kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

প্রেমের অন্ধকার

সেলিনা হোসেন

১০ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



প্রেমের অন্ধকার

অঙ্কন : মাসুম

করোনাভাইরাসের দিনগুলোতে ঘরে থাকার নির্দেশ পেয়ে বীথিকা ভেবেছিল, সময়টা বুঝি গৃহবন্দির জীবনযাপন হয়ে গেল। কিন্তু গত সাত দিন একটানা ঘরে থাকার পর নিজের ভেতরে নতুন অনুভব শুরু হয় বীথিকার। ও বিরূপ কোনো চিন্তা করতে পারে না। তবে নিজেকে বোঝায়, কভিড মহামারি থেকে নিরাপদ রাখার এই প্রক্রিয়াকে তো মেনে নেওয়া উচিত। না মেনে উপেক্ষা করলে যদি অসুস্থ হতে হয় তাহলে লাভ কী? বীথিকা নিজেকে সংযত করে। ভাবে, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার এই সময়ের আগ পর্যন্ত অনেক ঘুরে বেড়িয়ে সময় কেটেছে। তার জন্য মনে দুঃখ থাকার সুযোগ নেই; বরং এই অন্য রকমের জীবন কাটানো মেনে নেওয়া দরকার। বীথিকা ঘরের ভেতর সারা দিন ঘোরাফেরা করে। ভাবে, এই অন্য রকম জীবনযাপনও আনন্দের। এক অদৃশ্য ভাইরাস এই জীবনযাপনকে নিয়ন্ত্রণ করছে। বিশ্বজুড়ে মানুষ এই অদৃশ্য জীবাণুর কাছে নতি স্বীকার করে ঘরবন্দি হয়েছে।

মৃদু হাসিতে বীথিকা নিজেকে স্বস্তির ঘোরে ডুবিয়ে রাখে। ভাবে, যা হচ্ছে হোক। অসুখ থেকে নিরাপদে রাখার একটি সাময়িক ব্যবস্থা। বাথরুমে ঢুকে কল ছেড়ে দিয়ে পানি পড়ার শব্দের সঙ্গে খিলখিলিয়ে হাসে ও। যেন হাসির শব্দ কেউ শুনতে না পায়। বাড়িতে সবাই তো মনমরা হয়ে আছে। কারো মুখে হাসি নেই। বেশি মন খারাপ বাবার। বাবা প্রায়ই বলে, সরকারের কী দায় পড়েছে যে মানুষকে ঘরে আটকে রেখে সুস্থ রাখতে হবে? যারা মরার তারা মরুক না। মানুষের মরণের দায় সরকার নেবে কেন?

-আব্বা, আপনি এসব কী কথা বলেন? এটা মানুষের কথা না।

মেয়েকে ধমক দেয় খয়রুদ্দিন।

-কেন মানুষের কথা না? তাহলে জানোয়ারের কথা?

-না, আব্বা এটা জানোয়ারের কথাও না। জানোয়ার তার চারপাশের জানোয়ার মরতে দেখলে এমন কথা বলবে না।

-খবরদার।

খয়রুদ্দিন রেগে চেয়ার থেকে লাফিয়ে ওঠে। বীথিকা দৌড় দিয়ে বাথরুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। শুনতে পায়, ওর বাবা দরজার গায়ে ঠাসঠাস শব্দ করছে। চিৎকার করে ওকে বকাবকি করছে। বলছে, তোর এত সাহস! তুই আমাকে জানোয়ার বলিস!

বীথিকা ভয় পায় না। কথা বলে না। মৃদু হাসি মুখে রেখে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে। দুই কান ভরে শোনে দরজা পেটানোর শব্দ।  একটু পর দরজায় পেটানোর শব্দ থেমে যায়। ও ভাবে, সারা দেশে যা হবার হোক। এই নতুন সময় দেখা আমার জন্য ভিন্ন অভিজ্ঞতা। আমাদের নতুন যুদ্ধ। জীবনকে মহীয়ান করার যুদ্ধ। এই নতুন সময় দেখা আমার জন্য ভিন্ন অভিজ্ঞতা। ভবিষ্যতে আমার বাচ্চাদের এই গল্প বলব। ওর মৃদু হাসিতে খিলখিল শব্দ হয়। ওর হাসি সামলে নিয়ে দরজা খুলে এক দৌড়ে বাবার পায়ের কাছে উপুড় হয়ে বসে।

-আমাকে মাফ করে দেন, আব্বা।

খয়রুদ্দিন ওর মাথায় ঠেলা দিয়ে বলে—যা, নিজের ঘরে যা।

বীথিকা উপুড় হয়ে বাবাকে সালাম করে। তারপর পায়ে চুমু দেয়। কয়েকবার চুমু দিয়ে উঠে চলে যায়। বারান্দায় গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। গলির রাস্তাটা একদম জনশূন্য। পায়ে হাঁটা মানুষ নেই। রিকশাও নেই। প্রবল শূন্যতায় বুক হাহাকার করে। এ দেশ আমার নয়। এ দেশে জনে জনে মানুষ হাঁটে। ভিড়ে যানজট হয়। এটাই শহরের প্রকৃত চিত্র। বীথিকা দুহাতে চোখ মুছে রান্নাঘরে মায়ের কাছে যায়। মা আর ও এক মাসে বাড়ির বাইরে যায়নি। বাবাকে যেতে হয় বাজার করার জন্য। তার অফিস বন্ধ। ছোট চাকরির মানুষ। বেতন কম। মনমেজাজ ভালো থাকে না। বড় ভাই নিসার বিয়ে করার পর অন্য বাড়ি ভাড়া নিয়ে আলাদা থাকে।

বীথিকাকে আলাদা ডেকে বলেছে—আমার বউকে বাবার এই চেহারা দেখাতে চাই না। রোজিনাকে দেখেছিস, ও খুব শান্ত মেয়ে।

-কিন্তু বাবা তোমার এই সিদ্ধান্ত মানতে পারেনি। মনমেজাজ আরো খারাপ হয়ে গেছে। সারাক্ষণই বলে, এক শহরে বাস করে ছেলে কেন আলাদা থাকবে?

বাড়ির কেউ তার প্রশ্নের উত্তর দেয় না। নিসারের পক্ষে কথা বললে সেটা উল্টো হবে। গালাগাল শুনতে হবে। মা বলে—ছেলে ছেলের মতো থাকুক। আমার কোনো দুঃখ নাই। ও খুশি থাকলে আমিও খুশি। মায়ের এমন কথা শুনলে বীথিকার মাথা ঝিমঝিম করে। ও জানে, একদিন ও নিজেও এই বাড়ি ছাড়বে। সুমন্তর সঙ্গে বিয়ে হলে সুমন্ত কি এখানে এসে থাকবে? প্রশ্নই ওঠে না।

রান্নাঘরে ঢুকে মাকে বলে—আমার কিছু করতে হবে, মা?

-এই পেঁয়াজগুলো কাট।

-বীথিকা পেঁয়াজ কাটতে বসে। পেঁয়াজের ঝাঁজে চোখে পানি গড়ায়। সুমন্তর সঙ্গে দুদিন কথা হয়নি এই বোধও পানির বেগ বাড়ায়। মা ওর দিকে তাকিয়ে বলে—কিরে, কারো কথা ভাবছিস?

ও চোখ বড় করে তাকায়। মাকে অন্য রকম মানুষ মনে হয়। ও মায়ের প্রশ্নের উত্তর দেয় না। মা মৃদু হেসে বলে—বুঝেছি। যা, তুই ঘরে যা।

-আর কাটতে হবে না?

-না, এখন আর লাগবে না। এতেই হবে। এই পুডিংয়ের বাটিটা তোর বাবাকে দিস।

মা ওর দিকে কাচের বাটিটা ঠেলে দেয়।

বীথিকা ঝটপট রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে আসে। ওড়না দিয়ে চোখের জল মুছে বাবার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়।

-বাবা, পুডিং খাও।

-দে, পানি দিস এক গ্লাস। বুকটা কেমন জানি করছে।

-দেখি, জ্বর আসেনি তো?

বীথিকা বাবার কপালে হাত দেয়।

-একদম ঠাণ্ডা। আমি তোমার জন্য এক গ্লাস গরম পানি নিয়ে আসি। তুমি গরম পানি খাও।

-না না, গরম পানি লাগবে না। তুই আমাকে ঠাণ্ডা পানি দে।

বীথিকা বাবাকে পানি এনে দিয়ে নিজের ঘরে ঢোকে। ঘরবন্দি থেকে বীথিকার দিনগুলো ভিন্ন রকম হয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস বন্ধ। সুমন্তর সঙ্গে দেখা হচ্ছে না। ফোনে কথা বলে মন ভরে না। সুমন্ত গতকাল ফোন করে বলেছিল—একদিন বাড়ি থেকে পালিয়ে বের হও, আমিও আসব।

-কোথায় যাবে?

-রমনা পার্কে।

-না, অত খোলামেলা জায়গায় যাব না।

-তোমার কি মনে হয় তুমি গৃহবন্দি?

-না, মোটেও না। মনে হয় প্রেমের ভিন্ন সময়ে আছি। অদৃশ্যের মাঝে দৃশ্যমান করে তোলা যায় প্রেমিকাকে।

সুমন্ত হা হা করে হাসতে হাসতে বলে—দারুণ বলেছ। ভাষা ব্যবহারে তোমার জুড়ি নেই দেখছি।

-তাই নাকি? কয়জনের প্রেমে পড়েছ যে জুড়ি খুঁজে পাচ্ছ না?

-বাজে কথা বলছ কেন? প্রশংসা করেছি ভালো লাগার মন থেকে। বুঝে গেছি যে আমি তোমার মন থেকে হারিয়ে যাইনি।

-এটা কোনো কথা হলো? আমি তোমার জীবন থেকে কখনোই হারিয়ে যাব না। মরে গেলে তখন হারাব। তার আগে না।

-মরার কথা বোলো না। বিয়ের পরে আমরা একসঙ্গে মারা যাব। তুমি আগে মারা গেলে আমি সুইসাইড করে তোমার সঙ্গে চলে যাব।

-ওহ্, আমরা এসব কী কথা বলছি?

-আমরা প্রেমের কথা বলছি। মৃত্যুর সঙ্গে প্রেমের সূত্রের কথা, মৃত্যু আর প্রেম জীবনের কাছে শান্তির গোলাপ।

-জানো, আমি অনেক দিন ভেবেছি তোমাকে একটি কথা বলব। কিন্তু বলা হয়নি।

-বলো, বলে ফেলো।

-আমি মারা গেলে আমাকে দাফন করার সময় আমার হাতে একটি লাল গোলাপ গুঁজে দেবে। আমি মনে করব তোমার প্রেমের গোলাপ নিয়ে আমি কবরে যাচ্ছি।

-বাহ্, ভালোই তো। মারা গেলে আমার হাতেও গোলাপ দিয়ো।

-হ্যাঁ, দেব।

-আমরা এসব কী কথা বলছি?

-আমরা প্রেমের কথা বলছি। মৃত্যুর সঙ্গে প্রেমের সূত্রে এসব কথা।

-থাক, আর শুনব না। শুনতে ভয় করছে।

 ফোন রেধে দেয় বীথিকা। ঠিক সেই সময় মায়ের চিৎকার শুনতে পায় ও। ছুটে যায় মায়ের কাছে।

-কী হয়েছে, মা?

-তোর বাবার জ্বর এসেছে। সঙ্গে গলা ব্যথা, কাশিও আছে।

বীথিকা আতঙ্কিত হয়ে কাঁদতে শুরু করে। মা ওর দিকে তাকিয়ে বলে—ডাক্তারকে ফোন কর।

আগেই কাঁদতে শুরু করলে সে কান্না থামাতে পারে না বীথিকা। হাঁটতে হাঁটতে ঘরের বাইরে চলে আসে। বাথরুমে গিয়ে মুখ ধুয়ে ডাক্তারকে ফোন করে। ফোন যে ধরেছে সে বলে—আপনার বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। আমরা পরীক্ষা করব।

মায়ের কাছে গিয়ে এ কথা বললে মা বলল—তুই গিয়ে একটা সিএনজি নিয়ে আয়, বীথি। তিনজনই যাব তোর বাবাকে নিয়ে।

-যাচ্ছি।

বীথিকা বাড়ির সামনে গলিতে এসে দাঁড়ায়। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর একটা সিএনজি পাওয়া যায়। পাশের বাড়ির আরিফুল জিজ্ঞেস করে—কোথায় যাবে তোমরা?

-মা জানে, আমি মাকে জিজ্ঞেস করিনি।

-করোনার সময় বাইরে যাওয়া নিষেধ...

-আমরা তা জানি। তাহলে...

-আমাকে এত কথা জিজ্ঞেস করবেন না, চাচা। আমি যাচ্ছি।

সিএনজি হাত ইশারা করে ওর পেছনে আসতে বলে। নিজে হেঁটে সামনে চলে যায়। গেটের সামনে গিয়ে দেখে মা রেডি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বাবাকে নিয়ে।

-মাগো, আমিও যাব তোমাদের সঙ্গে।

-না, তোর যেতে হবে না। বাড়িতে থাক।

-বাবা, আমি যাব না?

-কালকে যাস। আজকে বাড়িতে থাক।

বীথিকা চোখের পানি মোছে। বাবা ওর মাথায় হাত রেখে বলে—মন খারাপ করিস না, মা। আমরা তো ফিরে আসব। তুই অপেক্ষা কর।

বীথিকা মাথার ওপরে বাবার হাত রেখে অল্পক্ষণে ছেড়ে দেয়।

চলে যায় সিএনজি। ঘড়ঘড় শব্দ ওর মাথার ভেতরে টুংটাং বাজে। ও হতভম্বের মতো দাঁড়িয়ে থাকে। গলি ছেড়ে সিএনজি চলে গেছে বড় রাস্তায়। ও গেট বন্ধ করে। ভাবে, সুমন্তকে আসতে বলবে। সুমন্ত কি আসতে পারবে? কয়দিন ধরে ওকে টেলিফোনে পাওয়া যাচ্ছে না। আকস্মিকভাবে ওর মন খারাপ হয়ে যায়। ও ধীর পায়ে ঘরে ঢোকে। যেদিকে তাকায় সেদিকটাই মনে হয় শূন্য। কোথাও কিছু নেই। কেন এমন হচ্ছে ওর? ও আঁতকে উঠে চিৎকার করে কাঁদতে থাকে। একসময় বিছানায় শুয়ে বালিশে মুখ গুঁজে উপুড় হয়ে থাকে। ভাবে, পৃথিবী নিঃসাড় হয়ে গেছে ওর জীবনে। মাথায় এক অদ্ভুত শব্দ হয়। বুঝতে পারে না শব্দটা কেমন। আকস্মিকভাবে ভয় করে ওর। ভয়ে কাঁপতে থাকে।

তখন টেবিলে রাখা মোবাইল ফোন বেজে ওঠে। ও ফোন ধরার জন্য আগ্রহ বোধ করে না। ফোন থেমে গিয়ে আবার বাজে। ও উঠে ফোন ধরে। সুমন্ত ফোন করেছে।

বীথিকা হ্যালো বলার সঙ্গে সঙ্গে সুমন্ত বলে—মনে কর আমি তোকে জড়িয়ে ধরে বলছি আমাদের ভালোবাসা মৃত্যু পর্যন্ত থাকবে।

-শুধু মৃত্যু? আরো বেশি সময় ধরে থাকবে।

-আজ হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মনে হচ্ছে আমি তোকে ভীষণ ভালোবাসি, বীথিকা।

-তুই অনেকবার এ কথা বলেছিস। আমিও তোকে ভীষণ ভালোবাসি, সুমন্ত। কিন্তু তুই হাসপাতালে কেন?

-মা করোনা আক্রান্ত হয়েছে। সঙ্গে আমিও।

-ওহ্, আল্লাহ মাবুদ। ওদের সুস্থ করে দাও।

বীথিকার কান্নার ধ্বনি সুমন্ত দুকান ভরে শোনে। একসময় কান্না থামিয়ে বলে—তুই কোন হাসপাতালে আছিস বল। আমি তোকে দেখতে আসব।

-না, তুই আসবি না।

-প্রেমে পড়ার শুরু থেকে আমরা পরস্পরকে যেভাবে দেখেছি সেই চেহারা তুই মনে রাখ। মৃত্যুর পরও আমরা পরস্পরের কাছে এমনই থাকব।

বীথিকা কিছু বলার আগেই সুমন্ত কেটে দেয় ফোন। বীথিকা নিজে ফোন করার চেষ্টা করলে দেখতে পায়, সুমন্ত ফোন বন্ধ করে রেখেছে। বীথিকার সামনে অন্ধকার ঘনীভূত হয়ে ওঠে। মনে হয়, চারদিকে কোথাও কোনো আলো নেই। ও গুটি গুটি পায়ে ঘরের চারপাশে ঘুরে বারান্দায় এসে দাঁড়ায়।

তখন ফোন আসে মায়ের কাছ থেকে।

-আমাকে হাসপাতালে থাকতে হবে, বীথিকা। ডাক্তার পরীক্ষা করে বলেছেন, তোর বাবার করোনা পজিটিভ।

ও চিৎকার করে বলে, মা...

সঙ্গে সঙ্গে ফোন কেটে দেয় মা। মাঝে মাঝে ফোন করে ওকে হাসপাতালে যেতে নিষেধ করে।

-তোমার জন্য খাবার নেব না?

-না, আমি ব্যবস্থা করছি। একজন মহিলাকে টাকা দিয়েছি। সে আমাদের খাবারের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। কোনো অসুবিধা হচ্ছে না।

কেটে যায় ফোন। কারো সঙ্গে কথা বলে মন ভরে না বীথিকার। নিঃশব্দ সময়ের পীড়নে নিজেকেও করোনা আক্রান্ত মনে হয়। ওর বাবা, ওর প্রেমিক সুমন্ত, সুমন্তর মা—তিনজন প্রিয় মানুষের অসুস্থতায় ও কাহিল হয়ে থাকে। মনে হয় হাঁটার শক্তি ফুরিয়ে গেছে।

দিন গড়ায়। শুধু মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা হয়। সুমন্ত নীরব হয়ে গেছে। একদিন খবর পায়, বাবা মারা গেছে। একই দিন বিকেলে ফোন করে সুমন্তর বাবা। ওরা মা-ছেলে দুজনেই মারা গেছে। বীথিকা চিৎকার করে বলতে থাকে—করোনাভাইরাস, আমাকেও নিয়ে যাও। আমিও যেতে চাই।

চারদিকে কোথাও কোনো শব্দ নেই। দিনের আলোয় অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে ওর সামনে। বিড়বিড়িয়ে বলে—এ আমার প্রেমের অন্ধকার। জীবনে আর কখনো প্রেমের আলো ফুটবে না। সুমন্ত আমার কাছে প্রেমের অন্ধকার হয়ে থাকবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা