kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ধা রা বা হি ক উ প ন্যা স ম ৎ স্য গ ন্ধা ।
৬০

মৎস্য গন্ধা

হরিশংকর জলদাস

৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



মৎস্য গন্ধা

অঙ্কন : মানব

সবার চোখ কপালে উঠল—এ কে! এ বুড়ো এখানে কী করছে! ঘাটের মড়াটার ভীমরতি ধরল নাকি!

ভীষ্মের চারপাশ থেকে এ রকম কথা উচ্চারিত হতে লাগল।

ভীষ্ম নিজ আসনে বসে থাকলেন। অনড় দেহ। শিরদাঁড়া সোজা। চক্ষু উন্মীলিত। দৃষ্টি সম্মুখে প্রসারিত। রাজকীয় বেশবাসে ভূষিত তিনি। তাঁর চুলে রুপালি আভা। যৌবনকাল অতিক্রম করেছেন বেশ কিছুকাল আগে। কিন্তু তাঁর পেশি সতেজ, সবল। সমুদ্র-ঝঞ্ঝার বেগ ওই পেশিতে, দেখলেই অনুমান করা যায়।

আশপাশের কথাগুলো তিনি শুনতে পাচ্ছেন। কিন্তু তাঁর চোখে-মুখে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। যেন তিনি বধির।

স্বয়ংবরসভায় ঢুকে সবার ওপরে একবার চোখ বুলিয়ে নিয়েছিলেন ভীষ্মদেব। দেখেছিলেন—পাণি আগ্রহী রাজন্যবর্গ সুসজ্জিত। বহু মূল্যবান পোশাক তাদের দেহজুড়ে। পরিচ্ছদের গায়ে গায়ে মণিমুক্তা। বেশির ভাগই প্রফুল্ল মেজাজ। কেউ কেউ উৎকণ্ঠিত। কোনো কন্যা তাদের বরণ করবে কি না, এই ভাবনায় উদগ্রীব তারা।

উত্ফুল্ল মেজাজে যারা, তারাই ভীষ্মকে দেখে উপহাসে মুখরিত হলো। কামাক্ষা রাজ্যের রাজকুমার উচ্চৈঃস্বরে বলল, ‘দেখে তো ব্রহ্মচারী বলে মনে হচ্ছে।’

বেদবতীর রাজপুত্র বলল, ‘ব্রতধারী ব্রহ্মচারীই তো। দেখছেন না লম্বা দাড়ি, ঘোলাটে চোখ!’

কামাক্ষার রাজকুমার বলল, ‘যদি তা-ই হয়, নারী শরীরের প্রতি লোভ তো পুরোমাত্রায় রয়ে গেছে।’

‘ছি ছি ছি! আর বলবেন না, বৃদ্ধ বয়সে বাতুলতা বেড়েছে আর কি।’ বেদবতীর রাজপুত্র বলল।

‘এ ধরনের কামপরায়ণ বুড়োকে লাঞ্ছিত করে স্বয়ংবরসভা থেকে বের করে দেওয়া উচিত।’

সব শুনছেন ভীষ্মদেব। ভেতরটা টগবগ করে উঠছে। ভীষ্ম চোখ রাঙিয়ে বলছেন—খবরদার দেবব্রত! উত্তেজিত হয়ো না। ক্রোধ সংবরণ করো। তুমি ক্রোধান্বিত হয়ে উঠলে সব কিছু ভেস্তে যাবে। তোমার এখানে আসার আসল উদ্দেশ্যই নস্যাৎ হয়ে যাবে।

এই সময় গোটা সভাস্থল নীরব হয়ে গেল। যারা নড়াচড়া করছিল, তারা স্থির হলো। যারা কথা বলছিল, তারা নির্বাক হলো। সবাই সামনের দিকে তাকাল। সবার মুখ থেকে একই সময়ে একটি কথাই বেরিয়ে এলো—আহা! কী রূপ!

ভীষ্ম দেখলেন, তিনজন সুসজ্জিত যুবতি মালা হাতে খালি জায়গাটির দিকে এগিয়ে আসছে। তাদের পেছনে কাশীরাজ। তাঁর পাশ ঘেঁষে রাজমহিষী। তাঁদের অনেক পশ্চাতে সারিবদ্ধ অমাত্যরা। তিন কন্যা ছাড়া সবাই নির্ধারিত আসনে বসলেন।

স্বয়ংবরসভার কাজ শুরু করার ইঙ্গিত করলেন কাশীরাজ। মালা হাতে কন্যা তিনজনই রাজা-রাজপুত্রদের সামনে ঘুরতে শুরু করল। একটু দূরের আসন থেকে শাল্বরাজ অম্বাকে কী একটা ইঙ্গিত করল। অম্বা দেখল। মৃদু একটু হাসল। তিন বোন বিচরণ থামাল না। আগে অম্বা, তার পরে অম্বিকা, সবার শেষে অম্বালিকা।

ভীষ্মের সামনে গিয়ে থমকাল অম্বা। ভীষ্মের দিকে তাকিয়ে লঘুজ্ঞান প্রকাশ করে তিন বোনই খলখল করে হেসে উঠল। এ হাসি যে উপহাসের, বুঝতে তিলমাত্র বিলম্ব হলো না ভীষ্মদেবের। স্পষ্ট চোখে তিন কন্যার দিকে তাকালেন তিনি। তাদের অনবদ্য তনুশ্রী দেখে মুগ্ধ হলেন ভীষ্ম। এবং ছোট ভাই বিচিত্রবীর্যের জন্য তিনজনকেই তিনি পছন্দ করে ফেললেন। তড়িেবগে আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন ভীষ্ম। সামনে দাঁড়ানো অম্বার হাত খপ করে ধরে ফেললেন। বজ্রগম্ভীর কণ্ঠে বললেন, ‘চলো।’

অম্বার বিস্ময়ের শেষ নেই। তত্ক্ষণাৎ কী করবে বুঝে উঠতে পারল না অম্বা। ঝটকা দিয়ে হাতটা ছাড়াতে চাইল। কিন্তু ভীষ্মের হাত বলে কথা! আপ্রাণ চেষ্টায়ও হাতটা ছাড়াতে পারল না অম্বা। স্তম্ভিত কণ্ঠস্বর তার মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো, ‘এ কী করছেন! এ কী করলেন আপনি! আমার হাত ধরলেন!’ নির্বিকার ভীষ্ম বললেন, ‘তোমাকে আমার সঙ্গে যেতে হবে অম্বা। শুধু তোমাকে নয়, তোমার অন্য দুই বোনকেও আমার সঙ্গে যেতে হবে।’

অম্বা আর অম্বিকার চেয়ে অম্বালিকা চঞ্চল। সে ব্যঙ্গ করে বলল, ‘পাগল নাকি বুড়োটা—এক পা যমের দুয়ারে, সেই বুড়ো চাইছে আমাদের বিয়ে করতে।’ ভীষ্ম সহজ কণ্ঠে উত্তর দিল, ‘না কন্যা, আমি পাগল নই। আমি ভীষ্ম। আর বিয়ে আমি করব না। তোমাদের বিয়ে করবে অন্যজন। সে-ও রাজপুত্র।’

অম্বা চিৎকার করে উঠল, ‘না। কিছুতেই না। কিছুতেই আমরা বিয়ে করব না। মহারাজ শাল্ব—।’

কাশীরাজ ভীষ্মকে চেনেন না। স্বয়ংবরসভায় প্রবেশ করে প্রৌঢ় ভীষ্মকে যে পাণিপ্রার্থীদের আসনে দেখেননি, তা নয়। ভেবেছেন—প্রার্থীদের বয়সের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই যেহেতু, অধিক বয়সের কেউ ওই আসনে বসতেই পারে। নির্বাচনের ব্যাপারটি তো কন্যাদের হাতে। ওরা বুড়োটিকে তাদের স্বামী হিসেবে নির্বাচন না করলেই হলো। কন্যারা যখন বুড়োটার সামনে দাঁড়িয়ে কথাবার্তা বলছে, তাতেও কোনো সন্দেহ হয়নি কাশীরাজের। ওদের মধ্যে কথা হচ্ছিল নিচুস্বরে। আলাপের বিষয় কী, তা কাশীরাজ দূর থেকে শুনতে পাননি। মনে করেছেন—এ শুধু কথার জন্য কথা বলা। কিন্তু লোকটি অম্বার হাতটা ধরলেন যখন, অম্বা চিৎকার করে উঠল যখন, কাশীরাজ সচকিত হলেন। পাশে দাঁড়ানো সেনাপতিকে দ্রুত অকুস্থলে যেতে নির্দেশ দিলেন।

সেনাপতি ভীষ্মের কাছে যাওয়ার আগেই ঘটনাটা ঘটে গেল। ভিনদেশি রাজকুমাররা ভীষ্মকে আক্রমণ করে বসল। শাল্বরাজ অসি উঁচিয়ে প্রথমেই এগিয়ে এলো। ভীষ্ম হেলায় তাকে পর্যুদস্ত করল। এরপর সবাই ভীষ্মকে ঘিরে দাঁড়াল। যৌথভাবে আক্রমণ করল। কিন্তু ওদের যৌথ আক্রমণকে প্রতিহত করতে ভীষ্মদেবের বেগ পেতে হলো না। সবার সঙ্গে ঘোরতর যুদ্ধ হলো। মহাপরাক্রমশালী ভীষ্ম একা সব রাজা-রাজপুত্রকে পরাজিত করলেন। তারপর বাহুবলে কন্যা তিনজনকে রথে তুলে নিলেন। সমবেত রাজন্যবর্গের উদ্দেশে জলদগম্ভীর কণ্ঠে বললেন, ‘আমি ভীষ্ম। হস্তিনাপুরে আমার নিবাস। এই তিন কন্যাকে আমি বিয়ে করব না। বিয়ে করবে আমার ভাই বিচিত্রবীর্য। বিচিত্রবীর্য কুরু সাম্রাজ্যের অধিপতি। শুনে কাশীরাজ এবং তাঁর মহিষী স্বস্তির শ্বাস ফেললেন।

গঙ্গাপুত্র ভীষ্ম তিন কন্যাকে নিয়ে হস্তিনাপুরের রাজপ্রাসাদে উপস্থিত হলেন। পিতা কন্যাকে যেমন স্নেহ করে, সেই স্নেহে ভীষ্ম হস্তিনাপুরের ভাবী রাজবধূদের সত্যবতীর সামনে উপস্থিত করলেন। কাশীরাজকন্যাদের দেখে সত্যবতী আহ্লাদিত হলেন। বিচিত্রবীর্যের বিয়ের আয়োজন শুরু করার জন্য ভীষ্মকে আদেশ দিলেন সত্যবতী। কিন্তু অম্বা বেঁকে বসল। এই বিয়েতে রাজি নয় সে। বিয়ের আসর থেকে জোর করে ধরে আনা হয়েছে তাকে। এই বিয়েতে সে সম্মত কি না, জিজ্ঞেস করেননি ভীষ্ম।

ভীষ্ম সামনে উপস্থিত হলে অম্বা বলল, ‘এই বিয়েতে আমি সম্মত নই।’

ভীষ্ম জিজ্ঞেস করলেন, ‘কেন রাজি নও তুমি?’

অম্বা বলল, ‘একজনের সঙ্গে আমার বাগ্দান হয়ে আছে।’

বিস্মিত ভীষ্ম বললেন, ‘কার সঙ্গে?’

‘শাল্বরাজের সঙ্গে।’ করুণ গলায় বলল অম্বা।

‘শাল্বরাজের সঙ্গে?’

‘হ্যাঁ। আমি আগেই শাল্বরাজকে পতিরূপে বরণ করে নিয়েছি। তিনিও আমাকে বিয়ে করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।’

ভীষ্ম বললেন, ‘প্রতিশ্রুতি দিয়েছে! তাহলে তুমি স্বয়ংবরসভায় এলে কেন?’

‘ওই সভায় শাল্বরাজ উপস্থিত ছিলেন। দ্বিতীয় সারির মাঝখানে ঠিক আপনার পেছনেই বসেছিলেন তিনি। আপনাকে অতিক্রম করে তাঁকেই বরণ করে নিতাম আমি। কিন্তু তা আপনি হতে দিলেন না। অপহরণ করলেন আপনি আমাদের।’ কান্নায় ভেঙে পড়ল অম্বা।

অম্বার কথা শুনে ভীষ্ম স্তব্ধবাক হয়ে গেলেন। তিনি যে মস্ত বড় ভুল করেছেন। অন্যের বাগদত্তাকে হরণ করে নিয়ে এসেছেন তিনি! এ বড় গ্লানিকর কাজ। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে অম্বার সামনে দাঁড়িয়ে থাকলেন ভীষ্ম।

এই সময় অম্বা আবার বলে উঠল, ‘এ অবস্থায় বিচিত্রবীর্যের সঙ্গে আমার বিয়ে কি হতে পারে? আপনিই বলুন।’

সত্যবতীর মুখ দিয়েও কথা সরছে না। তিনি একবার অম্বার দিকে, আরেকবার ভীষ্মের দিকে তাকাতে লাগলেন। অম্বা আবার বলল, ‘আমাদের এই বিয়েতে আমার বাবার পূর্ণ সম্মতি ছিল। আমার মা-বাবার আশাভঙ্গের বেদনাটা একবার অনুমান করুন।’

ভীষ্ম আর্তনাদে ভেঙে পড়লেন, ‘আঃ মেয়ে! আমাকে আর কষ্ট দিয়ো না। আমাকে লজ্জা দিয়ো না আর।’ বলতে বলতে কণ্ঠরুদ্ধ হয়ে এলো ভীষ্মের।

পরে সংহত হয়ে বললেন, ‘এখন তুমি কী চাও অম্বা?’

দ্বিধাহীন কণ্ঠে অম্বা বলল, ‘আমাকে শাল্ব রাজ্যে প্রেরণ করুন। শাল্বরাজ আমার জন্য অপেক্ষা করছেন। রাজা শাল্বকেই বিয়ে করব আমি।’

বড় বেকায়দায় পড়ে গেলেন ভীষ্ম। তাঁর করুণ অবস্থা দেখে সত্যবতী বললেন, ‘আর্যসমাজের বিয়েবিধির ব্যাপারটি আমার বোধগম্য হলো না পুত্র। এ কী রীতি তোমাদের? জোর করে কন্যা ধরে এনে বিয়ে করানো! ধরে আনা মেয়েটির বিয়েতে মত আছে কি না, তা তোমরা বিবেচনা করো না। মেয়েরা যেন হাতের পুতুল। যা বলে তা-ই করতে হবে তাদের। এ রীতি ঠিক নয়।’

ভীষ্ম আমতা আমতা করে কিছু একটা বলতে চাইলেন। বাঁ হাত তুলে সত্যবতী থামিয়ে দিলেন। বললেন, ‘অন্য দুটি মেয়ে চুপ করে আছে। বুঝলাম—এ বিয়েতে তারা সম্মত। কিন্তু অম্বা তো এই বিয়েতে রাজি নয়। অরাজি কোনো কন্যাকে তো আমি জোর করে বিচিত্রবীর্যের সঙ্গে বিয়ে দেব না।’ থামলেন সত্যবতী। তারপর বললেন, ‘অম্বাকে তার প্রার্থিতজনের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করো ভীষ্ম। কথা শেষ করে গৃহান্তরে গেলেন সত্যবতী।

মর্মাহত ভীষ্ম মহামন্ত্রী, গুরুত্বপূর্ণ অমাত্যগণ এবং কুলপুরোহিতের সঙ্গে পরামর্শ করলেন। সিদ্ধান্ত হলো—রাজকন্যা অম্বাকে শাল্ব রাজার কাছে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত।

কিছু রক্ষী, দুজন ব্রাহ্মণ এবং একটি চিঠিসহ ভীষ্মদেব অম্বাকে শাল্ব রাজ্যে প্রেরণ করলেন। চিঠিতে লিখলেন— অম্বা পূতপবিত্র এক নারী। সে তোমাকে আকাঙ্ক্ষা করে। তোমাকে পাওয়ার জন্য সে ব্যাকুল হয়ে আছে। অজ্ঞাতবশত তাকে হরণ করেছি আমি। নিজের অনবধানতার জন্য অন্যায় স্বীকার করছি। মহারাজ শাল্ব, অম্বাকে তুমি নিজের স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করলে খুব খুশি হব আমি।

অম্বাকে শাল্বরাজের রাজধানীর উদ্দেশে যাত্রা করিয়ে দিয়ে বিচিত্রবীর্যের বিয়েতে মনোযোগ দিলেন ভীষ্ম। মহা ধুমধামে বিচিত্রবীর্যের সঙ্গে অম্বিকা-অম্বালিকার বিয়ে সম্পন্ন হলো।

কিন্তু রাজা শাল্ব অম্বাকে বিয়ে করতে স্বীকৃত হলো না। বহু কায়ক্লেশে অম্বা শাল্বের রাজধানীতে পৌঁছল। রাজসভায় উভয়ের সাক্ষাৎ হলো। সবার সামনে দাঁড়িয়ে অম্বা শাল্বের প্রতি নিজের অনুরাগ ব্যক্ত করল। সকাতরে বলল, ‘আমাকে আপনি বিয়ে করুন রাজা।’

রাজা কুটিল হাসি হেসে বলল, ‘তা কী করে হয়?’

‘কেন হয় না রাজা? আমাদের যে বাগ্দান হয়ে আছে।’

‘বাগ্দানের ব্যাপারটি এখন অতীত কথা। প্রকৃত সত্য এটা যে তুমি অপহৃত। লুণ্ঠিত কন্যাকে বিয়ে করে নিন্দিত হতে চাই না আমি।’

‘ভীষ্ম অতি মহান একজন মানুষ। আমাদের বৃত্তান্ত শুনে সসম্মানে আপনার কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন আমায়। এই দেখুন, চিঠিও লিখেছেন একটি আপনাকে, ক্ষমা চেয়ে।’

‘রাখো নারী, সেই চিঠি তোমার কাছে। ও চিঠি আমার কাছে কলাপাতার তুল্য। তুমি স্পর্শিত। তুমি কলুষিত। ভীষ্ম তোমার হাত ধরে রথে তুলেছেন। পুরুষ স্ত্রীকেই হাতে ধরে। তুমি ভীষ্মের স্ত্রী হয়ে গেছ। পরস্ত্রীকে আমি কী করে বিয়ে করব?’

রাজা শাল্বের এ রকম অপমানজনক কথা শুনে রাজসভায়ই মূর্ছা গেল অম্বা। সংবিৎ ফিরে অনেক অনুনয় করল রাজাকে। কিন্তু অম্বার কাতর অনুনয়, অশ্রু, অনুরোধ—কিছুই রাজা শাল্বের হৃদয় স্পর্শ করল না। কঠোর ভাষায় তিরস্কার করে অম্বাকে ফিরিয়ে দিল। কর্কশ কণ্ঠে বলল, ‘ভীষ্মের কাছে ফিরে যাও তুমি। বুড়ো হলেও উনিই তোমার প্রকৃত স্বামী। তাঁকে বিয়ে করে দাম্পত্যজীবনের স্বাদ নাও অম্বা।’

শাল্বরাজের রাজধানী থেকে পিতৃগৃহ বারানসিতে ফিরে গেল অম্বা। সেখানেও মা-বাবা দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হলো। শেষ পর্যন্ত অম্বা সিদ্ধান্ত নিল—হস্তিনাপুরেই ফিরে যাবে সে।

হস্তিনাপুরে ফিরে এলো অম্বা।

ভীষ্মের সামনে দাঁড়িয়ে বলল, ‘আপনি আমায় হরণ করে এনেছেন। আপনি আমাকে বিয়ে করুন। শাল্ব আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছে।’

  চলবে ►

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা