kalerkantho

মঙ্গলবার। ২০ আগস্ট ২০১৯। ৫ ভাদ্র ১৪২৬। ১৮ জিলহজ ১৪৪০

ধারাবাহিক উপন্যাস মৎস্যগন্ধা

মৎস্যগন্ধা

হরিশংকর জলদাস

৩১ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



মৎস্যগন্ধা

অঙ্কন : মানব

গঙ্গা উন্মাদিনীর মতো মহর্ষি গৌতমকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কোথায় নিয়ে যেতে চাও তুমি আমায়, হ্যাঁ? কোন নরকে যাব আমি?’

গৌতম ষাষ্ঠাঙ্গে প্রণিপাত করে বললেন, ‘নরকে নয় মা, মর্ত্যে নিয়ে যেতে চাই আপনাকে। জলের অভাবে সেখানকার সব প্রাণী আজ নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে। বন-অরণ্য-মাঠ-উপত্যকা আজ খাঁ খাঁ করছে মা। অভাবের কারণে, খাদ্যের অপ্রতুলতায় পৃথিবীতে আজ পাপ বেড়ে গেছে। আপনার সামনে সেসব থেকে পৃথিবী মুক্ত হবে মা।’ খরাপীড়িত পৃথিবীর কথার সঙ্গে নিজের পাপের কথাটিও কৌশলে মিশিয়ে দিলেন গৌতম।

ততক্ষণে গঙ্গার মন শান্ত হয়ে এসেছে। কোমল কণ্ঠে বললেন, ‘আমাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে চলো।’

‘চলুন মা। আমার পিছু পিছু আসুন।’ গৌতম গঙ্গাকে গাভি নিধনের স্থানে নিয়ে গেলেন, যেখানে যেখানে খরার তাণ্ডব, যেখানে যেখানে দুর্ভিক্ষের মহাপ্রকোপ, সেখানে সেখানে নিয়ে গেলেন। ধীরে ধীরে পৃথিবী আবার শস্য-শ্যামলা নদীমেখলা হয়ে উঠল। মহর্ষি গৌতমও গাভিমাতা নিধনের পাপ থেকে মুক্তি পেলেন।

সেই থেকে বহু বহু বছর ধরে গঙ্গা এই ধরিত্রীতে বয়ে চলেছেন। তাঁর তীরে তীরে বহু রাজধানী, বাণিজ্যকেন্দ্র গড়ে উঠেছে। হস্তিনাপুর তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম।

বুকের তলায় হাহাকার নিয়ে, দেহে রূপের ঐশ্বর্য নিয়ে এতটি বছর কাটিয়ে দিলেন গঙ্গা। জানেন তিনি—মহাদেবের কাছে তাঁর প্রত্যাবর্তন অসম্ভব। মহাদেবের শরীর সান্নিধ্য সুদূরপরাহত। কিন্তু গঙ্গারও তো মন আছে, মনে তারুণ্য আছে, কাউকে নিজের করে পাওয়ার জন্য তাঁর হূদয়ও তো চঞ্চল হয়ে ওঠে।

একদিন গঙ্গা জল থেকে উঠে এলেন। অদূরে হর্ম্যরাজি শোভিত রাজধানী হস্তিনাপুর। তীরে কিছু দূর হাঁটার পর তাঁর চোখে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য পড়ল। তিনি দেখলেন—নদীকূলে অতীব সুদর্শন এক রাজপুরুষ ধ্যানে মগ্ন। এই রাজপুরুষ আর কেউ নন, চন্দ্রবংশীয় রাজা প্রতীপ। তিনি হস্তিনাধিপতি, কুরুবংশীয় শ্রেষ্ঠ নৃপতিদের একজন। গঙ্গা প্রতীপের দিকে ভালো করে তাকালেন। তাঁর সুচারু মুখ, মুদিত চক্ষুদ্বয়, উন্নত নাসিকা, রাজটিকাসংবলিত ললাট, গৌরবর্ণ, তমালসম দেহকাণ্ড গঙ্গার মধ্যে আলোড়ন তুলল। গঙ্গা শিহরিত হলেন। কামদেব তাঁর ওপর ভর করলেন। আলুয়িত পদক্ষেপে তিনি ধ্যানরত প্রতীপের কাছে এগিয়ে গেলেন। গঙ্গার মনে হলো—এই পুরুষটিই তাঁর বহুদিনের তৃষিত দেহের তৃষ্ণা মেটাতে পারবেন, এই সেই পুরুষ, যিনি মহাদেবের বিকল্প হতে পারেন, এই সেই পুরুষ যাঁকে তিনি দীর্ঘদিন খুঁজে ফিরছেন। মনে মনে গঙ্গা প্রতীপকে দেহসঙ্গী হিসেবে কামনা করে বসলেন।

কিন্তু কী উপায়ে ওই রাজপুরুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন তিনি। চোখ খোলা থাকলে না হয় চোখে চোখে মিলন হতো। দর্শনই হয়তো রাজপুরুষটিকে তাঁর সৌন্দর্যে, তাঁর দেহসৌষ্ঠবে বিভোর করত। কিন্তু পুরুষটির যে মুদিত নয়ন! কী করা? গঙ্গার মাথায় বুদ্ধি খেলে গেল। তিনি জানেন—নারী দেহের স্পর্শ যেকোনো পুরুষকে মাতোয়ারা করে তোলে। নারী সঙ্গের মাদকতা কোনো পুরুষই অস্বীকার করতে পারে না। গঙ্গা ঠিক করলেন—ধ্যানমগ্ন পুরুষটির দেহলগ্ন হবেন তিনি। তাতেই তাঁর কার্যসিদ্ধি হবে। পুরুষটি রোমাঞ্চিত হবেন এবং তাঁকে একান্তে পাওয়ার জন্য আকুল হয়ে উঠবেন।

বিলোল পদক্ষেপে গঙ্গা প্রতীপের একেবারে কাছে গেলেন। তপস্যারত রাজা প্রতীপের ডান জানুর ওপর বসে পড়লেন তিনি। দ্রুত ধ্যান ভাঙল রাজার। বিস্মিত-বস্ফািরিত চোখে তাকিয়ে দেখলেন—তাঁর ডান ঊরুতে দিব্যকান্তির একজন মোহিনী নারী বসে আছে।

বিহ্বল রাজা প্রতীপ। নিজেকে সংযত আর সংহত করতে কিছুক্ষণ সময় নিলেন। তারপর শান্ত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কে তুমি কল্যাণী?’

‘কল্যাণী! কে কল্যাণী? আমি কল্যাণী নই, আমি নারী, ভুবনমোহিনী নারী আমি।’ চটজলদি উত্তর দিলেন গঙ্গা। মৃদু একটু হাসলেন নৃপতি প্রতীপ। স্নিগ্ধ চোখে গঙ্গার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘কী চাও তুমি মা?’

মা! পাগল নাকি লোকটা! এমন সুশোভবন নারী তিনি, এমন শিহরণ জাগানিয়া রূপ তাঁর, সে রকম একজন নারীকে সম্বোধন করছেন মা বলে! কোলে বসা কোনো রমণীকে কেউ মা ডাকে। ভাবলেন গঙ্গা। গঙ্গার মনের কথা রাজা প্রতীপ বুঝতে পারলেন। স্নেহকোমল গলায় বললেন, আমি বুঝতে পারছি—তুমি আমাকে কামনা করেই আমার ঊরুতে বসেছ। কিন্তু কল্যাণী, তুমি যে সম্ভবত ভুল করে বসেছ একটা।

‘ভুল করে বসেছি। মস্তবড়। কী ভুল করেছি আমি।’ অবাক কণ্ঠে জানতে চাইলেন গঙ্গা।

গঙ্গার কথা শুনে রাজা নিরুত্তর রইলেন। গঙ্গা আবার বললেন, ‘আপনি যথার্থ বুঝতে পেরেছেন—আমি আপনার প্রতি অনুরক্ত হয়েছি। আপনাকে প্রার্থনা করছি আমি। আমার প্রার্থনায় কোনো খাদ নেই।

নিজের করেই আপনাকে পেতে চাই আমি।

রাজা প্রতীপ এবার বললেন, ‘তুমি আমাকে যথাযথভাবে না জেনেই কামনা করে বসেছ নারী। আমি প্রতীপ। কুরুবংশের নৃপতি আমি। ওই হস্তিনাপুর আমার রাজধানী।’

‘তা মানলাম। নৃপতি হলে কি নারীর বাসনা পূরণ করতে নেই?’ ব্যঙ্গ গঙ্গার কথায় ঝলসে উঠল।

রাজা বললেন, ‘না, তা নয়। রাজা হয়েও এই মুহূর্তে নারী বাসনা পূরণে আমি যে অপারগ কল্যাণী। আমি যে বিবাহিত। আমার ঘরে যে পুত্রকন্যা।’

‘বিবাহ, সন্তান—এসবকে তো বাসনা পূরণের অন্তরায় বলে আমি মনে করি না।’

তুমি ঠিক বলেছ কল্যাণী। পৃথিবীতে অনেক রাজা তুমি খুঁজে পাবে, যাঁরা দ্বিতীয়, তৃতীয় নয় শুধু, বহুবার বিয়ে করেছেন।’

‘তাহলে আপনার বেলায় বাধা কোথায়?’

‘ওই যে তোমার ভুলটাই বড় বাধা নারী।’

‘কী ভুল করেছি আমি।’

‘ভুল স্থানে বসেছ তুমি।’

‘ভুল স্থানে—কোন ভুল জায়গায় বসেছি আমি। আপনার ঊরুতেই তো বসেছি। একজন অনুরাগিনীর ওটাই তো বসার স্থান।’

‘না কল্যাণী, না। তুমি বসেছ আমার ডান জানুতে।’

‘হ্যাঁ তো! তাতে কী হয়েছে?’

‘হয়েছে, হয়েছে নারী, ভুল হয়েছে।’

‘কী ভুল, বলবেন তো?’ কণ্ঠ ক্ষুব্ধ গঙ্গার।

‘ডান ঊরু অনুরক্তার জন্য নয়। অনুরক্তা বা সহধর্মিণী যা-ই বলো, তার জন্য বাম ঊরু।’

‘কী বলছেন এসব আবোলতাবোল?’

আমি ঠিকই বলছি কল্যাণী। শাস্ত্রে এই বিধি নির্দিষ্ট হয়ে আছে যে ডান ঊরু সন্তান আর পুত্রবধূর জন্য নির্ধারিত।’

‘আর...।’ গঙ্গার মুখে কথা ফুরিয়ে এলো। রাজা প্রতীপ কোমল গলায় বললেন, ‘বাম ঊরু স্ত্রীর ভোগ্য। তুমি আমার বাম ঊরুতে না বসে ডান ঊরুতে বসেছ।’

‘তাহলে...।’ শেষ চেষ্টায় কিছু বলতে চাইলেন গঙ্গা।

রাজা বললেন, ডান ঊরুতে বসে তুমি আমার সন্তান বা পুত্রবধূতে পর্যবসিত হয়েছ। আমি তোমাকে বিয়ে করতে পারি না নারী। তবে...।’ থামলেন প্রতীপ।

‘তবে কী?’ গঙ্গা জিজ্ঞেস করলেন।

‘আমি আমার পুত্রবধূ হিসেবে তোমাকে প্রার্থনা করছি কল্যাণী।’

‘পুত্রবধূ।’

‘হ্যাঁ, পুত্রবধূ। মধ্যমপুত্র শান্তনুর মহিষী হিসেবে তোমাকে নির্বাচন করছি আমি। তুমি আমাকে কথা দাও—শান্তনুকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করবে তুমি।’

