kalerkantho

সোমবার । ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৩ নভেম্বর ২০২০। ৭ রবিউস সানি ১৪৪২

হোঁচটের পরও যেজন হাঁটতেন

জাহিদ হায়দার

২৩ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



হোঁচটের পরও যেজন হাঁটতেন

রশীদ হায়দার

পৃথিবীতে এ পর্যন্ত নির্মিত শ্রেষ্ঠতম ক্যামেরায় যদি দৃশ্যগুলো ধারণ করা যেত, প্রদর্শনীর আগে অসম্পাদিত সেলুলয়েডে যা আসত : একজন মানুষের শায়িত মুখের কঙ্কালের ভেতর থেকে সর্ব অর্থে জীবিত দুটি চোখ দেখছে, আশপাশে কজন মানুষ জীবনের সব রকম প্রবাহের মধ্যে গ্রহণযোগ্য নিয়মে চলমান। এবং সারা দিনে কয়েকবার মানুষটির ছোট আত্মজা ক্ষমা, ওই চোখ দুটির সামনে দাঁড়িয়ে, এক আশাবোধ থেকে, ডাকছে : ‘বাবা, বাবা’। কম্পমান চোখ দুটি, সাড়া দিল বোধ হয়(!), দেখে এবং কখনো স্পষ্ট, কখনো অস্ফুট কণ্ঠ শুনে তার আত্মীয় ও বন্ধুদের ক্ষমা, স্বরের আর্দ্রতা অনুমেয়, টেলিফোনে বলছে : ‘বাবা আজ দুটি, আজ তিনটি কথা বলেছে, ডান হাত তুলে টিভি বন্ধ করতে ইশারা দিয়েছিল।’ যেকোনো কথা-স্বর হচ্ছে সেই ধ্বনিময় উচ্চারণ, যা সাক্ষ্য দেয় জীবন এখনো জায়মান।

এবং এগারো মাস ধরে বিছানায় শোয়া, পারকিনসন ও বয়সজনিত কিন্তু নিয়ন্ত্রিত বহুমূত্রে আক্রান্ত, সাদাটে চামড়ায় সেঁটে যাওয়া, হয়তো তখন শরীরের ওজন পনেরো বা ষোলো কেজির কাছাকাছি, কঙ্কাল-কাঠামোর মানুষটি আগের সন্ধ্যায়, পরদিন (১৩ অক্টোবর ২০২০) সকালে হবে মৃত্যু, তাঁর বড় আত্মজা হেমার আশাপীড়িত ‘বাবা, বাবা’ ডাক শুনে, পাশে উপস্থিতরা শুনেছিল, তাঁর ক্ষীণ স্বরের শেষ উত্তর ছিল : ‘মা’।

লেখাটির শিরোনামে ‘পর’ শব্দটি পড়বার মুহূর্তে মনে হতেই পারে, একদিনে ওই ‘পর’-এর সৃষ্টি হয়নি। আমরা জানি, একটি পরকে সত্য-দৃশ্যে তৈরি করবার আগে অনেক পথ হাঁটতে হয়।

অগ্রজের পোশাকি নাম রশীদ হায়দার আমি ব্যবহার করব না, ডাকনাম দুলালও নয়। পরিবারের অন্য অগ্রজরা আমাকে বলতেন, ‘তোর বয়স তখন আড়াই বা তিন, দুলাল জুসনারাইতে গলা খুলে ছাদে গান ক্যরতে, কী ভালো গলা ছিলে উয়ের’, ওই বয়সে শুনেছি ছোটরা তাঁকে বলে : ‘দাদুভাই’। তখন মনে হতো, ধলা, সুন্দর ছেলেটির নাম ‘দাদু’। দু-একটি কথা বলতে শেখা শিশু যেমন মনে করে, সব সময় তার প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখা, রাতে ঘুম পাড়াবার জন্য গর্ভজাত চাঁদের কপালে ‘চাঁদের টিপ’ দিতে চাওয়া, কাঁদলেই কেউ বলে ‘ওর মা কই’, স্তন্য দেওয়া মেয়েটির নাম ‘মা’।

প্রাণী মাত্রেই হোঁচটের দাস। পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক চড়াই-উতরাইয়ে—কত রকম হোঁচটের মধ্য দিয়ে প্রাণকে হাঁটতে হয়, আর হাঁটা মানেই সামনে যাওয়া—যেজন হোঁচট খেয়ে, যা অভিজ্ঞতাকে পুষ্টি দেয়, ঋদ্ধ করে, বসে থাকে, কোনো নির্ভরতার হাত খোঁজে, সেই ঘরানার মানুষ ছিলেন না দাদুভাই। মনে করতেন, ‘শ্রমিকতার বিকল্প নেই।’ গীতায় বর্ণিত কর্ম যে অর্থে ধ্যান, আমাদের এই ভাই ছিলেন তার একনিষ্ঠ সেবক। প্রতিদিনের শ্রমঘামে তাঁর গোসল হতো অন্তত দুইবার।

এই সনের জুলাইয়ের ১৫ তারিখে আশি বছরের, মানসিক নয়, শারীরিক বয়সে পড়েছিলেন। জন্ম : ১৯৪১। ‘বুঝলি আমি পৃথিবীতে চলে এসেছি জেনে রবীন্দ্রনাথ ওই বছরের অগাস্টে জোড়াসাঁকো থেকে ভয়ে স্বর্গে চলে গেলেন’—দাদুভাইয়ের রসিকতা শুনে বলতাম : ‘যাবার সময় ভদ্রলোক পাবনার জিলেলপাড়ার বাড়িতে রহিমা খাতুন ও শেখ মুহম্মদ হাকিমউদ্দিনকে তাঁদের চতুর্থ সন্তানের ভবিষ্যৎ কী হবে, নিশ্চয়ই বলে গেছেন।’

হাপরের বাতাসে লাফিয়ে ওঠা হুস হুস আগুনের মধ্যে একটি লৌহখণ্ড ক্রমেই লাল হচ্ছে, কাস্তে, কুড়াল, দা অথবা বঁটি হবে, সংসারে ওই সব কার না প্রয়োজন? দাদুভাই আজীবন হেঁটে গেছেন জীবন নামের গ্রাহ্য-অগ্রাহ্য আগুনের ভেতর দিয়ে, যদি নিজেকে গড়ে তোলা যায়, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ব্যবহৃত একটি কর্তব্যনিষ্ঠ সত্তা হিসেবে। যখন যেখানে যে কাজই করেছেন, যতটুকু করেছেন, তাকে পূর্ণরূপ দেওয়ার চেষ্টা ছিল সৎ। ‘ফাঁকি দিয়ে কিছু দূর আনন্দে যাওয়া যায়, নিজেকে সার্থক মনে হয়; কিন্তু একদিন কোনো না কোনো জায়গায় ধরা পড়বেই।’ বলতেন।

দেশের বিভিন্ন অবস্থার অবক্ষয় দেখে তাঁর দুঃখ হতো। শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক মাটির মানুষ ছিলেন বলে, সাংস্কৃতিক অবক্ষয়ের প্রসঙ্গ এলে বলতেন, “এডওয়ার্ড কলেজের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শেকসপিয়ারের কোনো না কোনো নাটকের দুটি বা তিনটি অ্যাক্ট মঞ্চস্থ হতো, সেই উনিশ শ উনষাট-ষাটে, আমিও অভিনয় করেছি, যতদূর মনে পড়ে ‘কিং লিয়ার’-এ, সংলাপ বাংলা নয়, এখন ওসব হয় না, অথচ স্বাধীন দেশে সম্পূর্ণ ‘হ্যামলেট’ বা ‘রোমিও জুলিয়েট’ মঞ্চস্থ হওয়ার কথা ছিল।” কবিতা লিখতেন না, অথচ ‘কবিতা পরিষদ’-এর গড়ে ওঠা পর্বে রাত ও দিন নেই, গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন।

পাবনায় যখনই যেতেন, নস্টালজিয়াকে দৃষ্টিবোধে উপভোগ করতে স্কুল : জিসিআই, কলেজ : এডওয়ার্ড এবং কৈশোর ও প্রথম যৌবনের প্রিয় লাইব্রেরি : অন্নদাগোবিন্দতে কিছু সময় কাটাবার পর পাবনার মিষ্টির ঐতিহ্যের স্বাদ নিতে প্যারা ও রসকদম খেতে বসতেন লক্ষ্মী মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে।

আমাদের পরিবারে সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠে হেসে ওঠা মানুষ দাদুভাই নিজের খাদ্যরুচির স্বাদ-বিচারে মনে করতেন, বাংলার দুটি খাদ্য, গরম ভাত+ঘি+আঠালো লাল আলু ভর্তা এবং সরষে ইলিশ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম খাবার। বাজার করা ছিল তাঁর একটি প্রিয় শখ নয়, কাজ। কোন মাছের সঙ্গে কোন তরকারির রসায়ন সঠিক হবে, খুঁটিনাটি জানতেন। পাবনার কোনো মানুষ তাঁর সামনে যদি প্রমিত বাংলায় কথা বলত, তাকে বলতেন, ‘নদীয়ার ভাষায় কথা কও ক্যা? সেই একষট্টি সালে ঢাকায় আইছি, পাবনার একটা শব্দর উচ্চারণও ভুলি নাই। তুমি ঢাকায় ক্যবে আইছ্যাও?’

প্রতিটি মানুষের কোনো না কোনো জীবনদর্শন থাকে, দাদুভাইয়ের চিন্তার মধ্যে যে কয়টি ছিল, তার একটি : ‘যে লোক হাসি এডিট করে, সে বেশি জটিল।’ সব রকম, প্রয়োজন ও ব্যবহার মাফিক, পোশাক পরতেন। জানতেন, লুঙ্গির গিঁট ও সব রকম টাই বাঁধার প্রকারভেদ, ব্রেক স্যুটের কালার কম্বিনেশন। চুলে কলপ দিতেন না। যেকোনো সাবান দিয়ে শেভ করতেন। একদিন বললাম, ‘সামনে শেভিং ক্রিম, এনেছেন টোকিও থেকে, ব্যবহার না করে, করছেন কাপড় কাচা সাবান?’ ‘তুই করিস, আর শোন আইনস্টাইনকে যখন বলা হলো শেভিং ক্রিম ব্যবহার করেন না কেন? উত্তরে তিনি বলেন, সাবান তো সাবানই, তার আবার পার্থক্য কী?’

কখনো বলতাম : “আপনার গল্প ‘কাক’ ও ‘বৃহন্নলা’, মুক্তিযুদ্ধর পটভূমিতে লেখা উপন্যাস ‘অন্ধ কথামালা’, নাটক ‘শেকসপিয়ার দ্য সেকেন্ড’ ও ‘গোলাপ গোলাপ’ এবং কিশোর উপন্যাস ‘যদি দেখা পাও’ উত্তম রচনা। ‘কাক’ গল্পটি কি হিচককের বার্ডস দেখে লেখা?” তাঁর উত্তর ছিল দৃঢ়, ‘না, তখনো ঢাকায় বার্ডস আসেনি।’

কখনো এ রকম কথা হতো : “আপনার গল্প, উপন্যাস, শিশুসাহিত্য এবং নাটক ভবিষ্যতে কেউ না পড়লেও, এবং বাংলা সাহিত্যের কোনো গবেষক তথ্যমাফিক প্রয়োজনে উল্লেখ করলেও, আগামী প্রজন্ম বলবে : রশীদ হায়দার সম্পাদিত ‘স্মৃতি একাত্তর’ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ওরাল হিস্ট্রিক্যাল বাইবেল।” শুনে বলতেন : “আমার লেখা সাহিত্য না পড়লেও কোনো ক্ষতি নেই, মুক্তিযুদ্ধে যেতে পারিনি, আগামী প্রজন্ম যদি ‘স্মৃতি একাত্তর’ পড়ে, আর কিছু না হোক, তারা দেশকে ভালোবাসতে পারে, স্বাধীনতার জন্য জীবনের বিনিময়ে যে ভালোবাসা দিয়েছিল মুক্তিযোদ্ধারা।”

মনে পড়ে, যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি মিলিটারির ক্যাম্প ছিল খিলগাঁওয়ের আনসার হেডকোয়ার্টার। বিপরীতে, দাদুভাইয়ের বাসার ড্রয়িংরুমে, বন্দুকের নাকের ডগায় বসে, আমরা ছাপতাম মুক্তিযুদ্ধ, দেশ ও স্বাধীনতা বিষয়ে সচেতনতামূলক, উদ্বুদ্ধকরণ লিফলেট। জন, আমাদের বন্ধু, নারিন্দায় ছিল ওদের প্রেস, পুরো মেটার কম্পোজ করে, কী যত্নে, একটি অক্ষর বা দাড়িকমাও যেন রিকশার ঝাঁকিতে পড়ে না যায়, নিয়ে আসত। বারবার পায়ে চাপ দিয়ে বীনু, ফেরদৌস, জন, বাবু, সোহেল আর আমি ছাপতাম লিফলেট। যেন সব কিছু স্বাভাবিক, দাদুভাই বারান্দায় সিগারেট টানছেন, টহলরত পাকিস্তানি সৈনিক তাঁকে দেখছে। এবং ঝরা ভাবি একাধিকবার চা, টোস্ট আর মুড়ি ভাজা দিচ্ছেন। দাদুভাইয়ের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক আখ্যান ‘খাঁচায়’, এখন যা বললাম, পাওয়া যাবে।

গত শতকের পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে উত্তমসুচিত্রা, দুটি নাম সন্ধিযুক্ত, মধ্যবিত্ত তরুণতরুণীদের, তাঁদের অভিনীত ‘বই’—না দেখলে নিদ্রা হারাম, ভাত লবণপূর্ণ, রুচিবান যত্নে শিখিয়েছেন : কিভাবে পরিশীলিত দৃষ্টিতে তাকাতে হয় নারীর দিকে, পুরুষের দিকে। ‘উত্তম’ উচ্চারণ ও প্রয়োজনীয় ভাব প্রকাশ করে বললে একটি নারী কিভাবে ‘সুচিত্রা’ এবং একটি পুরুষ কিভাবে হয় ‘উত্তম’। ওই সুরুচিমান্য ব্যবহার ও আচরণে প্রেমপর্বে, এবং ৫২ বছরের সংসারজীবনে, সমৃদ্ধ হয়ে ছিলেন দাদুভাই ও ঝরা ভাবি।

মাথার পেছনে ডাবগাছ ও আকাশ। দুজন যেভাবে শারীরিক স্পর্শের মধ্যে থেকেও, শ্রীসৌন্দর্য বজায় রেখে স্পর্শহীন, প্রসন্ন, দুজনের দৃষ্টি আগামী দিনের বিভাবের মধ্যে নিবন্ধিত, ওই ছবি যখন প্রথম দেখি, ভাবিকে বলেছিলাম : ‘সুচিত্রাউত্তম’।

দাদুভাই এবং আমাদের দেখা সর্বংসহা ঝরা ভাবি প্রসঙ্গে কথা হলে বড়রা বলেন, ‘দুলালঝরা’। লক্ষণীয়, এখানেও নাম দুটি সন্ধিযুক্ত। ঝরা ভাবি দাদুভাইকে তাঁর জীবনের জন্য মনোনীত করেছিলেন, আমার ধারণা, মানুষটি লেখক, সেই জন্য।

ভাবি মারা গেছেন প্রায় ষোলো মাস আগে, যদি এ রকম হতো, ভাবি নয়, দাদুভাই মারা গেছেন আগে এবং কেউ ভাবিকে বলছেন, ‘আপনি বিধবা হলেন।’ বোরহেসের মৃত্যুর পর এক সাংবাদিক মারিয়া কোদোমাকে বিধবা হওয়ার কথা বললে, মারিয়া বলেছিলেন, ‘প্রেমিকা কি কখনো বিধবা হয়?’ আমি প্রায় নিশ্চিত, ঝরা ভাবিও বলতেন একই উত্তর।

একদিন দাদুভাই আমাকে বললেন, ‘ঝরাকে কিছুই দিতে পারিনি।’ আমি বললাম : ‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম প্রেমিকের সংলাপ।’ যেমন অনেক বছর আগে, নিউ ইয়র্ক থেকে ভাবিকে লিখেছিলেন, ‘এই নগরে তোমার জন্যে কিছুই নেই।’ ভাবি কথাটি আমাকে বলবার পর, দেখি, তাঁর মুখ দীপ্তিমতী।

‘কঠিনেরে ভালোবাসিলাম, সে কখনো করে না বঞ্চনা’ কতবার আমাকে বলেছেন দাদুভাই; কিন্তু ভাবির মৃত্যুর পর, পরম আশ্রয় হারানোর হৃদয়-ক্ষত কষ্টে, রবীন্দ্র-উচ্চারণ থেকে নেওয়া ব্রত তিনি আর ধারণ করতে পারলেন না।

‘ঝরা নেই, আমি কী করবো?’ জীবিতের নিঃসাড় উচ্চারণ। এক চিরশূন্যতার মোড়ক দিয়ে দাদুভাই সব কিছুকে, কী নেই তার মধ্যে, আছে জীবন, সমাজ, রাষ্ট্র, আত্মীয়জন, চিকিৎসা ও পড়াশোনা—ধীরে ধীরে, বেশ যত্নেই, ঢাকতে শুরু করলেন। নির্বাক ও চলত্শক্তিহীন হওয়ার আগে, মানুষের জন্য সবচেয়ে কঠিন দুটি শব্দ ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ স্পষ্ট কণ্ঠে দৃঢ়ভাবে বলেন, শেভ করেন নিজ হাতে, ডাক্তারের পরামর্শে বিকেলে ঘরের বারান্দাতেই চলছে হাঁটা, পড়াশোনায়ও অযত্ন নেই।

আজিমপুরে ঝরা ভাবির কবরে যখন দাদুভাইকে নামানো হচ্ছিল, আমার মনে পড়ে : সিম্পোজিয়ামে বলা প্লেটোর কথা : ‘পিপল ওয়ার হারমাফ্রোডাইটস আনটিল গড স্পিল্ট দেম ইন টু, অ্যান্ড নাউ অল দ্য হাভস ওনডার দ্য ওয়ার্ল্ড ওভার সিকিং ওয়ান অ্যানাদার। লাভ ইজ দ্য লঙ্গিং ফর দ্য হাফ অব আওয়ারসেল্ভস্ উই হ্যাভ লস্ট।’ দার্শনিকের বাক্যের শেষে যোগ করা যায় : বিচ্ছিন্ন দুজন পরস্পরকে খুঁজে পেয়েছে, তাঁদের প্রেম কবরেও একত্র।

দাদুভাই ও ঝরা ভাবির কাছে আমি ছিলাম ১৯৬৯ থেকে ’৮০ পর্যন্ত। আমাদের ভাই-বোনদের সম্মানজনক মাটির ওপর দাঁড় করিয়ে দেওয়ার জন্য, প্রথমে জিয়া ও দাদুভাই এবং পরে যোগ দিয়েছিলেন ঝরা ভাবি, এখন তিনজনই প্রয়াত, উদয়াস্ত শ্রম দিয়ে যে ভিত তৈরি করে গেছেন, তার নাম হতে পারে : আশ্রমের ছায়া।

সবাই জানে, প্রিয়জনের জন্য কথা ও বাক্যের ক্রিয়াপদে অতীতকাল ব্যবহার হাহাকারসঞ্চারী।

মন্তব্য