kalerkantho

সোমবার । ৫ আশ্বিন ১৪২৮। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১২ সফর ১৪৪৩

বই আলোচনা

অনুপম সেন : বাংলার সারস্বত ধারার উত্তরাধিকার

আবু সাঈদ   

২৫ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বই আলোচনা

বাঙালির বিদ্বৎসমাজে অনুপম সেনকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কিছু নেই। বাংলা ও ভারত উপমহাদেশের রাজনীতি-অর্থনীতি-সমাজনীতির গতি-প্রকৃতি ও রাষ্ট্র চরিত্র নির্ণয়ে তিনি মার্ক্স ও মার্ক্সবাদের কাছে ঋণী হলেও স্বকীয় দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে স্বতন্ত্র হয়ে আছেন। তাঁর লেখালেখি, চিন্তা-ভাবনা ও এষণা-গবেষণার বড় অংশজুড়ে আছে রাষ্ট্র-সমাজ-অর্থনীতি-রাজনীতির স্বরূপ বিশ্লেষণ। প্রাক-ব্রিটিশ, ব্রিটিশ, ব্রিটিশোত্তর এবং আজকের বাংলাদেশের সামাজিক, আর্থনীতিক-রাজনীতির গতিবিধি ও পরিবর্তনশীলতাকে তিনি পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং এখনো করে চলেছেন। তা ছাড়া গত শতাব্দীর ষাটের দশক থেকে পাকিস্তানিদের আরোপিত সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এ দেশে যে সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সূত্রপাত হয় অনুপম সেন ছিলেন তার পুরোধা ব্যক্তিত্ব।

ড. অনুপম সেন দীর্ঘ ৫০ বছরেরও অধিককাল শিক্ষকতার মহান পেশায় নিজেকে ব্যাপৃত রেখেছেন। অনুপম সেনের অশীতিতম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলী প্রয়াসের সম্পাদনায় প্রকাশিত হলো ‘অনুপম সেন : অনন্য আলোকরেখা’ শিরোনামে ৬৭২ পৃষ্ঠার সুবিশাল একটি সম্মাননা গ্রন্থ। চারটি বিভাগে বিন্যস্ত—প্রবন্ধ, নিবন্ধ, স্মৃতিচারণ ও সাক্ষাৎকার। এ গ্রন্থ প্রায় ৮০ জন প্রাজ্ঞজনের লেখায় ঋদ্ধ হয়েছে। লেখকদের তালিকায় রয়েছেন ড. আনিসুজ্জামান, হাসান আজিজুল হক, ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. আতিউর রহমান, ড. মাহবুবুল হক, আবুল মোমেন, ড. মুনতাসীর মামুন, ড. মোহীত উল আলম, ড. মহীবুল আজিজ প্রমুখ। স্যারের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ওবায়দুল করিম এবং সম্পাদক আলী প্রয়াস স্বয়ং। তা ছাড়া স্যারের লেখার নির্বাচিত অংশসহ পত্রালাপ, জীবনপঞ্জি সংযোজিত হওয়ায় বইটি আরো সমৃদ্ধ ও আকর্ষণীয় হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে লেখাগুলোর মধ্যে উঠে এসেছে ড. সেনের জীবন, কর্ম, গবেষণা বিষয়ে আলোচনা-তত্ত্বালোচনা ও সাহিত্যভাবনা।

ড. অনুপম সেন সেই বিরলপ্রজ বুদ্ধিজীবীদের একজন, যে বুদ্ধিজীবী শুধু পাঠের মধ্যে নিজেকে নিমজ্জন না রেখে, সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নিজেকে ও সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যান। হাসান আজিজুল হক ড. অনুপম সেনের সামাজিক দায়বদ্ধতাটির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, ‘তাঁর (অনুপম সেন) চিন্তাধারা অত্যন্ত প্রগতিশীল, প্রগতিশীল মানে সমাজের অসাম্যটাকে একেবারেই পছন্দ করেন না। সেভাবেই তিনি কথা বলেন; কিন্তু সেটা তথাকথিত রাজনৈতিক বক্তৃতা নয়, খুব বুদ্ধিদীপ্ত সমাজচিন্তা, দিকনির্দেশনামূলক রাষ্ট্রভাবনা। এ জন্যই বলি তিনি অত্যন্ত অগ্রসরমাণ মানবতাবাদী সমাজচিন্তক; সেই সঙ্গে তিনি উদার, জ্ঞানী—এ রকম বহু ধরনের বিশেষণ তাঁর সম্পর্কে লাগানো যায়।’

আলী প্রয়াস সম্পাদিত এই সম্মাননা গ্রন্থে অনুপম সেন স্যারের পাণ্ডিত্য, কর্ম ও জীবনের প্রতিচ্ছবি যেমন উঠে এসেছে, তেমনি তাঁর উত্তরাধিকার অন্বেষণের একটি তাগিদও অনুভূত হয়েছে।