kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

৫৮

মৎস্যগন্ধ

হরিশংকর জলদাস

২২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



মৎস্যগন্ধ

অঙ্কন : মানব

অকালে চলে গেল শান্তনু বংশের দ্বিতীয় পক্ষের প্রথম পুত্র। অর্বাচীনতা চিত্রাঙ্গদের মৃত্যুর একমাত্র কারণ। অন্য কেউ না বুঝলেও ভীষ্ম বুঝলেন। সত্যবতী যতই হাহাকার-আর্তনাদ করুন, নির্বিকার থাকলেন ভীষ্ম। মন্ত্রণাসভায় প্রতি-আক্রমণের কথা উঠলেও ভীষ্ম আগ্রহ দেখালেন না। রাজসিংহাসন যে এখন নৃপতিশূন্য! নৃপতিশূন্য রাজ্য নিরাপদ নয়। গন্ধর্বরাজ চিত্রাঙ্গদ কেন, অন্য যেকোনো রাজাও কুরুরাজ্য আক্রমণ করে বসতে পারে। রাজাহীন রাজ্য কাণ্ডারিহীন তরির মতো। ভাসমান তরি যেমন যেকোনো সময় উল্টে যেতে পারে, রাজ্যও তেমনি দখল হয়ে যেতে পারে। তাই এখন প্রতিশোধ নয়, এখন প্রধান কাজ নতুন রাজা নির্বাচন—ভাবলেন ভীষ্ম। বোঝালেনও তা সত্যবতীকে। সত্যবতী আজ বিচক্ষণতার পরিচয় দিলেন। ভীষ্মের কথা মেনে নিলেন।

ওদিকে গন্ধর্বরাজ চিত্রাঙ্গদ বিজয়ীবেশে নিজ রাজধানীতে ফিরে গেলেন। তাঁর অন্তরজুড়ে গভীর আনন্দ। এই প্রথম কোনো কুরুনৃপতির পরাজয় হলো। ইতিহাসে লেখা নেই যে কোনো কুরুনৃপতি অন্য রাজার কাছে পরাস্ত হয়েছেন। আজ হলেন। চিত্রাঙ্গদের কাছে এই জয়ের চেয়ে মহার্ঘ আর কী হতে পারে। বহু শত বছরের মধ্যে একমাত্র ও-ই পারল কুরুবংশের জয়ের ললাটে পরাজয়ের গ্লানিটিপ পরিয়ে দিতে। তাই চিত্রাঙ্গদের আনন্দের সীমা থাকল না। যুদ্ধজয়ী চিত্রাঙ্গদ বিজিতের কাছে কোনো উপঢৌকন চাইল না বা কুরুসাম্রাজ্যের কোনো অংশ দখল করল না। জয়ই তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ওই প্রাপ্তিটুকু নিয়ে গন্ধর্বরাজ নিজ রাজ্যে ফিরে গেল।

সত্যবতী বললেন, ‘এবার উপায় ভীষ্ম?’

ভীষ্ম বললেন, ‘কিসের কথা বলছেন মা?’

সত্যবতী দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন, ‘রাজসিংহাসন যে রাজাশূন্য!’

‘সিংহাসন পূর্ণ হবে মা, অচিরেই।’

‘কিভাবে বৎস! কে পূরণ করবে ওই খালি সিংহাসন?’

‘একটু অপেক্ষা করো। দেখে যাও মা কী করি আমি।’

‘দেখার দরকার নেই ভীষ্ম।’

‘তাহলে?’

‘তুমিই কুরুসিংহাসনে আরোহণ করো পুত্র।’

‘তা তো হওয়ার নয় মা।’

‘কেন হওয়ার নয়? বাধা কোথায়?’

‘বাধা আমার সংকল্প। বাধা তোমার পিতা সিন্ধুচরণের শর্ত।’

‘ও তুমি ভুলে যাও পুত্র। সে সময় পিতা আমার স্বার্থটাই বড় করে দেখেছেন।’

‘এখনো সেই স্বার্থ ছোট হয়ে যায়নি মা।’

‘মানে! তোমার কথা ঠিকঠাকমতো বুঝতে পারলাম না বৎস।’

ভীষ্ম সত্যবতীর প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিলেন না। ঘুরিয়ে বললেন, ‘আমি কোনো দিন রাজা হব না মা।’

‘এই সংকটেও তুমি তোমার সংকল্পে অনঢ় থাকবে?’

‘আমার কাছে প্রাণের চেয়ে সংকল্প বড়। রাজ্য, সিংহাসন—এসব তো কোনো ছাড়।’

‘আমার দিকে তাকিয়ে তুমি আগের সংকল্প ত্যাগ করো ভীষ্ম।’

‘তোমার দিকে তাকিয়েই সিংহাসনে আরোহণ করব না আমি।’ ব্যঙ্গ একটুখানি ঝিলিক দিয়ে উঠেছিল ভীষ্মের কণ্ঠে।

নির্বাক হয়ে গেলেন সত্যবতী। নত মস্তকে তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে থাকলেন ভীষ্ম।

কিছুক্ষণ পর মৌনতা ভাঙলেন সত্যবতী। অসহায় কণ্ঠে বললেন, ‘কুরুবংশকে রক্ষা করো পুত্র।’

‘সেই ব্যবস্থা নিচ্ছি মা। আমাকে সামান্য কয়টা দিন সময় দাও মা।’

‘কেন সময় চাইছ বুঝতে পারছি না। তুমি রাজা হবে না। তাহলে কে রাজা হবে? কুরুবংশের বাইরের কেউ?’

‘নিশ্চয়ই না মা। কুরুবংশেরই একজন রাজসিংহাসনে বসবে।’

‘কে সে?’

‘বিচিত্রবীর্য।’

‘বিচিত্রবীর্য। ও তো নাবালক। ও কী করে রাজা হবে? রাজা হয়ে কী করবে সে? তাকে মানবেই বা কে? দম নেওয়ার জন্য ক্ষণিক থামলেন সত্যবতী।

‘তুমি স্থির হও মা। অধৈর্য হয়ো না।’

‘এই সংকটকালে কিভাবে ধৈর্য ধরে থাকি ভীষ্ম? অপরিণত একজন রাজার শাসনে কুরুরাজ্য যে তছনছ হয়ে যাবে।’

‘তুমি ভয় পেয়ো না। আমি আছি বিচিত্রবীর্যের মাথার ওপর। ওর শাসনকালে কুরুরাজ্যে কখনো অরাজকতা হবে না।’

‘তুমি আমায় বাঁচালে ভীষ্ম। তোমার তত্ত্বাবধানে বিচিত্রবীর্য যথাযথভাবে রাজ্য শাসন করতে পারবে।’

ভীষ্ম অন্যদিকে ঘাড় ঘুরিয়ে বললেন, ‘চিত্রাঙ্গদও পারত মা।’

অন্যমনস্ক সত্যবতী বললেন, ‘কী পারত?’

‘রাজ্য শাসন করতে।’

সচকিত হয়ে সত্যবতী বললেন, ‘রাজ্য শাসন করতে?’

‘হ্যাঁ মা। যদি তুমি আমার ওপর বিশ্বাস রাখতে।’

‘বিশ্বাস রাখিনি?’

‘না মা। তুমি আমাকে বিশ্বাস করোনি। তুমি ভেবেছ চিত্রাঙ্গদ আমার তত্ত্বাবধানে এলে সে নষ্ট হয়ে যাবে। ছলে কৌশলে ওকে আমি প্রভাবিত করব। শেষে রাজ্য কেড়ে নেব।’

‘এসব কী বলছ তুমি ভীষ্ম?’

‘তোমার শুনতে খারাপ লাগছে মা—জানি। কিন্তু আমি নিরুপায়। সত্য কথাটা আজ তোমাকে শুনতেই হবে। সত্যবতীর দিকে করুণ চোখে থাকলেন একবার ভীষ্ম। তারপর বললেন, ‘তুমি চেয়েছিলে—চিত্রাঙ্গদ আমার প্রভাবমুক্ত থাকুক। ছোটবেলা থেকেই দূরে সরিয়ে রেখেছিলে তাকে। আমার সঙ্গে মিশতে দাওনি। ফল ভালো হয়নি মা।’

হতমান কণ্ঠে সত্যবতী বললেন, ‘ফল ভালো হয়নি?’

‘না মা। বখে গেছে চিত্রাঙ্গদ। বলদর্পী হয়ে উঠেছে। আনুগত্যবোধ ছিল না তার মধ্যে। সে হয়ে উঠেছিল উদ্ধত, নীতিহীন অহংকারী। সে ভীষণ আত্মম্ভরী হয়ে গিয়েছিল। তাতেই তার পতন হয়েছে। সামান্য একজন গন্ধর্বের হাতে প্রাণ হারাতে হলো তাকে।’

সত্যবতী আর কী বলবেন? মাথা নত করলেন, চুপ করে থাকলেন।

ভীষ্ম তো মিথ্যা বলছে না। সত্যিই তো তিনি চেয়েছিলেন—চিত্রাঙ্গদ ভীষ্মের সংস্পর্শে না আসুক। তাঁর মনে হয়েছিল, ভীষ্মের প্রভাবমুক্ত থেকে চিত্রাঙ্গদ বড় হয়ে উঠলে যথার্থ একজন নৃপতি হতে পারবে। ভীষ্মের প্রভাবে চিত্রাঙ্গদের মধ্যে জড়তা আসবে। গভীর এক হীনম্মন্যতা চিত্রাঙ্গদকে যথাযথভাবে বড় হতে দেবে না। ভীষ্মের ছত্রচ্ছায়ায় থাকলেই উপযুক্ত রাজা হওয়া যাবে, অন্যথায় নয়—তা হবে কেন? তাই সত্যবতী জ্যেষ্ঠপুত্রকে একবারের জন্যও পরামর্শ দেননি—দেখ বাছা! মহামতি ভীষ্ম এই কুরুরাষ্ট্রের সবচেয়ে অভিজ্ঞ পুরুষ, রাজনীতির সমস্ত গূঢ়তত্ত্ব তার ভালো করে জানা। অতএব, তুমি ভীষ্মের পরামর্শ অনুসারে রাজ্য চালাও।

ভুল যে করেছেন সত্যবতী, এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। আজ যে পুত্র হারানোর যন্ত্রণা তাঁর সমস্ত বুকজুড়ে—এর জন্য তো তিনি নিজেই দায়ী। দুর্বিনীত হওয়ার জন্য, ক্ষমতায় গর্বিত হয়ে ওঠার জন্য তিনিই তো পরোক্ষভাবে চিত্রাঙ্গদকে ইন্ধন জুগিয়েছেন। আজ তার ফল ভোগ করতে হচ্ছে তাঁকে। এ ব্যাপারে ভীষ্মের বলার অধিকার আছে। আজ, এই মুহূর্তে ভীষ্মের বলার বিপরীতে তাঁর যে কিছুই বলার নেই। তাই সত্যবতী চুপ করে থাকলেন।

মায়ের করুণ অবয়ব দেখে ভীষ্মের মধ্যে হঠাৎ অপরাধ বোধ জন্মাল। সহানুভূতির কণ্ঠে বললেন, ‘তুমি কিছু মনে করো না মা। আমাকে ক্ষমা করো মা।’

‘তোমার পাপ হতো তখনই, তুমি অন্যায় করতে তখনই, যদি তোমার কথার মধ্যে মিথ্যা থাকত। তুমি তো মিথ্যা বলছ না পুত্র। তুমি যা বললে তার মধ্যে এক বিন্দু মিথ্যা নেই ভীষ্ম। সত্যিই আমি ওরকম চেয়েছিলাম। চেয়েছিলাম—চিত্রাঙ্গদ তোমার প্রভুত্বমুক্ত থাকুক। তাতেই সে যথার্থ রাজকুমার হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে। মিথ্যা অহমিকার বশবর্তী হয়ে আমি ভেবেছিলাম—তোমার প্রভাবে বড় হয়ে উঠলে চিত্রাঙ্গদ একদিন তোমাকে প্রভু ভাবতে শুরু করবে, তুমিও তার সঙ্গে ভৃত্যের মতো আচরণ করবে।’

ভীষ্ম নিজেকে আর সংযত রাখতে পারলেন না। প্রায় চিৎকার করে উঠলেন, ‘মিথ্যা মা, তোমার এই ধারণা, এই বিশ্বাস, এই অহমিকা—সবই মিথ্যা। তুমি আমাকে পুত্র বলে মেনেছে ঠিকই, কিন্তু যথার্থ পুত্রের আসনে বসাওনি আমায়।’

সত্যবতী ডুকরে উঠলেন। ভীষ্ম তাঁকে কাঁদতে দিলেন। চিত্রাঙ্গদের মৃতদেহের সামনে দাঁড়িয়ে নিথর হয়ে গিয়েছিলেন সত্যবতী। নির্বাক, নিস্তব্ধ সত্যবতীর চোখ দিয়ে এক ফোঁটা অশ্রু বেরিয়ে আসেনি সেদিন। এই কদিন ভেতরে ভেতরে পুড়ে অঙ্গার হয়েছেন তিনি। হৃদয়ের বেদনা জল হয়ে, হাহাকার হয়ে সত্যবতীর বুক চিরে বের হয়ে আসেনি। আজ সে মর্মন্তুদ আর্তনাদ অশ্রু হয়ে গড়াতে শুরু করেছে। গড়িয়ে পড়ুক বুকের সব কষ্ট, গলে গলে মিশে যাক এই ধরিত্রীর বুকে।

সত্যবতীর কান্না স্তিমিত হয়ে এলে ভীষ্ম ডাকলেন, ‘মা—।’

সত্যবতী বললেন, ‘উ!’

‘আজ থেকে বিচিত্রবীর্যের সব কর্তব্যের ভার আমি মাথা পেতে গ্রহণ করলাম। সে যাতে যথার্থ একজন কুরুনরপতি হিসেবে গড়ে ওঠে—সেদিকে সর্বাধিক নজর রাখব আমি। সে চিত্রাঙ্গদের মতো দাম্ভিক হবে না মা, নিষ্ঠুরতা আর হিংসা তাকে কখনো গ্রাস করবে না। সে প্রজারঞ্জক রাজা হবে। দেশকে সে মায়ের সমান মর্যাদা দেবে।’ ধীরে অথচ মৃদু কণ্ঠে বলে গেলেন ভীষ্ম।

সত্যবতী করুণাঘন দৃষ্টিতে ভীষ্মের দিকে তাকিয়ে থাকলেন।

চিত্রাঙ্গদের প্রেতকার্য সম্পন্ন হলো। ভীষ্ম কিশোর বিচিত্রবীর্যকে সিংহাসনে বসালেন। অপরিণত বয়সের ভাইটির মাথার ওপর ছাতা হয়ে রাজ্য শাসনে সহায়তা করতে থাকলেন মহামতি ভীষ্ম।

সত্যবতী তাঁর আগের ভুল তাড়াতাড়ি শুধরে নিলেন। অপ্রাপ্তযৌবন বালকপুত্রটিকে তিনি বললেন, ‘দাদা ভীষ্মই তোমার অভিভাবক বিচিত্রবীর্য। তার প্রতিটি বাক্য তোমার জন্য বেদবাক্য। তার প্রতিটি আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে।’

মায়ের কথার অন্যথা করেনি বিচিত্রবীর্য। পিতাসম দাদার আদেশ-উপদেশ অনুসারে রাজ্য শাসনে সে নিয়োজিত থেকেছে।

রাজ্য পরিচালনার সময় ভীষ্ম মুহূর্তকালের জন্যও ভোলেননি যে সত্যবতীর পিতার কাছে কুরুরাষ্ট্রের নায়কত্ব বিসর্জন দিয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন তিনি। তাই ভাইকে সহায়তা করার সময় বিচিত্রবীর্যের ওপর নিজের মত চাপিয়ে দেননি। বিচিত্রবীর্যকে কখনো স্বমতে চলার জন্য বাধ্য করেননি ভীষ্ম।

ভীষ্ম বিচিত্রবীর্যকে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, বহিঃরাষ্ট্রীয়, অন্তর্দেশীয় নানা বিষয়ে পরামর্শ দিতেন। সামাজিক ও পারিবারিক জ্ঞানেও বিচিত্রবীর্যকে ঋদ্ধ করে তুলতে চাইতেন ভীষ্ম। এসব বিষয়ে মন্ত্রণা দেওয়ার সময় মা সত্যবতীর কথা স্মরণে রাখতেন তিনি। সত্যবতীকে ভুলেও অতিক্রম করতেন না ভীষ্ম। রাষ্ট্র পরিচালনায় বিচিত্রবীর্যকে পরামর্শ দেওয়ার আগে সত্যবতীকে ব্যাপারটি অবগত করাতেন। দেশ বা রাজপ্রাসাদ বিষয়ে যা-ই সিদ্ধান্ত নিতেন ভীষ্ম, তা রাজমাতা সত্যবতীর মত নিয়েই করতেন।

মহামতি ভীষ্মের তত্ত্বাবধানে কুমার বিচিত্রবীর্যের রাজ্য শাসন চলতে লাগল। কুরুরাজ্যের কোনো টালমাটাল অবস্থা হলো না; বরং চিত্রাঙ্গদের হত্যায় রাজ্যে আর রাজপ্রাসাদে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে কেটে গেল।

চিত্রাঙ্গদের হত্যার প্রতিশোধস্পৃহা মাঝে মাঝে ভীষ্মের মনে আগুন জ্বালাত। অতিকষ্টে সেই দাউদাউ অগ্নস্ফুিলিঙ্গকে নিজের মধ্যে দাবিয়ে রাখতেন ভীষ্ম। কঠোর কণ্ঠে নিজেকে বোঝাতেন—ভাতৃহত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার এখনো সময় হয়নি। বিচিত্রবীর্য যুবক হয়ে উঠুক, বীরযোদ্ধা হয়ে উঠুক। তখন সে-ই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠবে সহোদর হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য। এখন আমার কাজ—বিচিত্রবীর্যকে গড়েপিটে রাজসিংহাসনের উপযুক্ত করে তোলা।

সময়ে বিচিত্রবীর্য যৌবনে উপনীত হলো। বিয়ের উপযুক্ত সময় উপস্থিত হলো বিচিত্রবীর্যের। ভীষ্ম মনস্থির করলেন—এবার বিচিত্রবীর্যকে বিয়ে করাবেন।

মা সত্যবতীর কাছে উপস্থিত হলেন ভীষ্ম। হেঁয়ালি করে বললেন, ‘মা, তোমার এখন বিশ্রামের সময় এসে গেছে।’

সত্যবতী কিছু না বুঝে ভীষ্মের দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে থাকলেন।

মাকে আর বিভ্রান্ত করতে চাইলেন না ভীষ্ম। বললেন, ‘বিচিত্রবীর্যকে বিয়ে করাতে চাই মা।’

সত্যবতী বিহ্বল হলেন। তাঁর কণ্ঠ রুদ্ধ হলো।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা