kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

বিশ্বসাহিত্য

২৭ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মারিও বার্গাস য়োসা

করোনা, য়োসা এবং চীন

করোনাভাইরাসের উত্স ও বিশ্বজুড়ে এর ছড়িয়ে পড়া নিয়ে দোষারোপের রাজনীতি চলছে বেশ কিছুদিন ধরেই। ভাইরাসটিকে ‘উহান ভাইরাস’ বা ‘চায়না ভাইরাস’ অভিহিত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর কর্মকর্তারা বলেছেন, এটি মোকাবেলায় সময়োচিত পদক্ষেপ নিতে চীন ব্যর্থ হয়েছে। চীনও ছেড়ে কথা বলছে না। তাদের ভাষ্য, ‘মার্কিন সেনারাই উহানে এ ভাইরাস ছড়িয়েছে।’ দোষারোপ-পাল্টা দোষারোপের এই খেলায় যোগ দিয়েছেন সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারজয়ী পেরুর লেখক মারিও বার্গাস য়োসা। তিনি বলেন, ‘চীন যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। বরং তথ্য গোপন করেছে। যারা এ নিয়ে কথা বলেছে তাদের মুখ বন্ধ করার প্রয়াস চালিয়েছে।’ য়োসার বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে চীন। স্পেনের এল পাইস সংবাদপত্রে এক নিবন্ধে ৮৩ বছর বয়সী য়োসা লেখেন, ‘কাউকেই দেখলাম না যিনি বলছেন যে জনপ্রিয় চীন যদি একনায়কতান্ত্রিক না হয়ে উদার ও গণতান্ত্রিক হতো, তবে বিশ্বকে এ পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হতো না।’ ভাইরাসটি চীন থেকে ছড়িয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। চীন এ তথ্যকে ‘অযথাযথ’ বলে অভিহিত করেছে।’ য়োসার এই বক্তব্যের পর পেরুতে চীনা দূতাবাস এক বিবৃতিতে বলে, ‘আমরা বাকস্বাধীনতাকে সম্মান জানাই। তার মানে এই নয় যে, কেউ অযৌক্তিকভাবে আমাদের নিয়ে মানহানিকর বক্তব্য দেবে এবং আমাদের কলঙ্কিত করবে এবং আমরা তা মেনে নেব।’

বই হাতে হিলারি ম্যানটেল

‘দ্য মিরর অ্যান্ড দ্য লাইট

ইংল্যান্ডের রাজা অষ্টম হেনরির মুখ্য উপদেষ্টা মন্ত্রী-আইনজ্ঞ-কূটনীতিক টমাস ক্রমওয়েলের জীবনীনির্ভর উপন্যাস ‘উল্ফ হল : ফোর্থ স্টেট’। হিলারি ম্যানটেলের ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাসটি ২০০৯ সালে প্রকাশিত হওয়া মাত্রই ব্যাপক আলোড়ন তোলে। তাকে এনে দেয় আন্তর্জাতিক খ্যাতি। উপন্যাসটির ভাষা বিন্যাস ও উপস্থাপনার প্রচণ্ড রকম সমসাময়িকতার জন্য তিনি ওই বছরই পান ম্যান বুকার পুরস্কার। তিন বছরের মাথায় ২০১২ সালে প্রকাশিত হয় ‘উল্ফ হল’-এর পরবর্তী পর্ব ‘ব্রিং আপ দ্য বডিজ : ফোর্থ এস্টেট’। এটিও ২০১২ সালের ম্যান বুকার এনে দেয় হিলারিকে। সম্প্রতি প্রকাশিত হলো সিরিজের তৃতীয় ও শেষ উপন্যাস ‘দ্য মিরর অ্যান্ড দ্য লাইট’। ষোড়শ শতকে ইংল্যান্ডে রিফরমেশন বা সংস্কার আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন টমাস ক্রমওয়েল। তাঁর জীবনের পরিণতি ছিল মর্মান্তিক। যে রাজা তাঁকে প্রবল প্রতাপশালী উপদেষ্টা-মন্ত্রিত্ব দান করেছিলেন, সেই রাজারই নির্দেশে প্রাণদণ্ড হয় ক্রমওয়েলের! ‘দ্য মিরর অ্যান্ড দ্য লাইট’ ক্রমওয়েলের শেষজীবন নিয়েই লেখা। বইটি এরই মধ্যে উইমেনস প্রাইজের জন্য মনোনীত বইয়ের দীর্ঘ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। প্রকাশের পর মাত্র তিন দিনে বইটি বিক্রি হয়েছে ৯৫ হাজার কপি। বাজার মনিটরিং সংস্থা নিয়েলসেন বুকস্ক্যানের হিসাবে, প্রতি ২.৭ সেকেন্ডে এক কপি বই বিক্রি হচ্ছে। আগের দুটি খণ্ড বিক্রি হয়েছিল বিশ্বজুড়ে ১৫ লাখ কপি।

কার্ল ওভা নসগার্ড

ফিউচার লাইব্রেরিতে নসগার্ড

ছয় খণ্ডের বিশাল আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস ‘মাই স্ট্রাগল’-এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে খ্যাতি কুড়ান নরওয়ের লেখক কার্ল ওভা নসগার্ড। ওই উপন্যাসে জীবনের তুচ্ছাতিতুচ্ছ খুঁটিনাটি বিষয়গুলো তিনি নিপুণভাবে তুলে ধরেন। লেখায় বিশেষ মুনশিয়ানার কারণে তাঁকে বিবেচনা করা হয় একুশ শতকের আলোড়ন সৃষ্টিকারী লেখকদের অন্যতম হিসেবে। ২০১১ সালে ‘মাই স্ট্রাগল’ সিরিজের সাফল্যের পর তিনি আরো একটি আত্মজীবনীমূলক সিরিজ প্রকাশ করেন ‘দ্য সিজনস কুয়োর্টেট’ নামে। লেখেন নরওরের চিত্রশিল্পী এডভার্ড মুঙ্কের শিল্পকর্ম নিয়ে সমালোচনাগ্রন্থ। এবার আরো একটি চ্যালেঞ্জ হাতে নিলেন নসগার্ড। তিনি স্কটিশ শিল্পী ক্যাটি প্যাটারসনের ‘ফিউচার লাইব্রেরি’ বা ‘আগামীর গ্রন্থাগার’ প্রকল্পে লেখকদের তালিকায় যুক্ত হলেন। ফিউচার লাইব্রেরিতে যোগ দেওয়ার নরওয়ের প্রথম লেখক নসগার্ড। প্যাটারসনের ‘ফিউচার লাইব্রেরি’ হচ্ছে একটি সর্বজনীন শিল্পকর্ম, যেটা গড়ে উঠবে আগামী ১০০ বছর ধরে। ২০১৪ সাল থেকে ২১১৪ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর একজন জনপ্রিয় লেখকের কাছ থেকে একটা করে রচনা সংগ্রহ করা হবে। এরপর এই রচনাগুলোর একটি সংকলন প্রকাশ করা হবে। আর সংকলনের কপিও হবে নির্দিষ্টসংখ্যক ১০০টি। ২১১৪ সালে প্রকাশের আগ পর্যন্ত বইটি পড়ার সুযোগ নেই কারো। প্যাটারসন বলেন, ‘নসগার্ডের কাছে দুনিয়া যেমন ঠিক, তেমনটাই তুলে ধরার পথ অন্বেষণ করাই সাহিত্যের দায়বদ্ধতা। তার কলমে মানবজীবনের প্রতিকৃতির মহাকাব্যিক প্রকাশ এককথায় জাদুকরী, সম্মোহন সৃষ্টিকারী ও অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক।

►রিয়াজ মিলটন

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা