kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৩ আগস্ট ২০২০ । ২২ জিলহজ ১৪৪১

আত্মজৈবনিক বই

পদ্মাসেতুর ইতিকথা

১০ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পদ্মাসেতুর ইতিকথা

উন্নয়ন বাংলাদেশের রাষ্ট্রনীতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। দেশের পূর্ব এলাকার সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকার জীবনযাত্রার মানের বৈষম্য দূর করার জন্য বাংলাদেশ সরকার  পদ্মা নদীর ওপর পদ্মা সেতু প্রকল্প হাতে নেন। সেতুর টেন্ডার প্রক্রিয়ার সময় বিশ্বব্যাংক প্রথম আপত্তি তোলে। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সরকারের শুরু হয় টানাপড়েন। পরবর্তী সময়ে সুপারভিশন কনসালট্যান্সি প্যাকেজের টেন্ডার মূল্যায়নে কথিত দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ব্যাংক মাঝপথে কাজ বন্ধ করে পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে ঋণ প্রত্যাহার করে নেয়। বিষয়টি গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা পায়। দুর্নীতি দমন কমিশন আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। তারা মামলা তুলে নেয়। পরে কানাডার আদালতে মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়। এভাবে অশুভ ও অন্যায় চক্রের পরাজয় ঘটে।

ওপরের কথাগুলো বললাম একটি আকর্ষণীয় বই পাঠ করে। বইটির নাম ‘পদ্মাসেতু : সততা ও আত্মবিশ্বাসের বিজয়’। লেখক মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র ছিলেন। ১৯৮১ সালে সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন।

বইটি পাঠ করতে গিয়ে আমি একটু দ্বিধায় পড়েছি। এটি কোন শ্রেণির বই? বইটিতে তিনি পদ্মা সেতু নিয়ে আলোচনা করেছেন। আলোচনায় উঠে এসেছে দাতা সংস্থার অর্থায়নে নেওয়া উন্নয়ন প্রকল্পের পেছনে থাকা রাজনৈতিক অর্থনীতির প্রসঙ্গ। আবার ‘কারাগারের ডায়েরি’ একান্ত আত্মজৈবনিক। আমি মনে করি বইটিতে বিভিন্ন রীতির একটি সুন্দর মিশ্রণ ঘটেছে। বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে—‘যাঁর আত্মবিশ্বাস ও সাহসী সিদ্ধান্তে নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত পদ্মা সেতু আজ দৃশ্যমান, পদ্মা সেতুর রূপকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিন’কে।

এই বইটিতে পদ্মা সেতু বিষয়ে যে ভুল ব্যাখ্যা ছিল লেখক সেই বিষয়টিকে সহজ করে আমাদের কাছে তুলে ধরেছেন। বইটিতে অনেকগুলো অধ্যায় আছে। সেতুর পরামর্শক নিয়োগ, টেন্ডার আহ্বান, মূল্যায়ন, বিশ্বব্যাংকের আপত্তি, দুর্নীতির অভিযোগ, দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলা, লেখকের কারাবরণ ও সসম্মানে মুক্তি। লেখককে পরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের মেয়াদ শেষে তিনি অবসরে যান। এই বইয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধে প্রফেসর ড. মুহান্মদ ইউনূসের ভূমিকা। 

স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্রের কারণে লেখক ও তাঁর পরিবারকে সীমাহীন দুঃখ ও কষ্ট পোহাতে হয়েছে। কারাগারের ডায়েরিতে তিনি তাঁর অগ্নিপরীক্ষার কথা ছোটগল্পের মতো বলেছেন। বইটি প্রকাশ করে তিনি একটি মিথ্যার রূপকল্পকে ভেঙে দিয়েছেন। একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছেন। পদ্মা সেতুর আলাচনা ও ব্যাখ্যায় তিনি একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। তাঁর আলোচনা নির্মোহ। তথ্য সংগ্রহ ও বিচার-বিশ্লেষণের পদ্ধতি বইটিকে একটি মূল্যবান আকর গ্রন্থের মর্যাদায় উন্নীত করেছে। লেখক সহজ ভাষায় এই সুখপাঠ্য গ্রন্থটি রচনা করেছেন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়ে উৎসাহী সাধারণ পাঠক, উন্নয়নকর্মী, নীতিনির্ধারক, গবেষক ও সিভিল সার্ভিসের সদস্যসহ সবার কাছে বইটি সমাদৃত হবে হলে আমি মনে করি। বইটি প্রকাশ করেছে বিদ্যাপ্রকাশ।

মাসুদ সিদ্দিকী

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা