kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ আষাঢ় ১৪২৭। ৭ জুলাই ২০২০। ১৫ জিলকদ  ১৪৪১

বিশ্বসাহিত্য

৫ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশ্বসাহিত্য

রজার রবিনসন

ওনদাৎজে পুরস্কার রবিনসনের

ত্রিনিদাদীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখক, মিউজিশিয়ান ও পারফরমার রজার রবিনসনের ‘আ পোর্টেবল প্যারাডাইস’ নামের কাব্যগ্রন্থটি ২০১৯ সালের ‘টিএস এলিয়ট প্রাইজ’ জয় করে। কৃষ্ণাঙ্গ ব্রিটিশ সাহিত্যকে প্রভাবিত করে এমন ৫০ লেখকের অন্যতম বিবেচনা করা হয় রবিনসনকে। ওই পুরস্কারপ্রাপ্তি তাঁর মর্যাদায় বাড়তি রসদ জোগায়। রবিনসনের বইটি এবার আরেকটি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ‘ওনদাৎজে প্রাইজ’ জয় করল। যুক্তরাজ্যের রয়াল সোসাইটি অব লিটারেচার প্রতিবছর ফিকশন, নন-ফিকশন ও কবিতায় ১০ হাজার পাউন্ড অর্থমূল্যের এই পুরস্কার দিয়ে থাকে। কোনো স্থানের প্রাণবন্ত চিত্র উঠে আসা নন-ফিকশন, ফিকশন ও কবিতার বই এ পুরস্কারের জন্য প্রযোজ্য। রবিনসনের বইটিতে নাম-ভূমিকা শীর্ষক কবিতায় ত্রিনিদাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তুলে ধরা হয়েছে। অন্যান্য কবিতায় লন্ডনের গ্রেনফেল টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ড, উইন্ডরাশ জেনারেশন, দাসত্বের মতো বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। ওনদাৎজে পুরস্কারের ১৬ বছরের ইতিহাসে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার কোনো লেখকের কবিতার বই এ পুরস্কার পেল।

 

তোমা পিকেতি

পিকেতির ‘ক্যাপিটাল’

তোমা পিকেতি। ফরাসি এই অর্থনীতিবিদ ২০১৩ সালে একটি বই লিখে দুনিয়াজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন ফেলে দেন। প্রকাশের পরপরই এটি বেস্ট সেলার। প্রায় সাত শ পৃষ্ঠার সুবিশাল বইটির নাম ‘ক্যাপিটাল ইন দ্য টোয়েন্টিফার্স্ট সেঞ্চুরি’। সেই উনিশ শতকের দ্বিতীয় ভাগে প্রকাশিত হয়েছিল কার্ল মার্ক্সের মহাগ্রন্থ ‘ডাস ক্যাপিটাল’। ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করে দেওয়া সেই গ্রন্থ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি, সমাজ ও রাজনীতিতে যে প্রভাব ফেলেছিল তা আজ এক কিংবদন্তি। পিকেতির ‘ক্যাপিটাল ইন দ্য টোয়েন্টিফার্স্ট সেঞ্চুরি’ প্রকাশের পর তাঁর নাম উচ্চারিত হতে থাকে মার্ক্সের একুশ শতকীয় উত্তরসূরি হিসেবে। যদিও পিকেতির ‘ক্যাপিটাল’ কোনো মার্ক্সিস্ট পাঠ নয়, তিনি তথাকথিত মার্ক্সবাদীও নন। তাঁর বইটিতে আয় ও বিত্তের ক্রমবর্ধমান অসাম্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নতুন তথ্য ও বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়। এবার ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত হলো পিকেতির ‘ক্যাপিটাল’-এর সিকোয়েল ‘ক্যাপিটাল অ্যান্ড আইডিওলজি’। সহস্রাধিক পাতার এ বইটিতে কেন্দ্রীয় আলোচনার বিষয় অসাম্য, অসাম্যের ইতিহাস। গ্রন্থ-ভূমিকার প্রথম বাক্যেই পিকেতি লিখেছেন, ‘প্রতিটি মানবসমাজের উচিত সমাজের বৈষম্যগুলোকে খতিয়ে দেখা।’

 

স্ট্যানলি জনসন

প্রধানমন্ত্রীর বাবা সুবিধাবাদী!

ইউরোপ সফর শেষে নিউ ইয়র্কে ফেরার পর এক তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। নিউ ইয়র্কের শীর্ষ মহামারি বিশেষজ্ঞ লোয়েল কাপলান অনুসন্ধান করে দেখেন যে মারবার্গ নামের একটি প্রাণঘাতী ভাইরাস ওই মৃত্যুর কারণ। বিশ্বের ইতিহাসে এর আগে এ ভাইরাসটির একবারই বিস্তার ঘটেছিল। ভাইরাসটির উেসর খোঁজে নামেন কাপলান। জার্মানির ল্যাব থেকে শুরু করে সেন্ট্রাল আফ্রিকা পর্যন্ত অনুসন্ধান চালান তিনি। কিছু প্রবল ক্ষমতাবান গোষ্ঠী তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নামে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভাইরাসটির উৎস গোপন রাখতে নেমে পড়ে। কিন্তু হাল ছাড়েন না কাপলান; তিনি মানুষের জীবন রক্ষায় অভাবনীয় সাহসের সঙ্গে লড়ে যান। ব্রিটিশ লেখক ও সাবেক রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ স্ট্যানলি জনসনের একটি উপন্যাস ‘দ্য মারবার্গ ভাইরাস’-এর কাহিনি এটি। স্ট্যানলির আরেকটি পরিচয় হচ্ছে, তিনি ব্রিটেনের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের বাবা। ১৯৮২ সালে প্রকাশিত উপন্যাসটি বহুদিন ধরেই বাজারে নেই। স্ট্যানলি সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন উপন্যাসটি ‘দ্য ভাইরাস’ নামে শিগগিরই পুনর্মুদ্রণ হতে যাচ্ছে। এবং এটি প্রকাশ করবে ব্ল্যাক স্প্রিং নামের একটি স্বাধীন প্রকাশনা সংস্থা।

 

রিয়াজ মিলটন

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা