kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

অনুজের জন্য শোকগাথা

কামাল চৌধুরী

২ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



(গত বছরের ২৯ জুন প্রয়াত ছোট ভাই

আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী স্মরণে)

 

আজ কিছুই মনে করতে পারছি না আমি

আমাদের একটি প্রবল প্রার্থনার মাস, 

আমাদের দীর্ঘ দীর্ঘ দীর্ঘ তিরিশ দিন,

ঘুমিয়ে পড়ার জন্য আমরা অপেক্ষায় থাকিনি

মনে পড়ছে না, কারো ঘরে ফেরার জন্য আমরা কি সকাতরে 

অপেক্ষা করেছি?

মনে পড়ছে না কান্না শুকিয়ে যাবার আগে

জলবায়ুর উষ্ণতার কথা ভুলে গিয়ে আমরা কি হিমবাহ ছুটে আসার অপেক্ষায় ছিলাম

দূর মেরুতে গলে যাওয়া বরফখণ্ডের স্ফীতির জোয়ারে ভেসে যেতে যেতে মনে পড়ছে না

কাকে বাঁচাবার আকুলতায় আমরা তড়িঘড়ি উঠে যেতে চেয়েছিলাম নূহের নৌকায়—

মনে পড়ছে না খড়ের বদলে পাখির ঠোঁটে কে নিয়ে এসেছিল ভেজা ঝাউপাতা!

এখন অশ্রুকণা, জল থেকে তুমি কতদূর?

অগ্রন্থিত লবণের সমুদ্রসীমায় ফেলে আসা কাকে মনে পড়ছে না আজ?

 

২.

৩৬৫ দিন বছরের চেয়ে দীর্ঘ। ৩৬৫ দিন আগে একদিন জানালার শার্সি

ভেঙে ছুটে আসা বাতাসের নীল রং আমি মনে করতে পারছি না 

মনে করতে পারছি না আমার ভয়

মনে করতে পারছি না আমাদের ভয়

মনে করতে পারছি না করোনায় গৃহবন্দি রাজপথ

লকডাউনের শ্রবণ-বধির চিৎকার!

মনে করতে পারছি না বলেই পৃথিবীটা বাড়িঘরের মতো দরজা জানালা বন্ধ করে বসে আছে,

মনে করতে পারছি না বলেই টেউয়ের পরে টেউ এসে খুঁজে ফিরছে ভ্যাকসিন ও সুঁই ফোটানোর আকাশ—

অথচ পৃথিবীটা এখনো শেষ হয়ে যায়নি

মানচিত্র ঠিক আছে—বাণিজ্য ঠিক আছে

নির্বাচন হচ্ছে, কবিতা পাঠ হচ্ছে—পাহাড়ে ওঠার স্বপ্ন  দেখতে দেখতে তরুণ কবির কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে আশাবাদ।

তবুও তীব্র বাতাসে আলবেয়ার ক্যামুর বইয়ের পাতা উল্টে যাচ্ছে বারবার!

 

৩.

একটি সামান্য আশার কথা শোনার জন্য আমি কি অপেক্ষা করেছি?

ডাক্তার, আপনি তো বলতে পারতেন অক্সিজেনের নল খুলে ফেলতে পারবেন, আপনি তো বলতে পারতেন

ফিরে আসবে আমার ভাই—

হাসপাতালের বেড থেকে,

আইসিইউ থেকে,

ভেন্টিলেটর থেকে পৃথিবীটা অনেক সুন্দর—

আপনাদের প্রতিদিনকার এসএমএস থেকে উড়ে যেতে পারত রঙিন প্রজাপতি—

 

৪.

এ সবকিছুই আজ মনে করতে পারছি না আমি

আমাদের একটি প্রবল প্রার্থনার মাস, 

আমাদের দীর্ঘ দীর্ঘ দীর্ঘ তিরিশ দিন,

৩৬৫ দিন আগে একদিন জানালার শার্সি ভেঙে ছুটে আসা বাতাসের নীল রং—

শুধু মনে পড়ছে শুভ্র কাফনে শোক ও স্তব্ধতা

সমাধিফলকে লেখা অনন্তের অশ্রুবিন্দু!