গঙ্গা বেশ কিছুক্ষণ অধোবদনে থাকলেন। মুখ তুললে দেখা গেল তাঁর মুখমণ্ডল বিষণ্নতায় ছেয়ে আছে। না-পাওয়ার বেদনা তাঁর চোখে-মুখে স্পষ্ট। কিছু একটা বলতে গিয়ে থমকে গেলেন। রাজা প্রতীপের দিকে তাকালেন তিনি। কাকুতিভরা দৃষ্টি নিয়ে রাজা তখন গঙ্গার দিকে চেয়ে আছেন। দৃষ্টি বলছে—তুমি রাজি আছ তো মা, শান্তনুকে বিয়ে করতে? বড় ভালো ছেলে শান্তনু। সে ভালোবাসতে জানে। তুমি যদি তাকে বিয়ে করো, দেখে নিয়ো অনেক বড় ক্ষতির বিনিময়েও সে তোমার ভালোবাসার দাম চুকিয়ে যাবে।

গঙ্গা কী বুঝলেন কে জানে। পেছন ফিরলেন তিনি। শ্লথ পায়ে গঙ্গার দিকে এগিয়ে গেলেন গঙ্গা। বেশ কিছু কাল কেটে গেল। প্রতীপের পর শান্তনু হস্তিনাপুরের রাজা হলেন। কালক্রমে গঙ্গাপারে গঙ্গাকে দেখে মোহিত হলেন শান্তনু। উভয়ের মধ্যে বিয়ে হলো। বিয়ের আগে ছদ্মবেশী গঙ্গা শান্তনুর সামনে শর্ত রাখলেন—দাম্পত্যজীবনে গঙ্গার কোনো কাজে বাধা দিতে পারবেন না শান্তনু। শর্তের কাঠিন্য আর গভীরতা না বুঝেই রাজি হয়ে গেলেন শান্তনু। তার পর তো অনেক দিনের বৈবাহিক জীবন। গঙ্গার গর্ভে শান্তনুর দেবোপম প্রথম পুত্র জন্ম নিল। নবজাত পুত্রকে গঙ্গা স্বয়ং নদীবক্ষে বিসর্জন দিয়ে এলেন। স্তম্ভিত শান্তনু শর্ত মেনে নীরব রইলেন। এমনি করে সাত বছরে নবজাত সাতটি পুত্রকে গঙ্গা নির্বিকারে নদীজলে বিসর্জন দিলেন। শান্তনু শোকে মুহ্যমান হলেন। তার পরও গঙ্গাকে তাঁর কাজে কোনো বাধা দিলেন না বা কোনো প্রশ্নও করলেন না। কিন্তু অষ্টমবারে শান্তনু আর স্থির থাকতে পারলেন। খেপে গেলেন তিনি। গঙ্গার শর্তকে উপেক্ষা করলেন শান্তনু। গর্জে উঠলেন—নিষ্ঠুর নারী তুমি। তোমার মধ্যে সন্তানস্নেহ বলে কি কিছুই নেই? আমার এতগুলো সন্তানকে হত্যা করেছ তুমি!

স্বরূপধারী গঙ্গা বলে উঠেছিলেন, ‘হ্যাঁ, আমি সেই গঙ্গা, পুণ্যতোয়া গঙ্গা। মহাদেবের এককালের স্ত্রী গঙ্গা। হিমালয়ের তিন সন্তানের একজন আমি। তোমার কি মনে আছে—বাবার নাম বলেছিলাম নগেন্দ্রনাথ। পর্বতের অন্য নামই তো নগ। বাবা আমার পাহাড়দের সম্রাট। তাই তো তিনি নগেন্দ্রনাথ। মায়ের নাম বলেছিলাম—মনোরঞ্জনী। আমার মায়ের প্রকৃত নাম মেনকা। ওই নামের আরেক নারী স্বর্গ-অপ্সরী। দেবতাদের মনোরঞ্জন করাই ওই মেনকার কাজ। তাই মায়ের নাম বলতে গিয়ে মনোরঞ্জনী বলেছিলাম। তবে আমার মা মেনকা স্বগ-অপ্সরী নন, নামেই শুধু যা মিল।’

রাজা শান্তনু হা করে গঙ্গার দিকে তাকিয়ে আছেন। তাঁর সব কথা যেন ফুরিয়ে গেছে।

‘তোমাকে বিয়ে করেছি, শুধু তোমার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে নয়, তোমার দেহলগ্নতা আমার কাম্য ছিল, এটা অস্বীকার করব না। এ ছাড়া অন্য একটা গভীর কারণও ছিল।’

‘অন্য একটা গভীর কারণ ছিল।’ ঢোক গিলে জিজ্ঞেস করলেন শান্তনু।

‘হ্যাঁ, রাজা। একটা মর্মন্তুদ ঘটনা, কিছু অসহায়ের আকুতি এবং একজন নারীর সহানুভূতি—এসব তোমাকে আমার বিয়ে করার প্রধান কারণ।’

রাজা ব্যাগ্র হয়ে বললেন, ‘আমি আপনার সব কথা স্পষ্ট করে বুঝতে পারছি না। মর্মন্তুদ ঘটনা, অসহায়ের আর্তনাদ, নারীর সহমর্মিতা—এ কথাগুলোর মানে কী!’

‘মানে আছে। এ কথাগুলোর গূঢ়ার্থ আছে। তার আগে বলো—তুমি আমাকে কী ভেবেছিলে?’

‘প্রথমে মনে হয়েছিল—আপনি একজন সর্বাঙ্গসুন্দর নারী। একজন যুবতীর মধ্যে যত রকম আকর্ষণক্ষমতা থাকার কথা, তার চেয়ে অনেক বেশি সৌষ্ঠব আপনার মধ্যে বর্তমান। বিবাহিত জীবনের প্রথম দিকে আপনি প্রমাণও দিয়েছেন—স্ত্রী হিসেবে, মর্মসহচরী হিসেবে আপনি অনন্যা।’ রাজাকে যেন কথায় পেয়ে বসেছে।

‘প্রথম দিককার কথা বললে, শেষের দিকে কী মনে হয়েছে? হালকা কৌতুক ঝিলিক দিয়ে উঠল গঙ্গার কণ্ঠে।

‘শেষের দিকে বলছেন কেন, বিয়ের বছর দেড়েকের মাথায় আমার মনে হতে থাকল—আপনি একজন নিষ্ঠুরতম রমণী। মাঝেমধ্যে মনে হতে লাগল—আপনি রাক্ষসী নন তো? রাক্ষসীরাই তো নিজের গর্ভজাত সন্তানকে এমনভাবে হত্যা করতে দ্বিধা করে না।’

‘একজন নারী হয়ে, সন্তানের গর্ভধারিণী হয়ে আমি কি এমনি এমনি এই কাজ করেছি শান্তনু?’ বুকফাটা একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো। একটু থেমে গঙ্গা আবার বললেন, আটজন  দৈবশিশুকে উদ্ধার করার জন্য আমি পুত্রহত্যার মতো অপরাধ করেছি রাজা।’

বিমূঢ় ভঙ্গিতে গঙ্গার দিকে চেয়ে থাকলেন শান্তনু। প্রশ্ন করতে ভুলে গেলেন—দেবশিশু! উদ্ধার! কাদের উদ্ধার করার জন্য নিজ সন্তানদের জীবন্ত অবস্থায় নদীজলে বিসর্জন দিলেন আপনি?

গঙ্গা শান্তনুর মনোভাব বুঝতে পারলেন। বললেন, ‘যদি সন্তান নিধনের কারণ জানতে চাও, তাহলে বৃত্তান্তটি শুনতে হবে। শুনবে?’

  চলবে

মন্তব্য