kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

বই আলোচনা

বিশ্বজোড়া অনন্ত অঙ্গনে

২২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বিশ্বজোড়া অনন্ত অঙ্গনে

বিশ্বজোড়া অনন্ত অঙ্গনে : ফারুক মঈনউদ্দীন। প্রচ্ছদ : মাসুক হেলাল প্রকাশক : অন্যপ্রকাশ

ফারুক মঈনউদ্দীন। পেশায় ব্যাংকার। দেশের ব্যাংকিং পেশায় যাঁরা আপন মহিমায় ভাস্বর, তিনি তাঁদের অন্যতম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিশাস্ত্রে স্নাতক অধ্যয়ন করেছেন। অর্থনীতির বিশ্লেষণেও তিনি অনন্য। এই কাঠখোট্টা বিষয় নিয়ে কাজ করলেও তাঁর ভেতরে যে নান্দনিকতা বসত করে, তা তাঁকে দিয়ে লেখিয়ে নেয় কত কি। কে লেখায়, কেন লেখায়? তা তিনি নিজেও জানেন না। ফারুক মঈনউদ্দীনের লেখা যে বহুমাত্রিকতা প্রমাণ করে।

সাংবাদিকতা করেছেন। গল্পকার, ভ্রমণ লেখক, অর্থনীতি বিশ্লেষক এবং অনুবাদক। তাঁর আরেকটি শাখা ভ্রমণসাহিত্য। ভ্রমণ মানুষের আদিম অভ্যাস ও অন্তর বিকশিত করার অনন্য মাধ্যম। ভ্রমণের মধ্য দিয়ে তার সুকুমারবৃত্তি নতুনত্ব পায়। মানুষ প্রকৃতির সন্তান, প্রত্নবস্তু তাকে ভাবতে শেখায়। এই দুইয়ের মিথস্ক্রিয়া ভ্রমণকে বিশেষত্ব দিয়েছে। এবং সেই বিশেষত্ব লেখকের হাতে সাহিত্যরসে নিষিক্ত করেছে। ফলে লেখকের লেখা ভ্রমণবৃত্তান্ত ভ্রমণসাহিত্যে রূপ নিয়েছে। তাঁর শ্রমলব্ধ বই ‘বিশ্বজোড়া অনন্ত অঙ্গন’।

 ‘জুয়ার শহর পায়েল হ্রদ’ লেখাটির মধ্য দিয়ে বোঝা যায় তাঁর সাধারণ অথচ চলিষ্ণু শব্দের জোরে চোখ টেনে নিয়ে যায় বইয়ের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। সহজ ভাষার সাবলীল বর্ণনারীতিতে আমরা দেখি, জুয়ার আসরে লেখকের কী দুরবস্থা। ভিনসেন্ট ভ্যান গঘকে নিয়ে তাঁর লেখা ‘ভ্যান গঘের ঘোরে’ খুবই সুখপাঠ্য লেখা। কিংবদন্তিতুল্য চিত্রকর ভ্যান গঘের জীবনের টানাপড়েন, নিজের কান কেটে ফেলা, গগ্যাঁর সঙ্গে বন্ধুত্ব আবার বিচ্ছেদ—সব মিলিয়ে তথ্য-তত্ত্বের সমন্বয়ে লেখাটি অত্যন্ত সুখপাঠ্য।

আনা ফ্রাঙ্কের গোপন আস্তানায়। সবার আগ্রহের বিষয়। জার্মান ইহুদি এই ষোড়শী একখানা ডায়েরি লিখে সারা বিশ্বে শুধু বিখ্যাতই নয়, হিটলারের অপকাণ্ডের বীভৎসতা কতটা, কিভাবে তাঁর মা-বাবা ও পরিবারকে হলোকাস্টে হত্যা করা হয়েছে তা পরিষ্কার হয় আনার ডায়েরিটা পড়লে। আনা ফ্রাঙ্কের সেই বাড়িতে গিয়েছিলেন লেখক-সাহিত্যিক ফারুক মঈনউদ্দীন। আনা ফ্রাঙ্কের বাড়ি যাওয়ার পর তাঁর লেখকসত্তার যে মানবিক গোঙানি টের পাওয়া যায় এ লেখায়। বইয়ের প্রতিটি লেখা গুরুত্বপূর্ণ। ভাষার সাবলীলতা, বিষয়ের ভিন্নতা ও বর্ণনারীতির সৌষ্ঠব বইটিকে ভ্রমণসাহিত্যে রূপ দিয়েছে। বইয়ের প্রতিটি লেখাই সুখপাঠ্য।

 

                   ► দীপংকর গৌতম

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা