kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭। ১১ আগস্ট ২০২০ । ২০ জিলহজ ১৪৪১

দুই মহারথী

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বুদ্ধদেব বসুর লেখা

৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বুদ্ধদেব বসুর লেখা

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, বুদ্ধদেব বসু

কবিতার দ্বারা উপন্যাসের আক্রমণ আধুনিক পশ্চিমী সাহিত্যের একটি বিশেষ লক্ষণ—শুধু আক্রমণ নয়, রীতিমতো জয়, রাজত্ব বিস্তার; গত ১০০ বছরের কথাসাহিত্যের দিকে তাকালে তার মধ্যে স্পষ্ট দুটি বিভাগ চোখে পড়বে : একদিকে সরল বাস্তবপন্থা, লোকে যাকে জীবন বলে তার নিষ্ঠাবান আলেখ্য, অন্যদিকে নির্বাচন, অতিরঞ্জন, উদ্দেশ্যময় বিকৃতি—এককথায় কাব্যধর্ম। কবিতা, ছন্দ মিলের সুদ্ধ, রূপায়ণে বিপন্ন বোধ করে, কেমন করে বহুব্যাপ্ত গদ্য-সাহিত্যের বড় একটা অংশকে অধিকার করে নিলে, তার ইতিহাস রোমান্টিসিজমের পরিণতির সঙ্গে সমান্তর। বলতে লোভ হয়, ফরাসি প্রতীকীবাদের প্রভাব পরবর্তী কথাসাহিত্যেও সংক্রামিত হয়েছে—নয়তো মান কেমন করে ‘ভেনিসের মৃত্যু’ লিখতে পেরেছিলেন বা জয়স তার শিল্পী-যুবকের প্রতিকৃতি?—কিন্তু এ-ও স্মর্তব্য যে দস্তয়েভস্কি, যিনি কবি-ঔপন্যাসিকের গুরুস্থানীয় তিনি শার্ল বদলেয়ারেরই সমকালীন হয়েও কখনো ‘ল্য ফ্ল্যর দ্যু মাল’ পড়েছিলেন বলে জানা যায় না। অবশ্যই এই নিবন্ধের উদ্দেশ্য ঐতিহাসিক তদন্ত নয়, তবে অনায়াস দৃষ্টিতেই এটুকু ধরা পড়ে যে সাহিত্যের চিরকালীন বাস্তববাদ যে সময়ে জোলার হাতে উগ্র প্রকৃতিবাদে পরিণত হলো, সেই একই সময়ে ইউরোপীয় উপন্যাসে একটি বিপরীত ধারা বলীয়ান হয়ে উঠছে, যে ধারা তথাকথিত বাস্তবকে অস্বীকার করে, বাস্তবের অন্তরালবর্তী স্বপ্ন বা সত্যের সন্ধানী।

কিন্তু এর সঙ্গে বাংলা সাহিত্যের পরিণতির ধারা মেলে না। ইউরোপীয় কবিতায় ও উপন্যাসে যে বিনিময়জনিত ভ্রাতৃত্ববন্ধন গড়ে উঠেছে, বাংলায় তার লক্ষণ এখনো ক্ষীণ। বাংলা কবিতার কোনো একটি অংশকে ঐতিহাসিক অর্থে আধুনিক বলা যায়, কিন্তু বাংলা কথাসাহিত্যের বৃহত্তম অংশ আজ পর্যন্ত উনিশ শতকী বাস্তববাদে আবদ্ধ। রবীন্দ্রনাথ অদম্য কবি হয়েও তাঁর কথাসাহিত্যে বঙ্কিমের অনুগামী হয়েছেন এবং যেখানে তা হননি অর্থাৎ যেখানে তাঁর মৌলিক কবিতাকে উপন্যাসের মধ্যে মুক্তি দিতে গিয়েছেন, সেখানে তাঁর উপন্যাসের—হয়তো কবিতারও ক্ষতি হয়েছে। শরৎচন্দ্র চাঁদের দিকে তাকিয়ে কখনো কোনো ‘মুখটুখ’ দেখতে পাননি বলে গর্ব করেছেন, কবিদের উদ্দেশে তাঁর এই উপহাস নিজের মর্যাদার পক্ষে হানিকর মনে হয়নি তাঁর, কোনো বাঙালি পাঠকেরও রুচিহীন মনে হয়নি। যুক্তিবাদী প্রমথ চৌধুরী প্রথম থেকেই নিজেকে কমনসেন্স, সাধারণবুদ্ধি বা সুবুদ্ধির প্রবক্তারূপে ঘোষণা করেছিলেন, ‘চার ইয়ারী কথা’র রূপসী উন্মাদিনী কোনো মায়াপুরীর আভাস এনে দিল না—নেহাতই ডাক্তারি অর্থে পাগল হয়ে কল্পনার ডানা কেটে দিলে। এবং সব ফেনিলতা সত্ত্বেও কল্লোল পত্রিকার মূলমন্ত্র ছিল ‘রিয়ালিজম’; তার তরুণ গোষ্ঠী রবীন্দ্রনাথ ও শরৎচন্দ্রে আপত্তি করেছিল—তারা বাস্তববাদী বলে নন, যথেষ্ট বাস্তববাদী নন বলে। তত্রাচ সেই উত্তেজনার অধ্যায়েও। ‘কল্লোল’ গোষ্ঠীর প্রত্যেক রচনাই বাস্তব শিল্পের অবিকল উদাহরণ হয়নি। কেননা কোনো লেখক বা গোষ্ঠীর ঘোষিত উদ্দেশ্যের সঙ্গে তাদের ব্যবহার কখনোই সম্পূর্ণ মেলে না, আর মেলে না বলেই বাঁচোয়া এবং—রবীন্দ্রনাথ নিজেও যেমন শেষ বয়সে বুঝেছিলেন তাঁর ‘গল্পগুচ্ছ’ বাস্তবতার গুণেই আদরণীয়, তেমনি তত দিনে নব্য লেখকরাও কেউ কেউ মেনেছিলেন যে নিছক বাস্তববাদে শেষ পর্যন্ত তৃপ্তি নেই।

বাংলা সাহিত্যের এই সন্ধিক্ষণে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রবেশ। দৈবাৎ এবং অল্পের জন্য ‘কল্লোল গোষ্ঠীর লেখক তিনি হননি, কিন্তু তাঁর স্বাভাবিক স্থান সেখানেই চিহ্নিত ছিল; প্রেমেন্দ্র মিত্র, শৈলজানন্দ ও যুবনাশ্বে’র সঙ্গে তাঁর আত্মীয়তা সুস্পষ্ট। প্রভেদ এই, তার রচনায় কোনো সচেতন বিদ্রোহ ছিল না। কেননা যার জন্য ‘কল্লোলে’র বিদ্রোহ, সে জমি তত দিনে জেতা হয়ে গেছে এবং একই কারণে মণীন্দ্রলাল-গোকুলচন্দ্রের স্কুলেও তাঁকে কখনো হাত পাকাতে হয়নি। তিরিশের যুগে যাঁরা তাঁর প্রথম রচনাবলি পড়েছেন তাঁদের বুঝতে দেরি হয়নি যে সদ্যোমৃত কল্লোলের সর্বশেষ, বিলম্বিত ও পরিপক্ব ফলের নামই মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বভাবতই তাঁর বিষয়ে প্রথম গুণগ্রাহী আলোচনা করেন ‘কল্লোলে’রই সাবেক লেখকরা, কিন্তু সুধীন্দ্রনাথের ‘পরিচয়’ গোষ্ঠী, যার আদর্শের উচ্চতা সে সময়ে কুখ্যাত ছিল আর যার সঙ্গে ‘কল্লোলে’র কোনো মিল ছিল না, তারও তরফ থেকে ধূর্জটিপ্রসাদ তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে বেশি দেরি করেননি। মতভেদ ছিল না সে সময়ে, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় স্বাভাবিক শক্তিতে অসামান্য।

বর্তমান নিবন্ধকার একবার বলেছিলেন যে বাংলা কথাসাহিত্যে দুটি ধারা লক্ষ করা যায়; একটা বঙ্কিম-শরৎচন্দ্র, অন্যটা রবীন্দ্রনাথ-প্রমথ চৌধুরী থেকে উৎসারিত। এ কথাটাকে এমন মনে হচ্ছে শোধনসাপেক্ষ। সত্যের নিকটতর হয় এ কথা বললে যে বঙ্কিম, পূর্ব-রবীন্দ্র ও শরৎচন্দ্র একই মূলধারার অন্তর্গত এবং উত্তর-রবীন্দ্র ও প্রমথ চৌধুরী বাংলা গদ্য ভাষাকে যতটা বদলেছেন, বাংলা কথাসাহিত্যের ধারণা বিষয়ে ততটা পরিবর্তন আনতে পারেননি। আনতে পারেননি—এই ব্যর্থতার আংশিক দায়িত্ব পরবর্তী লেখকদেরও নিতে হবে, অন্তত রবীন্দ্রনাথ যে কোথাও কোনো পরিণতির ইঙ্গিত দেননি তা-ও নয়। কিন্তু আজকের দিনে যখন বলি যে অন্নদাশঙ্কর রায় শরৎচন্দ্রের বিপরীত লেখক, তার অর্থ এই যে অন্নদাশঙ্কর সম্পূর্ণ আলাদা জাতের গদ্য লেখেন, সামাজিক বিষয়ে তাঁর মতামতও ভিন্ন; কিন্তু উপন্যাস বস্তুটি কী—সে বিষয়ে এই অসবর্ণ লেখকদ্বয়ের মূল ধারণায় বিশেষ প্রভেদ বোঝা যায় না। বাংলা কথাসাহিত্যের বৃহত্তম ধারাটি আজ পর্যন্ত বাস্তববাদের পরিপোষক; ব্যতিক্রম একেবারে নেই তা নয়, কিন্তু উষ্ণ ও ঘনিষ্ঠ বাস্তবতাই বৃহত্তম ধারাটির মহত্তম উপজীব্য। উপন্যাস বলতে বাঙালি পাঠক বোঝে—তথ্যের সজীব ও হৃদয়গ্রাহী প্রতিচিত্রণ, যেসব তথ্য স্বভাবী মানুষের সম্ভাব্য অভিজ্ঞতার অন্তর্ভূত; এবং বেশির ভাগ বাঙালি লেখকও তা-ই বোঝেন।

বলা যেতে পারে, এই স্থল থেকে সব ঔপন্যাসিকই যাত্রা করে থাকেন। অর্থাৎ স্বভাবী বা স্বাভাবিকের বর্ণনায় যাঁর কিছুমাত্র দক্ষতা নেই, তিনি কখনো ঔপন্যাসিক হবেন না, যদিও কবি হতে পারেন। কিন্তু অনেক পশ্চিমী লেখক বাস্তব থেকে যাত্রা করে বাস্তবের পরপারে পৌঁছেন; উত্তীর্ণ হন, সারি সারি আপাতবাস্তব চিত্রকল্পের সাযুজ্যে, প্রতীকের, এমনকি পুরাণের মায়ালোকে। বাস্তব চিহ্নসমূহ ‘জীবন্ত’ হয় না তা নয়, তা না হলে তাদের প্রয়াস নীরক্ত রূপকমাত্রে পরিণত হতো; কিন্তু তাঁদের কাছে বাস্তব একটা ছল বা উপায় বা অভিনয় মাত্র, যার ব্যবহারে, সত্যিকার কবির মতে, মানব মনের গোপন, সনাতন, নামহীন সম্পদকে তারা ছেঁকে তোলেন। লক্ষণীয়, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনাবলি এর উল্টো প্রক্রিয়ার সাক্ষ্য দিচ্ছে : তাঁর পূর্ব-রচনা কবিতার গুণে সমৃদ্ধ, কিন্তু সেখান থেকে প্রথম বাস্তববাদে, তারপর প্রকৃতিবাদে তাঁর স্থায়ী প্রতিষ্ঠা। তাঁর প্রথম উপন্যাসের শিরোনামাতেই কবিতা আছে; ‘দিবারাত্রির কাব্য’ শুধু নামত কাব্য নয়, সারত তাকে একটি দীর্ঘ গদ্যকবিতা বললে অত্যুক্তি হয় না। এটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবচেয়ে কম ‘পাকা লেখা’, সবচেয়ে কম স্পষ্ট, কিন্তু সে জন্যই তাতে বারবার দিগন্ত দেখা যায়, যেন আশ্চর্যের আভাস দেয় থেকে থেকে। ‘পদ্মানদীর মাঝি’তে এমনকি ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’য় তাদের নিখুঁত বাস্তব সদৃশতা সত্ত্বেও এই অলৌকিকের উদ্ভাস আমরা অনুভব করতে পারি; বর্ণিত মানুষেরা যেন অন্য কিছুর প্রতিনিধি, এই অনুভবের ফলে তারা নতুন একটি আয়তন পায়—যেটা তথ্যগত নয়, ভাবগত। পরবর্তী এবং একদিক থেকে আরো পরাক্রান্ত রচনায়, এই ভাবায়তনের বদলে দেখা দিল কঠোরতর বস্তুনিষ্ঠা এবং এক মর্মভেদী তীক্ষতা, যা পাঠকের কোনো দুর্বলতাকেই দয়া করে না, সমাজের নিম্নতম পাঁক থেকে বাস্তবের ছবি উদ্ধার করে আনে। আস্তে আস্তে এক দিগন্তহীন চতুষ্কোণ প্রদেশ তিনি দখল করে নিলেন : মানুষের নিঃশ্বাসে ঘন ও তপ্ত সেই দেশ, উদ্ভাবনে উর্বর, জীবনসংগ্রামে আরক্তিম—যেখানে চোর, ভিখিরি, কুষ্ঠরোগী কেরানি এবং কেরানির বউ জীবন ও প্রজননের মূলসূত্রে অবিরাম ঘূর্ণিত হচ্ছে। এই প্রদেশের বাস্তবতা অনস্বীকার্য এবং বাস্তবতাই এর প্রধান গুণ। অর্থাৎ এর মধ্যে অস্বভাবী মানুষ বা ঘটনার অভাব নেই, হত্যা, আত্মহত্যা, স্নায়বিক বিকার, মানসিক ব্যাধি, লোভ এবং ক্ষুধাজনিত মত্ততা—এসব ঘুরেফিরে দেখা দেয়, এমনকি অপ্রাকৃতও যে কখনো স্থান পায় না তা নয়, কিন্তু এই উপাদানসমূহ কোনো অন্তরালবর্তী অর্থের দ্বারা রঞ্জিত হয় না, আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার পটভূমিকাতেই যথাযোগ্য বিন্যাস পায়। একটি গল্প মনে পড়ছে যার নাম ‘বিবেক’; তাতে এক দারিদ্র্যক্লিষ্ট পুরুষ মুর্মূষু স্ত্রীকে বাঁচাবার চেষ্টায় প্রথমে এক ধনী বন্ধুর ঘড়ি পরে তার নিজেরই মতো এক দরিদ্রের টাকা চুরি করলে তারপর, তার স্ত্রীর বাঁচার আশা নেই, বড় ডাক্তারের এই রায় শুনে সন্তপ্তচিত্তে ধনীর ঘড়ি ফিরিয়ে দিলে কিন্তু গরিব বন্ধুর প্রাপ্য বিষয়ে নীরব ও নিষ্ক্রিয় রইল। মানুষের বিবেক সুদ্ধ ধনীর পক্ষপাতী, এই ব্যঙ্গই এখানে অভিপ্রেত এবং অনুরূপ আরো অনেক উদাহরণ অনেক পাঠকই মনে আনতে পারবেন। বোঝা যায়, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সামাজিক চেতনাকে মানবিক মূল্যবোধের দ্বারা আক্রান্ত হতে দেননি, তাঁর জগতে এমন কোনো স্তর নেই, যেখানে ‘ধনী-নির্ধন’, ‘উচ্চ-নীচ’, ‘সুস্থ-রুগ্ণ’ প্রভৃতি সমাজস্বীকৃত বিপরীতগুলো কোনো ভাবগত আদর্শের চাপে ভেঙে পড়ে। সেই জন্য মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বভাবীরাও ছায়ামূর্তির মতো হানা দেয় না, রক্তে-মাংসে সীমিত হয়ে থাকে, তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনায় ঘটনাবিন্যাসও সর্বদাই যথাযথ মনে হয়। মধ্য বিশ শতকের বাংলাদেশের সামাজিক বিশৃঙ্খলার ঘনিষ্ঠ রূপকার তিনি; যে সময়ে তথাকথিত ভদ্রলোক শ্রেণির একটা অংশ নিচে নেমে এলো এবং তথাকথিত দীন শ্রেণির একটা অংশ প্রবল হয়ে উঠল, সেই অধ্যায়ের বিবিধ লক্ষণ ভাবীকালের জন্য মূর্ত হয়ে রইল তাঁর রচনায়। বাংলা কথাসাহিত্যে বস্তুনিষ্ঠায় তিনি অদ্বিতীয়, বঙ্কিমের মতো অথবা কোনো উত্তর-পুরুষের লেখকের মতো, তাঁকে কখনো স্থানে অথবা কালে দূরে সরে যেতে হয়নি; উপন্যাসের আসর সাজাতে হয়নি অতীতের কোনো নিরাপদ অধ্যায়ে, অথবা কৌতূহলোদ্দীপক বৈদেশিক পরিবেশে; বর্তমান, প্রত্যক্ষ ও সমসাময়িকের মধ্যেই তিনি আজীবন শিল্পের উপাদান খুঁজেছেন এবং তাঁর যে অংশটিকে শিল্পরূপ দিয়ে গেছেন তা স্বাক্ষর ও বিত্তহীন সর্বসাধারণের সর্বাধিক পরিচিত। এখানেই তাঁর বৈশিষ্ট্য ও সার্থকতা।

(সাহিত্য ও সংস্কৃতি—রচনাকাল ১৯৫৭)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা