kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

কবিকে

মুহাম্মদ সামাদ

২ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



তোমার মন্দ্রিত ঠোঁটে সোনালি শস্যের মতো

জীবনের কথা

তোমার পৌরুষ থেকে বিচ্ছুরিত হতো কস্তুরীর তীব্র ঘ্রাণ

দীর্ঘজীবী বটবৃক্ষের শরীর ভেদ করে ফণা তুলত

                                      ঘুমন্ত নীল শঙ্খচূড়

তুমি আমার কনিষ্ঠ আঙুলে আদর করে বসাতে সবুজ ঘাসে

আমাদের চতুর্দিক ঘিরে করতালি দিয়ে নেচে উঠত

                                       মোহন অন্ধকার

আর, তোমার প্রফুল্ল কণ্ঠ থেকে মৃদুমন্দ ঝরে পড়ত

                                        ভোরের শিউলিরা

এই শ্যামল নারীর সর্বদেহমনে (এখনো শিউলির শুভ্রতায়

আমি চোখ বুজি, কবি! কী যে ভালো লাগে!)।

 

আমি কল্পনায় তোমার মুখচ্ছবি দেখি না

রোদে পোড়া এক গোলাপ চারাকে বৃষ্টি ও নারীর প্রার্থনায়

                                      নতজানু হতে দেখি।

 

আমি কল্পনায় তোমার চোখকে দেখি না

পাহাড়ের পাঁজর ভেঙে ঘন নীল অশ্রুপাত দেখি।

 

আমি কল্পনায় তোমার কণ্ঠস্বর শুনি না

ক্রুশবিদ্ধ যিশুর পবিত্র আত্মার রক্তাক্ত আর্তনাদ শুনি।

 

আমি কল্পনায় তোমার হাতের আঙুল দেখি না

তপোবনে অপেক্ষমাণ ঋজু ঋদ্ধ সারি সারি

প্রেমিক পুরুষদের দেখি

(আমার নাকের ওপর চাঁদের মতো লাল তিলটিতে

তুমি কখনো ঠোঁট ছোঁয়াওনি, যক্ষের ধনের মতো

বাচ্চা ছেলে-মেয়েরা যেমন ঈদ কিংবা পুজোর জন্যে

নতুন জামা-কাপড় তুলে রাখে—ঠিক তেমনি তুমিও

মাহেন্দ্রক্ষণের প্রতীক্ষায় ছিলে। এখনো কি আছ?)।

 

জেদি চুল সরানোর ছলে অকস্মাৎ আমার কপালে

তোমার আঙুল ছুঁয়ে দিয়ে মেঘলা জ্যোত্স্নায়

তুমি কত দিন লজ্জায় অপরাধীর মতো মাথা নত করে

                                      দাঁড়িয়ে থেকেছ;

আমি অস্থির আনন্দে থিরথির করে কেঁপেছি ও বিস্মিত হয়েছি।

তুমি তখন আমার চোখের গভীরে দীর্ঘ সাঁতার কেটেছ (তুমি কি এখনো

সেই অনন্ত সাঁতারে বিশ্বাস করো?)।

 

আমার প্রেমিক কবি

আমি যখনই প্রবল প্লাবনে পোড়া বৃক্ষের মতন শীর্ণকায় নারী দেখি

নিজেকে আজন্ম প্রবঞ্চক মনে হয়।

 

আমি যখনই থলথলে দাঁতাল শুয়োর দেখি

অনাসৃষ্টির বাহুল্য আমাকে বিব্রত করে।

 

আমি যখন আকাশে নক্ষত্রের ঝরে-পড়া দেখি

ভাবি—বুঝি বা প্রভাত বিলম্বিত হবে।

 

প্রিয়তম কবি

আমি এখন ধর্মের উপাখ্যান পড়ে চতুর্দিকে তাকাই

এবং হেসে উঠি—ঈশ্বর সর্বত্র উন্মোচিত।

 

আমি এখন প্রচুর বন্ধুকে সঙ্গ দিই

এবং বিশ্বাস করি একাকিত্বই উৎকৃষ্ট নরক।

 

আমি এখন অজস্র মর্মরিত মৃত্যু দেখি

এবং আনন্দে উদ্বেলিত হই—তোমার কবিতারা আয়ুষ্মতী হবে।

 

আমি এখন রাস্তায় বৃদ্ধ বেশ্যা অন্ধ ভিখারিনি

অনাথ শিশু ও নড়বড়ে সাঁকো দেখি

আর অভিভূত হই—হেঁটে হেঁটে বহুদূর এগোবে মানুষ।

মন্তব্য