kalerkantho

রবিবার। ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৬ মে ২০২১। ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

ক্ষুধার অনলে সব অদৃশ্য হয়ে যায়

মুন দত্ত, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

১৬ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ১ মিনিটে



ক্ষুধার অনলে সব অদৃশ্য হয়ে যায়

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তীকালে অভাব, দুঃখ-যন্ত্রণা ও দুর্ভিক্ষ তৎকালীন সমাজজীবনকে কতটা দুর্বিষহ করে তুলেছিল ‘মৃত্যুক্ষুধা’ উপন্যাসে সে চিত্র এঁকেছেন কাজী নজরুল ইসলাম। কৃষ্ণনগরের চাঁদ সড়ক এলাকার দারিদ্র্যপীড়িত, শ্রমজীবী মানুষের ধর্মীয় মতভেদ, কলহ—ক্ষুধার অনলে সব অদৃশ্য হয়ে যায়। আবার একত্র হয় মানবিক চেতনায়। উপন্যাসের প্রথমাংশে বৃদ্ধ মা বিধবা তিন ছেলের বউ এবং তাদের সন্তানদের দায়ভার ন্যস্ত থাকে প্যাঁকালের ওপর। প্যাঁকালে দারিদ্র্যের ভারে ন্যুব্জ। মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও ক্ষুন্নিবৃত্তির জন্য খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে প্যাঁকালে, কুর্শী ও মেজো বউ। পরে তারা আবার ইসলাম ধর্মে প্রত্যাবর্তন করে। উপন্যাসের শেষাংশে সাম্যবাদী নজরুল সমকালীন সামাজিক বিরোধ, ধর্মীয় মতভেদ, উঁচু-নিচুর প্রভেদ দূর করে একটি শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখিয়েছেন আনসার চরিত্রের মাধ্যমে। কিন্তু ছেলেদের মধ্যে কমিউনিস্ট মতবাদ প্রচারের দায়ে পুলিশ ধরে নেয় আনসারকে! সে জনতাকে আশার বাণী শুনিয়ে গেছে ‘আবার আমি ফিরে আসবো তোমাদের মাঝে...।’ কিন্তু আনসার আর ফেরেনি।

 অনুলিখন : পিন্টু রঞ্জন অর্ক