kalerkantho

শনিবার । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৫ আগস্ট ২০২০ । ২৪ জিলহজ ১৪৪১

কৌটোর ভেতর থেকে উঁকি দিয়ে

জুয়েল মাজহার

২৭ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



এখন কৌটোর ভেতরে লুকিয়ে রাখছি নিজেকে। হিরের নাকছাবি যেন। একটু পরপর কৌটোর মুখ খুলে দেখছি ঠিকঠাক আছি কিনা। বাঁ-হাতকে এখন ধমকাচ্ছে ডানহাত। তোমার মরালগ্রীবা থেকেও সরে যাচ্ছে আমার চোখ; ভয়ে, অপ্রেমে। এখন পত্রমোচী গাছের পাতার মতো ঝরে পড়ছে আমাদের সম্পর্কের চুম্বক-আবেশ। তোমাকেও মনে হচ্ছে এক ছদ্মবেশী আমাজনি। দূরে থাকো, দূরে থাকো! ছুঁয়ো না, ছুঁয়ো না!

যুদ্ধ হচ্ছে। নির্দামামা-নিরায়ূধ। রক্তপাতহীন। কেউ সাইরেন বাজাচ্ছে না, কেউ তাক করছে না কালাশনিকভ। প্রত্যেক ঘরের কোণে কুরুক্ষেত্র। কশেরুকা আর মগজের ভেতর আততায়ী ঘুরছে; তাকে না দেখেই জারকাঁটা দিচ্ছে সারা গায়ে। নাই-আর-আছি’র মাঝখানে তার রুদ্রপ্রতাপ। যা মহামহিম সেকান্দর আর নেবুশাদনেজারের সম্মিলিত প্রতাপের অধিক। কেউ দেখতে পাচ্ছে না তার চেহারা, তার চাকু কিংবা তার রণরক্তেভেজা কৌপীন।

আমাদের হাসির ভেতর, আমাদের গোলাপের ভেতর আলগোছে সে মিশিয়ে দিচ্ছে তার কালকূট; আমাদের রক্তে ও কার্পাসের ভেতর থুবড়ে পড়ছে গান আর কলরব।

কৌটোর ভেতর থেকে গলা বাড়িয়ে পরস্পরের নাম ধরে ডেকে উঠবার আগে সেই অদৃশ্য, কদমছাঁট-আততায়ীর ক্রূর হাসির নিচে ঝরে পড়ছি আমরা। পত্রমোচী গাছের পাতার মতো। অন্তিম চুম্বনহীন। অবজ্ঞাত। একা আর নিঃসহায়!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা