kalerkantho

বিশ্বসাহিত্য

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



 

হংকং বইমেলা

চীনে বন্দি প্রত্যর্পণের একটি বিলের বিরোধিতা করে রাস্তায় নামে হংকংয়ের জনগণ। জুন মাসে শুরু হওয়া ওই আন্দোলনের একপর্যায়ে কর্তৃপক্ষ বিলটি প্রত্যাহার করে নিলেও বিক্ষোভ এখনো চলছে। বিক্ষোভকারীরা এখন হংকংয়ের স্বাধীনতার দাবি তুলেছে। শুরুতে এই বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে হলেও ধীরে ধীরে পুলিশের হস্তক্ষেপের কারণে তা সংঘাতময় হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে গত ১৭ থেকে ২৩ জুলাই হংকংয়ে অনুষ্ঠিত হলো বার্ষিক হংকং বইমেলা। সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা ঘোষণা দিয়েছিল যে তারা মেলায় সরকারি মালিকানাধীন বইয়ের স্টলগুলোকে টার্গেট করে অপ্রীতিকর কিছু একটা করবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তেমন কিছু ঘটেনি। তবে আয়োজকরা জানিয়েছেন, এ বছর বইয়ের বিক্রি ১০ শতাংশ কমেছে। ছবিতে একটি স্টলে বই দেখছেন পাঠকরা।

মার্গারেট অ্যাটউড

বুকারের দীর্ঘ তালিকা

বুকার পুরস্কারের জন্য মনোনীত বইয়ের দীর্ঘ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে সম্প্রতি। তালিকায় জায়গা পাওয়া ১৩ জন লেখকের মধ্যে আটজনই নারী। এর আগে বুকারজয়ী দুই লেখক সালমান রুশদি ও মার্গারেট অ্যাটউডের বই যেমন তালিকায় আছে, তেমনি আছে ওইনকান ব্রেইটওয়েটের মতো লেখকের প্রথম উপন্যাসও। সালমান রুশদি চার দশক আগে বুকার জয় করেছিলেন। দীর্ঘ তালিকায় স্থান পাওয়া বইগুলো হচ্ছে—মার্গারেট অ্যাটউডের ‘দ্য টেস্টামেন্টস’, কেভিন ব্যারির ‘নাইট বোট টু ট্যানজিয়ার’, ওইনকান ব্রেইটওয়েইটের ‘মাই সিস্টার, দ্য সিরিয়াল কিলার’, লুসি এলম্যানের ‘ডাকস, নিউবুরিপোর্ট’, বার্নার্ডাইন এভারিস্টোস ‘গার্ল, উইম্যান, আদার’, জন ল্যানচেস্টারের ‘দ্য ওয়াল’, ডেবোরাহ লেভির ‘দ্য ম্যান হুস এভরিথিং’, ভ্যালেরিয়া লুইসেলির ‘লস্ট চিলড্রেন আর্কাইভ’, চিগোজি ওবিওমার ‘অ্যান অর্কেস্ট্রা অব মাইনরিটিজ’, ম্যাক্স পোর্টারের ‘ল্যানি’, সালমান রুশদির ‘কিশোতে’, এলিফ শাফাকের ‘১০ মিনিটস ৩৮ সেকেন্ডস ইন দিস স্ট্রেইনজ ওয়ার্ল্ড’ এবং জিনেট উইন্টারসনের ‘ফ্রাংকিসস্টেইন’। ১৫১টি বইয়ের মধ্য থেকে এই তালিকা করা হয়েছে। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর এর মধ্য থেকে ছয়টি বইয়ের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। ১৪ অক্টোবর লন্ডনে চূড়ান্ত বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। এত দিন এ পুরস্কারে অর্থ সহায়তা দিয়ে আসছিল ম্যান গ্রুপ। তারা আর সহায়তা দেবে না। এ বছর অর্থ সহায়তা দেবে মাইকেল মরিত্স ও হ্যারিয়েট হেইমানের দাতব্য সংস্থা ক্র্যাংকস্টার্ট।

এস রঘুনন্দন

পুরস্কার প্রত্যাখ্যান

এস রঘুনন্দন ভারতের কর্ণাটকের বিশিষ্ট কবি ও নাট্য পরিচালক। শিল্পে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্প্রতি ভারত সরকারের সংগীত নাটক একাডেমি তাঁকে পুরস্কৃত করে। কিন্তু রঘুনন্দন সে পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন। ভারতজুড়ে ধর্মের নামে একের পর এক গণপ্রহার এবং বিরোধী স্বরকে দমন করার আবহের বিরুদ্ধে ‘হতাশা’ জানিয়েই তিনি এই পদক্ষেপ নেন। অবশ্য এর আগেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জমানায় অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে সরব হয়ে দেশটির বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি তাঁদের সরকারি পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়েছেন। পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়ে রঘুনন্দন বলেন, ‘এটা আমার প্রতিবাদ নয়। তীব্র হতাশা আর অসহায়তা থেকেই আমার এ সিদ্ধান্ত। একাডেমির প্রতি আমার পূর্ণ শ্রদ্ধা আছে। পুরস্কারপ্রাপ্তদের প্রতিও শ্রদ্ধা আছে। আমি সবাইকে ধন্যবাদ দিয়েই নিজের অপারগতা জানাচ্ছি।’

একাডেমির উদ্দেশে এক খোলা চিঠিতে রঘু লিখেছেন, ‘দেশজুড়ে ধর্মের নামে, এমনকি খাদ্য নিয়েও আজ হানাহানি, গণপ্রহার সংঘটিত হচ্ছে। শাসকরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাতে মদদ দিচ্ছেন।...পাঠ্যক্রমে বিদ্বেষ আর অযুক্তির বীজ বুনে দেওয়া হচ্ছে। ভারতীয় কথাটার মানে বদলে যাচ্ছে। আমার দেশের নাম করে যখন আমাদের দেশের প্রকৃত ধর্মমার্গীদের প্রতি এই সব অন্যায় হয়ে চলেছে, তখন আমি একজন নাট্যকার ও কবি হিসেবে এই পুরস্কার গ্রহণ করতে পারি না। আমার অন্তর্যামী আমাকে সেই অনুমতি দেয় না।’

►রিয়াজ মিলটন

 

মন্তব্য