kalerkantho

রবিবার । ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৭ রবিউস সানি                    

লেখার ইশকুল

রাশিয়ার স্যাফো সোফিয়া পারনক

দুলাল আল মনসুর   

৩১ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাশিয়ার স্যাফো সোফিয়া পারনক

সোফিয়া পারনক ছিলেন রুশ কবি, সাংবাদিক ও অনুবাদক। মাত্র ছয় বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু। সমকালীন কবিদের থেকে একেবারেই আলাদা ও নিজস্ব ধারায় কবিতা লেখা শুরু করেন তিনি। রাশিয়া সম্পর্কে তাঁর নিজের ধ্যানধারণার কথা প্রকাশ করেন কবিতায়। সাংবাদিক হিসেবেও কাজ করেন।

পারনকের বাবা ছিলেন ফার্মাসিস্ট এবং মা চিকিত্সক। তিন ভাই-বোনের মধ্যে পারনক বড়। ছোট যমজ ভাই-বোনের জন্মের সময় মা মারা যান। তাঁদের পরিবারে ছিল বুদ্ধিবৃত্তিক আবহ। সেকেন্ডারি স্কুলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত পড়াশোনা ছিল বাবার কাছে। পারনকের মতো তাঁর ছোট ভাই ভ্যালেন্তিনও স্কুলজীবন থেকেই কবিতা লেখেন। ছোট বোন লিজাও বড় হয়ে নামকরা শিশুসাহিত্যিক হন। পারনকের মা মারা যাওয়ার পর বাবা জার্মান গভর্নেসকে বিয়ে করেন। পরিবারে বস্তুগত অভাব-অনটন না থাকলেও সত্মায়ের কাছ থেকে ভালোবাসার উষ্ণতা পাননি তাঁরা। ফলে পারনক মনে করেন, বাধ্য হয়ে তাঁকে দ্রুত বড় হতে হয়েছে; তাঁর কোনো শৈশব-কৈশোর নেই। কবিতা লেখার শুরুর সময়টাতে ক্ষয়িষ্ণু কিংবা প্রতীকী ধারার কবিতার প্রচলন চলছিল; তাঁর ভাইয়ের ছোটবেলার কবিতায় সে প্রমাণ পাওয়া গেলেও সোফিয়ার কবিতায় পাওয়া যায় না। তাঁর কবিতা শৈল্পিক উদ্দেশ্যের প্রতি যতটা সাড়া দিয়েছে, তার চেয়ে বেশি সাড়া দিয়েছে মনস্তাত্ত্বিক প্রয়োজনের প্রতি।  

সোফিয়া পারনকের কবিতায় থাকে ট্র্যাজেডি এবং কাকতালের মেলোডির মিশ্রণ। প্রথম কবিতার বইয়ের নাম ‘পোয়েমস’, প্রকাশ করেন ১৯১৬ সালে এবং সর্বশেষ বইয়ের নাম ‘নিচু স্বরে’, প্রকাশকাল ১৯২৮। তাঁর কবিতা নিয়ে গবেষণা করার সময় গবেষকদের দৃষ্টি বেশির ভাগ পড়েছে মারিয়া সুয়েতায়েবার সঙ্গে সম্পর্কের সময়ে লেখা কবিতার দিকে। তবে তাঁর সবচেয়ে ভালো কবিতাগুলো লিখেছেন ১৯২৮ সালের পর। এ রকম প্রায় এক শ কবিতা লেখা হয় ১৯২৮ থেকে ১৯৩৩ সালের মধ্যে। অবশ্য এ কবিতাগুলো প্রকাশ করা হয় তাঁর মৃত্যুর অনেক পর। মানুষের মনের যন্ত্রণা, মৃত্যু, স্মৃতি, মাটি-পানি-বাতাস-আগুন, উষ্ণতা, শীতলতা, রোগ-ব্যাধি, মানসিক অসুস্থতা—এসব বিষয় নিয়ে কবিতা লেখেন পারনক। তাঁর পরিপক্ব সময়ের কবিতাগুলোর ভাষা সহজ-সরল, পঙিক্তগুলো সংক্ষিপ্ত এবং কবিতার ছন্দে বৈচিত্র্যের ব্যবহার দেখা যায়। আবেগ প্রকাশের সময়  আগের যুগের রোমান্টিক কবিতার শৈলী পরিহার করে সোজাসাপ্টা ভাষা ব্যবহার করেন। কবিতার মধ্যে কথোপকথনের সুর তৈরি করেন।

১৯১৩ সালের পর থেকে বেশ কয়েকজন নারীর সঙ্গে তাঁর ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়। সেসব সম্পর্কের কারণেই সৃষ্টিশীল সত্তা আরো বেশি মাত্রায় জেগে ওঠে বলে তাঁর বিশ্বাস ছিল। মারিয়া সুয়েতায়েবা, লিউদমিলা এরারস্কেয়া, ওলগা সুবারবিলার, মারিয়া মাকসাকোবা এবং নিনা ভেদেনেয়েবার সঙ্গে সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে পাঁচটি কাব্যগ্রন্থ এবং কয়েকটি গীতিনাটক লেখেন। তাঁদের সঙ্গে এ রকম সম্পর্কের কারণে এবং কবিতায় স্পষ্টবাদিতার কারণে তাঁকে রাশিয়ার স্যাফো বলা হয়।

একসময় তিনি ফরাসি কবি শার্ল বোদলেয়ারের কবিতা ও গদ্যের অনুবাদ শুরু করেন। তবে স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে আর সে অনুবাদ বেশিদূর এগিয়ে নিতে পারেননি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা