kalerkantho

সোমবার । ৪ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

লে খা র ই শ কু ল

দাসপ্রথা ক্রমান্বয়ে বিলোপ করা বাস্তবসম্মত—জুপিটার হ্যামোন

দুলাল আল মনসুর   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দাসপ্রথা ক্রমান্বয়ে বিলোপ করা বাস্তবসম্মত—জুপিটার হ্যামোন

আফ্রিকান-আমেরিকান সাহিত্যের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মনে করা হয় জুপিটার হ্যামোনকে। উত্তর আমেরিকায় আফ্রিকান-আমেরিকান কবিদের মধ্যে তাঁর কবিতাই প্রথম প্রকাশ করা হয়। প্রথম কবিতা ‘অ্যান ইভনিং থট’ প্রকাশ করেন ১৭৬১ সালে। তখন বয়স ৫০ বছর। এরপর কবিতা ও গদ্য উভয় শাখায়ই লেখালেখি করেন।

তাঁর ব্যক্তিজীবন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া কঠিন। মনে করা হয়, দাসমালিক হেনরি লয়েড ওপিয়াম এবং রোজ নামের দুজন দাস নর-নারীকে কেনেন। তাঁরাই জুপিটার হ্যামোনের মা-বাবা। লয়েড পরিবারের নথিপত্রের প্রমাণ অনুযায়ী, ওপিয়াম এবং রোজই লয়েড পরিবারের প্রথম ক্রীতদাস-দাসী। লয়েড পরিবারে দাস হিসেবে জন্ম হওয়ার কারণে হ্যামোন তাঁদের চার প্রজন্মের মানুষের জন্য কাজ করেন। তাঁর জন্ম ১৭১১ সালে আমেরিকার লং আইল্যান্ডে। জন্মগতভাবেই ছিলেন দাস। তাঁর নমনীয় ও কোমল মানসিকতার কারণে মালিকের তরফ থেকে উদারতা পান হ্যামোন। মালিক হেনরি লয়েডের পরিবারে থেকে পড়ালেখা শেখেন। লেখাপড়ার গুণ নিয়ে মালিকের ব্যবসা-বাণিজ্যের কাজেও সহায়তা করেন হ্যামোন। লেখাপড়া শিখে সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে নিজের বুদ্ধিবৃত্তিক গুণের প্রকাশ ঘটানোর প্রবল ইচ্ছা ছিল হ্যামোনের। লেখার মধ্যে তৈরি রূপক এবং প্রতীকের মাধ্যমে দাসপ্রথার বিরুদ্ধে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন।

১৭৬৩ সালে হেনরি লয়েড মারা যান। হেনরির ছেলে জোসেফের অধীনে থেকে যান হ্যামোন। জোসেফের সঙ্গে তিনি কানেকটিকাটে চলে যান এবং আফ্রিকান-আমেরিকান কমিউনিটির অন্যতম নেতা হয়ে ওঠেন। দাসপ্রথা বিলোপের পক্ষে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের সঙ্গে তিনি রেভল্যুশনারি ওয়ার সোসাইটির আন্দোলনে যোগ দেন। ১৭৮৭ সালের সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্ক সিটির স্পার্টান প্রজেক্ট অব আফ্রিকান সোসাইটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিখ্যাত হিতোপদেশ ‘অ্যাড্রেস টু দ্য নিগ্রোস অব দ্য স্টেট অব নিউ ইয়র্ক’ পাঠ করেন। দাসপ্রথাবিরোধী আরো কিছু সংগঠন তাঁর হিতোপদেশ পুনর্মুদ্রণের মাধ্যমে প্রচার করে। তাঁর কথা শুনে অন্যরা নিজেদের উঁচু নৈতিকতাবোধের প্রতি অটল থাকার সাহস পান। তিনি বলেন, ইহজগতে দাস হওয়ার কারণে পরজগতে স্বর্গবাসের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে পারেন তাঁরা। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যদি স্বর্গে যেতে পারি, তাহলে কৃষ্ণাঙ্গ এবং ক্রীতদাস হওয়ার অপরাধে আমাদের কেউ অপমান করতে পারবে না।’ পরবর্তীকালের গবেষকরা মনে করেন, হ্যামোন চাইতেন, দাসপ্রথা ক্রমান্বয়ে বিলোপ করা বাস্তবসম্মত। কারণ আকস্মিক মুক্তির শুভ ফলাফল অর্জন করা কঠিন।     

প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান নারী কবি ফিলিস হুইটলির সঙ্গে তাঁর কখনো দেখা হয়নি। তবে হুইটলির কবিতা তাঁর ভালো লাগে। হুইটলির কবিতা পড়ে হ্যামোন তাঁর উদ্দেশে নিজের ‘অ্যান অ্যাড্রেস টু মিস ফিলিস হুইটলি’ কবিতায় লেখেন—/ঈশ্বরের পবিত্র বাণী শুনতে দূর সমুদ্র পাড়ি দিয়ে/তুমি চলে এসেছ এই বিদেশ-বিভুঁইয়ে।/এসো হে পবিত্র ধর্মভক্ত তারুণ্য/তোমার ঈশ্বরভক্তি দিয়ে অর্জন কোরো পুণ্য।

খ্রিস্টধর্ম প্রচারের কাজে সময় ও শ্রম ব্যয় করেন হ্যামোন। নিউ ইয়র্কের লং আইল্যান্ডে বাণিজ্যিক কেরানির কাজও করেন। এ দুই পেশায়ই তিনি মানুষের কাছে সম্মানের পাত্র ছিলেন। তাঁর বাইবেলের জ্ঞান পরিষ্কার থাকার কারণে দাসপ্রথা অনুসারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কঠোর সমালোচনা করেন। তবে পুরোপুরি স্বাধীনতা পাননি। দাস হিসেবেই মারা যান। তাঁর মৃত্যুর সময় সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া না গেলেও অনুমান করা হয়, ১৮০৬ সালের দিকে মারা যান তিনি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা