kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

ধারাবাহিক উপন্যাস মত্স্যগন্ধা

হরিশংকর জলদাস

১১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



ধারাবাহিক উপন্যাস মত্স্যগন্ধা

অঙ্কন : মানব

‘আসল কথা বলুন রাজা। ভূমিকা আমার পছন্দ না।’ খটখটে গলায় বললেন দেবব্রত।

ধীবররাজ সিন্ধুচরণ চতুর মানুষ। বিষয়-আশয় এবং বস্তুজগত্ সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা প্রচুর। বিস্তর দেখেছে এ জগতের কুটিল-সরল, সহজ-জটিল, ধুরন্ধর-ধূর্ত, উদাসীন-সচেতন—নানা ধরনের মানুষকে দেখে দেখে তার চোখ পেকে গেছে। এদের কাছ থেকে শিখেছেও বিস্তর। কথার মারপ্যাঁচ সিন্ধুচরণের ভালো করে জানা।

সিন্ধুচরণ শুধু বিচক্ষণ নয়, উচ্চাকাঙ্ক্ষীও। কন্যার রূপ-যৌবনের মূল্য তার ভালো করেই জানা। ঠিকমতো কথা চালাচালি করতে পারলে পুষ্পগন্ধা যে রাজরানি হতে পারবে, অনুমান করে নিয়েছে সিন্ধুচরণ। শান্তনূর পুষ্পগন্ধার প্রতি মুগ্ধতা দেখে সিন্ধুচরণ বুঝে নিয়েছে, তার হাতে সুযোগ এসে গেছে। এই সুযোগ হাতছাড়া হতে দেওয়া যাবে না। স্বার্থোন্মত্ত মনোভাব নিয়েই দাশরাজা আলোচনায় বসেছে। এ তো আলোচনা নয়, নিছকই দর-কষাকষি। পণ্য পুষ্পগন্ধা। এ বাজি জিততেই হবে। জিতে যে যাবে সে, অনুমান করতে পারছে। না হলে পিতার হয়ে পুত্র আসত না। আসল কথা জেতার পরিমাণটা কত বড় হবে?

সিন্ধুচরণ মনে মনে ঠিক করল, দেবব্রতের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেবে না। দেবব্রতকে নিয়ে একটু খেলতে ইচ্ছা করল তার। নিরুত্তেজিত কণ্ঠে ধীবররাজ বলল, ‘অসিত ঋষির নাম আপনার অজানা নয় নিশ্চয়ই। সেই ঋষি আমার মেয়েকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন।’

‘তাঁকে বিয়ে দিয়ে দিলেন না কেন, তাহলে বেঁচে যেতাম’—বলতে চেয়েও বললেন না দেবব্রত। একদৃষ্টিতে সিন্ধুচরণের দিকে চেয়ে থাকলেন।

সিন্ধুচরণ বলে যেতে লাগল, ‘আমি ঋষি অসিতের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছি। প্রত্যাখ্যান করেছি শুধু মহাধিপতি শান্তনুর কথা মনে রেখেই। তাঁর মতো তো আর বর হয় না। আপনার পিতার সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে হোক, এতে একবিন্দু আপত্তি নেই আমার। তবে মুশকিল হয়েছে একটাই। একজন মেয়ের বাবা হিসেবে সেটাই আমার একমাত্র চিন্তার বিষয়।’ অধৈর্য কণ্ঠে দেবব্রত বলে উঠলেন, ‘ওই চিন্তার বিষয়টাই শুনতে চাইছি। দয়া করে বলবেন?’

সিন্ধুচরণের মনে হলো—খেলানো পর্ব শেষ হয়নি এখনো। বিগলিত কণ্ঠে আবার বলল, ‘আপনি মহারাজ শান্তনুর কুলপ্রদীপ। আপনার মতো পুত্র হয় না। আপনার পিতা যথার্থ ধর্মজ্ঞ একজন মানুষ। কিন্তু এটাও তো অস্বীকার করার নয় যে আপনার পিতা যৌবন হারানো একজন প্রবীণ মানুষ।’ কী আশ্চর্য! এই লোকটি আসল কথায় না এসে বারবার প্রসঙ্গান্তরে যাচ্ছে কেন। রাজাকে একবার বলছে ধর্মজ্ঞ, আবার বলছে প্রৌঢ়! এসবের মানে কী! ধৈর্য হারালেন একজন অমাত্য। কর্কশ কণ্ঠে বললেন, ‘আপনার এসব কথার মানে কী ধীবররাজ? আপনি বারবার ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে এক কথাই বলে যাচ্ছেন? সারকথা বলছেন না কেন?’

দেবব্রত হাত তুলে অমাত্যকে থামালেন। দেবব্রত যুবক হলে কী হবে, ধৈর্যের পরীক্ষায় প্রবীণকেও হার মানালেন। মুখে বললেন, ‘আপনি থামুন মাননীয়। দেখি দাশরাজা শেষ পর্যন্ত কী বলতে চান?’

সিন্ধুচরণ এই মুহূর্তেই পুষ্পগন্ধার সম্বন্ধ পাকা করতে চায়। আর সেই সঙ্গে চায় কন্যার ভবিষ্যিট নিশ্চিত করতে। সিন্ধুচরণ বলল, ‘আপনার পিতা আমার মেয়ের জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত বর। তার পরও কন্যার পিতা হিসেবে এ বিয়েতে আমার সংশয় থেকেই যাচ্ছে।’ নীরস ভঙ্গিতে দেবব্রত বললেন, ‘কেন?’

‘আপনার বাবার বয়স অস্তাচলে ঢলে পড়েছে।’

‘তাঁকে দেখেশুনেই তো সম্মতির কথা বলছেন!’

‘পুষ্পগন্ধা বেশিদিন সধবাজীবন উপভোগ করতে পারবে না।’

দেবব্রত নীরব থাকলেন। কিন্তু তাঁর চক্ষু-কর্ণ উত্কর্ণ থাকল। সিন্ধুচরণ বলল, ‘পুষ্পগন্ধার গর্ভে পুত্রসন্তান হবে না, এমন নয়।’

‘তাতে তো আপনার উত্ফুল্ল হওয়ার কথা।’ না বলে থাকতে পারলেন না একজন অমাত্য।

‘তাতেই আমার সংশয়।’ ভেজা বিড়ালের মতো হয়ে বলল সিন্ধুচরণ।

‘কেন সংশয়, বুঝলাম না।’ বললেন দেবব্রত। ‘পুষ্পগন্ধার পুত্রের সঙ্গে আপনার সখ্যের অভাব ঘটার যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকবে।’ দাশরাজার কথার কেউ উত্তর করলেন না।

সিন্ধুচরণ আবার বলল, ‘আমার মেয়ের ঘরের নাতিটি আপনার মতো একজন শত্রু লাভ করুক—এ আমি চাই না।’

‘শত্রু! আমি শত্রু হব! সত্ভাইয়ের শত্রু হব আমি!’ বিস্ময়ে দেবব্রতের চোখ দুটি বেরিয়ে আসতে চাইল।

সিন্ধুচরণ নির্বিকার ভঙ্গিতে বলল, ‘আমি জানি, আপনার মতো মহাবীর যার শত্রু হয়ে দাঁড়াবেন, সে অসুর-গন্ধর্ব যে-ই হোক, তার রক্ষা নেই। আপনার কোপানল থেকে রেহাই পেয়ে নাতিটি যদি বেঁচেও থাকে, সুখে তার জীবন কাটবে না, এ আমার বদ্ধমূল বিশ্বাস। আমার কন্যার পক্ষে এরূপ অবস্থা মহা অমঙ্গলের বার্তা নয় কি যুবরাজ?’

তারপর কৃত্রিম একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল সিন্ধুচরণ। দুই হাতের তালু দিয়ে নিজের মুখমণ্ডল একবার ঘষে নিল। মুখ কাঁচুমাচু করে বলল, ‘আমার মেয়ের সঙ্গে আপনার পিতার বৈবাহিক সম্বন্ধে এইটুকু যা অসুবিধা, যুবরাজ। এ ছাড়া আর কোনো বাধা নেই এ বিয়েতে।’

সিন্ধুচরণের অভিসন্ধি বুঝতে দেবব্রতের অসুবিধা হলো না। ঘৃণার পিণ্ডটা গলা পর্যন্ত উঠে এলো। পিতার অনাগত সন্তানের সঙ্গে তাঁর বিরোধ। তা-ও আবার রাজ্য নিয়ে। ভাইয়ে ভাইয়ে বিবাদ। বৈরিতা! লোকটা বলে কী!

দেবব্রত নিজের মনোভাব প্রকাশ হতে দিলেন না। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলেন, পিতার সুখের জন্য তাঁর অদেয় কিছু থাকবে না। কুমার দেবব্রত তখন পরিপূর্ণ যুবক। এ বয়স ভোগের যেমন, ত্যাগেরও তেমনি। দেবব্রত ত্যাগকে বেছে নিলেন। ভাবলেন, তাঁর জন্য পিতা বিয়ে করতে পারবেন না, তা তো হওয়ার নয়। পিতার আনন্দ আর স্বস্তির কাছে রাজ্য বা রাজসিংহাসন ত্যাগ করা কোনো বড় ব্যাপার নয়।

দেবব্রত বললেন, ‘আমার পিতা আপনার কন্যাতে আসক্ত। আপনি কন্যাটির রক্ষক। আমি চাই আমার বাবার আসক্তি পূরণ হোক, আপনি চান আপনার মেয়ের স্বার্থরক্ষা হোক।’

সিন্ধুচরণ দেবব্রতের পরবর্তী কথা শোনার জন্য আগ্রহী হয়ে উঠল। দেবব্রত আবার বললেন, ‘আমি অনুমান করছি, আপনার শর্তের কথাগুলো মহারাজাকে বলেছেন। কিন্তু আমার কথা চিন্তা করে মহারাজ সংকোচবশত আপনার প্রস্তাবে রাজি হননি।’ সিন্ধুচরণ হাত কচলে বলল, ‘আপনার অনুমান মিথ্যা নয় যুবরাজ। আমারও সে রকম ধারণা।’

দেবব্রত বলেন, ‘পিতার সন্তুষ্টির জন্য আমি সর্বপ্রকার দুঃখ বরণ করতে প্রস্তুত।’

‘তাহলে তো সব লেঠা চুকে গেল।’ চোখে হায়েনার দৃষ্টি নিয়ে বলে সিন্ধুচরণ।

দেবব্রত চোখ চিকন করলেন। ‘লেঠা’ শব্দের সঙ্গে তিনি পরিচিত নন। একজন অমাত্য সেটা বুঝতে পারলেন। চাপা স্বরে অমাত্য বললেন, ‘ঝঞ্ঝাট, যুবরাজ। ওই শব্দ দিয়ে ধীবররাজ ঝামেলাকে বোঝাচ্ছেন।’

অমাত্যের কথা শুনে দেবব্রতের কোঁচকানো কপাল সমান হলো। অন্তরের গহিন অতলে চোখ রেখে গম্ভীর মুখে কিছু একটা ভাবলেন যুবরাজ।

তারপর উদাত্ত কণ্ঠে বলে উঠলেন, ‘শুনুন কুরুরাজ্যের প্রবীণ ক্ষত্রিয় অমাত্যরা, শুনুন দাশরাজা সিন্ধুচরণ, শুনুন সমবেত মানুষজন, আমি এখন এমন এক প্রতিজ্ঞা করতে যাচ্ছি, জীবিত মানুষদের মধ্যে কেউ তা করেনি; শুধু তা নয়, যে ভবিষ্যতে জন্মাবে সে-ও এই রকম প্রতিজ্ঞা করতে সাহস পাবে না।’ একটু দম নিলেন দেবব্রত। আবার বললেন, ‘দাশরাজা, আপনি যা চাইলেন, তা-ই হবে। আপনার মেয়ের গর্ভে যে পুত্র জন্মাবে, সে-ই আমাদের সবার রাজা হবে। আমি আমার প্রতিজ্ঞার কথাটি আরো স্পষ্ট করে বলতে চাই। আপনার কন্যা, মানে আমার ভবিষ্যত্ মায়ের গর্ভের প্রথম পুত্রই হস্তিনাপুরের পরবর্তী নৃপতি হবে। আমি আজ থেকে যুবরাজের পদ ত্যাগ করলাম।’

অমাত্যদের মধ্যে হাহাকার উঠল। সিন্ধুচরণের সারা মুখে ক্রূর হাসি ছড়িয়ে পড়ল।

উঠানে এই যে জীবননাট্যের দৃশ্যায়নগুলো সংঘটিত হয়ে যাচ্ছে, ভিতরবাড়ির কেউ-ই তা জানতে পারছে না। ভবানী আর পুষ্পগন্ধার চোখে-মুখে গভীর উদ্বিগ্নতা। বর্তমানের সিন্ধুচরণ কুশলী। আগেকার সিন্ধুচরণের মধ্যে যে সৌজন্য, যে কৃতজ্ঞতা, মানুষের জন্য যে দরদ ছিল, তা যেন কোথায় উবে গেছে। এই মুহূর্তের সিন্ধুচরণ অভিসন্ধিপরায়ণ, স্বার্থপর। এখনকার সিন্ধুচরণ যেন এক ধুরন্ধর ব্যবসায়ী। কন্যা পুষ্পগন্ধাকে পণ্য করে দেবব্রতের সঙ্গে কারবারে নেমেছে।

দেবব্রতের প্রতিজ্ঞা শুনে খুব তৃপ্ত হলো সিন্ধুচরণ। তবে তা মনে মনে। ভেতরের বিগলিত ভাবটা সে বাইরে দেখাল না। বরং বাইরে বেজার হয়ে থাকল। যেন সে যা চাইছিল, তা পুরোপুরিভাবে পূরণ হয়নি, এই অপূরিত বাসনা যেন তাকে কুরে কুরে খাচ্ছে।

হঠাত্ বেজার মুখে মিষ্টি ভাব আনল সিন্ধুচরণ। বলল, ‘এমন প্রতিজ্ঞা আপনি ছাড়া আর কে করতে পারেন যুবরাজ?’ নিজের প্রশ্নের উত্তর যেন নিজেই দিচ্ছেন, ‘আপনিই পারেন শুধু।

একজন অমাত্য বললেন, ‘আপনি আসল কথার চেয়ে ভূমিকা করেন বেশি।’ দেবব্রত অমাত্যকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘আঘাত দেবেন না মাননীয়। শত হলেও আমাদের ভবিষ্যত্ আত্মীয়।’

খাঁকারি দিয়ে গলা সাফ করল সিন্ধুচরণ। বলল, ‘আজ থেকে মহারাজ শান্তনুর ওপর আপনার অধিকার পূর্ণমাত্রায় প্রতিষ্ঠিত হলো।’

‘কথাটা ঠিক নয়; বরং পূর্বেকার সব অধিকার আপনি হরণ করলেন দাশরাজা।’ না বলে পারলেন না সেই অমাত্য। অমাত্যের কথাকে তোয়াক্কা না করে সিন্ধুচরণ বলল, ‘আপনার প্রতিজ্ঞার পরও মনে একটা খটকা থেকে গেল যুবরাজ।’ ক্রোধকে দমন করে দেবব্রত বললেন, ‘খটকাটা কী?’

‘বলব? অভয় দিচ্ছেন?’

‘এতক্ষণ তো স্বার্থের যত কথা নির্ভয়েই বলেছেন ধীবররাজ।’ ব্যঙ্গ ঝলসে উঠল আরেকজন অমাত্যের কণ্ঠে। সিন্ধুচরণ দেবব্রতকে লক্ষ্য করে বলল, ‘আমি জানি—দুপুর সূর্যের আলো গায়ে মেঘে সবার সামনে যে পণ আপনি করেছেন, তা কখনো বদলাবে না।’

নিস্পৃহ অথচ দৃঢ়কণ্ঠে দেবব্রত বললেন, ‘কখনো তা বদলাবে না।’

‘তার পরও ভয়টা আমাকে সুস্থির থাকতে দিচ্ছে না।’

‘ভয়ের কারণ কী?’

‘আপনার বিবাহ।’

‘আমার বিবাহ!’

‘হ্যাঁ, যুবরাজ, আপনার বিয়ে এই প্রতিজ্ঞা ভঙ্গের কারণ হবে।

‘মানে!’

কুমার, ‘আপনি না হয় রাজা হলেন না।’

‘আমি রাজা হওয়ার সম্ভাবনার মধ্যেই তো আপনার ভয় ছিল। সেই ভয়কে তো নস্যাত্ করেছি।’

‘করেছেন।’

‘তাহলে আর সমস্যা কোথায়?’

আপনার বিয়ের বয়স হয়েছে যুবরাজ। অতি শিগগির ‘আপনার বিয়ে হবে। পুত্রসন্তান হবে আপনার। তারাও তো কুরুরাজ্যের উত্তরাধিকারী হবে। হস্তিনাপুরের রাজত্ব পাওয়ার হক তো তাদেরও আছে। সে জন্য ভয়তো একটা থেকেই যায়। আপনার পুত্ররা পুষ্পগন্ধার পুত্র বা নাতিদের সঙ্গে রাজ্য লাভের দ্বন্দ্বে জড়াবে না, তার তো কোনো নিশ্চয়তা থাকল না মহাত্মন।’ গাঙ্গেয় দেবব্রতের ভেতরটা পুড়ে খাক হয়ে গেল। কিন্তু মুখে কোনো বিকার প্রকাশ করলেন না দেবব্রত। ঈশ্বর তাঁকে এ কোন পরীক্ষায় ফেললেন? জীবনের এত বড় বড় পরীক্ষার পরও আর কোনো পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার বাকি আছে? একদিকে পিতার ভোগবাসনার দাবি, পুত্রের কর্তব্য। অন্যদিকে মানবসন্তান হিসেবে স্ত্রী-সন্তান-পরিজন নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন। এই দুয়ের মধ্যে যেকোনো একটাকে বেছে নিতে হবে। কোনটাকে বেছে নেবেন দেবব্রত? পিতার সম্ভোগ-তৃষ্ণাকে, না নিজের পরিতৃপ্তিকে। কিন্তু তাঁর নাম যে দেবব্রত। তিনি যে গঙ্গার পুত্র গাঙ্গেয়। মনে মনে নিজের বাসনাকে ছুড়ে ফেলে দিলেন। প্রথমটিকেই বেছে নিলেন দেবব্রত। জীবনের বন্ধুর পথেই পা বাড়ালেন যুবরাজ। অবিচলিত কণ্ঠে অগ্নিময় প্রত্যয় ঘোষণা করার জন্য তিনি তৈরি হলেন।

দেবব্রত বললেন, ‘ধীবররাজ সিন্ধুচরণ, আপনার সংশয় নিরসনের জন্য আমি সবার সামনে আবারও প্রতিজ্ঞা করছি—আমি আজীবন ব্রাহ্মচর্য পালন করব। জীবনে কোনো দিন বিয়ে করব না আমি।’

ক্লান্ত, অবসন্ন ও বিষাদে ভরা গলায় দেবব্রত আবার বললেন, ‘দাশরাজা, নিশ্চয়ই আপনার সব সংশয় কেটে গেল। আমার পিতার সঙ্গে আপনার কন্যাকে বিয়ে দিতে নিশ্চয়ই আর কোনো দ্বিমত করবেন না?’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা