kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

লে খা র ই শ কু ল

রাশিয়ার সাহিত্যে নবযুগের কণ্ঠ বেলা আকমাদুলিনা

দুলাল আল মনসুর

১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাশিয়ার সাহিত্যে নবযুগের কণ্ঠ বেলা আকমাদুলিনা

সোভিয়েত কবি, ছোট গল্পকার এবং অনুবাদক বেলা আকমাদুলিনা রাজনীতি-নিরপেক্ষ লেখার জন্য সুপরিচিত। তাঁর জন্ম ১৯৩৭ সালে। তাঁর জীবদ্দশায় জোসেফ ব্রডস্কি তাঁর সম্পর্কে বলেন, তিনি রুশ ভাষার শ্রেষ্ঠ জীবিত কবি। রাশিয়ায় তিনি নবযুগের কণ্ঠ বলেও পরিচিত। রাজনীতি-নিরপেক্ষ লেখা লিখলেও ব্যক্তি আকমাদুলিনা সোভিয়েত ইউনিয়নের শাসকদের সমালোচনা করেছেন। একই সময়ে তিনি সাহসের সঙ্গে বরিস পাস্তারনাক, আঁদ্রেই সাখারভ এবং আলেক্সান্ডার সোলঝেনিিসনের পক্ষে কথা বলেছেন। ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ পত্রিকা তাঁকে সোভিয়েত ইউনিয়নের মূল্যবান সম্পদ হিসেবে এবং লারমনতফ ও পুশকিনের কাতারের কবি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ‘দ্য পোয়েটিক ক্রাফট অব বেলা আকমাদুলিনা’ বইয়ে সোনিয়া আই কেচিয়ান তাঁকে বিশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবিদের অন্যতম মনে করেন। রাশিয়ার পাঁচজন প্রধান কবির অন্যতম মনে করেন তাঁকে। তাঁর মতে, আনা আকমাতোভা, মারিনা সুতায়েভা, ওসিপ ম্যানডিলস্ট্যাম এবং বরিস পাস্তারনাকের পরেই আছেন আকমাদুলিনা।

আকমাদুলিনার বাবা ছিলেন তাতার এবং মা ছিলেন রুশ-ইতালীয়। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় তাঁর পরিবারকে মস্কো থেকে কাজানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। স্কুলে পড়ার সময় তাঁর সাহিত্যযাত্রা শুরু হয়। তখন তিনি মস্কোর ‘মেট্রোস্টোয়েভেটস’ পত্রিকার সাংবাদিক হিসেবেও কাজ করেন। কবি ইয়েভগেনি ভিনোকুরোভ আয়োজিত কবি-আড্ডায় যোগ দিয়ে তিনি নিজের কবিত্ব শক্তি বাড়াতে থাকেন। প্রতিষ্ঠিত কবিদের অনুমোদন নিয়েই তিনি ‘অক্টোবর’ পত্রিকায় কবিতা প্রকাশ করেন। ১৯৫৫ সালে তাঁর কবিতা দেখে সমালোচক কবি মার্ক স্লোনিম মন্তব্য করেন, ‘তাঁর কণ্ঠে আছে স্বরের পবিত্রতা, ধ্বনির প্রাচুর্য। তাঁর শব্দ চয়নে আছে স্বাতন্ত্র্য। তাঁর অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে একদিন তিনি রাশিয়ার শ্রেষ্ঠ জীবিত কবি আকমাতোভা হবেন।’ স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে তিনি ম্যাক্সিম গোর্কি সাহিত্য ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। এখানে পড়ার সময় বিভিন্ন পত্রিকায় তাঁর কবিতা ও প্রবন্ধ প্রকাশ করতে থাকেন। ১৯৬২ সালে প্রকাশ করেন প্রথম কবিতা সংকলন ‘দ্য স্ট্রিং’। প্রকাশের পর পরই বোদ্ধা পাঠক মহলে সাড়া ফেলে। ‘মিউজিক লেসনস’ (১৯৭০), ‘পোয়েমস’ (১৯৭৫), ‘ক্যান্ডল’ (১৯৭৭), ‘ড্রিমস অব জর্জিয়া’ (১৯৭৭), ‘দ্য মিস্ট্রি’ (১৯৮৩), ‘কোস্টলাইন’ (১৯৯১) তাঁর কবিতার বইয়ের নাম। ‘গার্ডেন’ কবিতা সংকলনের জন্য ১৯৮৯ সালে ইউএসএসআর স্টেট পুরস্কার পান। বন্ধুত্ব, প্রেম ও মানব সম্পর্ক তাঁর লেখার প্রধান বিষয়বস্তু। জীবনের সাধারণ তবে কল্পিত বিষয় তুলে ধরেন তাঁর কবিতায়। প্রথম দিকের কবিতায় ছন্দোবদ্ধ চার পঙক্তির স্তবক ব্যবহার করেন। বয়সে পরিণত হওয়ার সঙ্গে তাঁর কবিতায় বিষয়বস্তু হিসেবে ধর্ম ও দর্শনের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। ফ্রান্স, ইতালি, চেচনিয়া, পোল্যান্ড, যুগোস্লাভিয়া, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, জর্জিয়া, আর্মেনিয়াসহ আরো অনেক দেশের কবিতা রুশ ভাষায় অনুবাদ করেন। ব্যক্তিগত জীবনেও শিল্পের সঙ্গেই ছিল তাঁর বসবাস। প্রথম স্বামী ছিলেন কবি, দ্বিতীয় স্বামী ঔপন্যাসিক চিত্রনাট্যকার, তৃতীয় স্বামী চলচ্চিত্রকার এবং চতুর্থ স্বামী চিত্রকর। মেয়ে এলিজাবেথ কুলিয়েভা কবি। নির্বাসিত পদার্থবিদ আঁদ্রেই সাখারভের সমর্থনে প্রকাশ করেন তাঁর খোলা চিঠি। ২০১০ সালে তাঁর মৃত্যুর পর রুশ নেতা দিমিত্রি মেদভেদেভ ভ্লাদিমির পুতিন তাঁর প্রশংসা করেন। মেদভেদেভ বলেন, ‘তাঁর মৃত্যুতে রাশিয়ার অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। আকমাদুলিনার কবিতা রুশ সাহিত্যের ক্লাসিক।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা