kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

লেখার ইশকুল

ইনোকেন্তি আনেনস্কির টান ছিল হ্রস্ব কবিতার প্রতি

দুলাল আল মনসুর   

১১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইনোকেন্তি আনেনস্কির টান ছিল হ্রস্ব কবিতার প্রতি

রাশিয়ার কবিতায় প্রথম পর্যায়ে যাঁরা প্রতীকের ব্যবহার শুরু করেন, তাঁদের অন্যতম কবি ইনোকেন্তি আনেনস্কি। সাহিত্য সমালোচনা এবং অনুবাদেও রয়েছে তাঁর অবদান। রুশ কবিতায় বোদলেয়ার ও ভাহলেনের সুর যোগ করেন আনেনস্কি। আকমাতোভা, গুমিলিয়েভ, মেনডিলস্ট্যাম প্রমুখের ওপর বিপুল প্রভাব ফেলেন তিনি। আনেনস্কির জন্ম ১৮৫৫ সালে। কর্মজীবনে ধ্রুপদি ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষক ছিলেন। আকমাতোভা ও গুমিলিয়েভ তাঁকে শিক্ষক হিসেবে পেয়েছিলেন। আকমাতোভা তাঁকে ‘আমার একমাত্র শিক্ষক’ বলেও বিশেষ শ্রদ্ধার চোখে দেখেন।

অগ্রজ কবি ভাসিলি ঝুকোভস্কির মতো আনেনস্কি নিজের কবিতা বিলম্বে প্রকাশে করেন। সাহিত্যমহলে পরিচিতি আসে অনুবাদের মাধ্যমে। তিনি ইউরিপাইডস ও ফরাসি কবিদের লেখা অনুবাদ করেন। ১৯০০ সালের দিকে গ্রিক ট্র্যাজেডি অনুসরণে তিনি কয়েকটি নাটকও রচনা করেন।

সাহিত্য সমালোচক হিসেবে আনেনস্কি নিকোলাই গোগল, মিখাইল লারমন্তফ, ইভান গনচারোভ এবং তাঁর প্রিয় লেখক দস্তয়েভস্কির সাহিত্য নিয়ে দুটি বই লেখেন। লেখার শৈল্পিক উত্কর্ষের কারণে অন্যদের কাছে বিশেষ মর্যাদা পায় তাঁর সাহিত্য সমালোচনা।

আনেনস্কির প্রধান পরিচয় কবি হিসেবে। ১৯৭০-এর দশকেই কবিতা লেখা শুরু করেন। প্রথম কবিতার বই ‘নীরব গান’ প্রকাশ করেন ১৯০৪ সালে। কবির নামের জায়গায় লেখেন ‘কেউ না’। পাঠক ও অন্যান্য কবির মাঝারি মানের প্রশংসা পায় এ বইটি। তবে কবিদের অনেকেই বুঝতে পারেন, এ কবিতার বইটির কবি হলেন আনেনস্কি। ‘সাইপ্রেস বক্স’ নামে আরেকটি বই প্রকাশ করেন মৃত্যুর কয়েক দিন আগে। অনেক কবিতা অপ্রকাশিত থেকে যায়। 

আনেনস্কির কবিতায় ফরাসি কবিতার নিবিড় নৈকট্য লক্ষ করা যায়। অন্যান্য ফরাসি কবির মতো তিনিও স্তেফানে মালাহমের আদর্শ অনুসরণ করেন : বিষয়ের নাম পরিষ্কার করে বলা মানে ধ্বংস করে দেওয়া; আর ইঙ্গিতের মাধ্যমে প্রকাশ করা মানে সৃষ্টি করা। অবশ্য প্রতীকের ব্যবহার ও ইঙ্গিতপূর্ণ প্রকাশভঙ্গির সঙ্গেও কবি একান্ত বিষয়ের কথাই বলেন। সে কারণে তাঁর শৈলীর নিজস্বতাও বজায় থাকে।

আনেনস্কির প্রধান বিষয়বস্তুর মধ্যে একটি হলো জীবন। জীবনের বিশেষ একটি দিক হিসেবে বিষণ্নতাকে গুরুত্বের কেন্দ্রে রাখেন। বিষণ্নতার পাশেই থাকে মৃত্যুও। তাঁর একটি কবিতার নাম ‘টোসকা’ বা ‘বিষণ্নতা’। এখানে উপস্থাপিত ব্যক্তিটি জীবন ও মৃত্যুর মাঝে অবস্থান করে। কবিতাটির পটভূমিতে একটি রোগীর রুম ব্যবহার করা হয়। রুমের দেয়াল ফুলেল কাগজে সাজানো। সেখানে মাছিদের যথেচ্ছ যাতায়াত। অস্বাভাবিক পরিবেশের সঙ্গে কবির অসমাপিকা ক্রিয়ার পৌনঃপুনিক ব্যবহারের কারণে কবিতার আবহটিতে পাঠক ও উপস্থাপিত ব্যক্তি বাইরের চলমান জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অচল ও মামুলিত্বের মধ্যে আটকা পড়ে যায় তারা।

আনেনস্কির শ্রেষ্ঠ কবিতা মূলত জটিলতায় ভরা, ধাঁধালো। প্রধানত আধোবিস্মৃত স্মৃতি জাগিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই লিখেছেন এগুলো। তাঁর মতে, ভালো কবিতার মধ্যে থাকে শক্ত সুতোর বাঁধন : ছোট কবিতার ছোট পরিসরে অসংলগ্ন উপাদানগুলোকে শক্ত করে বেঁধে ফেলা যায়। আলেক্সান্ডার ব্লক তাঁকে শবের কবি বলেন। ব্লকের মন্তব্য কর্কশ মনে হলেও সঠিক। কারণ তাঁর কবিতায় মৃত্যুর ভয়াবহ উপস্থিতি বেশিই থাকে।

হূদেরাগে আক্রান্ত হয়ে আনেনস্কি মারা যান ১৯০৯ সালে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা