kalerkantho

রবিবার । ১২ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৯ সফর ১৪৪২

মনে থাকা বই

রবীন্দ্র-স্মৃতি

৭ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রবীন্দ্র-স্মৃতি

বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় ছিল আসল নাম। সাহিত্যিক হিসেবে ছদ্মনাম গ্রহণ করলেন— ‘বনফুল’। বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদান এই লেখকের। ‘স্থাবর’, ‘জঙ্গম’, ‘হাটে-বাজারে’, নাটক ‘মধুসূদন’, ছোটগল্প ‘কিছুক্ষণ’ বাংলা সাহিত্যে বনফুলকে অমরত্ব দিয়েছে। বাংলা অণুগল্পের জনক তিনি। ব্যক্তিজীবনে ছিলেন ডাক্তার। তাঁর ‘হাটে-বাজারে’ হিন্দিতে সিনেমা হয়েছিল। অভিনয় করেছিলেন অশোক কুমার। ‘কিছুক্ষণ’ সিনেমা হয়েছিল বাংলায়। দর্শক মুগ্ধ হয়ে সেই সিনেমা দেখেছে। ‘কিছুক্ষণ’ বইটি তিনি রবীন্দ্রনাথকে উৎসর্গ করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের অতিস্নেহের পাত্র ছিলেন। নিজের প্রতিটি বই-ই বনফুল রবীন্দ্রনাথকে পাঠাতেন। নিয়মিত পত্র যোগাযোগ ছিল তাঁদের।

এক সাহিত্যের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করছেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ। বক্তাদের মধ্যে বনফুলও ছিলেন। সেদিন খুব ভালো বক্তব্য দিলেন বনফুল। শুনে সবাই মুগ্ধ। রবীন্দ্রনাথের রসবোধ ছিল অতিসূক্ষ্ম ও তীক্ষ। বনফুলের বক্তব্য শুনে তিনি বললেন, ‘বলাই, বলাই তো ওর কাজ।’

‘রবীন্দ্র-স্মৃতি’ নামে ছোট্ট একটি বই আছে বনফুলের। বাংলা ১৩৭৫ সনের ২৫শে বৈশাখ, রবীন্দ্র জন্মতিথিতে এই বই প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে বনফুলের বহু রকম স্মৃতির কথা বইটিতে লেখা হয়েছে। আছে রবীন্দ্রনাথের অনেক চিঠি। সেই সব চিঠি রবীন্দ্রনাথের হস্তাক্ষরসহ রাখা হয়েছে বইতে। বিশ্বকবিকে নিয়ে তাঁর কয়েকটি কবিতাও আছে এই বইতে।

১৩৬৯ সনের ২৫শে বৈশাখ ভাগলপুর বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদে অনুষ্ঠিত রবীন্দ্র জন্মোৎসবে বনফুল পাঠ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে লেখা তাঁর কবিতা—

 

‘সনাতন ভারতের আধুনিক রূপ রবীন্দ্রনাথ,

মুক্তি-আকাঙ্ক্ষার শাশ্বত প্রতীক রবীন্দ্রনাথ,

সত্য-শিব-সুন্দরের বিগ্রহ-নির্মাতা রবীন্দ্রনাথ,

প্রতিবছরই পঁচিশে বৈশাখে প্রণাম জানাই তোমাকে

এবারও জানালাম :’

বহুদিন পর ‘রবীন্দ্র-স্মৃতি’ বইটির একটি সংস্করণ প্রকাশ করে কলকাতার ‘বাণীশিল্প’। প্রকাশকাল ১৫ এপ্রিল ১৯৯৯। প্রকাশক অবনীন্দ্রনাথ বেরা। প্রচ্ছদ প্রণবেশ মাইতি। দাম চল্লিশ টাকা।

বই কথক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা