kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

তাজউদ্দীনের রাইফেল

সৌরভ সিকদার

২৭ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



তাজউদ্দীনের রাইফেল

অঙ্কন : মাসুম

মার্চের শেষ সপ্তাহ। মধ্যরাত। বাতাসে তখনো হালকা শীতের গন্ধ। চারদিকে কেমন কুয়াশা কুয়াশা ভাব। এরই মধ্যে ঢাকা শহরের রাস্তাঘাট কেমন নির্জন হয়ে পড়েছে। মাঝেমধ্যে দ্রুতগতির গাড়ির হেডলাইটের আলো চমকে দিচ্ছে। জিপে তাঁরা তিনজন ছিলেন। একজন ধানমণ্ডি নেমে গেছেন। অন্য দুজন তখন যাত্রা করলেন লালমাটিয়ার দিকে। সাতমসজিদ রোড ধরে গাড়ি চলছে। ফিজিক্যাল এডুকেশন কলেজের উল্টো দিকে লালমাটিয়া ঢোকার মুখে এসে জিপটি থামল। গাড়ি থেকে নামলেন যে দুজন, তাঁদের একজন দীর্ঘদেহি স্বল্পভাষী মধ্যবয়সী। অন্যজন কিছুটা ছোট হলেও মুখে ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি ও তারুণ্যের দীপ্তি ছড়ানো চোখ। আত্মগোপনে ছদ্ম নাম নেওয়া প্রথমজন মহম্মদ আলী আর দ্বিতীয়জন রহমত আলী।

লালমাটিয়ার গলির মধ্যে তখনো কিছু মানুষের চলাচল ছিল। এ এলাকার রাস্তাগুলো বেশ প্যাঁচ লাগানো। সহজেই বাড়িগুলো খুঁজে পাওয়া যায় না। মহম্মদ আলী আর রহমত আলী জিপ থেকে সঙ্গে নেওয়া ব্যাগগুলো বহন করে অলিগলি ঘুরছেন। তাঁরা একটি বাড়ি খুঁজছেন। বাড়িটি চাঁদপুরের গফুর সাহেবের। আগন্তুক দুজনই এ এলাকায় প্রথম। তাই বাড়ি খুঁজে পেতে বেশ কষ্ট হলো। বাড়ির সামনে পৌঁছে বেল বাজাতেই গফুর সাহেব দরজা খুলে দিলেন। তিনি অতিথিদের দিকে বিস্ময়ে তাকিয়ে থেকে বললেন, ভেতরে আসুন। বাড়িতে গফুর সাহেব একা ছিলেন। তিনি কিছুদিন ধরে একটা ভয়ের মধ্যে কাটাচ্ছিলেন। দেশে কিছু একটা হতে যাচ্ছে। চারদিকে একটা গুঞ্জন চলছে। সে জন্য পরিবারের সদস্যদের কয়েক দিন আগে গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। বাড়ির মধ্যে ঢুকে ব্যাগ রাখতে রাখতে রহমত আলী মহম্মদ আলীকে বললেন—ভাই, আপনার ব্যাগ এত ভারী কেন? কী আছে এর মধ্যে? আমার কাঁধ ব্যথা হওয়ার দশা।

মহম্মদ আলী খুব ক্ষীণ কণ্ঠে জবাব দিলেন এক শব্দে, ‘রাইফেল’। 

কক্ষের অন্য দুজন তখন পরস্পরের দিকে বিস্ময়ের দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে থাকলেন। সারা বাড়িতে নেমে এলো পিনপতন নীরবতা। এরই মধ্যে দূর থেকে ক্রমাগত ভেসে এলো কামান আর রাইফেলের অবিরাম গুলির শব্দ। মনে হচ্ছে, এই শহরে যুদ্ধ লেগেছে। মহম্মদ আলী রাজনীতি করা মানুষ। বলা যায়, তৃণমূল থেকে রাজনীতি করেন; বিশেষ করে ছাত্ররাজনীতি করে আজ ওপরে উঠেছেন। গত জানুয়ারি মাস থেকেই তাঁর মনে হচ্ছিল, দেশ এবার যুদ্ধের দিকে যাচ্ছে। তাই শুধু রাজনৈতিকভাবেই নয়, হয়তো যুদ্ধের মাধ্যমে পশ্চিমাদের মোকাবেলা করতে হতে পারে। তিনি তাঁর এক আত্মীয়ের মাধ্যমে লাইসেন্স করে দুটি অস্ত্র সংগ্রহ করেন খুব গোপনে। একটি পিস্তল আর একটি রাইফেল। সেনাবাহিনীর এক বাঙালি বন্ধুর সহায়তায় কিছুদিন জয়দেবপুরের জঙ্গলে গিয়ে গুলি চালানো ও টার্গেট প্র্যাকটিসও করেন। তাঁর এই অস্ত্র প্রশিক্ষণের খবর কেউ জানত না। আজ বাসা থেকে বের হওয়ার সময় অস্ত্র দুটি তিনি সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। অতিথিদের অনাগ্রহ সত্ত্বেও গফুর সাহেব তাঁদের সঙ্গে নিয়ে হালকা কিছু খাবার খেলেন। মাঝেমধ্যে মানুষের চিত্কারও শোনা যাচ্ছে। খাওয়া শেষ করে বিষণ্ন, ক্লান্ত আর চিন্তিত মন নিয়ে তিনজনই ছাদে উঠলেন। ছাদে মেরামতের কাজের জন্য কিছু সুরকি-বালু জড়ো করে রাখা হয়েছে। সেগুলো অতিক্রম করে তাঁরা ছাদের প্রান্তে পৌঁছলেন। দূরে রাজারবাগ বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যাচ্ছে। শেষ রাতের নির্জনতা ভেদ করে গুলি আর মানুষের চিত্কারে কেমন যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। রহমত সাহেব মহম্মদ আলীর দিকে তাকিয়ে বললেন—ভাই মনে হচ্ছে, পাকিস্তানি সামরিক জান্তা বাঙালি নিধনের অপারেশনে নেমেছে। গফুর সাহেব ভীত কণ্ঠে বললেন, ওরা কি লালমাটিয়ার এদিকেও আসবে? মহম্মদ আলীর কপালে ভাঁজ পড়ল, চোখের পাতা কাঁপল কিছুটা। রাতের আঁধারে তা অন্যদের চোখে পড়ল না। তিনি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন, এবার ওরা হয়তো ৩২ নম্বরে নেতার বাড়িতে হামলা চালাবে। রহমত আলী কাঁদো কাঁদো গলায় বলে উঠলেন—হায় আল্লাহ বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা কোরো।

ঢাকা শহর পাকিস্তানি বর্বর বাহিনী জ্বালিয়ে ছারখার করে দিচ্ছে। এ অবস্থায় ঘুম কী করে সম্ভব। তবু ক্লান্তির কারণে সকালবেলার দিকে তাঁরা কিছুটা ঘুমিয়ে পড়লেন। ঘুম থেকে উঠে জানলেন, শহরে কারফিউ দেওয়া হয়েছে। কাজেই বাইরে যাওয়ার উপায় নেই। বাসার সামনের রাস্তা দিয়ে কিছুক্ষণ পরপর সেনাবাহিনীর টহল জিপ ছুটে যাচ্ছে। সারা দিন ঘরে বসেই তাঁরা তিনজন নানা আলাপ-আলোচনায় কাটালেন। ১৯৬১ সালে যখন রহমত আলী ব্যারিস্টারি পড়তে লন্ডনে ছিলেন, তখন থেকে ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি রেখেছিলেন। এর মধ্যে বাথরুমে গিয়ে তিনি সেটা সেভ করে এলেন। তাঁর দিকে তাকিয়ে মহম্মদ আলী বললেন—তোমাকে এখন অপরিচিত লাগছে। রহমত বললেন, সেটাই তো চাইছিলাম। দাঁড়ান, আপনাকেও অপরিচিত করে দিই। বলেই একটি কাঁচি আর সাদা টুপি নিয়ে এলেন। মহম্মদ আলীকে কোনো রকম বাধা দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে পেছন থেকে আর কানের দুপাশ থেকে কিছু চুল কেটে ফেললেন। এরপর তাঁর সফেদ পাঞ্জাবির ওপর পরিয়ে দিলেন সাদা গোল টুপি। ভাই এবার আয়নার সামনে গিয়ে দেখেন, আপনাকেও কেমন অপরিচিত লাগছে। আয়নায় নিজের চেহারা দেখে অনেক কষ্টের মাঝেও মহম্মদ আলীর মুখে একটি হাসির রেখা ফুটে মিলিয়ে গেল।

সেদিন সন্ধ্যায় ইয়াহিয়া খান বেতারে ভাষণ দিলেন। গোটা ভাষণেই তিনি শেখ মুজিবকে এ অবস্থার জন্য দায়ী করলেন। অথচ সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হলেও তারা যে সরকার গঠন করতে দেয়নি সেদিকে গেলেনই না। সন্ধ্যার দিকেই ফিজিক্যাল এডুকেশন কলেজে আর্মিরা ক্যাম্প করে তার ছাদে মেশিনগান আর সার্চলাইট বসাল। এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল—এই বুঝি বাড়ি বাড়ি সার্চ শুরু হয়। এদিকে মহম্মদপুরে যে বিহারিরা বাস করত, তাদের যুবকরা গিয়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগ দিয়েছে। ২৭ মার্চ সকালে কারফিউ শিথিল হলো কি না বোঝা গেল না। কিন্তু রহমত আলী জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখেন, নিচে লোকজন চলাচল করছে। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, এ শহর ছেড়ে যত দ্রুত সম্ভব চলে যেতে হবে। মহম্মদ আলী ভাইকে জানালেন। বললেন, আমি আগে যাব। আমি সাতমসজিদ রোড পার হয়ে শংকরের ওদিকটায় আমার খুবই ঘনিষ্ঠ কুষ্টিয়ার আতাউল হক সাহেব থাকেন, সেখানে যাব, পরে লোক পাঠিয়ে আপনাকে নেব। আর ভাই আপনার এই রাইফেলটা সঙ্গে নেওয়া যাবে না—খুবই রিস্কি। পিস্তলটা লুকিয়ে বাজারের ব্যাগে নিতে পারেন। রাইফেলের প্রসঙ্গ উঠতেই গফুর সাহেব আতঙ্কিত হয়ে উঠলেন। তখন মহম্মদ আলী সেটাকে কাপড় দিয়ে ভালো করে পেঁচিয়ে ছাদে নিয়ে সুরকি-বালুর মধ্যে ঢুকিয়ে দিলেন। এবার গফুর সাহেব কিছুটা আশ্বস্ত বোধ করলেন।

মহম্মদ আলীকে একা রেখে রহমত আলীর বের হওয়ার সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না। তবু নিরাপত্তার কথা ভেবে বের হয়ে পড়লেন সাধারণ কাপড়ে। লালমাটিয়ার গলি পার হয়ে সাতমসজিদ রোড পার হতে গিয়ে দেখলেন, দূর থেকে আর্মি জিপ আসছে। তিনি লুকিয়ে পড়লেন। এভাবে ঘণ্টাখানেকের চেষ্টায় আতাউল হক সাহেবের টিনশেড বাড়িতে পৌঁছলেন। পথে এক মৌলভি সাহেবের সঙ্গে দেখা হলো। তিনি এ এলাকার বাসিন্দা আর আতাউল হকের পরিচিত। তাঁকে অনুরোধ করলেন, রহমত আলী, লালমাটিয়ার এক বাসায় আমার বড় ভাই মহম্মদ আলী আছেন। একটু কষ্ট করে আমার কথা বলে তাঁকে এনে দিতে পারবেন কি না? তিনি রাজি হলেন। ঘণ্টাখানেক পরেই মৌলভির সঙ্গে লুঙ্গি, সাদা পাঞ্জাবি, টুপি পরা হাতে বাজারের ব্যাগসহ এক অচেনা মহম্মদ আলী হাজির হলেন। শহরের এ দিকটা অনুন্নত এবং বস্তিপ্রধান। রায়ের বাজার এলাকায় এসে কিছুটা স্বস্তি বোধ করলেন। এখানে আওয়ামী লীগ কর্মীদের শক্ত ঘাঁটি। তারা সংগ্রাম কমিটির অফিস পাহারা দিচ্ছে আর সঙ্গে সঙ্গে স্লোগান দিচ্ছে—বীর বাঙালি অস্ত্র ধর বাংলাদেশ স্বাধীন কর। সংগ্রাম কমিটির অফিসে এসে তাঁরা কিছু সংবাদ পেলেন। মিলিটারিরা বঙ্গবন্ধুকে ধরে নিয়ে গেছে। তাঁর বাড়ি এখন খালি। বুড়িগঙ্গা পার হয়ে জিঞ্জিরার দিকে শেখ মণিসহ আওয়ামী লীগের অনেক নেতা চলে গেছেন—এসব নানা খবর। অফিসের কর্মীরা তাঁদের পরিচয় জানতে চাইল। এমন সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সিকদার সাহেব সংগ্রাম কমিটির অফিসে এসে আগন্তুক দুজনের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলেন। তিনি মনে হচ্ছে এঁদের চেনেন। মুখ খোলার আগেই মহম্মদ আলী তাঁর মাথা থেকে টুপিটা নামালেন। তখন সিকদার সাহেব ‘আরে তাজউদ্দীন ভাই, আমিরুল ভাই যে’ বলে তাঁদের বুকে জড়িয়ে ধরলেন। 

গফুর সাহেব একটু ভীতু টাইপের মানুষ। অতিথিরা চলে যাওয়ার পর তিনি একা ও শঙ্কিত হয়ে পড়লেন। দুপুরের দিকে বাসার সামনে গলির মধ্যে আর্মির ট্রাক এলো, সঙ্গে তলোয়ার হাতে বিহারি যুবকের দল। তারা বাড়ি বাড়ি সার্চ শুরু করল। গফুর সাহেব বুঝলেন, এবার মহাবিপদ। আর প্রাণ রক্ষার উপায় নেই। ওরা যাওয়ার পর কৌশলে তিনি সদর দরজায় বাইরে থেকে তালা দিয়ে পেছন দিক দিয়ে ভেতরে ঢুকেছেন। কিন্তু এখন পাকিস্তানি আর্মি ভেতরে লোক আছে টের পেলে আর রক্ষা নেই। তিনি ইয়ানাফসি ইয়ানাফসি করতে লাগলেন। বেলা কিছুটা গড়িয়ে এসেছে। অনেক মানুষকে ধরে এনে রাস্তার মধ্যে বেঁধে রেখেছে খান সেনারা। তাদের কারো কারো শরীর দিয়ে রক্ত ঝরছে। পাশাপাশি দুটি মাঝারি জলপাই রঙের জিপ দাঁড়িয়ে। এরই মধ্যে পাশের বাড়ির পরিচিত নিরীহ শফিক সাহেবকেও ধরে এনে লাইনে দাঁড় করিয়েছে। মনে হচ্ছে, এঁদের সবাইকে এক্ষুনি গুলি করে মেরে ফেলা হবে। এসব ভাবতে ভাবতে নিচে তাঁর বাসার গেটে গুঁতাগুঁতির শব্দ পেলেন। ভয়ে গফুর সাহেবের লুঙ্গি মনে হয় ভিজেই গেল। এত ভীতু মানুষটি মুহূর্তের মধ্যেই বদলে কেমন যেন সাহসী হয়ে উঠলেন। কোথা থেকে তাঁর এ সাহস আর উদ্দীপনা এলো তিনি নিজেও জানেন না। দৌড়ে ছাদে গিয়ে তিনি বালু-সুরকির ভেতর থেকে এক ঝটকায় তাজউদ্দীন ভাইয়ের রেখে যাওয়া রাইফেলটি বের করলেন। দেখলেন গুলি ভরা আছে। ছাদের রেলিংয়ের আড়ালে লুকিয়ে রাইফেলটি তাক করলেন রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা আর্মি জিপের দিকে। মনে পড়ল, কলেজে থাকতে একবার পিএনসিসির ট্রেনিং করতে মৌচাকে গিয়েছিলেন। সেখানে রাইফেল চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। সেই স্মৃতি ঘেঁটে একচোখ বন্ধ করে ট্রিগারে আঙুল রেখে দেখলেন, রাস্তার ওপর পাকিস্তানি আর্মি জিপের তেলের ট্যাংক দেখা যায়। এরই মধ্যে তাঁর ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়েছে পাকিস্তানি সেনারা। উর্দু ভাষায় চিত্কার শোনা যাচ্ছে। যেকোনো মুহূর্তে তারা ছাদে চলে আসবে। গফুর সাহেব কোনো কিছু না ভেবে ট্রিগারে চাপ দিলেন। মুহূর্তের মধ্যে প্রচণ্ড শব্দে আগুনের কুণ্ডলী পাকিয়ে ট্রাকটির ওপরে উঠে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পাকিস্তানি সেনাদের ওপর গিয়ে পড়ল। আগুন, চিত্কার, পাকিস্তানি সেনাদের ছিন্নভিন্ন দেহ, রক্ত আর গুলির শব্দে চারদিক একাকার।

ঠিক তখন পেছন থেকে একঝাঁক বুুলেট এসে ঝাঁঝরা করে দিল গফুর সাহেবের পিঠ। জ্ঞান হারানোর ঠিক আগে তিনি শুধু শুনলেন, অনেক দূরে কারা যেন বলছে—জয় বাংলা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা