kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ধা রা বা হি ক উ প ন্যা স ম ৎ স্য গ ন্ধা

মৎস্যগন্ধা

৬১

হরিশংকর জলদাস   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



মৎস্যগন্ধা

অঙ্কন : মানব

‘শাল্ব প্রত্যাখ্যান করেছে! আমি বিয়ে করব!’ জড়ীভূত বীষ্মদেব। অম্বা বলছেটা কী! রাজা শাল্ব তাকে অগ্রাহ্য করেছে! তাকে গ্রহণ না করে ফেরত পাঠিয়েছে! অম্বা না শাল্বকে ভালোবাসে? শাল্ব না অম্বাকে কথা দিয়েছে? বিয়ে করবে বলে? ওদের মধ্যে না পূর্বপরিচয় আছে? উভয়ের মধ্যে না হৃদয়ঘটিত ব্যাপার আছে! ওদের সম্পর্কের বিষয়টা তো গুপ্ত নয়! অনেকেরই তো জানা ওদের ভালোবাসাবাসির ব্যাপারটি! শুধু যে বাইরের মানুষ জানে, তা তো নয়। খোদ কাশীরাজও তো জানেন! কাশীরাজ জানেন মানে মহিষীরও অজানা নয়। এ রকম জানাজানির গাঢ় প্রেমকে অস্বীকার করল রাজা শাল্ব? আমার চিঠির কোনো মূল্য দিল না সে? অম্বা নিশ্চয়ই ওই পত্রের কথা উল্লেখ করেছে। শাল্ব এই চিঠিকে কোনো মূল্য দেয়নি। যদি দিত তাহলে প্রত্যাখ্যাত অম্বা তাঁর দরজায় এসে দাঁড়াত না।

কী করা এখন? শাল্বরাজ্য আক্রমণ করবে? আক্রমণ করে গুঁড়িয়ে দেবে রাজ্যটিকে? পদানত রাজাকে বাধ্য করবে অম্বাকে বিয়ে করতে? কিন্তু জোরজবরদস্তির বিয়ের পরিণতি কি ভালো হবে? নিশ্চয়ই ভালো হবে না; বরং শাল্ব মুহূর্তে মুহূর্তে অম্বাকে অপমান করবে। তখন বরং অম্বার জীবন আরো বেশি দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। শাল্বরাজ্য আক্রমণ করা সমীচীন হবে না। ও আবার আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছে! উন্মাদ অম্বা। ও কি কাণ্ডজ্ঞান হারিয়েছে? ও কি জানে না তাঁর অকৃতদার থাকার প্রতিজ্ঞার বৃত্তান্ত? দ্রুত চিন্তা করে গেলেন ভীষ্মদেব। এ সময় অম্বা বলে উঠল, ‘আমি নাকি অন্য পুরুষ দ্বারা স্পর্শিত, আমি নাকি অপবিত্র।’

‘কে বলেছে!’ ভীষ্মের ঘোর কাটতে চাইছে না।

‘রাজা শাল্ব বলেছে। বলেছে, অন্য পুরুষ দ্বারা কলুষিত কোনো নারীকে সে বিয়ে করতে পারে না।’ কাতর স্বরে বলল অম্বা।

‘তুমি তো কলুষিত নও, কন্যা!’

‘শাল্ব সেটা বিশ্বাস করেনি।’

‘আমার চিঠি?’

‘দিতে চেয়েছিলাম। গ্রহণ করেনি। বলেছে, ওটা নাকি কলাপাতার সমান মূল্যহীন তার কাছে।’

‘পড়েও দেখেনি।’

‘পড়বে কী করে হাতে না নিলে!’

‘হুম।’ বলে চুপ মেরে গেলেন ভীষ্ম।

‘আপনি চুপ করে আছেন কেন? কিছু বলুন। আপনার কারণেই তো আমার এ লাঞ্ছনা।’ অম্বার কণ্ঠে উষ্মা।

‘কী বলব আমি? কী বলার আছে?’

‘শুধু বলার নয়, করারও আছে আপনার।’

অম্বা কী বলতে চাইছে তা বুঝতে ভীষ্মের বেগ পেতে হচ্ছে না। প্রথমেই তো সে জানিয়ে দিয়েছে—অম্বাকে তাঁর বিয়ে করতে হবে।

অম্বা কণ্ঠস্বরে রোষ মেশাল। বলল, ‘শাল্বর কাছে আপমানিত হয়ে মা-বাবার কাছে গিয়েছিলাম আমি। লোকে বলে, মা-বাবাই নাকি সন্তানের শেষ আশ্রয়স্থল। আমার মা-বাবা সে কথার প্রমাণ দিতে পারেননি। তাঁরা আমাকে আশ্রয় দেননি। উপরন্তু দূরছাই করে তাড়িয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, তুমি যাঁর দ্বারা লুণ্ঠিত হয়েছ, তাঁর কাছে যাও। তিনিই শুধু তোমাকে আশ্রয় দিতে পারেন। বলেছেন, অপহৃত, কলুষিত কন্যাকে নিয়ে আমরা কী করব?’

‘তাতেই তুমি চলে এলে এখানে?’

‘এখানে নয়, আপনার কাছেই এসেছি আমি। আপনিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি আমার জীবনকে অর্থময় করে তুলতে পারেন। আপনি আমাকে বিয়ে করুন।’

‘আমি যৌবন হারিয়েছি কন্যা।’

‘যুবক-বৃদ্ধ কোনো বাছবিচার নেই এখন আমার কাছে। আমার এখন প্রয়োজন বেঁচে থাকার জন্য একটা অবলম্বন।’

‘তার পরও আমি তোমাকে বিয়ে করতে পারি না অম্বা। আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমার দ্বারা বিয়ে করা সম্ভব নয়। তুমি ফিরে যাও কন্যা।’

‘ফিরে যাব! কোথায় ফিরে যাব আমি? আপনি প্রত্যাখ্যান করলে আত্মহত্যা করা ছাড়া আমার অন্য কোনো উপায় থাকবে না।’

ভীষ্ম অন্যদিকে মুখ ফেরালেন। করুণ গলায় বললেন, ‘তার পরও আমি নিরুপায় অম্বা।’

এবার ক্রোধে ফেটে পড়ল অম্বা। চিৎকার করে বলল, ‘মরতে বলেন আপনি আমায়?’

ভীষ্ম বললেন, ‘না। বাঁচতে বলি।’

অম্বা আর্তনাদ করে উঠল। কাঁদতে কাঁদতে বলল, ‘কী করে বাঁচব? বলে দিন আপনি।’

‘অন্য কাউকে বিয়ে...।’

ভীষ্মের মুখের কথা কেড়ে নিয়ে অম্বা বলল, ‘অন্য কাউকে বিয়ে করতে বলছেন আপনি? কে বিয়ে করবে আমায়? যে কলঙ্কের কারণে শাল্ব বিয়ে করল না, অন্য কেউ বিয়ে করবে—ভাবলেন কী করে? তা ছাড়া যাকে-তাকে তো বিয়ে করতে পারি না আমি। আমি তো রাজার মেয়ে। আপনিও রাজপুত্র। বিয়ে হলে আপনার সঙ্গেই হতে পারে।’

ভীষ্মদেব থতমত খেয়ে গেলেন। তাঁর মুখ দিয়ে রা সরল না। অম্বা আকুল হয়ে কাঁদতে থাকল।

দাসী অন্দরমহলে সংবাদ নিয়ে এলো—বাহিরঘরে দ্বন্দ্ব চলছে। ভীষ্মদেব আর রাজকুমারী অম্বার মধ্যে। ব্যাকুল হয়ে ক্রন্দন করছেন কাশীরাজকন্যা অম্বা।

অম্বালিকাকেই খবরটা দিল দাসী। অম্বিকা ধীরস্থির। সহনশীল। ভীতু। অল্পতেই ত্রস্ত হয়ে ওঠে অম্বিকা। সর্বদা ভয়ে ভয়ে থাকে। অম্বালিকা অম্বিকার বিপরীত। চঞ্চল। অসহিষ্ণু। স্পষ্টবাক। নির্ভীক। দাসীর কথা শুনে অস্থির হয়ে উঠল অম্বালিকা।

একটু স্থির হয়ে অম্বালিকা বলল, ‘চলো।’

অম্বিকা বলল, ‘কোথায়?’

অম্বালিকা বলল, ‘শুনতে পাওনি দিদির লাঞ্ছনার কথা? আমাদের প্রাসাদেই আমাদেরই বড় বোন অপমানিত হচ্ছে, তোমার খারাপ লাগছে না?’

ত্রস্ত চোখে একবার এদিক-ওদিক চেয়ে নিল অম্বিকা। মরা গলায় বলল, ‘শুনতে পেয়েছি। কিন্তু আমাদের করার কী আছে অম্বালিকা?’ দিদির কথা শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল অম্বালিকা। রাগী কণ্ঠে বলল, ‘তুমি চিরকালের ভীতু, দিদি। নিজের মস্তবড় ক্ষতিতেও তুমি চুপ থেকেছ। আজকে আমাদের বড় দিদির লাঞ্ছনার দিন। আজকেও কি আমাদের চুপ থাকা উচিত, দিদি?’

অম্বিকা ভয়ে ভয়ে বলল, ‘চুপ থাকা উচিত নয়। কী করলে দিদি অপমান থেকে রেহাই পাবে, বুঝে উঠতে পারছি না।’

‘তোমাকে কিছুই বুছে উঠতে হবে না। যা করার আমিই করব। তুমি শুধু আমার সঙ্গে এসো।’

‘কোথায় যাবে? আমরা তো রাজবধূ। আমরা যেখানে-সেখানে যেতে পারি?’

‘ও নিয়ে তুমি মাথা ঘামিয়ো না তো দিদি। আমার সঙ্গে আসতে বলছি, এসো।’

অম্বালিকা দিদি অম্বিকাকে নিয়ে রাজমাতা সত্যবতীর কাছে গেল। অম্বিকা অবিনীত কণ্ঠে বলল, আমার দিদিকে বাঁচান মা।’

বিয়ে হয়েছে বেশিদিন হয়নি। দিন পাঁচেক মাত্র। এই কদিনের মধ্যে ছোট বউয়ের গলায় অবিনয়ের রেশ। চমকে ছোট বউয়ের দিকে তাকালেন সত্যবতী। চোখে-মুখে গাম্ভীর্য ঢেলে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী হয়েছে?’

নিজের কণ্ঠস্বরে যে গরমের আঁচ ছিল, পরক্ষণেই বুঝতে পেরেছে অম্বিকা। শাশুড়ির কণ্ঠস্বরে সে ভড়কে গেল। বলল, ‘আমার দিদি মা...।’ নিজের ভেতরের এলোমেলো আবেগকে সংযত করল অম্বালিকা। করুণ গলায় বলল, ‘সংবাদ পেলাম, মা বাইরের কক্ষে আমার দিদি অম্বা ব্যাকুল হয়ে কাঁদছে। বড় দাদা উপস্থিত আছেন সেখানে। নিশ্চয়ই বড় কোনো গণ্ডগোল হয়েছে মা। আমার দিদির তো এখন শাল্বরাজ্যে থাকার কথা। কিন্তু দিদি হস্তিনাপুরের রাজপ্রাসাদে কেন? কাঁদছেই বা কেন? নিশ্চয়ই কোনো বিপদ মা। আমার দিদিকে আপনি বাঁচান, মা।’

এতক্ষণে সত্যবতী ঘটনার কিছুটা অনুমান করতে পারলেন। তিনিও বিস্মিত হলেন খুব। ছোট বউ ঠিকই তো বলছে, অম্বার তো এখন শাল্ব দেশে থাকার কথা। অম্বাই তো যেতে চেয়েছিল রাজা শাল্বের কাছে। ভীষ্মকে বলে অম্বাকে যথামর্যাদায় শাল্বের কাছে পাঠানোও তো হয়েছিল। রাজা শাল্ব তো অম্বাকে বিয়ে করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সে রকমই তো বলেছিল অম্বা, দিন কয়েক আগে। কিন্তু এখন অম্বা হস্তিনাপুরের রাজপ্রাসাদে কেন? নিশ্চয়ই অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে। নিজের বোন বলে কথা। বোনের কষ্টে কে না আকুল হয়ে ওঠে! বড় দিদির বিপন্নতায় তাই অম্বালিকা অস্থির হয়ে উঠেছে। তার অস্থির হওয়া স্বাভাবিক। ছোট বউ অম্বালিকাকে মনে মনে ক্ষমা করে দিলেন সত্যবতী। বললেন, ‘বিচলিত হয়ো না বউ। দেখছি আমি। যাচ্ছি।’

বলে বাহির প্রাসাদের দিকে রওনা দিলেন সত্যবতী। মৃদু পায়ে অম্বিকা আর অম্বালিকা শাশুড়িকে অনুসরণ করল। কক্ষে ঢুকে রাজমাতা সত্যবতী ভীষণ চমকে গেলেন। কী ব্যাপার। রাজকন্যা অম্বার এ রকম আলুথালু পোশাক কেন? তার রাজকীয় আবরণ ধূলিমলিন কেন? তার দেহ-আভরণ কোথায় গেল? তার বাজুবন্ধ, তার সিঁথিপাটি, তার সুবর্ণ কঙ্কন, তার কিঙ্কিণী, তার কণ্ঠাভরণ কোথায় গেল? তিনি তাজ্জব হয়ে দেখলেন, কাশীরাজকন্যা বিমর্দিত-বিপর্যস্ত। তার চোখের কোলে গভীর কালি, চুল উষ্কখুষ্ক। এ যেন কদিন আগে দেখা রাজকুমারী অম্বা নয়, এ যেন এক ভিখারিনী। বহুদিন অভুক্ত, বহু রাত্রি অনিদ্রিত। সত্যবতী অম্বাকে দেখেই বুঝলেন, এ মেয়েটির ওপর দিয়ে প্রচণ্ড এক ঝড় বয়ে গেছে। এ ঝড় তাকে এমনভাবে লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে গেছে, যা কাটিয়ে ওঠা অম্বার পক্ষে সম্ভব নয়।

সত্যবতী দেখলেন, অম্বা থেকে সামান্য দূরে ভীষ্ম দাঁড়িয়ে আছেন। অত্যন্ত বিচলিত মনে হচ্ছে তাঁকে। সত্যবতী রাজপ্রাসাদে এসেছেন অনেকটা বছর হয়ে গেল। সকালে-সন্ধ্যায়, দুপুরে-রাত্রে, রাগে-অনুরাগে, আনন্দে-বিষাদে নানাভাবে, নানা সময়ে সত্যবতী ভীষ্মকে দেখেছেন। কিন্তু তার এ রকম বিপন্ন চেহারা কোনো দিন দেখেননি সত্যবতী। ভীষ্ম যেন এক বজ্রাহত বৃক্ষ। একটি শাখাপত্রবহুল বটবৃক্ষ যেমন করে বজ্রবিদ্যুতে ঝলসে যায়, ভীষ্মকে দেখে সে রকম মনে হচ্ছে সত্যবতীর। ভীষ্মের মাথাটা ঝুলে বুকের সঙ্গে লেগে আছে। ভীষ্মের মুখ না দেখেও সত্যবতীর অনুমান করতে অসুবিধা হচ্ছে না যে ভীষ্ম মহাফাঁপরে পড়েছেন।

অম্বা তখনো চেঁচিয়ে বলছে, ‘অন্য পুরুষের ছোঁয়া আমাকে বহুদিনের প্রেমিক শাল্ব গ্রহণ করতে অস্বীকার করল, মা-বাবা আশ্রয় দিল না। আপনি বলছেন, আপনি বিয়ে করতে পারবেন না। তাহলে আমি কী করব বলুন? আমি কেন আশ্রয়হীন হলাম, বলুন? আমারও তো বাসনা ছিল স্বামী-পুত্র-কন্যা নিয়ে ঘর করার। সেই বাসনা চুরমার করে দিলেন কেন? আপনিই তো আমার স্বপ্নকে তছনছ করে দিলেন। অপহরণ করার আগে একবারের জন্যও জিজ্ঞেস করলেন না এই বিয়েতে আমি রাজি আছি কি না। স্বামীর মতো ডান হাত আঁকড়ে আমায় রথে তুললেন। আর এখন বলছেন, আমাকে বিয়ে করতে আপনি অপারগ।’ এক টানে এক দমে বলে গেল অম্বা। সত্যবতী কিছু বলার অবকাশ পাচ্ছিলেন না। অম্বা দম নেওয়ার জন্য থামলে সত্যবতী বলে উঠলেন, ‘ভীষ্ম ঠিকই বলেছে মা, ও বিয়ে করতে অপারগ।’

ঝাঁজিয়ে উঠল অম্বা, অপারগ। কেন, অপারগ কেন? ‘অসমর্থ পুরুষ নাকি ইনি? যদি তা-ই হন; তাহলে একজন যুবতির হাত ধরেছিলেন কেন? বিপর্যয়-বিপন্নতায় অম্বার হুঁশজ্ঞান প্রায় বিলুপ্ত। তাই সত্যবতীকে এ রকম অভব্য কথা বলতে মুখে আটকাচ্ছে না তার। সত্যবতী ধৈর্য হারালেন না। ধীর পায়ে অম্বার কাছে গেলেন, মাথায় হাত রেখে বললেন, ‘ভীষ্ম আমার পিতার কাছে, তার পিতার সুখের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, সে কোনো দিন বিয়ে করবে না।’

‘প্রতিজ্ঞা করেছেন, এখন ভাঙতে অসুবিধা কোথায়?’ ‘অসুবিধা আছে মেয়ে। ও তুমি বুঝবে না। এ যেনতেন মানুষের পণ নয়, এ ভীষ্মের প্রতিজ্ঞা।’ ‘আপনিও তা-ই, রাজমাতা? ব্যর্থ পুরুষ ভীষ্মের মতো? একজন নারী হয়ে অন্য এক নারীর বিরুদ্ধে বলছেন আপনি? নিজ পুত্রকে সমর্থন করছেন? অসহায় আমি কোথায় যাব, বলুন? ঠিক আছে, যেখানে যাবার সেখানেই যাব আমি।’ ঝট করে মাথা থেকে সত্যবতীর হাতটা সরিয়ে দিল অম্বা। সতেজে বলে উঠল, ‘তাহলে মৃত্যুই আমার মুক্তির একমাত্র পথ। মা-ছেলে মিলে আমাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।’ এরপর বুকভাঙা কান্নায় আকুল হলো অম্বা। ত্বরিত বেগে কক্ষ থেকে বেরিয়ে গেল অম্বা। ভীষ্ম, সত্যবতী-অম্বিকা-অম্বালিকার কানে ভেসে এলো—আত্মহননই আমার বাঁচার উপায়। সত্যবতী নিথর হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেন। অম্বিকা অম্বালিকা দিদিকে আটকানোর সুযোগ পেল না।

ভীষ্ম স্তব্ধ-নির্বাক। তিনি বাহ্যজ্ঞানশূন্য। তিনি মূক, তিনি বধির। তিনি যেন রক্ত-মাংসহীন পাথুরে এক মূর্তি। কম্পিত দুটি পায়ের ওপর ভয় দিয়ে অসহায়ভাবে কক্ষটির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকলেন ভীষ্ম।                                                      চলবে

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা