kalerkantho

ধারাবাহিক উপন্যাস মৎস্যগন্ধা

হরিশংকর জলদাস

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



ধারাবাহিক উপন্যাস মৎস্যগন্ধা

অঙ্কন : মানব

বজরাটি চলেছে। পালে হাওয়া লেগেছে। বায়ুভরা পাল হাওয়ায় ডোল। মাস্তুলে টাঙানো এ বড় বিশাল পাল। হাওয়াভরা পালের চাপে বজরা ডান দিকে সামান্য কাত হয়ে গেছে। বিপজ্জনকভাবে আরো কাত হতো নৌকাটি; কিন্তু হয়নি। বাঁ পারে ছোট তিনটি পাল। ওগুলোতেও হাওয়ার জোর। ওরা বাঁ পাশটাকে চেপে রেখেছে। তাতেই বজরার সমতা। তার পরও বড় পালের বড় চাপ। তাতেই দক্ষিণ পার সামান্য দাবানো।

হালে হরনাথ। হরনাথের চোখ স্থির। সামনে প্রসারিত। কাঁধজোড়া সাদা চুল। কালো দেহে সাদা চুল আরো শুভ্র বলে মনে হচ্ছে। হরনাথের দেহের সবচেয়ে দেখার তার বাহু দুখানা। পেশিময়। ফোলা ফোলা। দেখে মনে হয়, গঙ্গার প্রবল স্রোতকে আটকে রাখার শক্তি রাখে বাহু দুখানা। হরনাথের পাশে মথুর। মথুর হরনাথের সহকারী। পালে হাওয়ার জোর বলে দাঁড় ছেড়ে মথুর হরনাথের পাশে এসে বসেছে। বিকেল প্রায়। বিকেলের আলোয় হলুদ লেগেছে। হাওয়া মধুর। কক্ষ ছেড়ে রাজা শান্তনু ওপরে উঠে এসেছেন। ঘরের ছাদে বসার ব্যবস্থা। আরাম কেদারা, পা ছড়ানো জলচৌকি। পাশে তেপায়া। বজরার পেছন দিকে রান্নার ঘর। রাজপ্রাসাদের পাঁচজন দক্ষ পাচক ওঘরে। ওরা জানে, মহারাজার আহারের সময় এবং উপকরণ।

রাজার কী মনে হলো, হরনাথকে ডাকলেন হাত ইশারায়। হরনাথ হালটা মথুরের হাতে গছিয়ে দিল। কুঁজো হয়ে রাজার সামনে এসে দাঁড়াল। পাটাতনে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করল।

রাজা বাঁ হাতের ইঙ্গিতে বললেন, বসো।

তফাত বজায় রেখে জড়সড় হয়ে বসল হরনাথ।

মহারাজ জিজ্ঞেস করলেন, ‘নাম কী তোমার?’

‘আজ্ঞে হরনাথ।’ গলায় গামছা জড়িয়ে করজোড়ে বলল হরনাথ। মহারাজ বললেন, ‘ও—।’ বলে থেমে গেলেন শান্তনু। তাঁর চোখ চলে গেল কূলের দিকে। সেখানে ঘন গাছগাছড়া। মাঝে মাঝে জনবসতি। বজরা চলেছে আজ পাঁচ দিন। আজকের মতো তেমন করে আগের বিকেলগুলোতে বের হননি শান্তনু। আজ বেরিয়ে বড় সুখ লাগল মনে। শীতল হাওয়া আর কূলের অরণ্যানি তাঁর স্বস্তি-সুখ বাড়িয়ে দিয়েছে। তাইতো হরণাথকে ডাকা, কাছে।

‘তা হরনাথ, তোমার ঘর কোথায়? কোথায় থাকো তুমি?’ একই প্রশ্ন দুবার করলেন মহারাজ।

হরনাথ ডান হাতটাকে দিগন্তের দিকে বাড়িয়ে ধরে বলল, ‘ওই—, ওই দিকে। গঙ্গার ওই পারে। গেরামের নাম মাঝির পাড়া।’

শান্তনু যেন গ্রামটাকে চেনেন। তেমন করে বললেন, ‘সব মাঝি-মাল্লাই তো থাকে ও গ্রামে। তাই না?’

নুইয়ে পড়া, মাথা নেড়ে হরনাথ বলে, ‘একসময় আমরাই থাইকতাম শুধু। এখন বেশ কঘর কৈবর্তও থাকে।’

‘তোমরা সবাই সুখে আছ তো?’ হালকা চালে মহারাজা জানতে চান। ‘মোরা গরিব মানুষ। মোদের আবার সুখে থাকা—সাহস করে কথাটা বলে ফেলে পরক্ষণে ভয়ে কুঁকড়ে গেল হরনাথ। শান্তনু হরনাথের বলা সব শব্দের অর্থ বুঝলেন না। তবে এইটুকু বুঝতে তাঁর অসুবিধা হলো না যে হরনাথরা সুখে নেই। রাজা অবাক গলায় জিজ্ঞেস করলেন, ‘কেন, তোমরা কি দুবেলা পেটপুরে খেতে পাও না? তোমাদের কি ঘরবাড়ি নেই? জমিজমা নেই তোমাদের?’

এবার হরনাথের বিস্মিত হওয়ার পালা। বলেন কী রাজা মশাই! দুবেলা খেতে পেলে তো আমরা বর্তে যাই! নুন আনতে পান্তা ফুরানো জীবন আমাদের। উদয়াস্ত পরিশ্রম করেও মা-বাবা, স্ত্রী, সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে পারি না আমরা। রাজামশাই জিজ্ঞেস করেন—দুবেলা পেটভর্তি করে খেতে পাই কি না? কত বছর হয়ে গেল হরনাথের বসতঘরটি মেরামত করা হয় না। বর্ষার দিনে ঘরের কোণে মাথা গুঁজে থাকতে হয়। গ্রীষ্মে চালের ফুটোফাটা দিয়ে সূর্যের তেজ ঢোকে ঘরে। তার যদি এই অবস্থা, তার চেয়ে সাধারণ মাঝি-মাল্লাদের হাল তো আরো কাহিল। আর সব জমি তো রাজার। রাজার নামে সামন্তরা দখল করেছে সব উর্বরা ভূমি। ওই ভূমি অধিকার মাঝি-মাল্লা কৈবর্তরা পায় কী করে? মনে মনে ভেবে গেল হরনাথ। রাজামশাই যে তিনটি প্রশ্ন করেছেন, ওই তিনটি প্রশ্নের একটাই উত্তর। আর তা হলো—না।

হঠাৎ হরনাথের আবেগতাড়িত কণ্ঠ থেকে বেরিয়ে এলো, ‘নাহ্।’

শান্তনু চমকে তাকালেন হরনাথের দিকে। আচমকা ‘না’ শব্দে তিনি বিব্রত হলেন। রাজার বিজ্ঞ মাথা। এই ‘না’ শব্দ দিয়ে যা বোঝার বুঝে গেলেন শান্তনু। অত্যন্ত মৃদু কণ্ঠে বললেন, ‘তাহলে যে খাদ্যমন্ত্রী আর গৃহায়ণমন্ত্রী আমাকে বললেন—রাজ্যের উঁচু-নিচু সবাই সুখে আছে!’

হরনাথের মনে কোথা থেকে এত সাহস এলো কে জানে! হরনাথের মতো দীন একজন মানুষের এত সাহস থাকার কথা নয়। কিন্তু হরনাথ হঠাৎ সাহসী হয়ে উঠল। জোর গলায় বলল, ‘মোর অপরাধ লইবেন না রাজামশাই, না খাইয়া থাকার নাম যদি সুখ হয়, তা হইলে মাঝির পাড়ার লোকেরা সুখে আছে।’ হরনাথের কথা শুনে শান্তনু বিমর্ষ হলেন। একদলা কষ্ট তাঁর গলায় যেন আটকে গেল। তাঁর কপাল ঘর্মে সিক্ত হয়ে উঠল। তাঁর প্রজারা পরম সুখে দিনাদিপাত করছে—তাঁর কাছে সরবরাহকৃত এই তথ্যটি তাহলে ডাহা মিথ্যা! হায় ঈশ্বর! হায় মন্ত্রী অমাত্যরা! তত্ক্ষণাৎ তিনি মনস্থির করলেন—নৌভ্রমণ থেকে ফিরে এর একটা বিহিত করবেন।

বেশ কিছুক্ষণ চোখ বুজে থাকলেন শান্তনু। দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ক্ষুব্ধ হলে বসে পড়লে নাকি সেই ক্ষোভ প্রশমিত হয়। উন্মীলিত চোখের চেয়ে নিমীলিত চোখ নাকি ক্রোধ হন্তা। তাই রাজা চোখ বন্ধ করলেন। তাঁর সামনে করজোড়ে বসে থাকল হরনাথ। সে বুঝতে পারছে না রাজামশাই রাগ করেছেন কি না।

সত্যি সত্যিই শান্তনুর রাগ কমে এলো। তাঁর মধ্যে যে উষ্মা ছিল, তা ক্রমে স্তিমিত হয়ে এলো। ক্রোধ তিরোহিত হয়ে তাঁর মনে প্রশান্ত ভাব জাগল। হঠাৎ সব কিছুকে তাঁর ভালো লাগতে শুরু করল, সবাইকে ভালোবাসতে ইচ্ছা করল। নরম কণ্ঠে রাজা বললেন, ‘হরনাথ, তোমার কথা শুনে আমি রাগ করি নাই। কথা দিচ্ছি আমি তোমাদের অবস্থার পরিবর্তন ঘটাব।’

হঠাৎ হরনাথ হু হু করে কেঁদে উঠল। সাষ্টাঙ্গে রাজাকে প্রণাম করল।

রাজা বললেন, ‘ওঠো হরনাথ। সন্ধ্যা হয়ে এলো। পাল খোলো। নোঙর করো। সকাল হলে আবার যাত্রা শুরু কোরো।’ রাজার আদেশ পেয়ে দ্রুতপায়ে মাল্লাদের দিকে এগিয়ে গেল হরনাথ।

পরদিন আবার যাত্রা শুরু হলো। সকাল। নরম রোদ। রাজা বলে দিয়েছেন, আজ পাল খাটানোর দরকার নেই। দাঁড় টানারও প্রয়োজন নেই। শুধু হালটা ধরে থেকো হরনাথ। গঙ্গার স্রোতের টানে বজরা যেদিকে যায় যাক।

হাল হাতে হরনাথ বসে আছে। গতকালকের মতো মথুর পাশে নেই। জনাপাঁচেক মাল্লা নিয়ে মথুর দাঁড়, দড়ি-কাছি-পাল গোছাতে ব্যস্ত। একটি বজরার জন্য এগুলোর বিশেষ দরকার। সুশৃঙ্খলভাবে মাল্লারা গোছগাছ করে এসব দ্রব্য বজরার যথাস্থানে রাখছে।

হঠাৎ জলের রং পাল্টাতে শুরু করল। হরনাথের মুখে হাসির একটুখানি ঝিলিক উঠল। যা বোঝার বুঝে গেল হরনাথ। গঙ্গার পানি স্বচ্ছ, কিন্তু নীল নয়। পানির রং নীলচের দিকে যাচ্ছে। বজরার বেগও কমতির দিকে।

যাত্রা শুরুর আগে হরনাথকে তলব করেছিলেন নৌমন্ত্রী। বলেছিলেন, ‘মহারাজের এটাই প্রথম দীর্ঘস্থায়ী নৌভ্রমণ। অনেকের মধ্য থেকে তোমাকে কাণ্ডারি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। তুমি যে দক্ষ একজন মাঝি, খবর পেয়েছি আমি।’

হরনাথ আর কী বলবে? হাত দুটি একত্র করে মাটির দিকে চেয়ে দাঁড়িয়ে থাকল নৌমন্ত্রীর সামনে।

নৌমন্ত্রী বললেন, ‘মাল্লা বেছে নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তোমাকে। আশা করি পটু মাল্লাদের বেছেছ তুমি। তবে গোয়েন্দারা ওদের খোঁজখবর নিয়েছে। সন্তুষ্ট তারা।’

‘আমি তারাদের বেইছেছি... ...।’

হরনাথের মুখের কথা শেষ করতে দিলেন না নৌমন্ত্রী। বললেন, ‘শোনো, মহারাজের সঙ্গে কোনো দেহরক্ষী যাচ্ছে না মানে এই নয় যে তাঁর ওপর আমরা নজর রাখব না। দূর থেকে বড় একটা নৌসেনার দল তাঁকে অনুসরণ করবে।’ হরনাথ বুঝতে পারছে না, তাকে কেন এসব শোনাচ্ছেন মন্ত্রীমশাই। তার কাজ তো বজরার তদারক করা, মাল্লাদের কাছ থেকে কাজ আদায় করা। তাহলে মন্ত্রীমশাই সৈন্যটৈন্যের কথা বলছেন কেন তাকে? জানি না বাপু, এসব রাজ-গজারা কিসের থেকে কী ভেবে নেয়! ভাবে হরনাথ। আমার কী করতে হবে, তা বলো না বাপু! কোথায় কোথায় যেতে হবে? আস্তে যেতে হবে না দ্রুত যেতে হবে—তা বলো না বাপু! ভেতরটা বিরক্তিতে গুলিয়ে উঠলেও বাইরে বোকাসোকা হয়ে থাকল হরনাথ।

নৌমন্ত্রী বললেন, ‘মহারাজা যাবেন গঙ্গা বেয়ে যমুনার দিকে। কূল ঘেঁষে বজরা চালাবে। তবে মহারাজ যদি চান মাঝবরাবর দিয়ে যাবেন, তাহলে তা-ই করবে। কোন গতিতে বজরা চলবে, তা নির্ধারণ করবেন মহারাজ। তবে কখনো বিপজ্জনক গতিতে নৌকা চালাবে না।’

‘যে আজ্ঞে মন্ত্রীমশাই।’ বিনীতভাবে বলল হরনাথ।

‘তাহলে কী ঠিক হলো?’ মন্ত্রী জিজ্ঞেস করলেন।

‘কী বিষয়ে!’ অবাক চোখে শুধাল হরনাথ। যা করার তো বলেই দিয়েছেন মন্ত্রীমশাই। আবার কী ঠিক হওয়ার কথা বলছেন তিনি? বুঝতে পারছে না হরনাথ।

‘মানে কোথা থেকে কোথা যাবে তুমি?’ বললেন নৌমন্ত্রী। মাথা ঠাণ্ডা রেখে হরনাথ বলল, ‘গঙ্গা থেইকে যমুনা। ধীরে চলতে হইবে। রাতের বেলা বজরা চালাইব না। নোঙরে থাইকবে বজরা। যমুনা থেইকে মহারাজা যখনই ফিরতে চাইবেন লাইয়া আইসব।’

হরনাথের কথা শুনে নৌমন্ত্রীর মুখে হাসি ফুটল। গোমড়ামুখো মন্ত্রীর মুখে হাসিটা বড় বেমানান দেখাল। হাসতে ইচ্ছা করল তারও। কিন্তু হাসিটাকে গলার তলায় চেপে রাখল। নৌমন্ত্রী বললেন, ‘যথার্থ বুদ্ধিমান তুমি, বোঝা যাচ্ছে।’ বলে হাত ইশারায় হরনাথকে বিদায় হতে বললেন।

জলের রং পাল্টাতে দেখে হরনাথ বুঝল, বজরা যথাপথ দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। গঙ্গাপ্রবাহ ফুরিয়ে আসছে। ওই স্থানে গঙ্গা আর যমুনায় মেশামেশি, ওখানকার জল না স্বচ্ছ, না নীল। অল্প সময়ের মধ্যে যে বজরাটি যমুনায় পড়বে, বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না হরনাথের।

হরনাথ জানে, গঙ্গা-যমুনার সঙ্গমস্থলে জলের বিপুল ঘূর্ণি। বহু দক্ষ মাঝির হাতে চালিত অনেক জলযান এই ঘূর্ণিতে পড়ে জলের তলায় তলিয়ে গেছে। পরে এদের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

হরনাথ দেখতে পাচ্ছে—অদূরে জলের কামড়া-কামড়ি। ছোট ছোট ঢেউ একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে, যেন একজন আরেকজনের টুঁটি টিপে ধরছে। কখনো স্বচ্ছ জলের ঢেউ ওপরে, কখনো নীল জলের ঢেউ ওপরে। স্রোতও ওখানে আবোলতাবোল। স্রোতের নির্দিষ্ট কোনো গতিধারা নেই। যেমনি ইচ্ছা তেমনি চলছে যেন।

বলতে বলতে বজরাটি ওই জলাবর্তে এসে পড়ল। নৌকার টালমাটাল অবস্থা। হরনাথ চিত্কার করে উঠল—সামাল, সামাল। মথুর হাতের কাছি ফেলে এগিয়ে এলো। মাল্লারা বেরিয়ে এলো নৌকার খোল থেকে। হরনাথ উঁচু গলায় বলল, ‘তোরা জলে দাঁড় নামা। দাঁড়ে জোর লাগা। মথুর, তুমি মোর পাশে থাকো। ঘূর্ণি থেইকে বজরারে টেইনে তুইলতে হইবে।’ বলে হালে হাতের বাঁধন শক্ত করল হরনাথ।

দাঁড়ের আর হালের শাসনে মত্ত বজরার মত্তটা কিছু কমল। এগোতে থাকল সামনের দিকে। এই সময় মহারাজ শান্তনু কক্ষটির বাইরে মাথা তুললেন। বললেন, ‘কোনো সমস্যা হয়েছে হরনাথ?’ হরনাথ বিচলিত চেহারাটাকে মুহূর্তেই স্বাভাবিক করে বলল, ‘মহারাজ, তেমন কিচ্ছু না। এই জলের একটু নাচন-কুদন। ঠিক হইয়া যাইব।’

‘ভয়ের কিছু?’ বলেন মহারাজ।

‘না না, মহারাজ। ভয়ের কুনু কারণ নাই।’ আস্থার কণ্ঠে বলল, হরনাথ।

‘ঠিক আছে’ বলে রাজা কক্ষ অভ্যন্তরে গেলেন। নৌকা সুস্থির হলো। গতি অব্যাহত থাকল। বজরার দিক বদল হলো। এবার দক্ষিণ থেকে পূর্বে। বজরার তলায় জলের রং এখন নীল। যতই বজরা এগোচ্ছে, নীল জল গাঢ় থেকে গাঢ়তর হচ্ছে। বাতায়ন দিয়ে রাজা শান্তনু জলের ওপর চোখ রেখেছেন। সেই চোখের রংও কেন জানি বদলাতে শুরু করল।

বিকেল হতে এখনো দেরি। রাজার মন উচাটন। গৃহবন্দি হয়ে থাকতে ইচ্ছা করছে না রাজার। সময়ের আগে বজরার পাটাতনে উঠে এলেন রাজা।

ওই সময়, ঠিক ওই মুহূর্তে শান্তনুর নাকে এক মধুর গন্ধ ভেসে এলো। এ এমন এক সুগন্ধ, যা যেকোনো মানুষকে উতলা করে, অশান্ত করে।

রাজা শান্তনু উতলা হলেন।

শান্তনু জিজ্ঞেস করলেন, ‘হরনাথ, এ কিসের সুঘ্রাণ?’

  চলবে

মন্তব্য