kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পিটার হ্যান্ডকের কবিতা

শিশুবেলার গান

অনুবাদ : জুয়েল মাজহার

১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিশুবেলার গান

শিশুটি যখন আসল শিশুটি ছিল

হাঁটত-চলত নেড়ে নেড়ে দুই হাত

চেয়েছিল ছোট নদী হোক বড় নদী

আর নদী হোক খরবেগ দুদ্দাড়,

 

এঁদো ডোবাখানি বিশাল সাগর হোক

 

শিশুটি যখন আসল শিশুটি ছিল

রস যে শিশু নিজে সেটাই জানত না

সব কিছু ছিল গভীর আবেগে ভরা

সব প্রাণের সুরে বাঁধা ছিল প্রাণ

 

শিশুটি যখন আসল শিশুটি ছিল,

ছিল না মোটেই কারোর সাতে বা পাঁচে,

ছিল না কিছুই যাকে বলে অভ্যেস

পায়ের ওপর আড়াআড়ি পাটি তুলে

বসত, বসার পরেই লাগাত দৌড়,

ছবি তুলবার সময় মুখটি তার

ঢাকা পড়ে যেত কপাল-গড়ানো চুলে;

শিশুটি যখন আসল শিশুটি ছিল,

সেটাই সময় ছিল যে জিজ্ঞাসার :

 

আমি কেন আমি, তুমি নই কেন আমি?

এইখানে আছি, সেইখানে কেন নই?

সময়ের শুরু কখন হয়েছে...আর,

এই আকাশের কই বলো অবসান?

 

জীবন কি নয় স্বপ্নের ভ্রম এই সূর্যের তলে?

 

আমি যা দেখছি, আমি যা শুনছি, আমি যে গন্ধ পাই

এসব কি নয় পৃথিবীর মিছে মায়া,

নাকি এসব এর আগেকার আর কোনো পৃথিবীর?

 

শুভ-অশুভের কত না কাহিনি শুনি!

অশুভ নামের কিছু কি আদৌ আছে?

এই ‘আমি’, মানে আজকের এই আমি,

জন্মের আগে ছিলাম না কেন তবে?

কেন একদিন থাকব না আর ‘আমি’?

 

 

শিশুটি যখন আসল শিশুটি ছিল,

ভাতের দলা ও মটরের দানা এবং পালংশাক,

সিদ্ধ করা সামান্য ফুলকপি

খেতে গিয়ে তার গলায় আটকে যেত;

 

কিন্তু এখন দিব্যি সে খায় সবই

এমন তো নয়, না খেয়ে উপায় নেই!

 

শিশুটি যখন আসল শিশুটি ছিল,

এক রাত্তিরে ভেঙে গেল ঘুম তার,

দেখল নিজেকে আর কোনো বিছানায়,

এমন ঘটনা আজও ঘটে বারবার।

 

তখন যাদের চেহারায় ছিল জাদু,

কপালের ফেরে অনেকের সেই রূপ,

ঝরে গেছে আজ, লাবণ্য নেই কোনো

 

 

 

দু-চোখে ভাসত বেহেশতি উদ্যান,

আজ সব ফিকে হয়ে গেছে আর আছে শুধু ভাবনায়;

ধু ধু শূন্যতা, হূত্কম্পন ছাড়া কিছু নেই আর;

 

শিশুটি যখন আসল শিশুটি ছিল,

থাকত খেলার আহ্লাদে মশগুল,

সেই উত্সাহে এখনো পড়েনি ভাটা;

তবু আজ তাতে বাধ সাধে শুধু কর্ম ও উদ্বেগ!

 

শিশুটি যখন আসল শিশুটি ছিল,

ভরে যেত পেট একটা রুটিতে,

একটি আপেল খেয়ে;

 

—এখনো দিব্যি এটুকু হলেই চলে

 

শিশুটি যখন আসল শিশুটি ছিল,

মুঠো ভরে যেত কয়েকটি জাম ফলে,

আজও ভরে যায় যেমন ভরত আগে,

কাঁচা আখরোট খেয়ে মুখ বিস্বাদ

যেমনটি হতো, এখনো তেমন হয়

পাহাড় চূড়ায় উঠার পরে আরো

জাগত বাসনা আরো ওপরে ওঠার;

যেত যে শহরে, তারও চেয়ে ঢের বড়

শহর ভ্রমণে যাওয়ার জাগত সাধ,

সেই প্রিয় সাধ এখনো অটুট আছে;

লোভাতুর শিশু পাড়তে চেরি ফল

গাছ বেয়ে বেয়ে উঠে যেত মগডালে

—সরল সে লোভ, উত্সাহ টিকে আছে;

অচেনা লোকের সামনে লজ্জা পেত;

আগের মতোই এখনো লাজুক আছে

 

প্রথম তুষারপাতের অপেক্ষায়

থাকত যেমন, এখনো অধীর থাকে

 

শিশুটি যখন আসল শিশুটি ছিল,

গাছ তাক করে ছুড়ে দিত তার লাঠি

বর্শার মতো সেই লাঠি পাক খেয়ে

সেইখানে আজও অবিরত কেঁপে যায়

 

(Michael Roloff-এর করা  ‘Song of Childhood’-এর বাংলা ভাষান্তর)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা