kalerkantho

রবিবার । ২২ চৈত্র ১৪২৬। ৫ এপ্রিল ২০২০। ১০ শাবান ১৪৪১

চোখ বুজে পাহাড় দেখেছি

মহাদেব সাহার হিরণ্ময় সুবর্ণরেখা

সাবরিনা কবির
চোখ বুজে পাহাড় দেখেছি : মহাদেব সাহা। প্রকাশক : অনন্যা। প্রচ্ছদ : ধ্রুব এষ। মূল্য : ১২৫ টাকা

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মহাদেব সাহার হিরণ্ময় সুবর্ণরেখা

চোখ খুলে যা দেখা যায়, যেভাবে দেখা যায়, চোখ বুজে দেখা যায় তার চেয়ে অনেক বেশি। কারণ খোলা চোখের একটা সীমানা থাকে। বুজে থাকা চোখে কোনো সীমানা থাকে না। ফলে খোলা চোখ এবং বুজে থাকা চোখের পার্থক্য সীমাহীন। বোধ করি সে জন্য কবি চোখ খুলে দেখার চেয়ে চোখ বুজে দেখতে চান। কারণ চোখ বুজে দেখার মধ্যে গভীরতা থাকে বেশি। ব্যাপকতা থাকে বেশি। এই গভীরতা ও ব্যাপকতা হয়তো বা কবিকে তার পরম সত্য ও পরম রূপের সন্ধান দিতে পারেন। একজন কবির হয়তো বা সারা জীবনের এটাই আরাধ্য। কথাগুলো প্রসংগত এসে গেল বাংলাদেশের অন্যতম কবি মহাদেব সাহার কাব্যগ্রন্থ ‘চোখ বুজে পাহাড় দেখেছি’ পাঠ করার পর। গ্রন্থটি প্রকাশ পেয়েছে  বইমেলায়।

‘নৈঃশব্দের হাতে যে এস্রাজ, পাহাড়ের পায়ে যে ঘুঙুর/কিছু অদলবদল,/পাখির পরনে সিল্কের জামা, মেঘের মাথায় মুকুট/কিছুই দেখেনি, চোখ বুজে পাহাড় দেখেছি/কত যে নাচের মুদ্রা, কত যে গানের বাদ্য বালকেরা হইহই করে খেলা করে,/এসব দেখিনি, কখনো হয়তো/শীতের শর্টফিল্ম দেখেছি/হয়তো নক্ষত্রের নৃত্য দেখেছি/কিছুই দেখিনি, চোখ বুজে পাহাড় দেখেছি’ (চোখ বুজে পাহাড় দেখেছি)। বোঝা যাচ্ছে, কবি বিরাজ করছেন এক ধ্যানের জগতে। সেখানে নৈঃশব্দের হাতে এস্রাজ বাজছে। পাহাড়ের পায়ে বাজছে ঘুঙুর। বালকেরা হইহই করে খেলা করছে। কিন্তু এসবের কিছুই কবিকে স্পর্শ করছে না। কবি চোখ বুজে দেখছেন পাহাড়।

কবিতায় আমরা যে প্রতীকের কথা বলি, তা এক সার্থক রূপে কবি মহাদেব সাহার কবিতায় প্রযুক্ত হতে দেখি। এই প্রতীক নির্দিষ্টও নয়, অনির্দিষ্টও নয়। মাঝামাঝি কোনো এক অর্থবোধকতার প্রতিনিধি। ফলে তাঁর কবিতা আক্ষরিক অর্থের কোলাজে পর্যবসিত হয় না। কবি মহাদেব সাহা এই অনুভবের অনুরণন তোলেন তাঁর কবিতায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা