kalerkantho

সোমবার । ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ ফাল্গুন ১৪২৬। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

ধা রা বা হি ক উ প ন্যা স ম ৎ স্য গ ন্ধা ।
৬৮

মৎস্যগন্ধা

হরিশংকর জলদাস

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



মৎস্যগন্ধা

অঙ্কন : মানব

লোভে হোক অথবা রমণ ইচ্ছার প্রাবল্যে—কুন্তলা বড় রানিমার আদেশ মেনে নিল। সম্মত হলো কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাসের সঙ্গে রমণক্রিয়ায় অংশ নিতে।

অম্বিকা ব্যাসদেবের বীভৎস রূপের কথা সবিস্তারে কুন্তলাকে বলল। ব্যাসের ভিরমিখাওয়া গাত্রবর্ণ, অগ্নিগোলকের মতো চক্ষু, তাঁর জটাজুট, গুল্মসদৃশ দাড়ি, দাড়ি-চুলে অজস্র কেশকীট, তাঁর দুর্গন্ধী দেহ, রমণের সময় তাঁর বলপ্রয়োগের ধরন, তাঁর তেজবীর্যের প্রাচুর্য—এসব বিষয়ে অম্ব্বিকা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বলে গেল কুন্তলাকে।

কুন্তলা বিচলিত হলো না। সে ব্যাপারটিকে সহজভাবে গ্রহণ করল। সে ভড়কালো না মোটেই। বরং উত্ফুল্লচিত্তে রাতের জন্য অপেক্ষা করতে লাগল। অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষা করতে লাগল কৃষ্ণদ্বৈপায়নের পথ চেয়ে।

একটু গভীর রাতেই ঢুকলেন কৃষ্ণদ্বৈপায়ন। অম্বিকার কক্ষে। অম্বিকার কক্ষেই ঢোকার কথা তাঁর। জননী সত্যবতী সে রকমই বলে দিয়েছেন। বলেছেন, অম্বিকা, মানে বড় বউটি তোমার জন্য অপেক্ষা করছে বাছা। এবার কোনো অনীহা নেই তার। বরং সাগ্রহে তোমাকে বরণ করবে বলে তার সে কী ব্যগ্রতা। তবে বাছা, তোমার কাছে আমার ওই একটিই চাওয়া—সর্বাঙ্গনন্দিত একজন নাতি চাই এবার। সেই ব্যবস্থাই করো তুমি কৃষ্ণ।’

মায়ের এসব কথার উত্তর কি মুখে দেওয়া যায়? এমনিতেই স্বল্পবাক ব্যাসদেব, উপরন্তু কথাটা মাতা-পুত্রের নয়, তাই মায়ের কথায় মৃদু মাথা নুইয়েছিলেন শুধু।

ওদিকে অম্বিকা তার ঘরেই মিলনের ব্যবস্থা করেছিল। অন্য কোথাও করলে তো শাশুড়িমাতার চোখ এড়াবে না। তা ছাড়া পাত্রী তো সে নিজেই। তাই নিজের ঘরে সঙ্গমের আয়োজন না করলে তার সব অভিসন্ধি তো ভেসে যাবে। অম্বিকা তাই পাত্রী বদল করল; কিন্তু কক্ষ বদল করল না। নিজ ঘরেই মিলনশয্যার আয়োজন করল। আগেরবার তো শাশুড়িই শয়নগৃহ সজ্জার সব দায়িত্ব নিয়েছিলেন, এবার সজ্জাকরণের সব কাজ নিজ তত্ত্বাবধানে করাল অম্বিকা। দাসীরাই সুসজ্জিত করে তুলল শয্যাগৃহটি। দেখে সত্যবতী মনে মনে খুব খুশি হলেন। বড় বধূর আগ্রহ দেখে তাঁর আনন্দের সীমা থাকল না।

যথাসময়ে কুন্তলাকে নিজের মতো করে সাজিয়ে-গুছিয়ে নিজ কক্ষে ঢুকিয়ে দিয়েছিল অম্বিকা। কুন্তলাকে দূর থেকে দেখে অম্বিকা বলে মনে হয়েছিল—অম্বিকা স্বয়ং বুঝি গুটিসুটি মেরে ঘোমটা টেনে পালঙ্কের ওপর বসে আছে! তারপর চুপটি করে কক্ষান্তরে গিয়ে লুকিয়ে পড়েছিল অম্বিকা।

সত্যবতী পর্যবেক্ষণ করতে এসে দেখেছিল—পুত্রবধূ অম্বিকা সব প্রস্তুতি নিয়ে বিছানায় বসে আছে। মনে বড় প্রীতি নিয়ে অন্যত্র গিয়েছিলেন তিনি।

সেদিন হস্তিনাপুরে পৌঁছতে দেরি হয়ে গিয়েছিল কৃষ্ণদ্বৈপায়নের। বিলম্বের ব্যাপারে তাঁর কোনো দায় ছিল না। রাজদূত রথ নিয়ে বদারিকাশ্রমে পৌঁছতে দেরি করেছিল। পথিমধ্যে রথের একটি চাকা ভেঙে পড়েছিল। অরণ্যের পথ। এবড়োখেবড়ো। সংকীর্ণ-আঁকাবাঁকা। বন্ধুর পথে বাঁক ঘুরতে গিয়ে টালমাটাল হয়ে পড়েছিল রথটি। সারথি রথটি হঠাৎ দাঁড় করাতে গিয়েই ডান দিকের চক্রটি ভেঙে পড়েছিল। ওই চক্রটি মেরামত করে রথে যোজনা করতে করতে বিলম্ব যা হওয়ার হয়ে গিয়েছিল।

যা হোক, ব্যাসদেব প্রাসাদে পৌঁছে সামান্য সময় বিশ্রাম নিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করলেন এবং তারপর অম্বিকার কক্ষে প্রবেশ করলেন।

কৃষ্ণদ্বৈপায়নকে কক্ষে প্রবেশ করতে দেখে ঝুপ করে পালঙ্ক থেকে নামল অম্বিকাবেশী কুন্তলা। মাথায় তার লম্বা অবগুণ্ঠন। চঞ্চল পায়ে সে দরজার দিকে এগিয়ে গেল। দরজায় অর্গল দিল। তারপর ব্যাসদেবের দিকে ফিরল কুন্তলা। ফিরেই ঘোমটা সরাল সে।

ব্যাসদেব ততক্ষণে স্তম্ভিত। যে ব্যাসকে ক্রোধ-বিস্ময়-অনুরাগ-অনুকম্পা স্পর্শ করে না, সেই ব্যাসদেব বিস্মিত  না হয়ে পারলেন না। এ কে! তাঁর সামনে যে অপরূপ সুন্দরী যুবতিটি দাঁড়িয়ে আছে, এ কে! এ তো অম্বিকা নয়। অম্বিকারই তো থাকার কথা আজকের এই রমণগৃহে। মা সত্যবতী তো সে রকমই বলেছিলেন। কিন্তু এ তো অম্বিকার পরিবর্তে অন্য এক যুবতি! অন্য যুবতি কেন? অম্বিকা কোথায়? এটা কি মায়েরই কারসাজি? অম্বিকার কথা বলে অন্য যুবতির গর্ভে সন্তান উৎপাদনের ব্যবস্থা! তা তো হতে পারে না। তিনি মাকে ভালো করেই চেনেন। মা কখনো এ রকম অসৎ কাজ করবেন না। তাহলে কে করল? কেন হলো এ রকম?

সব প্রশ্ন নিজের মধ্যে চেপে রাখলেন ব্যাস। স্মিত হেসে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কে, নারী?’

‘আমি কুন্তলা।’ সলজ্জ উত্তর শুনতে পেলেন ব্যাসদেব।

‘এই কক্ষে তো তোমার থাকার কথা নয়!’

‘আপনি ঠিকই বলেছেন মুনিবর।’

‘তাহলে!’

‘আমাকে পাঠানো হয়েছে আপনাকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য।’ ‘কে পাঠালেন! মা!’ বিচলিত কণ্ঠস্বর ব্যাসদেবের।

‘না মুনিবর। আমাকে পাঠিয়েছেন রানিমা অম্বিকা।’

‘অম্বিকা পাঠিয়েছে! তোমাকে!’

‘হ্যাঁ, মুনিবর!’

ব্যাসদেব কী করবেন, বুঝে উঠতে পারছিলেন না। বড় অস্থির দেখাচ্ছিল তাঁকে। প্রচণ্ড ভূকম্পনের বিশাল পর্বত যেমন করে মৃদু মৃদু কম্পিত হয়, তেমন করে কম্পিত হচ্ছিলেন ব্যাসদেব। কুন্তলা বুঝতে পারল—ক্রোধ মুনিবরকে স্পর্শ করেছে। তাঁর ক্রোধকে যে করেই হোক সংযত করাতে হবে। কোমল পায়ে ব্যাসদেবের একেবারে কাছে গেল কুন্তলা। নিষ্কম্প হাতে মুনির পায়ে হাত ছোঁয়াল। ব্যাসদেব যেন তড়িৎ স্পর্শিত হলেন। শিহরিত চোখে কুন্তলার দিকে তাকালেন।

ব্যাসদেব আবার জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কে?’

এই জিজ্ঞাসা যে আগের জিজ্ঞাসার সমান নয়, বুঝতে অসুবিধা হলো না কুন্তলার। দ্বিতীয়বারের ‘তুমি কে’—এর মধ্যে যে আরো গভীর কিছু জানবার আগ্রহ, তা বোঝার ক্ষমতা কুন্তলার আছে।

চট করে ব্যাসদেবের হাত ধরল কুন্তলা। মৃদু আকর্ষণে তাঁকে বিছানা পর্যন্ত নিয়ে গেল। কোমল কণ্ঠে বলল, ‘আপনি বসুন মুনিবর। আমি নিজের পরিচয় দিচ্ছি।’

বিস্মিত বাক্যহারা মুনিবর বিছানায় বসলে দুজনের মধ্যে সামান্য ফাঁক রেখে কুন্তলাও বসল।

ব্যাসদেবের একটি হাত নিজের দিকে টেনে নিয়ে কুন্তলা বলল, ‘আমি একজন দাসী মুনিবর। এই রাজপ্রাসাদে ছোটবেলায় এসেছি। শূদ্রা আমি।

‘দাসী! শূদ্রা!’  ব্যাসদেবের বিস্ময়ের সীমা থাকে না। মনে মনে বলেন—এ রকম সুন্দরী দাসী!

‘হ্যাঁ, মুনিবর। ছোটবেলা থেকে এই প্রাসাদের আশ্রিতা আমি। কী করে এখানে এসেছি জানি না।’

‘জানো না!’

‘না, মুনিবর। হয়তো মহারাজা কোনো দেশ জয় করতে গিয়ে বিজিতদের মধ্য থেকে আমাকে নিয়ে এসেছিলেন। অথবা আমার মা-বাবা পেটের দায়ে রাজপ্রাসাদের দাসীমহলে আমাকে রেখে গিয়েছিল।’

‘রেখে গিয়েছিল?’

কুন্তলা বলল, ‘সেই থেকে আমি এই রাসপ্রাসাদে আছি। ছোট থেকে বড় হয়েছি। বালিকা থেকে যুবতি হয়েছি। শেষ পর্যন্ত আমাকে রানিমার চোখে লেগেছে। তিনি আমাকে তাঁর খাসদাসীদের একজন করে নিয়েছেন।’

‘তা বুঝলাম। কিন্তু আজকের অম্বিকার স্থলে তোমাকে—বুঝলাম না কুন্তলা!’

প্রথমে কথা দিন মুনিবর—আপনি রানিমাকে ভুল বুঝবেন না, তাঁকে অভিশাপ দেবেন না।’

‘ঠিক আছে। বলো তুমি।’

কুন্তলা মৃদু গলায় বলল, ‘আসলে আপনাকে রানিমা অম্বিকার ভীষণ ভয়। আপনার বিপুল বিকট দেহ, ভয়ংকর চোখ, কালোবরণ, দেহদুর্গন্ধ—এসবের প্রতি তাঁর প্রবল ঘৃণা।’ বলে একটু থামল কুন্তলা। গভীর চোখে ব্যাসদেবের দিকে একবার তাকাল। তারপর আবার বলল, ‘আপনাকে দ্বিতীয়বার দেহ দিতে তিনি মোটেই সম্মত নন। কিন্তু রাজমাতা সত্যবতীর দাপটের কাছে রানিমা মাথা নত করতে বাধ্য হয়েছেন। তবে তা রাজমাতার সামনেই শুধু। সামনে থেকে সরে সজোরে অগ্রাহ্য করলেন রাজমাতাকে। মনে মনে ফন্দি আঁটলেন রানিমা। সেই ফন্দিরই প্রতিফলন আমার এই উপস্থিতিতে।

ব্যাসদেব বললেন, ‘তোমার রানিমার ভয়, তোমার ভয় নেই। তোমার রানিমার যে ঘৃণা আমার প্রতি, তোমার সেই ঘৃণা নেই।’

‘না, মুনিবর। আপনার প্রতি আমার কোনোই ঘৃণা নেই। ভয়ও নেই। দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করে কুন্তলা আবার বলল, ‘আমি তো খুব সৌভাগ্যবতী মুনিবর। আমাদের তো কোনো পুরুষের সঙ্গে মিলিত হওয়ার অধিকার নেই। দাসীদের সন্তানবতী হওয়ার অধিকার নেই। ওদের কাজ শুধু এই রাজপ্রাসাদের সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করা। সেই দাসীদের একজন হয়ে আপনাকে সঙ্গ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি আমি। আমার চেয়ে বড় ভাগ্যবতী আর কে আছে বলুন।’

কুন্তলার স্বচ্ছন্দ কথাবার্তা শুনে মুগ্ধ হলেন ব্যাসদেব। এই রাজপ্রাসাদে দু-দুজন ভ্রাতৃবধূকে রমণ করার অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। ওদের অসহযোগিতা, ওদের জড়তার কথা বিস্মরণ হননি তিনি। সেই জায়গায় কুন্তলা নামের এই শূদ্রার কী সাবলীল স্বাচ্ছন্দ্যময় আবেদন-আচরণ।

শান্ত ভঙ্গিতে কুন্তলা বলল, ‘শাশুড়িমাতার চোখকে ফাঁকি দিয়ে রানিমা তার বদলে আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন।’

কুন্তলার কাছে অনেকটাই সহজ হয়ে গেছেন ব্যাসদেব। বললেন, ‘তুমি যদি গর্ভবতী হয়ে পড়ো।’

‘সে আমার সৌভাগ্য মুনিবর।’

‘তোমার সন্তানের দায়...।’

‘রানিমা অম্বিকা নেবেন বলেছেন। বলেছেন—তাঁদের অন্য দুজন সন্তানের মতো করেই আমার সন্তানটিকে মানুষ করবেন।’

ব্যাসদেব সন্দিগ্ধ কণ্ঠে পুনরায় বললেন, ‘আমাকে সত্যিই তোমার ভয় করছে না?’ ব্যাসদেবের এই প্রশ্নের কোনো উত্তর দিল না কুন্তলা। নিজের দেহটাকে আরো বেশি ব্যাসদেবের দেহসংলগ্ন করল। তার কুচযুগলে মুনির ডান হাতটা নিয়ে চেপে ধরল। ব্যাসের শ্মশ্রুতে তার কোমল আঙুল বুলিয়ে যেতে লাগল। সেই শ্মশ্রুমণ্ডিত ঠোঁটে নিজের পুষ্ট অধর নামিয়ে আনল কুন্তলা। তারপর ব্যাসদেবের বিভিন্ন উত্তেজক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে নিজের চঞ্চল হাত বুলিয়ে যেতে লাগল সে। ব্যাসদেব উত্তেজিত হলেন। প্রবল সঙ্গমেচ্ছা তাঁর ওপর ভর করল। তাঁর চোখ আঁধার হয়ে এলো। তাঁর শ্রবণেন্দ্রিয় স্তব্ধ হলো। মাথা ঝাঁ ঝাঁ করতে লাগল। তাঁর চোখের সামনে থেকে পার্থিব সব বস্তু সরে গেল।  তিনি তখন শুধু কুন্তলাকেই দেখতে পেলেন। কুন্তলার সুখস্পর্শে তাঁর সমরস উদ্বেলিত হয়ে উঠল।

এই সময় ব্যাসদেবের চোখেরই সামনে নিরাভরণ হতে শুরু করল কুন্তলা। কর্ণফুল, সিঁথিপাটি, বাজুবন্ধ, কণ্ঠহার, হস্তকঙ্কন, নূপুর—একে একে সব খুলে ফেলল কুন্তলা। ব্যাসদেব কখনো চোখের সামনে এ রকমভাবে কোনো যুবতিকে নিরাভরণ হতে দেখেননি। তাঁর চক্ষুদ্বয় নিষ্পলক।

এরপর কুন্তলা পরিধেয় পট্টবস্ত্র পরিহার করল। বক্ষবন্ধনী ত্যাগ করল। উদ্ধত-উন্নত কুচযুগল পদ্মফুলের মতো প্রস্ফুটিত হয়ে থাকল ব্যাসদেবের সামনে। অতঃপর!

অতঃপর ব্যাসদেব দাসীটির সঙ্গে দেহসম্ভোগে লিপ্ত হলেন। বড় তৃপ্ত হলেন কৃষ্ণদ্বৈপায়ন। বড় সন্তুষ্টি নিয়ে কক্ষ থেকে বেরিয়ে এলেন তিনি। বেরিয়ে আসার আগে কুন্তলাকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘বড় তৃপ্তি পেলাম আমি।’

যথা-অভ্যাসে কক্ষের বাইরে, অনতিদূরে দাঁড়িয়ে আছেন সত্যবতী। পুত্রকে উদ্দেশ্য করে একই প্রশ্ন—নাতিটি সর্বাঙ্গ সুন্দর...।

মায়ের কথা শেষ করতে দিলেন না ব্যাসদেব। জ্যেষ্ঠ কুলবধূ অম্বিকার ছলনার কথা আদ্যোপান্ত বলে গেলেন মায়ের কাছে। তখন পুত্রের দিকে চরম বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কোনো পথ থাকল না সত্যবতীর।

ব্যাসদেব বললেন, ‘তোমার এই পৌত্রটি সর্বাঙ্গ সুন্দর, সর্বগুণান্বিত হবে, মা। নিজের বুদ্ধি-বিবেচনার জন্য সে জগদ্বিখ্যাত হবে।’

সত্যবতী মর্মাহত কণ্ঠে বললেন, ‘কিন্তু ও তো দাসীর ছেলে! ও তো শূদ্রার গর্ভে জন্মাবে!’

‘সে তোমার চিন্তার ব্যাপার মা, আমার নয়। আমি বিদায় নিচ্ছি জননী।’ বলে মায়ের চরণ স্পর্শ করলেন ব্যাসদেব।

নিথর হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেন সত্যবতী—অম্বিকা তাঁর সঙ্গে এত বড় ছলনা করল!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা