kalerkantho

শনিবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৮। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১০ সফর ১৪৪৩

বই আলোচনা

এভারেস্টের হাতছানি

হানযালা হান

১১ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এভারেস্টের হাতছানি

যেখানে এভারেস্ট ইফতেখারুল ইসলাম, প্রচ্ছদ : সব্যসাচী হাজরা প্রকাশক : বাতিঘর, মূল্য : ৩০০ টাকা

ইফতেখারুল ইসলাম, ৬৩ বছর বয়স। বর্ণাঢ্য কর্মজীবন বলতে যা বোঝায়, ঠিক তা-ই ছিল। ছিলেন বহুজাতিক ওষুধ কম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তা। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ঘুরেছেন। অবসরে গেছেন। কিন্তু সেই ছোটবেলায় দেশ পত্রিকার শারদীয় সংখ্যায় উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের লেখা হিমালয়ের ভ্রমণকাহিনি পড়েছিলেন। এত দিন যেন তা তাঁর মনের কোণে টিম টিম করে প্রদীপের সলতের মতো জ্বলছিল। প্রকৃতিবিশারদ ইনাম আল হকের সঙ্গে আলাপচারিতায় সেই আলো অগ্নস্ফুিলিঙ্গের মতো বিস্ফোরিত হয়। যে বয়সে মানুষ ঘর থেকে বের হতে ভয় পায়, সেই বয়সে তিনি এক দিন কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে বেরিয়ে পড়লেন হিমালয়ের পথে। ভাবা যায়?

লিখেছেন ইফতেখারুল, ‘আমাদের মতো মানুষের মৃত্যু সবচেয়ে বেশি হয় হাসপাতালের আইসিইউতে অথবা বাড়ির বিছানায়। সে তুলনায় হিমালয়ের তুষার ঢাকা পথে ঘটলে সেটা রীতিমতো গৌরবময় বিলাসিতা।’ নাহ, তাঁর মৃত্যু হিমালয়ে হয়নি। তিনি অসাধ্যকে সাধন করেই ফিরেছেন। একই সঙ্গে লিখেছেন অসাধারণ একটি ভ্রমণকাহিনি ‘যেখানে এভারেস্ট’। যদিও এই বইয়ের বেশ কিছু লেখা ‘যেখানে হিমালয়, যেখানে এভারেস্ট’ শিরোনামে ধারাবাহিকভাবে ছাপা হয় কালের কণ্ঠর শিলালিপি পাতায়। তখনই ওই লেখাগুলো আমার পড়া। পড়েছি এই কারণে যে অন্য অনেক তরুণের মতো আমারও হিমালয়ের প্রতি প্রচণ্ড কৌতূহল আছে। লেখালেখি ও বই পড়ার বাইরে অন্য যে কাজটিতে আমি আনন্দ পাই, তা হচ্ছে ভ্রমণ। কিছুদিন আগেই আমি গিয়েছিলাম কেওক্রাডং (এটি বাংলাদেশের শীর্ষ একটি পাহাড়)। তো সেই পাহাড়ি পথে হাঁটতে হাঁটতে চারপাশের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে মনে হয়েছিল, এক দিন যদি যেতে পারতাম এভারেস্ট! আমার তো যাওয়া হয়নি। গিয়েছিলেন এই বইয়ের লেখক। চলুন তাঁর কাছ থেকে জেনে নিই এভারেস্ট দেখে কী মনে হয়েছিল : ‘ঠিক ২টায় আমরা খুমবু গ্লেসিয়ার ঘেঁষে এমন একটা জায়গায় গিয়ে পৌঁছাই, যেখান থেকে পরিষ্কার দেখতে পাই পৃথিবীর সর্বোচ্চ শিখরটি। অহংকারী, সুন্দর ও রহস্যময়।’ এমনই এক ভাষায় লেখক এভারেস্টের মহিমা বর্ণনা করেছেন। তিনি যেমন বিস্মিত হয়েছেন, তেমনি পাঠককে বিস্মিত করেছেন।

তবে ভ্রমণ বলতে আমরা যা বুঝি, খুব তাড়াহুড়া করে গিয়ে দ্রুত ফিরে আসা। শুধু দর্শনীয় স্থানগুলোতে একনজর চোখ বুলানো। তা যে আংশিক ভ্রমণ, এ বিষয়টিও লেখক আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ‘আমরা যেভাবে আসি আর যাই, তাতে স্থানীয় মানুষ বা সমাজকে জানা হয় না। আসল তীর্থ অধরা থেকে যায়। অপরিচিত আগন্তুকের মতো আসি, দৃশ্য দেখি, মুগ্ধ ও বিস্মিত হই, ছবি তুলে অন্যদের চমত্কৃত করি আর ফিরে যাই অপরিচিতের মতোই।’ ফলে হিমালয় বা এভারেস্টের আশপাশের মানুষজন, তাদের চিন্তা-চেতনা ও সংস্কৃতি যেমন লেখকের চোখে অধরা থেকে যায়, পাঠকের মনেও অতৃপ্তি থেকে যায়।