kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

ধা রা বা হি ক উ প ন্যা স ম ৎ স্য গ ন্ধা ।
৬৫

মৎস্য গন্ধা

হরিশংকর জলদাস

১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



মৎস্য গন্ধা

অঙ্কন : মানব

ভীষ্মদেবের প্রশ্ন কানে তুললেন না সত্যবতী। আপন মনে বললেন, ‘কুরুবংশের গুরুজন হিসেবে তুমি এবং আমি যদি ব্যাসকে অনুরোধ করি, তাহলে অবশ্যই বিচিত্রবীর্যের পত্নীদের গর্ভে পুত্র উৎপাদনের রাজি হবে ব্যাস।’

এবার গলা উঁচু করলেন ভীষ্ম। বললেন, ‘মা আমি আবার জিজ্ঞেস করছি—ব্যাস রাজি হবেন কেন? যিনি অতি বাল্য বয়সে তপস্যায় নিযুক্ত হয়েছিলেন, তিনি তোমার ডাকে হস্তিনাপুরে আসবেন কেন?’

সত্যবতী দ্রুত বলে উঠলেন, ‘কৃষ্ণদ্বৈপায়ন আমাকে কথা দিয়েছিল।’

কথা দিয়েছিলেন?

‘হ্যাঁ পুত্র।’

‘কী কথা দিয়েছিলেন?’

আমার সেই ছেলে তপস্যায় যাওয়ার আগে আমাকে বলেছিল—‘মা, তুমি যদি কখনো কোনো সংকটে পড়ো, যদি তোমার মনে হয়—ওই সময় আমাকে তোমার দরকার, আমাকে স্মরণ করো মা।’

ভীষ্ম বললেন ‘তারপর।’

সত্যবতী বললেন, ‘আমি চলে আসব মা তোমার কাছে।’ একটু থামলেন সত্যবতী। ভীষ্মের মুখের দিকে চেয়ে বললেন, ‘এবারে তুমি বলো ভীষ্ম—আমি কী করব?’

ভীষ্ম ফাঁপরে পড়ে গেলেন। কী বলবেন বুঝে উঠতে পারছেন না।

সত্যবতী বলে উঠলেন, ‘তুমি যদি অনুমতি দাও ভীষ্ম, তাহলে সেই তপস্বী ঋষিপুত্রকে ডাকতে পারি।’

ভীষ্ম হকচকিত হলেন। নিজের সত্যচ্যুতির ভয়ে মায়ের কাছে একজন গুণবান ব্রাহ্মণকে আমন্ত্রণ জানানোর কথা বলেছিলেন। কিন্তু এমন আকস্মিকভাবে কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাসের নাম শুনবেন এবং তা সত্যবতীর মুখ থেকেই শুনবেন—এটা ভীষ্ম ভাবতেই পারেননি। ব্যাসদেবের নাম ভারতবর্ষে তখন বিখ্যাত হয়ে গেছে। বেদবিন্যাসকারী দ্বৈপায়ন ব্যাসের নাম শোনামাত্রই ভীষ্মের মাথা শ্রদ্ধায় নত হয়ে এলো।

বিনম্র কণ্ঠে ভীষ্ম বললেন, ‘মা, তুমি ব্যাসদেবের কথা উচ্চারণ করে এই বংশের মঙ্গলের কথাই বলেছ। তোমার ভাবনা অত্যন্ত ন্যায়সংগত। তোমার প্রস্তাব আমার অত্যন্ত পছন্দ হয়েছে মা।

এ আমার অভিপ্রেত কথা।’

ভীষ্মের কথা শুনে সত্যবতী খুব আনন্দিত হলেন। চোখে অশ্রু এসে গেল তাঁর। পরম আদরে ভীষ্মের মাথা বুকের কাছে টেনে নিলেন সত্যবতী।

মায়ের আবেগ স্তিমিত হয়ে এলে ভীষ্ম নরম গলায় বললেন, ‘তুমি ডাকলে তিনি আসবেন—এ আমার একান্ত বিশ্বাস মা। কিন্তু...।’ বলে থেমে গেলেন ভীষ্ম।

‘কিন্তু কী পুত্র?’ তড়িঘড়ি বলে উঠলেন সত্যবতী।

‘ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর গর্ভে সন্তান উৎপাদনে রাজি হবেন ব্যাসদেব?’

 

‘হবে না মানে! আলবত রাজি হবে। আমি তার জননী। জননীর অনুরোধ কৃষ্ণ কিছুতেই ফেলে দেবে না।’

সত্যবতী গাঢ় বিশ্বাসের কণ্ঠে বললেন।

‘ব্যাসদেব বিরাট তপস্বী। ভুবনখ্যাত জ্ঞানী। দার্শনিক বিবেচক। ধর্ম বিশ্লেষক। ভাবছি আদৌ তিনি তোমার প্রস্তাবে সম্মত হবেন তো।’

সত্যবতী বললেন, ‘ওতেই আমার ভরসা। তুমি বললে না—ব্যাস বিবেচক ও ধর্মবিশ্লেষক। ওই দুটি গুণের কারণেই কৃষ্ণ আমার প্রস্তাবে সম্মত হবে। তার কাছে যে আবেগের চেয়ে যুুক্তি বড়।’

মায়ের শেষ কথায় ব্যঙ্গ যে উছলে উঠছে, টের পেলেন ভীষ্ম। তিনি একেবারেই শান্ত থাকলেন। তিনি যে সহিঞ্চুতার বর্ম পরে আছেন।

‘যা হোক মা, এ তোমার আস্থা, ব্যাসদেবের ওপর।’

সত্যবতী বললেন, ‘কৃষ্ণকে রাজি করানোর ভার আমার ওপর ছেড়ে দাও বাছা। তাকে শুধু তুমি হস্তিনাপুরে নিয়ে আসার ব্যবস্থা নাও।’

ভীষ্ম বললেন, ‘ব্যাসদেবের সন্ধান পাওয়া খুব কঠিন হবে না। ঋষি পরাশর গত হয়েছেন। মহাত্মা পরাশরের তপোবন ভুবন বিখ্যাত। কে না চিনে এই তপাশ্রমকে। মহামতি পরাশরের পর ওই আশ্রমের প্রধান কর্ণধার যে ব্যাসদেব—এ কথাও চারদিকে প্রচারিত।’

ভীষ্মের কথা শুনতে শুনতে সত্যবতীর মুখমণ্ডলে উজ্জ্বল আভা ছড়িয়ে পড়ল। এই আভা গর্বের।

মৃদু গলায় ভীষ্ম আবার বললেন, ‘ব্যাসদেবের আশ্রমে রথসহ রাজদূত পাঠাবার ব্যবস্থা করছি আমি। সঙ্গে তোমার বরাত দিয়ে বিনীত পত্র। আসা, না আসা ব্যাসদেবের ওপর নির্ভর করছে মা।’

‘ও তুমি আমার বিশ্বাসের ওপর ছেড়ে দাও। জননীর অধিকারের ওপর ছেড়ে দাও।

ভীষ্ম এবারে গলা একেবারে খাদে নামিয়ে দিলেন। বললেন, ‘আমরা আমাদের দিক থেকে ভাবলাম মা। বধূদের দিক থেকে ভাবলাম না। রাজবধূরা ব্যাপারটাকে কিভাবে নেবে, বুঝে উঠতে পারছি না মা।’

‘অম্বিকা-অম্বালিকার কথা বলছ তুমি?’

‘হ্যাঁ মা। ওদের কথাই ভাবছি আমি। আধুনিক তারা।’

রাজকন্যাও।’

‘ওরা যা-ই হোক সংস্কার আর নিয়মের বাইরে তো নয়! ক্ষত্রিয়কন্যা তো ওরা। রাজপরিবারের মেয়ে। যুবতি হওয়ার পর ওদের বিয়ে হয়েছে। সুতরাং তোমার কথিত ক্ষত্রিয়নীতিটি তাদের অজানা নয় নিশ্চয়ই।’

‘জানে হয়তো। কিন্তু প্রথা আছে বলেই সেই প্রথা মানবে কেন?’ সন্দিগ্ধ কণ্ঠ ভীষ্মের।

‘মানবে, মানবে। আমি যেমন উৎকণ্ঠিত, ওরা কি নয়? ওরাও কি ওদের বংশধারা সম্পর্কে ভাবছে না?’

‘যদি না ভাবে? যদি বলে—ওই প্রথা-নিয়ম আমরা মানি না। আমরা একনিষ্ঠ ছিলাম, একনিষ্ঠ থাকব। বিচিত্রবীর্যই আমাদের স্বামী। আমাদের সব কিছুর অধিকার আমরা বিচিত্রবীর্যকে দিয়ে দিয়েছি। আমাদের দেহ-আঙিনায় অন্য পুরুষের প্রবেশাধিকার নেই।’

ভীষ্মের কথা শুনে থতমত খেয়ে গেলেন সত্যবতী। কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থাকলেন। পরে সরোষে বললেন, ‘যদি সহজভাবে সম্মত না হয় বধূরা, তাহলে কঠিন পথ বেছে নেব বাছা, বলে রাখলাম তোমায়?’

‘কী কঠিন পথ মা?’

‘জোর খাটাব। জোর খাটাব ওদের ওপর আমি।’ রাগতভাবে বললেন সত্যবতী।

ব্যাপারটা তো মা জোর খাটানোর নয়! জোরজবরদস্তি করে বাধ্য করানোরও নয়! ব্যাপারটা মা সম্মতির। সানন্দে এবং স্বেচ্ছায় সম্মত হওয়ার।’ বললেন ভীষ্ম।

এবার হকচকিয়ে গেলেন সত্যবতী। অকস্মাৎ পরাশরের কথা মনে পড়ে গেল তাঁর। পরাশরের জবরদস্তির কথা তাঁকে বিচলিত করে তুলল। ধর্ষণক্রিয়া-পরবর্তী সময়ের মানসিকতার কথা স্মরণে এলো সত্যবতীর। তিনি একেবারে স্তব্ধ হয়ে গেলেন।

ভীষ্ম অবাক চোখে মায়ের দিকে তাকিয়ে থাকলেন। বহুক্ষণ পর নীরবতা ভাঙলেন সত্যবতী।

যেন দুস্তর পারাবার আর দুরধিগম্য পথ অতিক্রম করে সত্যবতীর কণ্ঠস্বর ভীষ্মের কানে এসে পৌঁছাল, ‘ওদের সম্মত করাব বাছা আমি। ভালোবাসায় রাজি করাব। কথা দিচ্ছি তোমায়—কোনো কটু কথা বলব না আমি। বুঝিয়ে-সুঝিয়ে রাজি করাব।’

মধ্যাহ্ন অতিক্রান্ত। ছায়া হেলে পড়েছে পুবে। সূর্যতেজে ভাটা লেগেছে। বর্ষাকাল শেষ। অনেক আগে। অরণ্যের গায়ে গায়ে শীতের ছোঁয়া। বেলা থাকলেও বনে বনে আঁধারের আগমনী।

ঋষি পরাশরের তপোবন। এর আরেকটা নাম আছে—বদরিকাশ্রম। বেদমন্ত্রোচ্চারণে বদরিকাশ্রম গম গম। শিষ্যদের সম্মিলিত কণ্ঠধ্বনিতে আশ্রমে স্বর্গীয় বাতাবরণ।

হস্তিনাপুরের রাজদূত বদরিকাশ্রমের ফটকে পৌঁছাল। ফটকের বাইরে রথ অপেক্ষা করতে থাকল। রাজদূত যখন আশ্রম অভ্যন্তরে প্রবেশ করল, ব্যাসদেব তখন অধ্যাপনায় মগ্ন। শিষ্যদের বেদ পড়াচ্ছিলেন তিনি।

রাজদূত ব্যাসদেবকে ষাষ্ঠাঙ্গে প্রণাম করল। ফিরে তাকালেন কৃষ্ণদ্বৈপায়ন। সবিনয়ে দূত বলল, ‘মহর্ষি, আমি হস্তিনাপুর থেকে এসেছি।’

ভীষণ চমকে উঠলেন ব্যাস। তাঁর এই চমকানো কারো নজর এড়াল না। দূত আবার বলল, ‘আপনার জন্য জরুরি এক সন্দেশ নিয়ে এসেছি মহর্ষি। বলে রাজপত্রটি ব্যাসের দিকে এগিয়ে ধরল সে। পড়লেন পত্রটি। একবার। দুবার। তিনবার। বারবার। আসন ছেড়ে দ্রুত উঠে দাঁড়ালেন কৃষ্ণদ্বৈপায়ন। কালবিলম্ব করলেন না তিনি। যে অবস্থায় ছিলেন, সেই অবস্থায়ই রথে চড়লেন ব্যাসদেব। সারথি হস্তিনাপুরের দিকে রথ চালাল।

দোলাচলে দুলতে থাকা সত্যবতীকে চমকে দিয়ে ব্যাসদেব মায়ের সামনে উপস্থিত হলেন। হৃদয়ছেঁড়া প্রথম পুত্র দ্বৈপায়ন ব্যাসের সঙ্গে জননী সত্যবতীর সাক্ষাৎ হলো। সত্যবতী প্রগাঢ় স্নেহালিঙ্গনে পুত্রকে জড়িয়ে ধরলেন। সেই কতকাল আগে! এই কালো পুত্রটি তাঁকে মা বলে ডেকেছিল। কৃষ্ণকে দেখে সত্যবতীর জননীহৃদয় একেবারে আকুলি-বিকুলি করে উঠল। মাতৃস্নেহের ধারায় পুত্রকে নিষিক্ত করতে থাকলেন সত্যবতী। তাঁর আনন্দাশ্রুতে ব্যাসের পৃষ্ঠদেশ সিক্ত হয়ে উঠতে লাগল। সত্যবতীর মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো—হা পুত্র! তুমি এলে! বহু বহু যুগ পরে।

সত্যবতীর আবেগ প্রশমিত হয়ে এলো। ব্যাসদেব আলিঙ্গনমুক্ত হলেন। পুত্রস্নেহে সত্যবতী যতটুকু বিভোর হয়ে পড়েছিলেন, ব্যাস ততটুকু হলেন না। কারণ তিনি প্রাজ্ঞ তপস্বী। আবেগ-উদ্বেগমুক্ত তিনি। ব্যাস তাঁর কমণ্ডলু থেকে সর্বতীর্থের পুণ্য সলিল ছিটিয়ে দিলেন জননীর মাথায়।

রাজপুরোহিতরা ব্যাসদেবকে অর্চনা করলেন। ব্যাসদেব অভিবন্দনা গ্রহণ করে আসনে বসলেন।

 স্নেহকাতর মাকে উদ্দেশ্য করে ব্যাস বললেন, ‘মা আপনার আদেশ পালন করার জন্য এসেছি। কী আপনার প্রিয়কার্য, যা আমায় করতে হবে?’

জ্যেষ্ঠ পুত্রকে যে উদ্দেশে ডেকেছেন সত্যবতী, তা অত্যন্ত জটিল। বিষয়টি পুত্র-জননীর আলোচ্য হতে পারে না। তার পরও নিরুপায় সত্যবতী। বড় বিপদের সময় এটি। এ শুধু কোনো ব্যক্তির সংকট নয়, পুরো একটা রাজ্যের প্রসিদ্ধ একটা রাজবংশের অস্তিত্বের সংকট। তাই সব সৌজন্যের বাধা উপেক্ষা করে ব্যাসের সঙ্গে যে ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা করতেই হবে। আর শুধু তো আলোচনা নয়, প্রস্তাব দিতে হবে এবং সেই প্রস্তাবে রাজিও করাতে হবে। কিন্তু ব্যাপারটি তো আর যেনতেনভাবে উপস্থাপন করা যায় না পুত্রের কাছে। তার জন্য ভূমিকা দরকার। তাঁর নিজের বিয়ে থেকে বিচিত্রবীর্যের মৃত্যু পর্যন্ত সব ঘটনা সংক্ষেপে ব্যাসদেবকে বলে গেলেন সত্যবতী। তারপর ভূমিকার ছলে সত্যবতী বললেন, ‘তুমি আমার গর্ভের প্রথম পুত্র। জ্যেষ্ঠ পুত্র। আর বিচিত্রবীর্য ছিল কনিষ্ঠ পুত্র। এক পিতার বলে ভীষ্ম যেমন বিচিত্রবীর্যের বড় ভাই, তেমনি এক মায়ের বলে তুমিও বিচিত্রবীর্যের বড় ভাই।’

ব্যাসদেব স্থিতধী মানুষ। কম কথা বলেন। শোনেন বেশি। মায়ের দিকে তাকিয়ে থাকলেন। সত্যবতী আবার বলতে শুরু করলেন, ‘ভীষ্ম সত্যপ্রতিজ্ঞ। সে কোনোভাবেই প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করতে সম্মত নয়।’ ব্যাসদেবের চাহনিতে প্রশ্ন জাগল—তারপর মা?

সত্যবতী বললেন, ‘ভীষ্ম কখনো বিয়ে করবে না। সন্তানের জনক হবে না। শুধু তা-ই নয়, রাজা হয়ে রাজ্য শাসন করতেও সম্মত নয় ভীষ্ম।’

এ ব্যাপারে আমার কী করার আছে? আবেগহীন জিজ্ঞেস ব্যাসদেবের।

‘তোমার কাছে ভীষ্মের আর আমার একটা অনুরোধ আছে পুত্র।’

‘কী সেটা?’

‘কৌরবংশের কল্যাণের জন্য তোমাকে একটা কাজ করতে হবে কৃষ্ণ।’

‘কী করতে হবে আমায়?’ নিরাসক্ত কণ্ঠ ব্যাসের।

‘বিচিত্রবীর্যের দুই ভার্যার গর্ভে পুত্র উৎপাদন করতে হবে তোমায়।’ বলে মাথা নিচু করলেন সত্যবতী। সত্যবতী ভেবেছিলেন—তাঁর প্রস্তাব শুনে কৃষ্ণদ্বৈপায়ন চটে যাবেন। উত্তেজিত হয়ে দুকথা শুনিয়ে দেবেন। কিন্তু সত্যবতীকে বিস্মিত করে দিয়ে ব্যাসদেব বললেন, ‘আপনার কথা আমি উপেক্ষা করব না মা। বিচিত্রবীর্যের দুই ভার্যাকে উপগম করব আমি। কিন্তু এখন নয়। এক বছর পরে।’

সত্যবতী পুত্রের কথা শুনে প্রথমত স্বচ্ছন্দ বোধ করলেন, পরে উদ্বিগ্ন হলেন। বললেন, ‘কেন, কেন পুত্র! এক বছর পরে কেন?’

‘ওই এক বছর ভ্রাতৃবধূ দুজনকে ব্রত উদ্‌যাপন করে পুণ্যাত্মা হতে হবে।’

‘তোমাকে এক বছর সময় দিতে পারব না পুত্র। যা করবে, এখনই করবে। আজ রাতেই করবে।’

এবার ভীষ্ম অবাক হয়ে বললেন, ‘কেন সময় দিতে পারবে না?’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা