kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭। ১১ আগস্ট ২০২০ । ২০ জিলহজ ১৪৪১

আত্মজৈবনিক বই

আবুল হাসনাতের দুই বই

৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আবুল হাসনাতের দুই বই

আবুল হাসনাত, সাহিত্য পত্রিকা কালি ও কলম এবং চিত্রকলাবিষয়ক ত্রৈমাসিক শিল্প ও শিল্পীর সম্পাদক। ছিলেন দৈনিক সংবাদের সাহিত্য সম্পাদক। মুক্তিযুদ্ধের সময় ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সহসভাপতি। কলকাতায় থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও বুদ্ধিজীবীদের সংগঠিত করেছেন। তিনি মাহমুদ আল জামান নামে কবিতা লেখেন। প্রবন্ধ ও শিশু সাহিত্যেও সিদ্ধহস্ত। তাঁর প্রকাশিত দুটি বই নিয়ে আমাদের এই আয়োজন

 

অগ্নিযুগের সাক্ষী

‘কোটি কোটি যুবকের মতো আমার কালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়ারও আশঙ্কা ছিল।’ ‘হারানো সিঁড়ির চাবির খোঁজে’ বইয়ের প্রথম অনুচ্ছেদে এই বাক্য পড়ে আমি চমকে গিয়েছি। যে আবুল হাসনাতকে আমরা দূর থেকে একটা বটবৃক্ষের মতো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি, দরাজ কণ্ঠে শুধু স্থিরতার প্রতিফলন শুনি; এ যেন তাঁর ভেতরের দহন, অস্থিরতার প্রকাশ। পরক্ষণেই মনে হয়, এ আসলে একজন সত্যিকারের শিল্পীর বেদনা। তাঁর স্মৃতিকথায় জানাচ্ছেন, তিনি মুক্তিযুদ্ধের আগ মুহূর্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে পড়েন। দিনের বেলায় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঘুরে বেড়ান। আর রাতে দৈনিক সংবাদে বার্তাকক্ষে সহসম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। ফলে এ দেশের মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় যে ঘটনা মুক্তিযুদ্ধ, তারই সাক্ষী হয়ে গেলেন। ২৬ শে মার্চে সংবাদ অফিসে অবস্থানের বর্ণনা সত্যি গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো ঘটনা। এ ছাড়া এই বইয়ে মুক্তিযুদ্ধ, পঁচাত্তর, আশি ও নব্বইয়ের উত্তাল দিনগুলো প্রত্যক্ষদর্শীর মতো বর্ণনা করেছেন।

 

স্বর্ণমানবের সাহচার্যে

খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী, কবি, সাহিত্যিক, অভিনেতা, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে স্মৃতিচারণা ও মূল্যায়ন করেছেন লেখক ‘প্রত্যয়ী স্মৃতি ও অন্যান্য’ নামক বইয়ে। এঁদের মধ্যে রয়েছেন অভিনেতা শম্ভুমিত্র, সাহিত্যিক অশোক মিত্র, অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান, মঞ্চসজ্জাশিল্পী খালেদ চৌধুরী, কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, ভাষাসৈনিক ও লেখক আহমদ রফিক, সংগীতজ্ঞ ছায়ানটের সন্্জীদা খাতুন, কবি সমর সেন, সাংবাদিক হামদি বে, নিসর্গবিদ দ্বিজেন শর্মা, কবি ভূমেন্দ্র গুহ, কথাসাহিত্যিক মাহমুদুল হক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, সম্পাদক মতিউর রহমান, লেখিকা মন্দিরা নন্দী, কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, সুভাষ মুখোপাধ্যায়, শামসুর রাহমান, শিল্পী সুবীর চৌধুরী ও নৃত্যশিল্পী বুলবুল চৌধুরী। এসব বর্ণনায় শুধু দূর থেকে সাদামাটা আবরণ তৈরি করেননি, ব্যক্তি মানুষের ভেতরের আবেগ, না পাওয়ার বেদনা তুলে এনেছেন। স্থান সংকুলানের অভাবে শুধু একটি উদাহরণ দিচ্ছি, টাকার অভাবে ময়ূখ বের করতে পারছিলেন না ভূমেন্দ্র গ্রহ। শেষে ব্লাডব্যাংকে রক্ত বেঁচে টাকা জোগাড় করেন।

হানযালা হান

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা