kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৯ চৈত্র ১৪২৬। ২ এপ্রিল ২০২০। ৭ শাবান ১৪৪১

এ গল্পের শেষ নেই শুরুও ছিল না

আল মাহমুদের মহাকাব্যের বিভা

মুহিল কবির
এ গল্পের শেষ নেই শুরুও ছিল না : আল মাহমুদ। প্রকাশক : সরলরেখা। প্রচ্ছদ : ধ্রুব এষ। মূল্য : ৩১৫ টাকা

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আল মাহমুদের মহাকাব্যের বিভা

বাংলা কবিতায় মহাকাব্যের সংখ্যা একেবারেই হাতে গোনা। মাইকেল মধুসূদন দত্তের মেঘনাদবধ কাব্য, কায়কোবাদের মহাশ্মশান, সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজীর স্পেন বিজয় কাব্য, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস, বেদভ্যাসের মহাভারত, বাল্মীকির রামায়ণ, হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৃত্ত সংসার, মুহাম্মদ হামিদ আলীর কাসেমবধকাব্য, যোগীন্দ্রনাথ বসুর পৃথ্বিরাজ ও শিবাজী, ফররুখ আহমদের হাতেম তাঈর পর গ্রহণযোগ্য কোনো বড় কবি মহাকাব্য রচনায় প্রয়াসী হননি। দীর্ঘ শূন্যতাকে খানিকটা পূরণ করে দিলেন কবি আল মাহমুদ তাঁর ‘এ গল্পের শেষ নেই শুরুও ছিল না’ নামের মহাকাব্য দিয়ে। যা প্রকাশিত হয়েছে চলতি বইমেলায়।

বিষয় হিসেবে কবি বেছে নিয়েছেন প্রাগৈতিহাসিক কাহিনি। আদি মানব-মানবী আদম ও হাওয়ার সৃষ্টি, তাঁদের স্বর্গবাস, ইবলিসের চক্রান্ত এবং স্বর্গ হতে বিতাড়ন—এই হলো এ মহাকাব্যের বিষয় ও ব্যাপ্তি। একজন আধুনিক যুগের মানুষ হিসেবে তিনি কেন এ রকম একটি বিষয় বেছে নিলেন, তার কোনো সদুত্তর পাওয়া অসম্ভব। কারণ তিনি লোকান্তরিত হয়েছেন। বিশেষ করে আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ, যুদ্ধোত্তর বঙ্গবন্ধু হত্যার মতো বড় ঘটনার চাক্ষুষ তিনি। বিষয় হিসেবে এগুলো স্থান পেলে মহাকাব্যটি অন্য রকম মহিমা পেত।

প্রথমে সিজদায় যাই আল্লার সম্মুখে/কাব্য রচনার ভাষা সৃজিলেন বুকে—এভাবেই মহাকাব্যের শুরু। সৃষ্টিকর্তার প্রতি সন্তুষ্টি জ্ঞাপনের মাধ্যমে তিনি শুরু করেন মহাকাব্যটি। আটটি অধ্যায়ে সম্পন্ন করলেন তাঁর মহাকাব্য-যাত্রা। এর ভেতরে রেখে গেলেন আল মাহমুদীয় স্বাক্ষর। কী তা? তা জানতে হলে যেতে হবে মহাকাব্যের অন্তরমহলে। ‘এ গল্পের শেষ নেই শুরুও ছিল না’ মহাকাব্যের ভাষা প্রাচীন ধারার। ছন্দের ধরন, টোন ও বহমানতা প্রচলিত পয়ার ছন্দের। গ্রন্থটি সম্পাদনা করেছেন কবি আবিদ আজম।

মন্তব্য