kalerkantho

শনিবার । ২০ জুলাই ২০১৯। ৫ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৬ জিলকদ ১৪৪০

বিশ্বসাহিত্য

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



 

 অ্যানা বার্নস

অরওয়েল প্রাইজ পেলেন বার্নস

‘রাজনৈতিক রচনাকে শিল্পে পরিণত’ করা ছিল লেখক জর্জ অরওয়েলের সব সময়ের ভাবনা। যেসব রচনায় অরওয়েলের এই চিন্তার প্রতিফলন দেখা যায়, সেসব রচনাকে উত্সাহিত করার জন্য ব্রিটেনে চালু করা হয় ‘অরওয়েল প্রাইজের’। ফিকশন, নন-ফিকশন—সব ধরনের বই-ই মর্যাদাপূর্ণ এ পুরস্কারের জন্য প্রযোজ্য। পুরস্কারটির ২৪ বছরের ইতিহাসে ২০০৬ সালে একবারই এটি জিতেছিল কোনো উপন্যাস। বাকি সময়টায় নন-ফিকশনের বই-ই পুরস্কার পেয়েছে। তবে এ বছর ‘পলিটিক্যাল ফিকশন’ বিভাগে প্রথম পুরস্কার দেওয়া হলো। আর সেটি পেয়েছে অ্যানা বার্নসের ২০১৮ সালের ম্যান বুকার বিজয়ী উপন্যাস ‘দ্য মিল্কম্যান’। বিশ শতকের শেষ দিকে উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিকভাবে উত্তাল সময় ‘দ্য ট্রাবলসে’র প্রেক্ষাপটে রচিত এই উপন্যাস এরই মধ্যে বহু প্রশংসা পেয়েছে। আর নন-ফিকশন বিভাগে পুরস্কৃত বইটিরও বিষয় আয়ারল্যান্ডের সেই সময়—আইরিশ রিপাবলিকান আর্মির (আইআরএ) হাতে জনিন ম্যাককনভিল নামে এক নারীর হত্যা। নিউ ইয়র্ক টাইমসের স্টাফ লেখক ও সাংবাদিক প্যাট্রিক র্যাডেন কিফের লেখা গ্রন্থটির নাম ‘সে নাথিং : অ্যা ট্রু স্টোরি অব মার্ডার অ্যান্ড মেমোরি ইন নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড’।

 সালমান রুশদি

পুরস্কারে নারী-পুরুষ বিতর্ক

মর্যাদাপূর্ণ উইমেন্স প্রাইজ ফর ফিকশন দেওয়া হচ্ছে ১৯৯৬ সাল থেকে। শুধু নারী লেখকদের জন্য আলাদা এ পুরস্কার প্রবর্তন করার শুরু থেকেই বেশ সাড়া পড়ে। তবে প্রশ্নও ওঠে। স্যাটানিক ভার্সেস ও মিডনাইট চিলড্রেনখ্যাত লেখক সালমান রুশদি তো ২০১৭ সালে এ পুরস্কারকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ অভিহিত করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয় নারী লেখকদের আলাদা করে কোনো নিরাপদ ঘেরাটোপের প্রয়োজন নেই। নিজেদের খেয়াল রাখতে তাঁরা যথেষ্ট সমর্থ—আপাতদৃৃষ্টিতে কথাগুলো আপত্তিজনক নয়।’ রুশদি নারী লেখকদের এ রকম কোনো বিশেষ শ্রেণিভুক্ত না করার কথা বলেন, পুরস্কারের ছলে কোনো ‘মযবঃঃড়’-র ভেতর ঠেলে না দেওয়ার কথা বলেন। রুশদির সেই বক্তব্যেরই জবাব দিয়েছেন উইমেনস প্রাইজ কমিটির বিচারকদের চেয়ার উইম্যান কেট উইলিয়ামস। তিনি বলেন, ‘এটা বিদ্রূপ, একেবারেই বিদ্রূপাত্মক, যখন সালমান রুশদির মতো একজন জ্ঞানী এ রকম কথা বলেন... এটা গেটৌ নয়। এটা নারীদের বইকে সম্মান দেওয়া। পুরুষদের বইকে পুরস্কার দেওয়া হলে কেউ তো বলে না যে এটা পুরুষদের গেটৌ। তারা তখন বলে এটা বইয়ের পুরস্কার। উইলিয়ামসের মতে, নারীরা এখনো ‘বঞ্চনা’র শিকার, এখনো ‘সেক্সিজম’ প্রবলভাবে বর্তমান, রুশদির শব্দ চয়নেই যা নাকি স্পষ্ট। যা হোক, নারী-পুরুষ ভেদাভেদের এই বিতর্কের মধ্যেই এ বছর উইমেনস প্রাইজ ফর ফিকশন পেয়েছেন মার্কিন লেখক টায়ারি জোনস তাঁর ‘অ্যান আমেরিকান ম্যারেজ’ উপন্যাসের জন্য।

 রডনি হল

মাইলস ফ্রাঙ্কলিনের তালিকা

অস্ট্রেলিয়ার মাইলস ফ্রাঙ্কলিন সাহিত্য পুরস্কারের জন্য মনোনীত বইয়ের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সমুদ্র-মহাসমুদ্রের এক অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ চিত্র থেকে শুরু করে সিডনির পশ্চিমাঞ্চলে এক মুসলিম তরুণের জীবনকাহিনি স্থান পেয়েছে তালিকায়। ৬০ হাজার ডলার সম্মানীর এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত সংক্ষিপ্ত তালিকার বইগুলো হচ্ছে—মাইকেল মোহাম্মেদ আহমাদের ‘দ্য লেবস’, গ্রেগরি ডের ‘অ্যা স্যান্ড আর্কাইভ’, রডনি হলের ‘অ্যা স্টোলেন সিজন’, গেইল জোনসের ‘দ্য ডেথ অব নোয়াহ গ্লাস’, মেলিসা লুকাশেঙ্কোর ‘টু মাচ লিপ’ এবং জেনিফার মিলসের ‘ডিসক্রোনিয়া’। ৮৩  বছর বয়সী রডনি হল ১৯৮২ সালে ‘জাস্ট রিলেশনস’ বইয়ের জন্য এবং ১৯৯৪ সালে ‘দ্য গ্রিসলি ওয়াইফ’ বইয়ের জন্য এ পুরস্কার পান। ‘মাই ব্রিলিয়ান্ট ক্যারিয়ার’ উপন্যাসখ্যাত লেখক স্টেলা মারিয়া সারাহ মাইলস ফ্রাঙ্কলিনের নামে ১৯৫৭ সালে প্রবর্তিত অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এ পুরস্কারের অর্থমূল্য ৬০ হাজার পাউন্ড। মূলত যেসব সাহিত্যে অস্ট্রেলিয়ার জীবন ও সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটে, সেসব সাহিত্যই এই প্রতিযোগিতার জন্য উপযোগী বলে বিবেচনা করা হয়। সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পাওয়া বইয়ের প্রত্যেক লেখক পাঁচ হাজার ডলার করে পাবেন। আর পুরস্কারের চূড়ান্ত বিজয়ী পাবেন ৬০ হাজার ডলার। আগামী ৩০ জুলাই বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে।

►রিয়াজ মিলটন

মন্তব্য