kalerkantho

শুক্রবার । ৭ কার্তিক ১৪২৭। ২৩ অক্টোবর ২০২০। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বই আলোচনা

শতবর্ষে কোটি কণ্ঠের প্রতিভূকে স্মরণ

পিয়াস মজিদ   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শতবর্ষে কোটি কণ্ঠের প্রতিভূকে স্মরণ

ব্যক্তি একক যখন কোটি মানুষের কণ্ঠস্বরের প্রতীক স্বরে পরিণত হন, তখন তাঁকে স্মরণ মানে তাঁর স্বদেশ ও জনতার সামগ্র্যকে উদযাপন।

এ বছর হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সে পুণ্যলগ্নে অর্থাৎ ১৭ই মার্চ ২০২০-এ প্রকাশ পায় ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি’র বাংলা, ইংরেজি দ্বিভাষিক স্মরণিকা ‘কোটি মানুষের কণ্ঠস্বর’। এর প্রধান সম্পাদনা উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা, সম্পাদনা উপদেষ্টা জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কবি কামাল চৌধুরী এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনার সম্পাদক।

বৈচিত্র্যপূর্ণ এই প্রকাশনা এক মলাটে ধারণ করেছে বঙ্গবন্ধুর জীবন-কর্মের রেখাচিত্র আর তাঁর স্মৃতি এবং তাঁকে নিয়ে আপনজনের স্মরণার্ঘ্য।

প্রকাশনাটির শুরুতেই আছে পিতা শেখ মুজিবকে নিয়ে তাঁর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানার কবিতা ‘বাবা’। যেকোনো পাঠককে হৃদয়ার্দ্র করবে এমন কাতর উচ্চারণ—

‘এক টুকরো সাদা মেঘ ভেসে যাবে

ওখানে কি তুমি?

আকাশে বাতাসে পাহাড়ে উপত্যকায়

তোমাকে খুঁজবো, ডাকবো

যে প্রতিধ্বনি হবে

ওখানে কি তুমি?

শুভ জন্মদিন

শুভ জন্মদিন।’

মুজিববর্ষের সূচনালগ্নে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাণীর পাশাপাশি ‘মুখবন্ধ’-এ বছরব্যাপী কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরেছেন ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি’র সভাপতি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম এবং প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।

এরপর বঙ্গবন্ধুর ৫৫ বছরের সচিত্র জীবন পরিক্রমার সংযোজন প্রকাশনাটিকে প্রামাণ্য করেছে। ‘স্মৃতিকথা, নিবন্ধ’ পর্বে লিখেছেন শেখ হাসিনা, প্রণব মুখোপাধ্যায়, শেখ রেহানা, রফিকুল ইসলাম, জুলিয়ান ফ্রান্সিস, কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী ও সৈয়দ বদরুল আহসান।

‘ভাইয়েরা আমার’ শীর্ষক লেখায় শেখ হাসিনা ৭ই মার্চ ১৯৭১-এর ঐতিহাসিক ভাষণের পূর্বাপর ব্যাখ্যা করেছেন—

‘৭ই মার্চের ভাষণের রণকৌশলে বাঙালি জাতি আশ্বস্ত হয়ে সকল প্রস্তুতি নিতে ছড়িয়ে পড়েছিল গ্রামবাংলায়, প্রস্তুতি নিয়েছিল যুদ্ধের। প্রতিটি ঘরই পরিণত হয়েছিল এক-একটি দুর্গে। প্রতিটি মানুষ হয়েছিল এক-একজন যোদ্ধা। আর এই ভাষণ ছিল সকল প্রেরণার উৎস।’

ভারতের সদ্যঃপ্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিরলস এক রাষ্ট্রনায়ক’ লেখার শেষ কথাটি যেন আমাদের সবারই কথা—

‘তাঁর সোনার বাংলার স্বপ্ন বেঁচে আছে, বেঁচে থাকবে।’

‘বঙ্গবন্ধু ও একাত্তরের অগ্নিঝরা মার্চ’ লেখায় রফিকুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধ ও মার্চ আর অবিভাজ্য বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করেছেন।

‘বঙ্গবন্ধু : চিরন্তন আলোকশিখা’ রচনায় কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী কাব্যিক ব্যঞ্জনা এবং বিশ্লেষণী বিভায় বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করেছেন।

এই প্রকাশনার এক অনন্য দিক বঙ্গবন্ধুর আটটি স্মরণীয় বাণীর সংযোজন এবং তাঁকে নিয়ে বিশ্বের প্রয়াত ও জীবিত ১০ জন বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের মন্তব্য; যাঁদের মধ্যে আছেন—ফিদেল কাস্ত্রো, ইন্দিরা গান্ধী, ইয়াসির আরাফাত, সোনিয়া গান্ধী, হ্যারল্ড উইলসন, ক্রিস্টিয়ান উলফ প্রমুখ।

এরপর যথাক্রমে সংযোজিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু উত্থাপিত বাঙালির মুক্তির সনদ ছয় দফা, ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ, স্বাধীনতার ঘোষণা, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২৯তম অধিবেশনে বাংলায় প্রদত্ত বঙ্গবন্ধুর ভাষণ এবং বঙ্গবন্ধু রচিত তিনটি গ্রন্থ ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের রোজনামচা’ এবং ‘আমার দেখা নয়াচীন’-এর সচিত্র পরিচিতি।

সব্যসাচী হাজরার অঙ্কিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি অবলম্বনে ‘কোটি মানুষের কণ্ঠস্বর’ প্রকাশনাটির প্রচ্ছদ করেছেন সেলিম আহমেদ।

এই শতবর্ষ সূচনা স্মারক গুণে-মানে দেশি-বিদেশি যেকোনো পাঠককে বঙ্গবন্ধুর জীবন সম্পর্কে আগ্রহী করবে, পূর্বধারণার পূর্ণতা দেবে আর সবাইকে ভালোবাসায় শ্রদ্ধাশীল করবে সেই মহাজীবনের প্রতি, যাঁর সারা জীবনের বিশ্বাস-বাক্য ছিল—

‘আমি সব হারাতে পারি, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা হারাতে পারব না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা