kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

বিশ্বসাহিত্য

৩১ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



 

 জুডিথ কার

জুডিথ কার আর নেই

বিশ্বজুড়ে শিশুদের জনপ্রিয় গ্রন্থ ‘দ্য টাইগার হু কেম টু টি’ গ্রন্থের লেখক ও ইলাস্ট্রেটর জুডিথ কার আর নেই। হঠাত্ অসুস্থ হয়ে গত ২৩ মে তিনি মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। ৫০ বছরেরও বেশি দীর্ঘ লেখক ক্যারিয়ারে জুডিথ কার শিশুসাহিত্যের ক্লাসিক বলে পরিচিত ‘দ্য টাইগার হু কেম টু টি’, ‘হোয়েন হিটলার স্টোল পিংক র্যাবিট’, ‘মগ দ্য ফরগেটফুল ক্যাট’সহ ৩০টির বেশি বই রচনা ও ইলাস্ট্রেশন করেছেন। এর মধ্যে ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত ‘দ্য টাইগার হু কেম টু টি’ বইটি বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তোলে। এক মা ও তার মেয়ের নাশতা খাওয়ার সময় একটি বাঘ এসে উপস্থিত হয় তাদের টেবিলে। বাঘটি তার সামনে যা খাবার পায় তা-ই চেটেপুটে খেয়ে বিদায় নেয়। এমন মজার গল্প এ বই। বইটি বিশ্বজুড়ে ৫০ লাখ কপিরও বেশি বিক্রি হয়েছে এ পর্যন্ত। অনুবাদ হয়েছে ৩০টিরও বেশি ভাষায়। ১৯২৩ সালে বার্লিনে জন্ম জুডিথের। তিরিশের দশকে জার্মানিতে নািসদের উত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর লেখক বাবা পরিবার নিয়ে জার্মানি ছেড়ে প্যারিসে আশ্রয় নেন। পরে সেখান থেকে লন্ডনে স্থায়ী হন তাঁরা। জুডিথের প্রকাশক হারপার কলিন্স জানান, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই লেখক তাঁর লেখালেখি চালিয়ে গেছেন। সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছেন জুডিথ।

 

উইল ইভস

ওয়েলকাম জিতলেন ইভস

ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ও গণিতবিদ অ্যালান টুরিংয়ের জীবনীর ভিত্তিতে লেখা উপন্যাস জিতে নিয়েছে এ বছরের যুক্তরাজ্যের ওয়েলকাম বুক প্রাইজ। ব্রিটিশ লেখক উইল ইভসের উপন্যাসটির নাম ‘মারমার’। বিচারকরা ‘মারমার’কে ভবিষ্যতের ক্লাসিক উপন্যাস হিসেবে অভিহিত করেছেন। উপন্যসটি নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের বক্সিং রিংয়ে নামা প্রথম ট্রান্সজেন্ডার মানুষ টমাস পেইজ ম্যাকবির স্মৃতিকথা ‘আমেচার : আ ট্রু স্টোরি অ্যাবাউট হোয়াট মেইকস আ ম্যান’ এবং সন্দীপ জাওহারের লেখা দেহযন্ত্রের ইতিহাস ও এ সম্পর্কে স্বীয় পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত গ্রন্থ ‘হার্ট : আ হিস্ট্রি’র মতো গ্রন্থকে টপকে পুরস্কার জিতেছে। ওষুধ ও স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ফিকশন ও ননফিকশনের ওপর ৩০ হাজার পাউন্ড অর্থমূল্যের মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারটি দেওয়া হয়। টাইমস সাহিত্য সাময়িকীর সাবেক আর্টস এডিটর ইভস ‘মারমার’কে প্রথমে ছোটগল্প হিসেবেই লিখেছিলেন। পরে এটাকে তিনি উপন্যাস হিসেবে গড়ে তোলেন। এটি তাঁর পঞ্চম উপন্যাস। বর্তমানে ওয়ারউইক ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ইভসের অন্যান্য উপন্যাসের মধ্যে ‘দ্য ওভারসাইট’, ‘নাথিং টু বি অ্যাফ্রেইড অব’, ‘দিস ইজ প্যারাডাইস’ উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া তাঁর ‘সাউন্ড হাউজেস’ নামে একটি কবিতার বইও রয়েছে।

ভিকি লাভু-হারভি

শেষ হাসি ভিকিরই

‘নিজেকে হঠাত্ করেই রূপকথার দেবীর মতো মনে হচ্ছিল যেন’—কথাগুলো বলেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার লেখক ভিকি লাভু-হারভি তাঁর প্রথম গ্রন্থ ‘দ্য ইর্যাটিকস’ অস্ট্রেলিয়ার মর্যাদাপূর্ণ স্টেলা প্রাইজের জন্য মনোনীত বইয়ের দীর্ঘ তলিকায় স্থান করে নেওয়ার পর। আত্মজীবনীমূলক এ গ্রন্থটি যখন সংক্ষিপ্ত তালিকায়ও জায়গা পায়, তখন তিনি বলেন, ‘স্বপ্ন দেখেছিলাম স্টেলার সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পাওয়ার। কারণ এই পুরস্কার নারী লেখকদের অনুপ্রেরণা দেয়। যদি পুরস্কার জিতে যাই তাহলে আমি অনুষ্ঠান মঞ্চেই জ্ঞান হারাব।’ ভিকির বইটি সত্যি সত্যিই ৫০ হাজার ডলার অর্থমূল্যের স্টেলা প্রাইজ জিতে নিয়েছে। বহু বছর বিচ্ছিন্ন থাকা শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ মায়ের শুশ্রূষা করার জন্য ভিকির শৈশবের গ্রামে ফিরে যাওয়ার সংগ্রাম ও ত্যাগ উঠে এসেছে এই গ্রন্থে। বিচারকদের মতে, এটি একটি পরিবারের সংকট এবং শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার ‘শ্বাসরুদ্ধকর’ ও ‘অকৃত্রিম’ বর্ণনা। একটি অখ্যাত প্রকাশনা সংস্থা ভিকির বইটি প্রকাশ করেছিল। পরে হারপার কলিন্সের সঙ্গে বইটি প্রকাশের ব্যাপারে চুক্তি হয় ভিকির। এ বছর স্টেলার সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পাওয়া অন্য বইগুলো ছিল—জেনি অ্যাকল্যান্ডের ‘লিটল গডস’, এনজা গ্যানডলফোর ‘দ্য ব্রিজ’, জেমি ম্যারিনা লাউয়ের ‘পিংক মাউন্টেন অন লোকাস্ট আইল্যান্ড’, মেলিসা লুকাশেংকোর ‘টু মাচ লিপ’ এবং মারিয়া টুমারকিনের ‘অ্যাক্সিওমেটিক’।

►রিয়াজ মিলটন

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা