kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

ধারাবাহিক উপন্যাস মত্স্যগন্ধা

হরিশংকর জলদাস

২১ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



ধারাবাহিক  উপন্যাস মত্স্যগন্ধা

অঙ্কন : মানব

‘দাঁড়াও। কোথায় যাচ্ছ? আমার কথা শুনে যাও।’ গঙ্গার পরিচয় পাওয়ার পর তাঁর সঙ্গে সসম্ভ্রমে কথা বলেছেন রাজা শান্তনু। আপনি বলে সম্বোধন করেছেন। কিন্তু গঙ্গার সন্তান বিসর্জনবৃত্তান্ত শুনে তাঁর শ্রদ্ধাবোধ টুটে গেছে। গঙ্গাকে এখন তাঁর অসাধারণ কেউ বলে মনে হচ্ছে না। মনে হচ্ছে স্বার্থাচ্ছন্ন ধান্ধাবাজ এক নারী বলে। আর মনে হচ্ছে—বাত্সল্যহীন, প্রেমহীন, নির্দয় এক রমণী তার সামনে থেকে পালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তাকে তো এমনি এমনি ছাড়া যায় না। কৃতকর্মের শাস্তি তার যে পাওয়া উচিত! ও যে সন্তান হন্তারক! প্রবল শক্তিশালী এক ক্রোধ শান্তনুর বুকের মধ্যে কুণ্ডলি পাকিয়ে ওঠে।

সেই ক্রোধ থেকেই রাজা গর্জে উঠেন, ‘তুমি অপরাধী, পাপী তুমি।’ সাপিনীর মতো ফণা তুলে পেছন ফিরলেন গঙ্গা। ফোঁসানো কণ্ঠে বললেন, ‘অপরাধী! পাপী! কাকে বলছ তুমি এসব!’

‘তোমাকেই বলছি নারী, তোমাকে!’ ক্রোধ সংহত করার চেষ্টা নেই রাজার মধ্যে। ‘আমাকে! আমাকে পাপী বলছ তুমি?’

‘হ্যাঁ, তোমাকেই বলছি। একজন নির্দয় নারী ছাড়া, আপন সন্তান হন্তারক ছাড়া তোমার আর কী পরিচয় আছে?’

‘আছে না? আছে তো। আমি সর্বজনমান্য গঙ্গা। আমার জলস্পর্শে মহাপাপী মুক্তি পায়। যুগ-যুগান্তরের বয়ে চলা আমারই পারে জনপদ, রাজধানী, বাণিজ্যকেন্দ্র গড়ে উঠেছে। আমারই দয়ায় সসাগরা ভারতবর্ষের কল্যাণ সাধিত হয়। আমি ধর্ম, আমিই সংস্কৃতি। আমিই মানবের উজ্জ্বল উদ্ধার।’ গঙ্গাকে যেন কথায় পেয়ে বসেছে। তাঁর কথায় অহংকারের স্পর্শ। ‘তোমার নিষ্ঠুরতা তোমার এসব অবদানকে ছাড়িয়ে গেছে নারী।’ শান্তনুর কণ্ঠস্বরে ব্যঙ্গের উপস্থিতি।

‘নিষ্ঠুরতা! কিসের নিষ্ঠুরতা?’ ভীষণ রকম খেপা কণ্ঠে বললেন গঙ্গা। এবার হা হা করে হেসে উঠলেন রাজা। এ হাসির মধ্যে ঘৃণা লিকলিকিয়ে উঠল। বললেন, ‘নিষ্ঠুর নও তুমি শুধু, হিংস্রও। যে আপন পুত্রদের সজ্ঞানে আর স্বেচ্ছায় হত্যা করে, তাকে কী বলে নারী? নিষ্ঠুর নয়? নিষ্ঠুর মানে তো নির্দয়, নির্মম, কঠোর, কঠিন, ক্রুড়, নৃশংস। তাই নয় কি? যদি তা-ই হয়, তাহলে এর প্রতিটা মানেই তো তোমার জন্য প্রযোজ্য।’ রাজা শান্তনুর কথা শুনে গঙ্গা মাথা নামিয়ে নিলেন। কণ্ঠ থেকে তাঁর আগের তেজ হারিয়ে গেল। মিনমিনে গলায় বললেন, ‘আমি তো তোমাকে বলেইছি এসবের ভেতরকার বিবরণ।’

রাজা গর্জে উঠলেন, ‘ওসব আমি মানি না। ওই অলৌকিকতার কোনো মানে নেই। ওগুলো সব সাজানো বৃত্তান্ত। আসলে তুমি মা হতে চাওনি। ঘটনাক্রমে মা যখন হয়ে গেছ, সন্তানকে তোমার বাড়তি ঝামেলা বলে মনে হয়েছে। সন্তান লালন-পালনকে ঝুটঝক্কি ভেবে ওদের নদীতে ফেলে দিয়ে এসেছ। তুমি একজন স্বার্থপর মহিলা। তোমার মধ্যে সন্তানের জন্য মায়া-ভালোবাসা বলে কিছুই নেই।’

রাজা শান্তনুর কথা শুনে গঙ্গার মুখ হাঁ হয়ে গেছে। কী বলবেন আর কী করবেন ভেবে ঠিক করতে পারলেন না তিনি। বিহ্বলতা কাটিয়ে মৃদু গলায় বললেন, ‘তুমি মানুষ। রক্ত মাংসের প্রেম-ভালোবাসাময় মানুষ তুমি। একজন মানুষের পক্ষে অলৌকিকতাকে বিশ্বাস করা কঠিন। অলৌকিকতাকে মানুষ অবাস্তব আর গাঁজাখুরি গল্প বলে মনে করে। তুমিও তা-ই করছ। এতে আমার কিছু আসে-যায় না। কিন্তু আমি যে বৃত্তান্ত বলেছি, তাতে একবিন্দু মিথ্যা নেই। সত্যিই অষ্টবসুকে উদ্ধার করার জন্য তোমার মহিষী হয়েছিলাম আমি।’

‘এবং নিজ হাতে নিজ সন্তানদের অবলীলায় হত্যা করলে তুমি!’ গঙ্গার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বললেন রাজা শান্তনু।

‘ওই যে বললাম—তোমার দিক থেকে তুমি এ রকম ভাবতে পারো। আমার কিছু করার নেই।’ শুকনো গলায় বললেন গঙ্গা।

‘বলেই খালাস পেয়ে যাবে, ভাবলে কী করে তুমি? ভাবলে কী করে যে তোমাকে এমনি এমনি ছেড়ে দেব আমি?’

এবার খল খল করে হেসে উঠলেন গঙ্গা। তাঁর কণ্ঠ ঝন ঝন করে উঠল, ‘বন্দি করে রাখবে নাকি আমায়?’

‘না, বন্দি করে রাখব না। তোমার মতো দয়ামায়াহীন এক নারীকে বন্দি করে রাখার ইচ্ছা আমার নেই।’

‘তাহলে। তাহলে কী করবে তুমি?’

‘বন্দিত্বের চেয়েও কঠিন দুর্ভর শাস্তি আমি তোমায় দেব গঙ্গা।’

‘কঠিন দুর্ভর শাস্তি!’

‘হ্যাঁ। তোমাকে অভিশাপ দেব আমি।’

‘অভিশাপ! কী অভিশাপ দেবে তুমি আমায়? মানুষ হয়ে একজন দেবীকে কী শাপ দেবে!’ ‘মানুষেরও তো মূল্যবোধ আছে। আছে পাপ-পুণ্যের জীবন। আমার পুণ্য জীবনের দোহাই দিয়ে বলছি—তুমি একদিন এই অপরাধের শাস্তি ভোগ করবে।’

‘কী, কী শাস্তি ভোগ করব আমি!’

‘কিছুক্ষণ আগে তুমি যে পুণ্যতোয়ার জন্য অহংকার করলে, সেই জল একদিন দূষিত হয়ে যাবে। তোমার জলের দুর্গন্ধে শুধু জলচারীরা নয়, তটভূমির মানুষও টিকতে পারবে না। সব ধরনের জলজ প্রাণী তোমাকে ত্যাগ করে যাবে গঙ্গা। শুধু তা-ই নয়...।’ বলে একটু থামলেন রাজা।

গঙ্গা বিহ্বলা। বিবশ চোখে রাজার দিকে তাকিয়ে আছেন গঙ্গা। কিছু জিজ্ঞেস করার শক্তি হারিয়েছেন তিনি।

রাজা আবার সতেজে বলতে শুরু করলেন, ‘শুধু তা-ই নয় গঙ্গা। তোমার সেই দূষিত পূতিগন্ধময় জলে মানুষের বর্জ্য-আবর্জনা ভাসতে থাকবে। তোমার এই সুন্দর মুখখানি ঢেকে যাবে ওই উচ্ছিষ্ট আবর্জনায়। কিছুই করার থাকবে না তখন তোমার।’

বলছ তুমি রাজা! গঙ্গা বিশ্বাস করছেন না শান্তনুর কথা।

শক্ত গলায় শান্তনু বললেন, ‘এখানেই শেষ নয়...।’

দ্রুত ডান হাতের তর্জনীটা তুললেন গঙ্গা। বললেন, ‘থামো, থামো। থামো তুমি রাজা। তোমার ঔদ্ধত্য অনেক সহ্য করেছি, আর নয়। তুমি কি ভুলে গেলে আমার দুই তীরের অজস্র মন্দিরের কথা! তুমি কি ভুলে গেলে আমার নানা শাখা-প্রশাখার কথা! আমার তীরের অগণন দেবালয়ে মাথা ঠুকে অজস্র মানুষ স্বর্গপ্রাপ্তির বাসনা করে। গঙ্গা জলে গণনাতীত মুনিঋষি স্নান শেষে পবিত্র তপস্যায় মগ্ন হন। আর তুমি দিচ্ছ আমাকে অভিশাপ! পবিত্র জলের অধীশ্বরী এই গঙ্গাকে শাপশাপান্ত করছ শান্তনু?’

রাজা শান্তনু যেন গঙ্গার কথা শুনতে পাননি। আসন ছেড়ে দাঁড়ালেন তিনি। দুই কদম সামনে এগিয়ে বললেন, ‘এখানেই শেষ নয় নারী। যে তীরভূমি নিয়ে তুমি গর্ব করছ আজ, সেই অহংকারও একদিন ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে।’

অপ্রতিভ ভঙ্গিতে গঙ্গা বললেন, ‘চুরমার হয়ে যাবে!’

‘মন্দির শোভিত, উর্বর মাটির তোমার দুই তীর একদিন দস্যুরা দখল করে নেবে। তোমার দুই তীরের সব শোভনতা ওরা নষ্ট করে দেবে। কঙ্করে কঙ্করে তোমার তীরভূমিকে রুক্ষ করে তুলবে।’ শান্তনুর কথা শুনে গঙ্গা চুপ মেরে গেলেন। বিব্রতকর অবস্থার মধ্যেও দুটি শব্দ তাঁর মাথায় ঘুরপাক খেতে লাগল। দস্যু, কঙ্কর—এসব আবার কী!

এমন একদিন আসবে, তুমি দেখে নিয়ো, এমন একদিন আসবে, ভূমি দখলের হিড়িক পড়ে যাবে এই ভারতবর্ষে। তোমার দুই তীরকে ওরা কেড়ে নেবে তোমার কাছ থেকে। নিজেদের ভোগে লাগাবে তোমাকে আর তোমার তীরভূমিকে।’

রাজার কথা শুনে একেবারেই কুঁকড়ে গেলেন গঙ্গা। অনেকক্ষণ নীরব থাকলেন। তারপর মরা গলায় বললেন, ‘ওসব তোমার উর্বর মস্তিষ্কের কল্পনা শান্তনু। এ রকম কিছুই হবে না। কোনো দিন।’

‘তুমি দেবী, আমি মানুষ। দেবতারা কোনো দিন মানুষের কথা বিশ্বাস করেনি। তুমিও করছ না আমার কথা। কিন্তু দেখে নিয়ো—কাল না হলেও ১০ বছর পরে, ১০ বছর পরে না হলেও হাজার বছর পরে আমার কথা ফলবে গঙ্গা। সেদিন হয়তো আমি থাকব না, কিন্তু তুমি থাকবে। দিন দিন তিলে তিলে তুমি লাঞ্ছনা ভোগ করে যাবে। মনুষ্যচরিত্র তো আমার চেয়ে তুমি বেশি জানো না। গঙ্গার কথা বলার শক্তি একেবারেই ফুরিয়ে গেছে। ত্রাসে তাঁর ভেতরটা একেবারেই শুকিয়ে গেছে। তাঁর মধ্যকার তেজ, অহংকর, দীপ্তি নিমেষেই ম্লান হয়ে গেছে যেন। তাঁর উদ্ধত মাথা বুকের কাছে নেমে এসেছে।

আর কোনো কথা না বলে শ্লথ পায়ে সামনে এগোলেন গঙ্গা। রাজা শান্তনু দুই বাহু ছড়িয়ে গঙ্গার সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। বললেন, ‘আমার পুত্রকে নিয়ে কোথায় চলেছ তুমি! রেখে যাও তাকে।’

‘রেখে যাব! তা কী করে হয় শান্তনু? এ যে আমার সন্তান।’

‘আমারও নয় কী!’

‘হ্যাঁ, তোমারও তো। তার পরও তুমি তো একে পাবে না শান্তনু।’

‘পাব না! পাব না মানে কী!’ রাজা শান্তনুর বিস্ময়ের সীমা থাকে না।

গঙ্গা পাথুরে গলায় বললেন, ‘পাবে না মানে, এই সন্তানকে এখন আমি তোমার হাতে তুলে দেব না। এ আমার কাছেই থাকবে। একে আমি আমার সঙ্গে করে নিয়ে যাব।’

উত্কট ভঙ্গিতে হেসে উঠলেন রাজা। বললেন, ‘যে নারী সাত সাতটি পুত্রকে হত্যা করতে পারে, অষ্টমটি কি তার হাতে নিরাপদ? তুমি কি তাকে বাঁচিয়ে রাখবে? অষ্টবসু সম্পর্কে তোমার গালগল্প যদি সত্যি হয়, তাহলে এই অষ্টম সন্তানটিকেও তো মুক্তির দোহাই দিয়ে নদীজলে বিসর্জন দেবে। শেষ পর্যন্ত তো তুমি একে হত্যা করবেই।

শান্ত গলায় গঙ্গা বললেন, ‘না শান্তনু, একে আমি বিসর্জন দেব না। এ যে অভিশপ্ত প্রভাস! এ দীর্ঘদিন এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকবে। তাকে দিয়ে যে বহু বিচিত্র ঘটনা সংঘটিত হবে এই ভূখণ্ডে।’

‘কথার ছলনায় আমাকে ভোলাতে পারবে না তুমি। ভুলিয়েভালিয়ে নিয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত তুমি একে হত্যাই করবে। নিষ্ঠুর নারী তুমি।’ গঙ্গা বললেন, ‘নিষ্ঠুরতার অপবাদ দিয়ে যাচ্ছ তুমি সেই প্রথম থেকেই। মেনে নিচ্ছি আমি। মা হয়ে নির্মমতার কাজই তো করেছি আমি। কিন্তু আমারও যে হাত-পা বাঁধা। প্রতিজ্ঞার কাছে, অষ্টবসুর মিনতির কাছে আমিও যে দায়বদ্ধ শান্তনু। তুমিই বলো, আমার কী করণীয় ছিল?

শান্তনু কিছু একটা বলতে চাইলেন। গঙ্গা তাঁকে থামিয়ে দিয়ে আবার বলে উঠলেন, ‘তোমাকে কথা দিচ্ছি শান্তনু, এই বাচ্চাটিকে আমি বিসর্জন দেব না। সে আমার সঙ্গেই থাকবে।’

রাজা যেন একটু বিব্রত হলেন। তাঁর গলা থেকে ক্রোধ উবে গেল। যে উত্তেজনা তাঁকে পেয়ে বসেছিল একটু আগে, তা যেন স্তিমিত হয়ে গেছে। শান্তনু নিজের বুকে ডান হাতের বুড়ো আঙুলটা ঠেকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, আমার সঙ্গে নয় কেন?’

গঙ্গা এবার স্মিত একটু হাসলেন। বললেন, ‘তুমি মা নও বলে, তুমি পিতা বলে ও তোমার সঙ্গে থাকবে না। থাকতে পারে না।’

‘বুঝলাম না। চোখ ছোট করে বললেন, শান্তনু।

‘দেখো শান্তনু, শিশু বয়সে একজন সন্তানের কাছে মায়ের স্নেহ জরুরি। একজন মা যেমন করে সন্তানের শৈশব মন বোঝে, পিতা তেমন করে বোঝে না। তা ছাড়া মায়ের লালন-পালনের মধ্যে শিশু যথার্থভাবেই বড় হয়ে ওঠে। তুমি একে তার মাতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত   কোরো না।’ বলে গেলেন গঙ্গা। রাজা শান্তনু অস্থির প্রকৃতির নন। তিনি স্থিতধী। বিবেচক। আবেগের চেয়ে যুক্তি তাঁর কাছে বড়। গঙ্গার যুক্তি যথাযথ—এটা বুঝতে না পারার মতো কথা নয় তাঁর। তিনি বুঝতেও পারছেন। কিন্তু তার পরও বোধ মানছে প্রাণ। বোধ মানবেই বা কী করে? গত কয় বছর ধরে, বিশেষ করে গত কয়েক ঘণ্টা ধরে যে ঝড় বয়ে যাচ্ছে, তাতে রক্ত-মাংসের যেকোনো মানুষের বিচলিত হওয়ার কথা। আর যা-ই হোক, চোখের সামনে দিয়ে ঔরসজাত সন্তানকে নিয়ে যাচ্ছে তারই গর্ভধারিণী, আর শুধু নিয়ে যাওয়া তো নয়, অলৌকিক ঘটনার দোহাই দিয়ে তাকে হত্যা করতে উদ্যত হচ্ছে, এটা তো সাধারণ অসাধারণ যেকোনো পিতার পক্ষেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। শান্তনু মেনে নেননি। মেনে নেবেন কী করে! ঘটতে যাওয়া ব্যাপারটি যে তাঁর ভেতরটাকে একেবারে তছনছ করে ফেলেছে। সাত-সাতজন পুত্র সন্তানের হত্যা, গঙ্গার নির্বিকার আচরণ এবং শেষ পুত্রটিকে নিয়ে যাওয়ার জেদ—এসব রাজা শান্তনুকে উদ্বেগাকুল করে তুলল। তাই তাঁর কণ্ঠস্বর স্বাভাবিক নয়, উত্কণ্ঠিত। বললেন, সবই তো বুঝলাম, কিন্তু ওর নিশ্চয়তা কে দেবে?’

এবার শব্দ করে হেসে উঠলেন গঙ্গা। বললেন, ‘এত কিছুর পরও মনে রেখো আমি ওর মা। মা যেমন করে তাঁর সন্তানদের লালন-পালন করেন, যেমন করে গড়েপিঠে মানুষ করেন, একেও সে রকম করে গড়ে তুলব আমি।’

নির্মম কথাটি শান্তনুর মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো এবার, তুমি শত্রু না মিত্র—বুঝে উঠতে পারছি না আমি।’ ‘বুঝে ওঠার আর দরকার নেই শান্তনু। তোমাকে ছেড়ে যাচ্ছি আমি। কথা দিচ্ছি—ছেলেটি বড় হলে তোমার কাছে ফিরিয়ে দিয়ে যাব আমি।’

নদী-নায়িকা গঙ্গার কথা শুনে চোখ বড় করে তাকালেন শান্তনু। গঙ্গা আবার বললেন, ‘শুধু এমন নয়, যদি কোনো দিন আমাকে আন্তরিকভাবে ডাকো, এসে উপস্থিত হব। কিন্তু তখন আমি তোমার মহিষী গঙ্গা নই, দেবী গঙ্গা।’

কথা শেষ করে গঙ্গা পুত্র কোলে রাজপ্রাসাদ থেকে বেরিয়ে গেলেন।

 চলবে►►

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা