kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ জুলাই ২০১৯। ৩ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৪ জিলকদ ১৪৪০

লেখার ইশকুল

লেখকদের প্রিয় লেখক আইজাক বাবেল

দুলাল আল মনসুর   

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লেখকদের প্রিয় লেখক আইজাক বাবেল

রুশ নাট্যকার, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক আইজাক বাবেলের জন্ম ১৮৯৪ সালে। তাঁর সম্পর্কে সিনথিয়া ওজিক বলেন, ‘রুশ ভাষা ছাড়াও বাবেল ইউক্রেনীয়, হিব্রু ও ইডিস ভাষায় দক্ষ ছিলেন। তবে প্রথম দিকের ছোটগল্প তিনি ফরাসি ভাষায় লেখেন। অবশ্য সে গল্পগুলো আর পরে সংরক্ষণ করা হয়নি।’

সেন্ট পিটার্সবার্গে ম্যাক্সিম গোর্কির সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর গোর্কির সাহিত্য পত্রিকা ‘লেটোপিস’-এ বাবেলের ছোটগল্প প্রকাশ করেন। তখনই গোর্কি তাঁকে জীবন সম্পর্কে আরো অভিজ্ঞতা অর্জনের পরামর্শ দেন। বাবেল আত্মজীবনীতে লেখেন, ‘আমার জীবনের সব কিছুর জন্য আমি ওই সাক্ষাতের কাছেই ঋণী। অ্যালেক্সি ম্যাক্সিমোভিচ গোর্কি নামটি উচ্চারণ করি গভীর ভালোবাসা আর প্রশংসায়।’ আত্মজীবনীমূলক ছোটগল্প ‘ডাভকোট’ গোর্কিকে উত্সর্গ করেন। সামাজিক বলয় বড় হওয়ার কারণে কৃষক, সৈনিক, পাদ্রি, শিশু, অভিনেতা, শিল্পী, নারীসহ সব শ্রেণির মানুষের চোখ দিয়ে জীবন দেখার চেষ্টা করতেন। ক্যাব ড্রাইভার, জকি, গণিকা—সবার সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। জীবনে টাকা-পয়সা ছাড়া চলতে কেমন লাগে, অন্যদের থেকে একেবারে আলাদা জীবন যাপন করতে কেমন লাগে, তা তাঁর জানা ছিল। ১৯১৮ সালে কাজ শুরু করেন গোর্কির পত্রিকায়। সাংবাদিক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, সেখান থেকে লেখার রসদ লাভ করেন। এ প্রসঙ্গে বাবেল বলেন, ‘সাংবাদিকতার কাজ থেকে অনেক পেয়েছি, বিশেষ করে লেখালেখির উপাদান হিসেবে। অবিশ্বাস্য বিচিত্র সব তথ্য। লেখার কাজে সেগুলো আমার কাছে অমূল্য বস্তু হয়ে দেখা দেয়। মর্গের পাহারাদার, অপরাধ তদন্তকারী, সরকারি অফিসের কেরানি—এদের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব হয়। যখন লেখা শুরু করি, তখন ওইসব অভিজ্ঞতার কাছে বারবার ফিরে যাই। চরিত্র, পরিবেশ এবং দৈনন্দিন জীবনের প্রতি দৃষ্টিপাতের সময় দেখতে পাই, এসব বিষয় তো আমার খুব কাছের। সাংবাদিকতার কাজ অভিযানে ঠাসা।’

বাবেলের পছন্দের লেখকরা ছিলেন হোমার, হেরোডোটাস, লুক্রেটিয়াস, সুয়েটোনিয়াসের মতো প্রাচীন গ্রিক এবং রোমান থেকে শুরু এরাসমাস, সারভান্তেস, সুইফ্ট, কোস্টারের মতো ইউরোপীয় ক্লাসিকসহ উনিশ শতকের স্টেনধাল, মেরিমি, ফ্লবেয়ার পর্যন্ত।

বাবেলের গল্প সংকলন ‘রেড ক্যাভালরি’র বেশ কয়েকটি গল্পে যুদ্ধের ভয়াবহ বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। বিপ্লবের প্রচারপত্রের একেবারে বিপরীত চিত্র। ফলে ক্ষমতাধর কিছু শত্রুও পয়দা হয়ে যায়। তারা বাবেলের ফাঁসি পর্যন্ত দাবি করে বসে। গোর্কির প্রভাবে সে যাত্রা রক্ষা হয়। গল্প সংকলনটির প্রকাশনায়ও সাহায্য করেন গোর্কি। তাঁর গল্প পড়ার পর মুগ্ধ প্রতিক্রিয়ায় আর্জেন্টিনার কথাসাহিত্যিক বোর্হেস বলেন, “কিছু দৃশ্যে বর্ণিত অনির্বচনীয় বর্বরতার একেবারে বিপরীতে ফুটে উঠেছে গল্পের শৈলীর সংগীত। এখানকার অন্যতম গল্প ‘লবণ’ আপাতত মনে হয়, কবিতার মহিমা অর্জন করেছে। সাধারণত গদ্যে এমন দেখা যায় না। অনেক মানুষেরই মুখস্থ আছে এই গল্পটি।”

বুকারজয়ী মার্কিন লেখক জর্জ সন্ডার্স তাঁর বলেন, ‘আইজাক বাবেল নামে একজন রাশিয়ান লেখক আছেন। তিনি আমার প্রিয় লেখক। তাঁর লেখা গিটারের মধুর সুরের মতো, যে সুর শুনলে প্রতিক্রিয়ায় বলতেই হয়, হ্যাঁ এ রকমই তো আমরা চাই। বাবেল এমনই নিখুঁত এক লেখক।’ এই মহান লেখককেই রাশিয়ার ক্ষমতাবাজরা মিথ্যা অপবাদে হত্যা করেছিল ১৯৪০ সালের ২৭ জানুয়ারি।

 

 

 

 

মন্তব্য