kalerkantho

রবিবার । ২২ চৈত্র ১৪২৬। ৫ এপ্রিল ২০২০। ১০ শাবান ১৪৪১

তিলোত্তমা বিষয়ক পাপ

সম্পর্কের বহুমাত্রিক রসায়ন

আবদুর রাজ্জাক বকুল
তিলোত্তমা বিষয়ক পাপ : এমরান কবির। প্রকাশক : অক্ষরবৃত্ত। প্রচ্ছদ : আল নোমান। মূল্য : ১৫০ টাকা

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সম্পর্কের বহুমাত্রিক রসায়ন

তরুণ লেখকদের মধ্যে যাঁরা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় সতত বিচরণশীল থেকে অবদান রেখে চলেছেন, এমরান কবির তাঁদের একজন। চলতি বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে তাঁর উপন্যাস ‘তিলোত্তমা বিষয়ক পাপ’। ফ্ল্যাপ থেকে জানা যায়, উপন্যাসের প্রধান চরিত্র একজন জনপ্রিয় লেখক। কিন্তু তাঁকে কেউ চেনে না। তাঁর সম্পর্কে কেউ তেমন কিছু জানেও না। এক রকম স্বেচ্ছানির্বাসন বেছে নিয়েছেন। কিন্তু লিখে চলেছেন অবিরাম। এই ৫৫ বছর বয়সী লেখকের সঙ্গে নাবিলা নামের এক পাঠকের সম্পর্ক হয়ে যায়। নাবিলা সদ্য যুবতি। লেখক নাবিলার ফ্ল্যাটে যান। কিন্তু তাঁর অবচেতন মন বারবার তাঁকে বলে, নাবিলাকে কোথায় যেন দেখেছেন। মনের সঙ্গে দ্বন্দ্বে না পেরে লেখক ফ্ল্যাট থেকে বের হতে উদ্যত হন। তখনই দেখা হয়ে যায় তিলোত্তমার সঙ্গে। তিলোত্তমা তাঁর ব্যর্থ অতীত। নাবিলা তিলোত্তমার মেয়ে।

এটুকুই মূল কাহিনি। খুব সাদামাটা ও পরিচিত। প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে এ উপন্যাসের মূল সৌন্দর্য বা মাহাত্ম্য কী? মূল সৌন্দর্য হচ্ছে, সম্পর্কের জটিলতায় উদ্ভূত মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের বিভিন্ন অভিঘাত। এবং এর ফলে মানব মনের বিচিত্র আচরণ। আর মাহাত্ম্য হচ্ছে সম্পর্কের বহুমাত্রিক স্বরূপের বিশ্লেষণ।

এত জটিলতার কারণ কী! কারণ তো শুরুতেই নিহিত। সেটা হলো, তরুণ লেখকের সঙ্গে যখন তরুণী তিলোত্তমার সম্পর্ক বা প্রেম হয়ে যায়, তখন তিলোত্তমা ছিল এক সন্তানের জননী।

সম্পর্কের এই টানাপড়েন তরুণ লেখককে ব্যাপক মাত্রায় প্রভাবিত করে। ফলে প্রতিষ্ঠিত চাকরি ছেড়ে তিনি একসময় আত্মগোপনে চলে যান। নাম বদলে অন্য নাম ধারণ করেন। লেখালেখি করেন এবং দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তাঁর গল্পগ্রন্থ তিলোত্তমাবিষয়ক পাপ প্রতি বইমেলায়ই কয়েকটি সংস্করণ হয়। তিলোত্তমা নামটি লেখকেরই দেওয়া। এটা তিলোত্তমার আসল নাম নয়। 

তিলোত্তমার মেয়ে নাবিলা তাঁর প্রেমে পড়ে যায়।

এই উপন্যাসে স্বপ্ন ও কল্পনা হাত ধরাধরি করে চলে। এখানেই লেখকের মূল মুনশিয়ানা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা