kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

বঙ্গবন্ধু : মধ্যরাতের সূর্যতাপস

বহুমাত্রিক বঙ্গবন্ধু ও তাঁর রাজনীতি

আলী হাবিব
বঙ্গবন্ধু : মধ্যরাতের সূর্যতাপস—আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী প্রকাশক : আগামী প্রকাশনী। মূল্য : ৩৫০ টাকা

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বহুমাত্রিক বঙ্গবন্ধু ও তাঁর রাজনীতি

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে এ বছর অনেক বই প্রকাশিত হচ্ছে। বহুমাত্রিক বঙ্গবন্ধু আলোচিত হচ্ছেন নানাভাবে। তিনি সেই নেতা, যিনি দীক্ষা নিয়েছিলেন কল্যাণমন্ত্রে; রাজনীতি ছিল যাঁর ব্রত। সেই ব্রত সাধনায় উৎসর্গ করেছিলেন নিজের জীবন। ব্যক্তিগত জীবনের ঊর্ধ্বে রাজনৈতিক জীবনকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তাই বলে কি তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ছিল না? দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথে তাঁর লক্ষ্য ছিল স্থির। সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথ নিজেই তৈরি করেছেন। মানুষের কাছে গেছেন। অর্জন করেছেন বিশ্বাস ও ভালোবাসা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জীবনে বাধা এসেছে অনেকবার। কারাবরণ করেছেন। বিচারের সম্মুখীন হয়েছেন। কিন্তু আপসের পথে পা বাড়াননি কখনো।

বঙ্গবন্ধুর এই ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ রাজনৈতিক জীবন আজকের দিনের পাঠকের কাছেই শুধু নয়, দেশ ও বিদেশের রাজনীতিবিদদের জন্যও বিস্ময়। কী করে রাজনীতি ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে সমন্বয় করা যায়, তা তাঁর জীবনালেখ্য থেকেই পাওয়া যায়। বঙ্গবন্ধু ছিলেন সাংবাদিকবান্ধব। গণমাধ্যমের প্রতিও ছিল তাঁর অগাধ আস্থা। তাঁর সময়ের বিশিষ্ট সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি সুন্দর একটি সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। নিতান্ত আটপৌরে এই মানুষটিকে যাঁরা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন, তাঁদের একজন আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী। ২০০৯ সালে তিনি ঢাকার জাতীয় জাদুঘরে ‘বঙ্গবন্ধু : মধ্যরাতের সূর্যতাপস’ শিরোনামে বঙ্গবন্ধু স্মারক বক্তৃতা করেন। সেই বক্তৃতাটিই এবার বই আকারে প্রকাশিত হয়েছে। বাংলার পাশাপাশি রয়েছে শাহনুর ওয়াহিদের ইংরেজি অনুবাদ। আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী একজন অনবদ্য গল্পকথক। পাঠককে টেনে নিয়ে যাওয়ার যে অসামান্য ক্ষমতার অধিকারী তিনি, তার প্রয়োগ এই গ্রন্থেও পাওয়া যাবে।

শুরুতেই লেখক বলছেন, ‘ইতিহাস নেতা তৈরি করে, না নেতা ইতিহাস তৈরি করেন—এ বিতর্কটি এখনো অমীমাংসিত। বইটির এই প্রথম বাক্যটিই একটি প্রশ্নের মুখোমুখি করে পাঠককে তার জবাব খুঁজতে আগ্রহী করে। যদিও লেখক তাঁর নিজের বিশ্বাসের কথাটিও তুলে ধরছেন, ‘আমার বিশ্বাস, কোনো দেশের বিশেষ পরিস্থিতির বৈপ্লবিক উপাদান থেকেই ইতিহাস নতুন নেতৃত্ব তৈরি করে।’ বঙ্গবন্ধুকে নানা আঙ্গিকে, নানা মাত্রায় বিশ্লেষণ করতে গিয়ে লেখক যেমন রুশ বিপ্লবের কথা তুলে এনেছেন, তেমনি উপমহাদেশের রাজনীতির ধারা ও গতি-প্রকৃতি বর্ণনা করেছেন। অবিভক্ত ভারতের রাজনৈতিক নেতাদের উদাহরণ টেনেছেন। একপর্যায়ে তিনি বলছেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে অত্যন্ত কাছ থেকে দেখার ও জানার সুযোগ হওয়ায় আমার একটি ধারণা জন্মেছে যে তাঁর চরিত্র বিপ্লব ও নিয়মতান্ত্রিকতার মিশ্রণ দ্বারা গঠিত হয়েছিল।’ আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী লিখেছেন, ‘শেখ মুজিব দেশের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতাকে স্থান দিয়ে বাংলাদেশকে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদ থেকে মুক্ত করার ব্যবস্থা করেছিলেন। সংবিধানে সমাজতন্ত্রকে স্থান দিয়ে ভবিষ্যতে সমাজতন্ত্রী বাংলা গড়ার দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা