kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

লেখার ইশকুল

মানবতার পাশে হ্যারিয়েট বিচার স্টো

৩ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মানবতার পাশে হ্যারিয়েট বিচার স্টো

মার্কিন লেখক এবং দাসপ্রথা বিলোপ আন্দোলনের সক্রিয় সমর্থক হ্যারিয়েট বিচার স্টো লিখেছেন কবিতা, নাটক, প্রবন্ধ, ভ্রমণকথা এবং কথাসাহিত্য। তবে তিনি প্রধানত একনামে পরিচিত তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘আঙ্কল টমস কেবিন’ লেখার কারণে। সেকালেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে ব্রিটেনসহ আরো অনেক দেশে সমাজের বিভিন্ন স্তরে সাড়া জাগায় তাঁর লেখা এবং আন্দোলনসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড। হ্যারিয়েটের জন্ম ১৮১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটে। তাঁর বোন ক্যাথরিন বিচার এবং ভাই হেনরি ওয়ার্ড বিচার, চার্লস বিচার ও এডওয়ার্ড বিচার লেখক, শিক্ষাবিদ ও প্রগতিশীল সমাজকর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। তাঁর বোনের পরিচালনাধীন হার্টফোর্ড ফিমেল সেমিনারিতে হ্যারিয়েট প্রচলিত শিক্ষার সঙ্গে বাড়তি হিসেবে ক্লাসিক সাহিত্য, ভাষা ও গণিতের শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৮৩২ সালে হ্যারিয়েট ওহাইওর সাহিত্য ও সমাজসেবামূলক সেমি-কোলন ক্লাবে যোগ দেন। অন্যান্য লেখকের সান্নিধ্যে তাঁর মধ্যে লেখার প্রেরণা জাগে। ত্রিশের দশকের শুরুর দিকে ওহাইওর ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের কারণে লোকবলের প্রয়োজন দেখা দেয়। সেখানকার জাতিগত আইরিশরা কাজকর্মে দখল নিতে গিয়ে পালিয়ে আসা দাসদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করে। আইরিশদের আক্রমণের শিকার হয় তারা। ক্ষতিগ্রস্ত দাসদের অনেকের সঙ্গে হ্যারিয়েটের দেখা হয়। তাদের দুরবস্থার চিত্র দেখেই হ্যারিয়েট ‘আঙ্কল টমস কেবিন’ লেখার সিদ্ধান্ত নেন। আরো একটি বিষয় তাঁকে দাসদের দুরবস্থার কথা লেখার তাড়না জোগায়। ১৮ মাস বয়সী ছেলে স্যামুয়েল চার্লস স্টোর অকালমৃত্যু সমাজের অবহেলিত মানুষের প্রতি তাঁর সহানুভূতি আরো জোরালো করে। ১৮৫০ সালের ৯ মার্চ দ্য ন্যাশনাল এরা পত্রিকার সম্পাদককে একটি চিঠিতে হ্যারিয়েট জানান, তিনি মনে করেন, এখন একটি সময় চলে এসেছে, যখন নারীদের আর চুপ থাকা মানায় না। ১৮৫১ সালের জুনের ৫ তারিখ থেকে ১৮৫২ সালের ১ এপ্রিল পর্যন্ত ন্যাশনাল এরা পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে ছাপা হতে থাকে ‘আঙ্কল টমস কেবিন’। প্রথমে উপন্যাসটির নাম দেন ‘দ্য ম্যান দ্যাট ওয়ার আ থিং’। পরে পরিবর্তন করে নাম রাখেন ‘লাইফ অ্যামাং দ্য লোলি’। ১৮৫২ সালে বই আকারে প্রকাশ করার সময় নাম দেওয়া হয় ‘আঙ্কল টমস কেবিন’। প্রথমে পাঁচ হাজার কপি ছাপা হয়। এক বছর পার হওয়ার আগেই তিন লাখ কপি বিক্রি হয়ে যায় এ উপন্যাসটি। উপন্যাসটি লেখার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে কী ঘটছে তার বাস্তব চিত্র উত্তরের মানুষদের জানানো এবং দাসপ্রথার চাপে পিষ্ট মানুষের প্রতি দক্ষিণের মানুষদের সহানুভূতি জাগানো। গৃহযুদ্ধ শেষে স্টো ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের সঙ্গে দেখা করেন। প্রেসিডেন্ট তাঁর সঙ্গে রসিকতা করে বলেন, ‘তাহলে আপনিই সেই বইয়ের লেখক, যে বই এত বড় যুদ্ধ বাধিয়ে দিয়েছিল।’ ১৮৮৬ সালে তাঁর স্বামী কেলভিন স্টো মারা যান। তার পর থেকে হ্যারিয়েটেরও শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। স্মৃতিবিলোপের কারণে তিনি ‘আঙ্কল টমস কেবিন’ আবার লেখা শুরু করেন। তাঁর মনে হতে থাকে, তিনি নতুন করে লিখছেন এ উপন্যাস। আদি উপন্যাসের প্রতিটি শব্দ নির্ভুল লিখে যেতে থাকেন। প্রতিদিন এভাবে তাঁর লেখা চলে। হ্যারিয়েট বিচার স্টো মারা যান ১৮৯৬ সালের জুলাই মাসের ১ তারিখে কানেকটিকাটের হার্টফোর্ডে।

দুলাল আল মনসুর

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা