস ও পুলিশের মধ্যে সহিংস সংঘর্ষ, অন্যদিকে পিণ্ডি থেকে সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সহিংস সংঘর্ষ চলছে। বাঙালিরা স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে শত্রুর সঙ্গে লড়াই করছে। বাংলাদেশের প্রতিটি কোনায় বিশ্বাসঘাতক শত্রুদের প্রতিরোধ করুন। ঈশ্বর আমাদের স্বাধীনতার জন্য লড়াইয়ে সাহায্য করুন। জয় বাংলা।’

কিন্তু যে কথাটি বারবার করে বলার, তা হচ্ছে, এই স্বাধীনতার ঘোষণার প্রেক্ষাপট একদিনে তৈরি হয়নি। একটি জাতিকে স্বাধীনতার অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে নিতে যে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, সেই পথ তৈরি করা হয়েছে। সর্বোপরি বাঙালির রাজনৈতিক মানস গঠনের কঠিন দায়িত্ব এককভাবে পালন করেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সে কারণেই ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আঘাত হানলেও নিরস্ত্র বাঙালি রুখে দাঁড়াতে সময় নেয়নি। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ছেষট্টির ছয় দফা, উনসত্তরের গণ-আন্দোলন, সত্তরের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাঙালি একটু একটু করে এগিয়ে গেছে মুক্তি ও স্বাধীনতার দিকে। আর জাতিকে এই লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে গেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। অথচ পঁচাত্তরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের ইতিহাস থেকে তাঁর নাম মুছে ফেলার অপচেষ্টা হয়েছে।

বাঙালির স্বাধীনতা ও মুক্তি অর্জনের ইতিহাস, স্বাধীনতা ঘোষণার নেপথ্য ইতিহাস উঠে এসেছে যাযাবর স্বপনের এই বইটিতে। সন্নিবেশিত হয়েছে নানা তথ্য-উপাত্ত।



সাতদিনের সেরা