kalerkantho

শনিবার । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৫ আগস্ট ২০২০ । ২৪ জিলহজ ১৪৪১

লেখার ইশকুল

আমেরিকার অন্যতম জনপ্রিয় কবি লংফেলো

২৭ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আমেরিকার অন্যতম জনপ্রিয় কবি লংফেলো

আমেরিকার সাহিত্যের উনিশ শতকের সর্বাধিক পরিচিত এবং জনপ্রিয় কবিদের অন্যতম হেনরি ওয়াডসওয়ার্থ লংফেলো। জন্ম ১৮০৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি। নিউ ইংল্যান্ডের ফায়ারসাইড কবিদের অন্যতম তিনি। আমেরিকায় তিনিই প্রথম দান্তের ‘ডিভাইন কমেডি, অনুবাদ করেন। আমেরিকার সাহিত্যের ইতিহাসে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খ্যাতি তাঁর আগে আর কেউ পাননি। আমেরিকা ছাড়াও পৃথিবীর প্রায় সব দেশের পাঠকেরই ছেলেবেলায় তাঁর কবিতার সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। তাঁর গীতিকবিতার সুর এবং পুরাণকথা ও কিংবদন্তির গল্প পাঠকের কাছে লংফেলোর প্রধান বৈশিষ্ট্যের অন্যতম বলে পরিচিত। কবিতায় ইউরোপীয় শৈলী কেউ কেউ পছন্দ করেননি। বিশেষ করে সব ধরনের পাঠকের জন্য লেখার বিষয়টিও সমালোচকদের পছন্দ হয়নি। মৃত্যুর পর তাঁর জনপ্রিয়তায় কিছুটা ভাটা পড়ে। পাণ্ডিত্যের দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচার করে তাঁকে খাটো করে দেখার চেষ্টা করেছেন অনেকে। তবে কবিতা উপভোগ করার মতো মানসিকতা যাঁদের, তাঁরা তাঁর কবিতা পছন্দ করেন।  

বাবার সমৃদ্ধ লাইব্রেরি থেকে বিশ্বসাহিত্যের প্রাচীন ভাণ্ডারে বিচরণ করার সুযোগ পান লংফেলো। এ ছাড়া পারিবারিক পরিমণ্ডলে গল্প বলার প্রচলন থাকার কারণে বড়দের মুখে পূর্বপুরুষদের ইংল্যান্ড থেকে আমেরিকায় আসার গল্প শুনতে পান। কল্পনার পরিধি বাড়াতে সহায়তা করে এসব গল্প। আঠারো শ বিশের দশকের শুরুতে বাউডইন কলেজে পড়ার সময় ক্লাসরুম এবং লাইব্রেরি থেকে যতটা উত্সাহ পান, তার চেয়েও বেশি পান সেখানকার সাহিত্যমহল থেকে। নাথানিয়েল হথর্ন, ফ্রাংকলিন পিয়ার্স, হোরেশিও ব্রিজ প্রমুখের সঙ্গে সাহিত্য আসরে যোগ দেওয়ার সুযোগ পান তখন। ১৮২৬ থেকে ১৮২৯ সাল পর্যন্ত ইউরোপ ভ্রমণের মাধ্যমে নিজেকে আরো ভালোভাবে প্রস্তুত করার সুযোগ পান। ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, জার্মানি এবং ইংল্যান্ড ভ্রমণ করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে আবারও ইউরোপ ভ্রমণ করেন এবং ইউরোপের দর্শন ও সাহিত্য সম্পর্কে জানার সুযোগ পান, বিশেষ করে টমাস কার্লাইলের সঙ্গে তাঁর পরিচয়ের পর ইউরোপের সাহিত্য ও দর্শনের প্রতি আরো আগ্রহী হন।

লংফেলোর বেশির ভাগ কবিতা গীতিকবিতা হলেও বেশ কয়েক রকমের নিরীক্ষা চালিয়েছেন কাব্য রচনায়। ছয় মাত্রার পঙিক্ত, অমিত্রাক্ষর ছন্দ, ব্যালাড, সনেট, হেরোইক কাপলেট তাঁর নিরীক্ষাধর্মী শৈলীর অন্যতম। কবিতার বিষয়বস্তু নিয়ে আগে ভাবতেন এবং বোঝার চেষ্টা করতেন—কোন শৈলীতে তাঁর বিষয়বস্তু মানানসই হবে। সুরের প্রাধান্যের কারণে অনেক কবিতার সঙ্গে মিল পাওয়া যায় টেনিসনের কবিতার। তিনি মনে করতেন, পাঠক তাঁর কবিতা প্রথমত শুনবেন, তারপর পছন্দ করবেন। অবশ্য বিষয়বস্তুর দিক থেকে টেনিসনের সঙ্গে পার্থক্য রয়েছে লংফেলোর। 

লংফেলোর কবিতায় প্রায়ই পাঠকের জন্য ইঙ্গিত থাকে; তবে আগের চেয়ে শেষের লেখাগুলোতে কম দেখা যায়। সাংস্কৃতিক এবং নৈতিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন অনেক কবিতায়, বিশেষ করে বস্তুগত অর্জনের চেয়ে জীবনে আরো অনেক বড় কিছু পাওয়ার থাকতে পারে—এমনই তাঁর বিশ্বাস। কবিতায় অনেক সময় তিনি প্রতীকাশ্রয়ী কাহিনি এবং অন্যান্য সাহিত্যের উপাদানও ব্যবহার করেন। লংফেলো মারা যান ১৮৮২ সালের ২৪ মার্চ।

►দুলাল আল মনসুর

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা