kalerkantho

রবিবার। ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৭ জুন ২০২০। ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

বিশ্বসাহিত্য

৩ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উদেরজো এবং তাঁর সৃষ্টি অ্যাসটেরিক্স

প্রয়াত উদেরজো

জনপ্রিয় কমিক চরিত্র অ্যাসটেরিক্স-এর স্রষ্টা আলবেয়ার উদেরজো আর নেই। সম্প্রতি ৯২ বছর বয়সে তিনি মারা গেছেন। লেখক রেনে গসিনিকে নিয়ে একজন ‘টিপিক্যালি ফ্রেঞ্চ হিরো’ নির্মাণের প্রচেষ্টায় নামেন তিনি। তাঁদের যৌথ চেষ্টায় ১৯৫৯ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় অ্যাসটেরিক্স কমিকস। একটি পত্রিকায় এটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ পায়। যাত্রার শুরুতেই ইতিহাস সৃষ্টি করে। ফ্রান্সে অন্যতম জনপ্রিয় কমিক চরিত্র এটি। ১৯৬১ সালে অ্যাসটেরিক্স গ্রন্থাকারে প্রকাশের পর বিক্রি হয় তিন লাখেরও বেশি কপি! কমিকস বা অধুনা অধিক-স্বীকৃত আখ্যা ‘গ্রাফিক নভেল’-এর ইতিহাসে অ্যাসটেরিক্স আজ কিংবদন্তি, টিনটিনের মতোই তার আবেদন বিশ্বজুড়ে। গসিনির সঙ্গে উদেরজোর পরিচয় ১৯৫১ সালে। গসিনি প্রয়াত হয়েছিলেন ১৯৭৭ সালে। তার পর থেকে অ্যাসটেরিক্স-এর প্রতিটি কাহিনি লিখেছেন এবং অলংকরণ করেছেন উদেরজোই। তাঁর প্রয়াণে সমাপন ঘটল শিল্পসৃষ্টির একটি যুগের।

ভানু কপিল

উইন্ডহ্যাম-ক্যাম্পবেলজয়ী যাঁরা

যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ উইন্ডহ্যাম ক্যাম্পবেল প্রাইজজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে সম্প্রতি। বিশ্বের সবচেয়ে দামি সাহিত্য পুরস্কারগুলোর অন্যতম এটি। এর অর্থমূল্য এক লাখ ৬৫ হাজার মার্কিন ডলার। অর্থের চিন্তা না করে একজন লেখক যাতে নিবিষ্টচিত্তে তাঁর সাহিত্যকর্মে মগ্ন থাকতে পারেন, সেটাই এ পুরস্কারের মূল উদ্দেশ্য। মার্কিন লেখক ডোনাল্ড উইন্ডহ্যাম এবং তাঁর দীর্ঘ ৪০ বছরের সঙ্গী অভিনেতা সম্পাদক ও প্রকাশক স্যান্ডি ক্যাম্পবেলের স্মরণে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৩ সাল থেকে ‘উইন্ডহ্যাম-ক্যাম্পবেল লিটারেচার প্রাইজ’ নামের পুরস্কারটি দিয়ে আসছে। ডোনাল্ড-উইন্ডহ্যাম এস্টেটের পক্ষ থেকে পুরস্কারের অর্থের জোগান দেওয়া হয়। এ বছর ফিকশনে এই পুরস্কার পেয়েছেন মার্কিন-চীনা লেখক ইয়ুন লি এবং জাম্বিয়ার নামওয়ালি সেরপেল। নন-ফিকশনে অস্ট্রেলিয়ার মারিয়া টুমারকিন এবং যুক্তরাষ্ট্রের অ্যান বয়ার। কবিতায় পেয়েছেন ব্রিটিশ-ভারতীয় ভানু কপিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের জোনাহ মিক্সন-ওয়েবস্টার। আর নাটকে পুরস্কার জিতেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জুলিয়া চো ও আলেশি হ্যারিস। ভানু কপিলের এ পর্যন্ত ছয়টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। বিচারকদের মতে, তাঁর রচনায় মানসিক যন্ত্রণা এবং তা থেকে পরিত্রাণ এবং অভিবাসনের মতো বিষয়ে গভীর পর্যবেক্ষণ বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে। ইয়ুন লির প্রশংসা করে বিচারকরা বলেন, দৈনন্দিন জীবনের ছোটখাটো আবেগ এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের প্রগতিশীল শক্তি এই উভয় দিকগুলোতে তাঁর লেখনীতে প্রথাগত সৌন্দর্য, দুঃসাহসিক কল্পনাশক্তি, তীব্র অনুরাগ প্রকাশ পায়।

আলবেয়ার কামু

বিষয় ‘মহামারি’

করোনাভাইরাস মহামারিতে কাঁপছে বিশ্ব। দেশে দেশে শহরে শহরে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি। লকডাউন, আইসোলেশনের মতো অবস্থায়ও জীবন থেমে নেই। থেমে নেই পাঠকের পাঠস্পৃহাও। যাঁরা গৃহবন্দি, তাঁরা বাড়িতে বসেই পড়তে শুরু করেছেন আগে পড়া কোনো বই বা সদ্য হাতে তুলে নিচ্ছেন এমন কোনো বই, যার বিষয় মহামারি; যেমন আলবেয়ার কামুর ‘দ্য প্লেগ’, হোসে সারামাগোর ‘ব্লাইন্ডনেস’ বা গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের ‘লাভ ইন দ্য টাইম অব কলেরা’। আর এ কারণেই চাহিদা বেড়েছে এই সব আধুনিক-ধ্রুপদি সাহিত্যের, বিশেষ করে কামুর ‘দ্য প্লেগ’-এর। ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসে কামু নািস দখলদারির প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন প্লেগ মহামারিকে। হঠাত্ বেস্ট সেলার তালিকায় কামুর এই উপন্যাস, বইয়ের দোকানগুলো অধিকাংশই বন্ধ, যেখানে খোলা সেখানে মিলছে না আর এর কপি, অনলাইনেও প্রায় পাওয়া যাচ্ছে না। প্রকাশকরাও হিমশিম খাচ্ছেন জোগান দিতে! এতে আবারও যেন প্রমাণ হচ্ছে, মননশীল সাহিত্যের প্রাসঙ্গিকতা অমলিন। মানুষ তাই এ রকম এক দুঃসময়েও কামু পড়ছেন, সারামাগো পড়ছেন, মার্কেস পড়ছেন।

►রিয়াজ মিলটন

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা