kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

অভয় চোখে এই আম্পান

তুষার গায়েন

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কত আর নেবে এই জনঘনত্বের দেশ, এই অল্প ভূমি?

এত আঘাত আছড়ে পড়ে বুকে তার বারংবার

যতটুকু মাটি, তার থেকে বহুগুণে বিবর্ধিত শস্যরাশি

যতটুকু জল তুলে দেয় কৃষকেরা হাতের আঁজলা ভরে

ততোধিক দেহনুন—শতাব্দী সঞ্চিত ক্ষুধা কমে আসে বহুগুণ,

রাষ্ট্রের গুদামে কিছু জমা আছে, কিছু গেছে দূরদেশে

যেখানে বাঙালি ভাত আর মাছ খেতে ভালোবাসে;

আর কিছু মুদ্রা আসে সোনালি উজ্জ্বল রঙে ভেসে—

অল্প বেতনে মেয়েরা কাজ করে ঝলমলে দুনিয়ার

পোশাক বানাতে, জানে আগুন লাগলে কারখানা থেকে

বেরোবার পথ নেই! সমুদ্রে ট্রলারে ভাসে জান বাজি রেখে

অনেক যুবক, ভাবে কোথাও ভাগ্যের রেখা মিলবে নিশ্চয়

অনিশ্চিত ভূগোলের বাঁকে, এভাবে গতি ও গীতি

আঁকাবাঁকা পথে উঁকি মারে এই ছোট জনঘনত্বের দেশে

অবশেষে মহামারি আসে ঘরে ঠেলে দিয়ে মানুষের

ক্ষুধার্ত পেটের গান শুনবার বিকৃত উল্লাসে!

এই জনঘন দেশে দূরে দূরে থাকার অভ্যাস নেই

তবু সেভাবে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা প্রায়শ বিফলে যায়

আর করোনা ঝাঁপিয়ে পড়ে, আমরা প্রস্তুত যদি

ইমিউনিটি কড়া করে নিতে—দেবতা অদৃশ্য হাসে

সমুদ্রের গর্ভ হতে ঘূর্ণি দিয়ে ওঠে জলরাশি

আম্পান আছড়ে পড়ে ভেঙে ফেলে বেড়িবাঁধ

উড়িয়ে টিনের চাল মটকায় গাছের ঘাড়

মানুষের সাথে জড়াজড়ি করে মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে

নিরাশ্রয়, করোনার উপহাস!

ভাঙা ঘরের উঠানে একটি কিশোর হাসে

ভয় নেই এসব কিছুতে তার, ভাঙা চাকা জোড়া দিয়ে

পুনর্বার খেলার আনন্দে ডাকে খেলার সাথিকে তার...

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা