kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

লেখার ইশকুল

আমেরিকার প্রথম নারীবাদী বইয়ের লেখক মার্গারেট ফুলার

৫ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আমেরিকার প্রথম নারীবাদী বইয়ের লেখক মার্গারেট ফুলার

আমেরিকার লেখক সাংবাদিক সমালোচক অনুবাদক সম্পাদক এবং নারীবাদী আন্দোলনের সমর্থক সারাহ মার্গারেট ফুলারের জন্ম ১৮১০ সালে। আমেরিকার প্রথম নারী যুদ্ধ-সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন ফুলার। নিউ ইয়র্ক ট্রিবিউন পত্রিকার জন্য কাজ করার সময়  নিয়মিত বই আলোচনাও লেখেন। আমেরিকায় প্রথম নারীবাদী বইয়ের মর্যাদা পায় ফুলারের ‘উওম্যান ইন দ্য নাইনটিন্থ সেঞ্চুরি’।

ছোটবেলা থেকেই ব্যাপক পড়াশোনার অভ্যাস গড়ে ওঠে ফুলারের। অনুবাদের মাধ্যমে তিনি জার্মান রোমান্টিসিজম যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসেন বলে মনে করা হয়। ১৮৪০ সালে ট্রানসেনডেন্টালিস্ট জার্নাল ‘দ্য ডায়াল’-এর প্রথম সম্পাদক হন ফুলার। ১৮৪৪ সালে নিউ ইয়র্ক ট্রিবিউন পত্রিকায় যোগ দেন। তাঁকে প্রথম নারী সাংবাদিক হিসেবে দেশের বাইরে ইংল্যান্ড ও ইতালিতে কাজ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। ইংল্যান্ডে অন্যান্য বুদ্ধিজীবীসহ টমাস কার্লাইলের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন তিনি। সেখানে দেখা হয় ইতালি থেকে নির্বাসিত নেতা জিওভান্নি ওসোলির সঙ্গে। পরে তাঁরা যান ফ্লোরেন্সে। জীবনের একটা বড় অংশ ওসোলির সঙ্গে ইতালিতেই কাটান।

ফুলার মনে করেন, প্রথমে নারীদের শিক্ষা দরকার। শিক্ষাক্ষেত্রে পুরুষের সমান অধিকার পেলে নারীরা রাজনৈতিক অঙ্গনেও পুরুষের সমান মর্যাদা পাবে। কর্মক্ষেত্রে নারী শুধু শিক্ষকতার কাজ না করে যেকোনো কাজে যোগ্যতা দেখাতে পারে। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের জন্য সংস্কারের কথা বলেন ফুলার। বেড়ে উঠার কালে শুনেছেন, আদিবাসী আমেরিকানরা সভ্য হতে চায় না। কিন্তু ব্যাপক ভ্রমণের পর বুঝতে পারেন, আদিবাসী আমেরিকানরা আমেরিকার ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আফ্রিকান আমেরিকানদের অধিকারকে সমর্থন দিয়ে বলেন, দাসত্ব হলো ক্যান্সার।

মার্গারেট ফুলারের ব্যক্তিত্ব ছিল প্রভাবশালী। ১৮৩৯ সালে তাঁর সঙ্গে দেখা হয় কথাসাহিত্যিক নাথানিয়েল হথর্নের। হথর্ন তাঁর ‘দ্য স্কারলেট লেটার’ উপন্যাসের হেস্টারপ্রাইন চরিত্র তৈরি করেন অনেকটা ফুলারের আদলে। হথর্নের ‘দ ব্লাইদডেল রোমানস’-এর জেনোবিয়া চরিত্রও গড়ে ওঠে ফুলারের ব্যক্তিত্বের ওপরে। ওয়াল্ট হুইটম্যানের জন্যও ফুলার ছিলেন উৎসাহের উৎস। কারণ নতুন জাতীয় পরিচয় এবং সত্যিকারের আমেরিকান সাহিত্য সৃষ্টি সম্পর্কে তাঁদের আদর্শের মধ্যে ঐক্য ছিল। ব্রিটিশ কবি এলিজাবেথ ব্যারেট ব্রাউনিং ফুলারের আদর্শের প্রশংসা করেন। তিনি মনে করেন, আমেরিকার সমাজে ফুলারের প্রথাবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গির যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি। এডগার অ্যালান পোর সঙ্গে ব্যক্তিগত বিষয়ে কতিপয় অমিল থাকলেও তাঁর বই সম্পর্কে পো বলেন, ‘এ দেশে খুব কম নারীই এ রকম বই লিখতে পারতেন, এখানে এমন একটা বই কোনো নারীই প্রকাশ করতে পারতেন না। সুতরাং ফুলার অন্যদের থেকে অবশ্যই ব্যতিক্রম।’ ফুলারের বই সম্পর্কে হেনরি ডেভিড থোরু উচ্চ ধারণা পোষণ করেন। তিনি মনে করেন, ফুলারের বইয়ের শক্তির উৎস হলো তাঁর বাচনিক ক্ষমতা। তিনি মনে করেন, ফুলার কলম হাতে কথা বলছেন। তবে বিশ শতক পর্যন্ত ফুলারের প্রভাব যথারীতি অটুট থাকে। মার্গারেট ফুলার নৌ দুর্ঘটনায় মারা যান ১৮৫০ সালে। তাঁর মৃত্যুর পর এমারসন, থোরু, ক্রিলি, ফ্রিম্যান, চ্যানিং প্রমুখের চেষ্টায় তাঁর অপ্রকাশিত লেখার বিরাট অংশ প্রকাশ করা হয়।

আল মনসুর

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা