kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

লে খা র ই শ কু ল

রাশিয়ার অরওয়েল আঁদ্রেই প্লাতোনভ

দুলাল আল মনসুর

৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাশিয়ার অরওয়েল আঁদ্রেই প্লাতোনভ

রাশিয়ার কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, দার্শনিক, কবি আঁদ্রেই প্লাতোনভ জন্মগ্রহণ করেন ১৮৯৯ সালে। কমিউনিস্ট সমর্থক হয়েও আজীবন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছেন তিনি। সমাজতন্ত্রের প্রতি সন্দেহবাদী মনোভাব, স্তালিনের বিভিন্ন নীতির প্রতি অনাস্থা প্রকাশ এবং নিরীক্ষামূলক উপস্থাপনার দোষে তাঁর লেখা বরাবরই নিষিদ্ধ হয়েছে। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাসের অন্যতম ‘দ্য ফাউন্ডেশন পিট’, ‘সৌল’, ‘এপিফান লকস’, ‘দ্য সি অব ইয়ুথ’। নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘ফরটিন লিটল রেড হাটস’ এবং ‘দ্য হার্ডি গার্ডি’।

জগৎ-সংসারকে তিনি বিপরীতধর্মী বিষয়ের প্রতিনিধি মনে করতেন; আত্মা ও বস্তু, যুক্তি ও আবেগ, প্রকৃতি ও যন্ত্র—এগুলোর মতো বিপরীতমুখী বিষয়ের উপস্থিতি দেখতেন জগতে। কারখানা, যন্ত্র এবং প্রযুক্তি সম্পর্কে লেখার সময় তাঁর উদ্দেশ্য ছিল যন্ত্রের ওপরে শিল্পকে স্থান দেওয়া। মানুষকে বস্তুজগতের ওপরে তোলার চেষ্টা করেছেন। তিনি মনে করতেন, সামনের সোনালি যুগে যন্ত্র মানুষের শত্রু হতে পারে, ত্রাণকর্তাও হতে পারে। আধুনিক প্রযুক্তি মানুষকে বস্তুসৃষ্ট অত্যাচার থেকে মুক্ত করতে পারে।

লেখালেখির শুরু থেকেই মস্কো এবং অন্যান্য এলাকার সাহিত্য পত্রিকাগুলোতে নিয়মিত লেখা পাঠাতেন তিনি। স্থানীয় রেলওয়ে শ্রমিকদের পত্রিকা ‘রেইলরড’, ভেরোনেজ কমিউনিস্ট পার্টির ‘ভেরোনেজ কমিউন’ এবং প্রোলেতারিয়েত লেখকদের জাতীয় পত্রিকা ‘কুজনিৎসা’য়ও লেখা প্রকাশ করেন।  

লেখক-সমালোচক আলিফ বাটুমান প্লাতোনভের ‘সৌল’ উপন্যাসকে তাঁর পছন্দের ২০ শতকের রুশ সাহিত্যের সেরা চারটি বইয়ের অন্যতম মনে করেন। কথাসাহিত্যিক তাতিয়ানা তলসতেয়া বলেন, ‘আঁদ্রেই প্লাতোনভ একজন অসাধারণ লেখক, সম্ভবত ২০ শতকের সবচেয়ে মেধাবী রুশ লেখক তিনি।’ ভেরোনেজে প্রতিবছর আঁদ্রেই প্লাতোনভের সম্মানে সাহিত্য আসরের আয়োজন করা হয়। অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে থাকে প্লাতোনভের লেখা থেকে পাঠ। দস্তয়েভস্কির লেখার সঙ্গে আঁদ্রেই প্লাতোনভের লেখার যোগসূত্র আছে বলে মনে করেন অনেকে। সমকালীন এবং প্রাচীন দার্শনিকদের প্রভাবও তাঁর লেখার ওপর পড়েছে। রুশ দার্শনিক নিকোলাই ফেদোরোভ তাঁদের অন্যতম। আদর্শবাদী এবং রাজনৈতিক বিষয়ের সঙ্গে কৃষকদের ভাষার সমন্বয়ে তাঁর ‘ফাউন্ডেশন পিট’ উপন্যাসে অর্থহীনতার আবহ তৈরির চেষ্টা করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে যোসেফ ব্রডস্কি মনে করেন, ‘এখানে ভাষার অর্থ সম্পর্কে সন্দেহ তৈরি করা হয়েছে, বিশেষ করে রাজনৈতিক ভাষার। ভাষার অর্থহীনতার সন্ধান অস্তিত্ববাদ এবং উদ্ভটতারই স্পষ্ট লক্ষণ।’

শাসকরা তাঁকে সরাসরি কোনো অভিধায় ফেলতে পারেননি। যেমন স্তালিন তাঁর সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে একই সভায় তাঁর নিন্দা জানানোর পর তাঁকে ‘একজন ভাবী কথক, একজন মেধাবী লেখক’ও বলেছেন। অন্যদিকে প্লাতোনভ নিজেও তাঁর অপছন্দের মানুষদের প্রতি নিন্দা প্রকাশ করতে ভয় পাননি। স্তালিনকে ব্যক্তিগতভাবে সমালোচনা করেননি। তবে ট্রটস্কি, রাইকভ ও বুখারিনের কঠোর সমালোচনা করেছেন। প্লাতোনভের ১৫ বছর বয়সী ছেলেকেও সন্ত্রাসী এবং গুপ্তচর আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে নির্বাসনে পাঠানো হয়। সেখান থেকে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হলে মুক্তি দেওয়া হয়। ছেলের সেবা করার সময় তিনি নিজেও যক্ষ্মায় আক্রান্ত হন। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় অসুস্থ অবস্থায়ই প্লাতোনভ যুদ্ধের সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেন। অসুস্থতা আরো বেড়ে যায়। ১৯৫১ সালের ৫ জানুয়ারি তিনি মারা যান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা