kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

ঠিকানা ছিল না বলেই বেঁচে গেলাম

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর জন্ম ২৩ জুন ১৯৩৬ সালে বিক্রমপুরে। তিনি একাধারে শিক্ষক, প্রাবন্ধিক ও সামাজিক আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব। ৮৪তম জন্মদিন উপলক্ষে গত ১৫ জুন তাঁর এই সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন শ্যামল চন্দ্র নাথ

২১ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



ঠিকানা ছিল না বলেই বেঁচে গেলাম

প্রশ্ন : আপনি ইছামতী নদীর ধারে বড় হয়েছেন। পদ্মা নদী ও গঙ্গাকেও পেয়েছেন। নদীর স্মৃতি ও শৈশব আপনাকে তাড়িত করে?

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী : ইছামতীর পাশেই বড় হয়েছি। প্রথমে ইছামতী নদী, তারপরে যখন রাজশাহীতে গেলাম, সেখানে পেলাম পদ্মা নদী, এরপর যখন কলকাতায় গেলাম তখন পেলাম গঙ্গা নদী। আবার যখন ঢাকায় এলাম তখন পেলাম বুড়িগঙ্গা। এই চারটি নদী আমার স্মৃতিতে আছে। একেবারে ছোটবেলায় আমরা ইছামতীর পাশেই কাটিয়েছি, তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমরা গ্রামেই ছিলাম। ওই ইছামতী নদী খাল দিয়ে যুক্ত ছিল আর আমাদের খুব নিচু এলাকা। বছরের ৯ মাসই খালে প্রচুর পানি থাকত। খালগুলো নদীরই সংযোগসূত্র ছিল। তারপর বাবার অফিস সূত্রে চলে এলাম রাজশাহীতে।

তখন রাজশাহীর পদ্মা পেলাম। ক্লাস থ্রি থেকে সেভেন পর্যন্ত আমরা রাজশাহীতে ছিলাম। ক্লাস এইটে চলে গেলাম কলকাতায়, আমার বাবার চাকরির বদলির জন্য। ওখানে গিয়ে গঙ্গা নদী পেলাম। সেখানে বেশি দিন থাকতে পারলাম না। আমরা ছেচল্লিশের শেষে গেলাম, সাতচল্লিশের আগস্টেই চলে এলাম। কিন্তু পদ্মা নদীর স্মৃতিটা আমার খুব মনে আছে।

প্রশ্ন : কিভাবে লেখালেখিতে এলেন?

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী : আমার পড়তে ভালো লাগত। আমি খেলাধুলা করতাম। খেলতে গিয়ে পা ভেঙে গেল। প্রায় দেড় মাস কাটল বই পড়ে। রবীন্দ্রনাথ ও শরত্চন্দ্রের বই পড়ে অনুপ্রাণিত হই ও লেখালেখিতে আসি। 

প্রশ্ন : আপনি আড়িয়াল বিল রক্ষায়, লালন আখড়া রক্ষায়, ২০০১ সালে পরিবেশ আন্দোলন করে সফলও হয়েছেন। এই গঙ্গা থেকে পদ্মা কিংবা বুড়িগঙ্গা সব নদীই নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে দূষণে। এটাকে কিভাবে দেখেন?

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী : এটা তো আমাদের বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেখে আসছি। এই নদীগুলো দূষিত হচ্ছে। যখন আমরা বুড়িগঙ্গায় এলাম, তখনো দেখলাম এই দূষণ। আমি ময়মনসিংহে গেলাম। ওখানে আদি ব্রহ্মপুত্র ছিল, সেটা তখনই খুব স্তিমিত, এখন তো নেই প্রায়। আমরা যখন ঢাকায় এলাম তখন বুড়িগঙ্গা বেশ প্রাণবন্ত ছিল। সদরঘাট ছিল আমাদের জন্য একটা বিনোদনের জায়গা। বুড়িগঙ্গা দূষিত হয়ে গেছে, দখল হয়ে গেছে। বুড়িগঙ্গা এখন মৃতপ্রায়। এটাকে যদি আমরা প্রতীক হিসেবে দেখি, তাহলে দেখব, যে ব্যবস্থার মধ্যে আমরা আছি এই ব্যবস্থাটি পুঁজিবাদী ব্যবস্থা। এই পুঁজিবাদী ব্যবস্থা মানুষ ও প্রকৃতি দুটির সঙ্গেই শত্রুতা করছে। মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে যে সম্পর্ক, এই সম্পর্ক তো মানবিক সম্পর্ক। মানুষ প্রকৃতিরই একটা অংশ। প্রকৃতিরই একটা প্রজাতি। প্রকৃতির মধ্যেই সে আছে। প্রকৃতির সঙ্গে তার যে সম্পর্ক, সেটা পুঁজিবাদ এসে ভেঙে দিয়েছে। পুঁজিবাদ মানুষকে পণ্য উত্পাদনের জন্য ব্যবহার করছে। ব্যবহারের ফলে ক্রমাগত যে প্রকৃতি ধ্বংস হচ্ছে—ফলে প্রকৃতি একটা ভয়ংকর জায়গায় চলে গেছে। আমাদের যে নদী ছিল এটি নষ্ট হয়ে গেছে। এটি  শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা পৃথিবীতেই এটি হচ্ছে। এর ফলে জলবায়ুতে পরিবর্তন আসছে, এর ফলে ধরিত্রী উত্তপ্ত হচ্ছে। জলের যে স্তর সেটা বেড়ে যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের একটা অংশ পানির তলে তলিয়ে যাবে।  এটাকে আমরা সামষ্টিকভাবে দেখতে পারি, পুঁজিবাদের যে দৌরাত্ম্য, এটা সব শেষ করে দিচ্ছে। সারা পৃথিবীতে পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে মানুষ সোচ্চার হচ্ছে। আমরা যদি প্রকৃতিকে বাঁচাতে চাই, তাহলে পুঁজিবাদকে রুখতে হবে। প্রকৃতিকে বাঁচানো মানে মানুষকে বাঁচানো।

প্রশ্ন : আপনি সব সময়ে বলেছেন, ‘সামাজিক বিপ্লব না ঘটলে ব্যক্তি হয়তো ধর্মনিরপেক্ষ হওয়ার চেষ্টা করবে, ক্ষেত্রবিশেষে সফলও হবে, কিন্তু সমাজে ও রাষ্ট্রে ধর্মনিরপেক্ষতা আসবে না।’ আপনি সামাজিক বিপ্লব কিংবা সমাজতন্ত্রের কথা বলছেন, সেটি এই মুহূর্তে সম্ভব বলে মনে করেন?

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী : এটা হচ্ছে আমাদের স্বপ্ন, সামাজিক বিপ্লব। এখন আমরা যেটা দেখতে পাচ্ছি, পুঁজিবাদ সে তার চরম অবস্থায় পৌঁছে গেছে। এখন সে নানা অস্ত্র ব্যবহার করছে। সে রাষ্ট্রগুলোকে ব্যবহার করছে নিপীড়নের জন্য এবং যারা বঞ্চিত মানুষ, তাদের যতভাবে নিপীড়ন করা যায়। তার পরে সে ধর্মকে ব্যবহার করছে। আসল বিরোধটা তৈরি করছে শ্রেণির সঙ্গে শ্রেণির।

এই শ্রেণিবিভাজন একটা আড়াআড়ি বিভাজন। আবার খাড়াখাড়ি বিভাজনও তৈরি করছে যেমন—ধর্ম, বর্ণ, নারী-পুরুষ; আবার তৈরি করে উগ্র জাতীয়তাবাদ, আঞ্চলিকতা, এসব অস্ত্র তারা ব্যবহার করছে। তারা নিপীড়ন করছে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে। তারা যুদ্ধ বাধাচ্ছে, তারা মাদক ছড়াচ্ছে, তারা অস্ত্র উত্পাদন করছে, তারা খাদ্যসংকট তৈরি করছে; কিন্তু খাদ্যের কোনো অভাব নেই। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হাতছাড়া হচ্ছে। এই সব কিছুর কারণ হচ্ছে, পুঁজিবাদের অন্তিম দশা এবং ফ্যাসিস্ট দশা প্রকট হচ্ছে।

এটা কেমন করে সম্ভব হবে? এটা সম্ভব হবে সামাজিক বিপ্লবের মাধ্যমে। এটা সম্ভব হবে কেমন করে, তা আমরা রুশ বিপ্লবের মধ্যে দেখেছি। সেই বিপ্লব ছড়িয়েছিল। কিন্তু পুঁজিবাদ ছলে বলে কৌশলে, নিপীড়ন করে, বিভ্রান্ত করে ওই ব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়েছে। এটা এখন বিকেন্দ্রিক অবস্থায় সারা পৃথিবীতে বিপ্লব ছড়িয়ে পড়বে। এটা না হলে মানুষের কোনো ভবিষ্যৎ নেই, পুঁজিবাদ মানুষের ভবিষ্যৎ শেষ করে দিচ্ছে। এটা হবে মানুষের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। সংস্কারের মধ্য দিয়ে হবে। 

প্রশ্ন : আপনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। পরপর দুইবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু কেন তা গ্রহণ করলেন না?

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী : না, আমি সব সময় নিজেকে শিক্ষক হিসেবে দেখার চেষ্টা করেছি। প্রশাসনিক দায়িত্ব নেব, তা কখনো মনে করিনি। যেমন ধরা যাক—আমি বিভাগের চেয়ারম্যান হয়েছি; আবার বিভাগীয় ডিনও হয়েছি। কিন্তু ভাইস চ্যান্সেলর হওয়ার পুরোপুরি যে দায়িত্ব, সেটার প্রতি আগ্রহ ছিল না। তাহলে জিজ্ঞেস করা হতে পারে যে কেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলাম? আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলাম একটা আদর্শগত কারণে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে স্বায়ত্তশাসন, সে শাসনের প্রধান একটা বিষয় হলো নির্বাচন। আমি ওই কাঠামোর সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। আমি সব সময়ই প্রতিষ্ঠানবিরোধী যে ধারা, সে ধারার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। উপাচার্য নির্বাচনের জন্য যে প্যানেল তৈরি হয়, সে প্যানেলে আমার নাম ছিল। আমরা তো সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করিনি বা নিইনি। আমরা সংগ্রাম করেছিলাম স্বায়ত্তশাসনের জন্য। বাংলাদেশ স্বাধীন না হলে এই স্বায়ত্তশাসনটা আসত না কখনো। আমরা আশা করেছিলাম যে গণতান্ত্রিক একটা ধারা দেশে তৈরি হবে; বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরি হবে। আমরা ওই গণতান্ত্রিক ধারাকে সামনে একটা দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যেভাবেই নির্বাচিত হবেন বা হোন না কেন, তাঁদের মধ্যে মতাদর্শগত পার্থক্য থাকবেই। শিক্ষকদের যদি মতাদর্শ না থাকে, তবে কাদের থাকবে? আমাদের চিন্তাই ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বায়ত্তশাসন। 

প্রশ্ন : আপনি ১৯৭১ সালে একটা চরম বিপদ থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। কিভাবে বেঁচে গেলেন?

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী : আমার চরম বিপদ যেটা হচ্ছে, তা হলো একাত্তর সালে। একাত্তর সালে শুধু আমিই বিপদে ছিলাম না, সব মানুষই বিপদে ছিল। আমি বেঁচে গেলাম কাকতালীয়ভাবে। পুরোপুরি কাকতালীয় বলা যাবে না, সতর্কতার জন্য। আমরা তখন স্বায়ত্তশাসনের জন্য আন্দোলন করছি বিশ্ববিদ্যালয়ে। আমরা বুঝতে পারছি যে পরিবর্তন হবেই। কিভাবে হবে? বুঝতে পারছি না। কিন্তু এটা বুঝতে পারছি, বাংলাদেশ স্বাধীন হবে। ২৩ মার্চ। আমরা আন্দোলন করছি। তখন আমাদের একটি সংগঠন ছিল, নাম—লেখক সংগ্রাম শিবির। আমরা ওই প্রতিষ্ঠান থেকে একটা আলোচনাসভা করলাম বাংলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘ভবিষ্যতের বাংলা’ শিরোনামে। আমি সেখানে বললাম, আগামী দিনের বাংলা হবে ধর্মনিরপেক্ষ। অন্যরা গণতন্ত্র ও অন্যান্য বিষয়ে বললেন। আমাকে যিনি সাহায্য করলেন, বেঁচে থাকতে তিনি পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে ছিলেন। এসপি, স্পেশাল ব্রাঞ্চ। এপ্রিল মাসেই তাঁদের কাছে তালিকা এসেছে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ঠিকানা দাও। আর্মির লোকেরা চেয়েছে। তিনি দেখতে পেলেন আমার নাম চার নম্বরে রয়েছে। তিনি আমাকে জানালেন। ২৫শে মার্চ আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলাম, ২৬শে মার্চ কারফিউ উঠে যাওয়ায় ২৭ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে গেছি, এটা আমার বাঁচার অন্যতম কারণ। এর আগেই বুঝে ফেললাম যে আমি নিরাপদ নই। আমাকে পালিয়েই থাকতে হবে। সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার মধ্যে পা দিইনি। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে একদিন এসে অনেক দিনের সই করে দিতাম। সবচেয়ে খারাপ লেগেছে যেটা, তা হলো আমাদের মধ্যে যাঁরা সিনিয়র ছিলেন, তাঁরা অনেকেই শহীদ হয়েছেন। যেমন শহীদ হয়েছেন জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা। খান সরওয়ার মুর্শিদ চলে গেছেন ওপারে। তারপর কে এম এ মুনিম, তিনি চলে গেছেন গ্রামে। তখন আমি বিভাগে যোগ দিয়েছি নামকাওয়াস্তে। এখন দেখি, আমাকে বিভাগের প্রধান করে দিলেন। আমি আতঙ্কিত হয়ে গেলাম এই কারণে যে তাহলে তো আমি মারাই যাব, যদি আমাকে অফিসে আসতে হয়। তখন আমাদের উপাচার্য ছিলেন আবু সায়ীদ চৌধুরী, তিনি চলে গেছেন বিদেশে। তখন  ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ছিলেন আব্দুর রব সাহেব, ওনার কাছে গিয়ে কাঁদো কাঁদো হয়ে বললাম, তিনি সহানুভূতিশীল মানুষ। তিনি বললেন—কাকে রাজি করা যায়! উনি তখন বললেন, মুনীর চৌধুরী আসেন বিভাগে, তাকে  ডিনের দায়িত্ব দিতে পারেন। তখন উনি বললেন, আপনি যদি গিয়ে মুনীর চৌধুরীকে রাজি করাতে পারেন। আমি ভয়ে ভয়ে মুনীর চৌধুরীর কাছে গেলাম। উনি রাজি হলেন। দ্বিতীয় উপায় হলো এই যে আমার শুভানুধ্যায়ী শিক্ষক ছিলেন সৈয়দ আলী আশরাফ। তিনি ছিলেন করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে। তো সেখানে বেলুচিস্তানে একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছিল। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের গুজরাটি ভদ্রলোকের সঙ্গে আলী আশরাফের পরিচয় আছে, তখন উনি বললেন, স্টাফ লাগবে। আলী আশরাফ আমার নাম ঢুকিয়ে দিয়েছেন। উনি আমাকে লোক পাঠিয়ে বলেছেন, তোমার বাঁচার একটাই উপায়, তুমি ওখানে চলে যাবে, ওখানকার বিভাগের প্রধান হবে। ওদিকে ওই গুজরাটি ভদ্রলোকও অ্যাপয়েনমেন্ট লেটার পাঠিয়েছেন। তখন আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, যাব না। তখন তাঁকে একটা টেলিগ্রাফ পাঠালাম, আমি দুঃখিত আমি যোগ দিতে পারব না। কেননা আমার মা অসুস্থ।

প্রশ্ন : এরপর তো টিক্কা খান আপনাদের ছয়জনকে চিঠিও দিয়ে গেলেন।

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী : এরপর সেপ্টেম্বরে টিক্কা খান যাওয়ার আগে তিনি ছয়জন শিক্ষকের নাম দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ছিলেন ড. মো. এনামুল হক, মুনীর চৌধুরী, নীলিমা ইব্রাহিম, আবু মোহাম্মদ হাবীবুল্লাহ, মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং আমি। আবদুল হক সাহেব আমাদের চিঠি দিলেন। উনি নিজেও কন্টেটও জানেন না। তখন সেকেন্ড সেপ্টেম্বর ওই চিঠি আমরা নিচ্ছি। যেমন করে প্রাইজ ডিস্ট্রিবিউশন হয়, তেমন করে উনি আমাদের প্রত্যেকের হাতে চিঠি ধরিয়ে দিচ্ছেন। ওটা আরেকটা ঘটনা, যেটা আমাকে সতর্ক করে দিল। তারপর তো আমি বুঝলাম, আমি মোটেই নিরাপদ নই। তারপর ১৪ ডিসেম্বরে আলবদররা যাঁদের খুঁজছিলেন সেখানে আমার নাম ছিল। ওই ডায়রিতে নাকি আমার নাম ছিল; কিন্তু ঠিকানা ছিল না। ঠিকানা ছিল না বলেই আমি বেঁচে গেলাম। এভাবেই আমি বাঁচলাম।

প্রশ্ন : ২৩ জুন আপনার ৮৪তম জন্মদিন। জন্মদিন নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী : জন্মদিন নিয়ে আমার কোনো ভাবনা নেই। জন্মদিন পালনের আমার কোনো ইচ্ছা নেই। যখন আমি কম পরিচিত ছিলাম, তখনই ভালো ছিলাম, অনেকেই আমার খোঁজখবর নিত না।

মন্তব্য