kalerkantho

সোমবার । ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৩ নভেম্বর ২০২০। ৭ রবিউস সানি ১৪৪২

মোরগ উন্মোচন

হামিদ কায়সার

২৩ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



মোরগ উন্মোচন

অঙ্কন : দেওয়ান আতিকুর রহমান

প্রথম থাপ্পড়টা পপলু খান খেল টঙ্গী ব্রিজ পার হওয়ার পরপরই, ফেসবুকে ঢুকে। কী যে এক অভ্যাস রপ্ত হয়েছে আজকাল। আধাঘণ্টা-এক ঘণ্টা বাদে বাদে ফেসবুকে ঢুঁ মারা। একবার যদি কবি কোহিনুর হালিম ঝরার টাইম লাইনে না যায়, বুকের ভেতরটা জানি কেমন মোচড়ায়। আর থাপ্পড়টা খেল কি না ওই ঝরারই স্ট্যাটাস থেকে! বইমেলায় যাবি যা, ভালো কথা, নিজের একখান মাঞ্জামারা ছবি দিলেই তো হয়—তা না, উনি লটকে দিয়েছেন ওনার ল্যাবদামার্কা ভ্যাবাচেকা খাওয়া সোয়ামির ছবি—আমার সাহেব বইমেলায় যাওয়ার জন্য তৈরি হইতেছে! আরে মাতারি! এই পপলু খান যদি তরে ৫০ হাজার টাকা বিকাশে না পাঠাইত তর তো বই-ই বের হয় না। তুই ফটো দেস কি না... অকৃতজ্ঞ কোথাকার!

অবশ্য পরমুহূর্তেই অতি কষ্টে নিজেকে সামলে নেন পপলু খান! নিজেকে সান্ত্বনা জোগান, না না ছবি দিলে তো স্বামীর ছবিই দেবে, ওটা তো সাইনবোর্ড। ওর ছবি দেয় কী করে? তাহলে তো ঝরা ও ওর দুজনেরই মান-ইজ্জত সব একসঙ্গে ট্যাপসা হয়ে যাবে! তাদের সম্পর্কটা তো গোপন থাকাই ভালো। তবু ঝরার এটা একটু বাড়াবাড়িই হয়ে গেল! হাজব্যান্ডের ছবি দেওয়াটা কেমন আদিখ্যেতার মতো লাগছে। একটু বিরক্তি নিয়েই পপলু খান ফেসবুক থেকে বেরিয়ে আসে। ইউটিউবে গান দিয়ে মন অন্যদিকে সরানোর চেষ্টা করে। ও মাইয়া রে, মাইয়া রে তুই অপরাধী রে... আমার যত্বে গড়া ভালোবাসা দে ফিরাইয়া দে...

কিন্তু মন কি আর সরতে চায় অন্যদিক? আজ প্রায় এক বছর হলো মেয়েটা ওকে একরকম জাদু করেই রেখেছে! এক বছর আগে এমনই এক ফেব্রুয়ারির চান্নি রাইতে ফেসবুকে ঢুকতেই আতকা ঝরার একখান ছবি সেই যে তার চান্দির ভেতর গাঁইথা গেল, গেল তো গেলই, আর কি বাইর হয়, তার পর থাইকাই খালি জ্বলন-পোড়ন, ছটফটানি! শ্রীপুরের বড়ি খাইয়াও গেল না! কী যে মায়া লাইগাছিল সোন্দর মুখটায়! ছবির নিচে কমেন্ট বক্সে যত রকমের স্টিকার ছিল ফেসবুকওয়ালাগো, একটাও বাদ দেয় নাইক্কা, সেন্ডের পর সেন্ড মারছে! আর ওয়ান্ডারফুল বিউটিফুল গুড ভেরি গুড কোনো কিছুই বাদ দেয় নাইক্কা! উজাড় কইরাই দিছিল। তার সঙ্গে পাঠাইছিল ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টও। পরদিন প্রায় দুইফরবেলা ঘুম থাইকা উইঠাই ফেসবুক চেক কইরা দেখে যে দরদিয়ার দরদি মন তার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট অ্যাকসেপ্ট করেছে!

সেই থেকে যে সম্পর্কটা কিভাবে গভীর থেকে সুগভীরতার গহনতলে পৌঁছাল, সে এক তাজ্জব ব্যাপার। তবে অবদানটা যে ঝরারই বেশি তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ঝরা যদি নিজে থেকে ইনবক্সে মেসেজ না দিত, ওর পক্ষে কখনো আগে মেসেজ পাঠানো সম্ভব ছিল না। তবে ক্ষেত্রটা যে প্রস্তুত করে দিয়েছিল পপলু খানই, সেটাও ঠিক! সেই ফ্রেন্ডশিপের শুরু থেকেই সে স্বার্থহীনভাবে ঝরার ছবিতে লাইক আর স্টিকারের পর স্টিকার মেরেই যেত। আর কিছুই করেনি। বাপরে বাপ! ঝরার ছবির কী গরম। একটা ছবি ফেসবুকে পোস্ট করার সঙ্গে সঙ্গে পাঁচ-ছয় শ লাইক কোথথেইকা যে উইড়া দৌড়াইয়া আইসা চ্যাংঠার মতো লাইগা থাকত, আচানক কাণ্ড! আর স্টিকারের পর স্টিকার। কিন্তু শুরু থেকেই পপলু খান এত বেশি স্টিকার মারত যে কোনো শালার পো অর ধারেকাছেও আসতে পারত না। কমেন্টসও করত মায়রে বাপ! কত তরা অসাধারণ লিখবি, আমি সবার ওপরে!

এভাবে বেশ চলছিল তিন মাস-চার মাস। তারপর এক প্রায় মাঝরাতে অবাক হয়ে দেখল যে ঝরা একটা মেসেজ পাঠিয়েছে—শুভরাত্রি।

ও-ও মুগ্ধ-বিহ্বল হয়ে শুভরাত্রি জানিয়েছিল। তারপরই ঝরার অনুযোগ, আপনে খালি আমার ছবি দেখেন, কবিতা পড়েন না!

কবিতা? কোথায় কবিতা? পপলু খান ভারি অবাক হয়েছিল।

কেন, আমার ছবির সঙ্গে যে কবিতা থাকে আপনে দেখেন নাই?

ওহ তাই নাকি? ইস, আমি খেয়াল করি নাই তো।

ভারি রাগ হয়েছিল ওপাশে ঝরার। এত বড় বড় কবিতা পোস্ট দিই আর আপনার চোখে পড়ল না? আল্লারে আল্লাহ! আমি কই যামু!

কিছু একটা যে গড়বড় হয়ে গেল বেশ বুঝতে পেরেছিল পপলু খান। সঙ্গে সঙ্গে অবশ্য ম্যানেজও করে নিয়েছিল, ‘অত সুন্দর মুখের ছবি দেখার পর আমি যেন কোথায় হারাই যাই। কবিতা পড়ার কথা আর খেয়াল থাকে না। তা ছাড়া আমি ফ্রেন্ড কবিতা বুঝিও না।’

কথা শুনে বুঝি কনভিন্স হয়েছিল ঝরা। একটা হাসির স্টিকার ছুড়েছিল। তারপর, ‘ঠিক আছে। ভালো থাকবেন। অনেক রাত হইছে, এখন ঘুমান লিখে’ বিদায় নিয়েছিল।

কিন্তু সে রাতে আর ঘুম আসেনি পপলুর দুই চোখে। সত্যি সত্যি স্বপ্নের রানি তার সঙ্গে চ্যাট করেছে। কী রকম অবিশ্বাস্য লাগছিল। সকালবেলা ঝরার ইনবক্সে গুড মর্নিং স্টিকার পাঠিয়েই কেবল ও ঘুমাতে গিয়েছিল। তারপর সম্পর্কটার আরো উন্নতি ঘটতে মোটেও সময় লাগল না। চ্যাটিংয়ের দুই দিন পরই পপলু আবদার করেছিল, আমার চ্যাট করতে ভালো লাগে না। আপনি আপনার মোবাইল নম্বর দেন। মোবাইল নম্বর দিতে ঝরাও কিপটেমি করেনি। সেই থেকে প্রতিদিনই কথা হয়। এক দিনও দুজন কথা ছাড়া থাকতে পারে না। মাঝেমধ্যে ফেসবুকে চ্যাটিংও চলে। সেই চ্যাটিংয়েই ঝরা এক রাতে জানিয়েছিল, দু-তিনজন প্রকাশক আমারে খালি ইনবক্সে খোঁচাইতেছে।

খোঁচানোর কথাটা শুইনাই মাথাটা ঘুইরা গেছিলগা পপলু খানের। সঙ্গে সঙ্গে আর্তনাদ ছড়িয়ে লিখেছিল—না না, খোঁচানোর চান্স দিয়েন না!

ওকে শুধরে দিয়েছিল ঝরা, ধুর! ওসব কিছু না। ওরা আমার কবিতার বই বের করতে চায়। আমার কবিতার বই বের করলেই নাকি সঙ্গে সঙ্গে চার-পাঁচ শ কপি অটোমেটিক সেল হয়ে যাবে।

তো করেন না কবিতার বই। নিষেধ করল ক্যাডা?

বললেই তো হলো না। ৫০ হাজার টাকা লাগবে। সেটা পাব কোথায়?

কথা শুনে মেজাজ তেতো হয়ে গিয়েছিল পপলুর। এটা একটা কথা বললেন আপনি? ৫০ হাজার টাকা কোনো ব্যাপার? আমার পত্তেক মাসে পকেট খরচ কত জানেন? জানলে আর এই কথাটা বলতে পারতেন না। কবিতার বই একটা কেন, চইদ্দটা বের করতে পারবেন। টাকা দিব আমি এই পপলু।

ইস! আপনার টাকা কেন নেব?

সঙ্গে সঙ্গে পপলু খান ইউটিউব থেকে একটা গান পাঠিয়েছিল, বন্ধু মায়া লাগাইলি, দিওয়ানা বানাইলি...

তারপর খানিকবাদে লিখেছিল, বন্ধুর জন্য খালি টাকা ক্যান, আমি জানও দিবার পারি!

তারপর আর অমত করেনি ঝরা, ঠিক আছে। যখন লাগব জানাব আপনারে।

বন্ধু যে এখনো আপনে ছাইড়া তুমিতে নামতে পারল না। এই দুঃখ কই রাখি?

আচ্ছা বলব নে। আপনার সঙ্গে যেদিন প্রথম দেখা হবে, তখন থেকে বলব।

আহ! প্রাণের পিয়ারি। কবে যে দেখা হইব তোমার সঙ্গে!

বইমেলার মোড়ক উন্মোচনের দিন আপনারে বলব। অনুষ্ঠানে আসবেন।

আসব। অবশ্যই আসব। তবে আমার একটা শর্ত আছে। বন্ধুটারে নিয়া আমি অনুষ্ঠানের পর ওয়েস্টিনে খাইতে চাই...

বেরাজি হয়নি ঝরা। তবে বলেছিল, সেদিন তো বইমেলা নিয়া ব্যস্ত থাকব। পরের দিন?

ঠিক আছে। তাইলে তো ঢাকায় আমাকে থাকতে হবে।

থাকবেন। শুধু কি কাপাসিয়া পড়ে থাকলেই হবে?

আমি তো আবার একলা একলা থাকতে পারি না বন্ধু। আমার প্রতিদিনই দোসর লাগে।

আহা! শখ কত। বলে লাইনটা কেটে দিয়েছিল কবি কোহিনুর হালিম ঝরা।

আহা! সেই স্বপ্নের ক্ষণ বুঝি এসে পড়ল। আজ সেই প্রেয়সীর সঙ্গে প্রথম দেখা হবে বইমেলায় আর কাল একান্তে সময় কাটানো হবে ওয়েস্টিনে।

স্যার। কোন দিক দিয়ে ঢুকব? শাহবাগ দিয়ে, না কার্জন হল দিয়ে! কাকরাইলের মোড় ছাড়তে ছাড়তে জানতে চায় ড্রাইভার।

কার্জন হল দিয়েই ঢোকো।

কারটা প্রেস ক্লাব ছাড়িয়ে যতই দোয়েল চত্বরের দিকে এগোয়, ততই মনের মধ্যে দ্বন্দ্ব উপস্থিত হয় যে ঝরা কি সত্যিই মোরগ উন্মোচনের কথা বলেছিল, নাকি অন্য কিছু বলেছে? না না, তার তো ভুল হওয়ার কথা নয়, তার একটু সন্দেহ হয়েছিল বটে যে, মোরগ উন্মোচন হবে কেন, কিন্তু তিনি যতবারই জিজ্ঞেস করেছেন নিশ্চিত হতে, ঝরা প্রতিবারই বলেছে মোরগ মোরগ মোরগ। শেষে একটু উষ্মাও প্রকাশ করেছে, ইস এককথা কতবার বলব? তিনি আর দ্বিতীয়বার ওর কাছে জানতে চাননি, ওদিকে গোপন ব্যাপারস্যাপার বলে বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-স্বজন কারোর কাছে জেনে যে নিশ্চিত হবেন, তারও জো ছিল না। তাই টোকের বাজার থেকে হাটের দিন সবচেয়ে বড় মোরগটা কিনে তিনি ড্রাইভার শফিকুলের বাড়িতে রাখার বন্দোবস্ত করেছিলেন।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত নির্বিঘ্ন হলো না যাত্রা। দ্বিতীয় থাপ্পড়টা পপলু খানকে খেতে হলো বইমেলার গেটে! মোরগ নিয়ে ঢোকা যাবে না ভেতরে। মোরগ বাইরে রাখতে হবে! কী বলে পুলিশ সাহেব! তাহলে মোরগ উন্মোচন হবেটা কিভাবে? কত কষ্ট করে ওটাকে ওর পঞ্চাশ লাখ টাকা মূল্যের প্রাডো গাড়িতে যত্ন করে নিয়ে এলো ঢাকা। শেষে কি না কূলে এসে তরি ডুববে! কেন, বইমেলায় মোরগ নিয়ে ঢোকা যাবে না কেন? তোমরা তো ঠিকই কবুতর উড়িয়ে উদ্বোধন করো? তাহলে মোরগে কি দোষ করল?

খানিকটা দম নিলেন পপলু খান। তারপর ড্রাইভার শফিকুলকে কল দিলেন প্রাডো থেকে কাশ্মীরি দামি শালটা নিয়ে আসতে। মোরগ নিয়ে বইমেলায় ঢুকতে নিজেরও খানিকটা সংকোচ লাগছে এখন। কারো হাতেই তো মোরগ দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না। ১০ মিনিট পর ড্রাইভার হন্তদন্ত ভঙ্গিতে কাশ্মীরি শালটা পৌঁছে দিতেই শরীরে জড়িয়ে আলগোছে চাদরের নিচে মোরগটাকে রেখে চিপা গেটের ভেতর ঢুকে গেলেন পপলু খান। সামান্য কাঠমিস্ত্রির ছেলে থেকে তিনি আজ কোটিপতি এমনি এমনি হননি, এমনি এমনি হননি তিনটি ব্রিক ফিল্ডের মালিক! কোথায়, কিভাবে, কেমন তেল ঢেলে ম্যানেজ করতে হয় ভালোই শিখেছেন। গেট পেরোনোর সময় আলগোছে যা দেওয়ার দিয়ে তিনি শুধু বললেন, মোরগবিষয়ক একটা বই বের হবে তো, তাই সারপ্রাইজ হিসেবে মোরগটা ভেতরে নিতে হচ্ছে। ওপাশে হাসিমুখ। তারপর মাথা ঝাঁকিয়ে ভেতরে যাওয়ার নির্দেশ। ভেতরে ঢুকেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন পপলু খান। তারপর চাদরের ভেতর মোরগটাকে সুরক্ষিত রেখে মোবাইলটা বের করলেন। অনেকক্ষণ ধরে বাজছিল টের পাচ্ছিলেন বটে, মোরগের টেনশনে আর ধরা হয়নি। খাইছে। কবি কোহিনুর হালিমের সাত-সাতটা মিসকল। তাড়াতাড়ি কল ব্যাক করতেই ওপাশে কিন্নরী কণ্ঠে অস্থিরতা, কোথায় আপনে? আমাদের তো শুরু করতে হচ্ছে। মঞ্চ পেয়ে গেছি। মঞ্চ সহজে পাওয়া যায় না। আমরা এখন মঞ্চে উঠব।

এইতো আমি বইমেলার ভেতরে। গেটের কাছে।

দৌড় দেন। আমরা মঞ্চে উঠে গেছি।

কোন দিকে মঞ্চটা?

জিজ্ঞেস করেন লোকজনকে, বলে দেবে।

ওপাশে মাইকের শব্দে কোহিনুর হালিমের কণ্ঠ চাপা পড়ে গেল।

চাদরের আড়ালে মোরগ সামলে, লোকজনের কাছে জেনে-বুঝে যখন মঞ্চের কাছে পৌঁছলেন, কোহিনুর হালিম ঝরারা তখন মঞ্চে উঠে গেছে। গোটা পাঁচেক অতিথির মাঝখানে গোলাপ ফুলের মতো ফুটে আছে কবি। ছবির চেয়ে তো দেখছি বাস্তবে আরো বেশি সুন্দর। দূর থেকে ওকে কোহিনুর হালিমও দেখতে পান। হাত নেড়ে নেড়ে ডাকেন মঞ্চে। তারপর উপস্থাপকের উদ্দেশে কিছু বলেন ফিসফিস করে। উপস্থাপক ঘোষণা দেন, আমাদের আরেকজন সম্মানিত অতিথি পৌঁছে গেছেন আজকের এই মহতী মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে। তিনি গাজীপুরের বিশিষ্ট কাব্যানুরাগী পপলু খান, পপলু খান। সুধীমণ্ডলী! আমরা তাহলে আর দেরি করছি না। প্রেমের আগ্নেয়গিরি কবি, যার কবিতায় প্রেম লাভার মতো জ্বলে, সেই কবি কোহিনুর হালিম ঝরার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘তোমাকে চাই’-এর মোড়ক উন্মোচন করতে যাচ্ছি। অতিথিদের সবার হাতে বই তুলে দেওয়া হচ্ছে। সম্মানিত অতিথিরা একসঙ্গে মোড়ক উন্মোচন করবেন। তারপর আমরা অতিথিদের কাছ থেকে শুনব কবি সম্পর্কে তাঁদের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য। কবির অনুভূতিও জেনে নেওয়া যাবে। তাহলে আসুন শুরু করি কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন।

মোড়ক উন্মোচন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে পপলু খান দুই পায়ের চিপার মাঝখান থেকে মোরগটাকে বের করে মাথার ওপরে রেখে উড়িয়ে দিল। ভারী মোরগটা ক্ব ক্ব করতে করতে একবার মঞ্চ থেকে নিচে নামে তো, আবারও ঘুরতে ঘুরতে মঞ্চে উঠে আসে। চোরা চোখে পপলু খান কবি কোহিনুর হালিম ঝরার দিকে তাকায়। ও ঠিক বুঝে উঠতে পারে না, শাড়ির আঁচলে কেন পুরো মুখ ঢেকে রেখেছে প্রেমের আগ্নেয়গিরি কবি—লজ্জায়, নাকি ভালো লাগার তীব্র আবেশে! ঠিক বোধগম্য হয় না ওর!

মন্তব্য