kalerkantho

সোমবার । ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮। ২ আগস্ট ২০২১। ২২ জিলহজ ১৪৪২

‘অ্যাকচুয়াল জগৎ থেকে এখন আমি ভার্চুয়াল জগতে বেশি অভ্যস্ত’

কবিতা যাঁর নেশা, পেশা ও প্রতিশোধ গ্রহণের হিরণ্ময় হাতিয়ার সেই কবি নির্মলেন্দু গুণ ২১ জুন সাতাত্তরে পা দিচ্ছেন। জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর সাম্প্রতিক সাহিত্যকর্ম ও জীবনকথা নিয়ে মুখোমুখি হয়েছেন কবি গিরীশ গৈরিক

১৮ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘অ্যাকচুয়াল জগৎ থেকে এখন আমি ভার্চুয়াল জগতে বেশি অভ্যস্ত’

করোনার এই দীর্ঘ মহামারিতে আপনার সময় কেমন করে কাটছে, কবি?

করোনার লকডাউন পৃথিবীজুড়ে দেড় বছর হলেও আমার কাছে মনে হচ্ছে দেড় সপ্তাহ। কেননা আমার কাছে সময়ও একপ্রকার ব্যক্তি-ঘটনার মাধ্যমে প্রবাহিত হয়। কোনো ঘটনা জীবনে না ঘটলে তো সময় অর্থহীন; যদিও ইন্টারনেট আমাদের এ সবকিছু থেকে মুক্তি দিয়েছে। অ্যাকচুয়াল জগৎ থেকে এখন আমি ভার্চুয়াল জগতে বেশি অভ্যস্ত। এখন এই জগতেই চলে আমার শিল্প, কবিতা, প্রেম ও বিরহ। আমার জীবন-ঘটনাগুলোর সাক্ষ্যই আমার কবিতা, তাই বানিয়ে কিছু লিখি না। আমার জীবনের সব ঘটনাই আনন্দের। পিকাসোর একটা উক্তি আছে—‘I don’t search, I find.’ মানে ‘আমি খুঁজি না, আমি পাই।’ আমার জীবনটাও একদম সে রকম। আমি বানিয়ে তৈরি করে লিখি না, আমার চারপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনাই কবিতার মাধ্যমে উপস্থাপন করি, শিল্পের মধ্যে উপস্থাপন করি। একবার প্রয়াত হুুমায়ূন আহমেদ আমাকে বললেন : আপনি গল্প লিখছেন না কেন? উত্তরে বললাম : আপনাদের মতো বানিয়ে বানিয়ে আমি গল্প লিখতে পারি না। চারপাশে যা ঘটতে দেখি সেটাই আমার কাছে শিল্পের মূল বিষয়। কখনো আমার জীবনকে কেন্দ্র করে, কখনো বা আমার পরিপার্শ্ব। এসব থেকে যে ঘটনাপুঞ্জ আমাকে নাড়া দেয়, সেগুলো নিয়েই লিখি। সুতরাং ঘটনাই আমার ব্যক্তিজীবনকে যতটা মহিমান্বিত করে, কবিতাকে করে আরো বেশি।

 

লকডাউন অবসরে কী কী কাজ করলেন দাদা?

লকডাউনে শুয়ে-বসে থাকিনি—বেশির ভাগ পুরনো খেলা টিভিতে দেখেছি, অসংখ্য অনলাইন সাক্ষাৎকার দিয়েছি; যেগুলো নিয়ে বইমেলায় ‘নির্মলেন্দু গুণ অনলাইন সাক্ষাৎকার’ নামে বই প্রকাশিত হয়েছে। কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন খুব গভীরভাবে পর্যাবেক্ষণ করেছি। এক এক করে চারটি কাজ করেছি : ছাপাখানার ভূত প্রকাশনী থেকে ‘আনন্দউদ্যান’, চিরদিন প্রকাশনী থেকে ‘Ode to a Leader’, কাকলী প্রকাশনী থেকে ‘নির্মলেন্দু গুণ অনলাইন সাক্ষাৎকার’ প্রকাশিত হয়েছে গত বইমেলায় এবং কথাপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত হবে ‘একুশে ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধের কবিতা’।

 

Ode to a Leader কবিতাগ্রন্থের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানতে চাই?

মুজিববর্ষ স্মরণে রচিত আমার সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ হলো ‘Ode to a Leader’। কবিতাগ্রন্থের মূল প্রেক্ষাপট বঙ্গবন্ধু। তাঁর সঙ্গে আমার স্মৃতি কিংবা ঐতিহাসিক বিষয় এবং অনুষঙ্গ নিয়ে এই গ্রন্থ। একটু স্মৃতির জানালা খুলে বলি : কবি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হুমায়ুন কবির আততায়ীর হাতে নিহত হওয়ার পর আমরা ২০-২৫ জন কবি-সাহিত্যিক বাংলা একাডেমি থেকে মিছিল করে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সুগন্ধায় দেখা করতে গিয়েছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য যোগদান করা লেকচারার ও তরুণ মুক্তিযোদ্ধা কবি হুমায়ুন কবির নিহত হন ৬ জুন ১৯৭২। আমরা মনে হয় ৭ জুন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে সুগন্ধায় গিয়েছিলাম। তখন তিনি সুগন্ধায় থাকতেন। উপস্থিত কবি-সাহিত্যিকদের পক্ষ থেকে আমিই বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কথা বলি। আমি বঙ্গবন্ধুর কাছে কবি-সাহিত্যিকদের জীবনের নিরাপত্তা প্রদানের দাবি জানাই। আমার প্রশ্নের উত্তরে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, একটা সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হয়েছে। আমার ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকে অস্ত্র জমা দিয়েছেন। কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধীরা তাদের অস্ত্র জমা দেয়নি। সেই সব অস্ত্র উদ্ধারের কাজ চলছে। এমতাবস্থায় আপনারা খুব সাবধানে থাকবেন।

 

অনেকে মনে করেন আপনি প্রেম ও কামের কবি? সেই প্রেম ও কামে কি কল্পনা থাকে?

আমি কল্পনা করে খুব বেশি এগোতে পারি না। একটা সম্পর্কের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয় আমার কবিতা। এখন আমি ভার্চুয়াল সম্পর্কে অভ্যস্ত। সম্পর্কটি অনেকটাই মানসিক ও কৃতজ্ঞতার। কাউকে উপলক্ষ করে, মানে কাউকে মুগ্ধ করার ইচ্ছা থেকে আমার কবিতা আমার শিল্পপ্রভা রচিত হয় না।

 

সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ দাদা।

তোমাকেও ধন্যবাদ।



সাতদিনের সেরা