kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

জোখা আলহার্থির ম্যান বুকার জয়

দুলাল আল মনসুর

৩১ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে




জোখা আলহার্থির ম্যান বুকার জয়

‘সিলেস্টিয়াল বডিস’ উপন্যাসের জন্য ২০১৯ সালের ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল পেলেন ওমানের কথাসাহিত্যিক জোখা আলহার্থি। আরবি থেকে তাঁর উপন্যাস ইংরেজিতে অনুবাদ করেন মার্কিন শিক্ষাবিদ এবং অনুবাদক মেরিলিন বুথ। প্রকাশ করেছে স্যান্ডস্টোন প্রেস। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অনূদিত উপন্যাসের জন্য তিনিই প্রথম পেলেন ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কার।   

জোখা আলহার্থি পড়াশোনা করেছেন ওমান ও যুক্তরাজ্যে। ক্ল্যাসিক আরবি সাহিত্যের ওপর এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি করেছেন। আলহার্থি বর্তমানে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন ওমানের সুলতান কাবুস বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাঁর লেখা ইংরেজি, জার্মান, ইতালীয়, কোরীয় ও সার্বীয় ভাষায় অনূদিত হয়েছে। আলহার্থিও উপন্যাস ‘নারিনজাহ’, ‘মানামাত’, ‘সাইদাত আল-কামার’; তাঁর কবিতার বই ‘প্রেমের কবিতা’, গল্প সংকলন ‘ফি মাদিহ আল-হাব’, ‘সাবি আলা আল-সাথ’, ‘মাকাতি মিনসিরাত লুবনা ইতহ আনা আল-রাহিল’ এবং শিশুসাহিত্য ‘মেঘের ইচ্ছে’ ও পাখিদের জন্য বাসা’। ২০১৬ সালে তাঁর ‘নারিনজাহ’ উপন্যাসের জন্য সংস্কৃতি শিল্প ও সাহিত্য শাখায় সুলতান আল কাবুস পুরস্কার লাভ করেন।

‘সিলেস্টিয়াল বডিস’ উপন্যাসে তিন বোনের বেড়ে ওঠা ও ইতিহাসের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক এবং পারিবারিক সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে। মায়া, আসমা ও খাওলা তিন বোন। মায়ার বিয়ে হয় আবদাল্লাহর সঙ্গে। আর বিয়ে করার কারণ হিসেবে আসমা মনে করে, এটা তার দায়িত্ব, তাই বিয়ে করতে হচ্ছে। অন্যদিকে তৃতীয়জন খাওলা কোনো বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হয় না। কারণ তার প্রেমিক আছে বিদেশে, কানাডায়। এদের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত আরো অনেক চরিত্র বিচরণ করে চারপাশে। উত্তর-উপনিবেশকালে ধীরে ধীরে বদলে যাওয়া ওমানের পটভূমিতে তৈরি হয়েছে উপন্যাসের কাহিনি। বর্তমানের ক্রান্তিলগ্নে ওমান দেশটি নিজ সত্তার নতুন পরিচয় গ্রহণ করছে—এমন একটি সময় ধরা হয়েছে এখানে। যে সংস্কৃতির চিত্র এ উপন্যাসে তুলে ধরা হয়েছে সেটি পশ্চিমা জগতে তুলনামূলকভাবে স্বল্প পরিচিতি। তবে লেখকের উপস্থাপনা আকর্ষণীয়।

‘সিলেস্টিয়াল বডিস’ একরৈখিক উপন্যাস নয়; বরং একে ঘটনার মোজাইক বলা যায়। প্রথম কয়েক অধ্যায়ের প্রধান বিষয়বস্তুগুলোর মধ্যে যেসব ফাঁকফোকর দেখা যায়, গোটা উপন্যাসজুড়ে চলে সেগুলো ভরাট করার কাজ। প্রথম দিকে তৈরি হওয়া রহস্যগুলোর ক্রমাগত সহাবস্থান তৈরি করা হয়। সবটি একসঙ্গে মাথায় রাখা বেশ পরিশ্রমের কাজ বটে। এ উপন্যাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, কাহিনির টুকরাগুলো জোড়া লেগে যাওয়ার পরও কিছু কিছু ফাঁকফোকর থেকেই যায়। বিয়ে প্রধান বিষয়বস্তু হলেও মেয়েদের বড় হওয়া, দাসদের মালিকানা, পুরুষতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ ও শাসনের ধরন—এগুলোও প্রধান বিষয়ের চারপাশে ঘুরতে থাকে। আর মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক এ উপন্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। উদাহরণ হিসেবে মায়ার সঙ্গে আবদাল্লাহর বিয়ের প্রসঙ্গ আসতে পারে। মায়া আবদাল্লাহকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করে ঠিকই; কিন্তু ভালোবাসা দিয়ে গ্রহণ করার মানসিকতা থাকে না। সে বিষয়টি জানার পর আবদাল্লাহর তরফে মায়ার এই মানসিকতা গ্রহণ করার মধ্যে থাকে চাপা দুঃখ। তার মুখ থেকে শোনা যায়—

ভালোবাসা সম্পর্কে তোমার কি সামান্যতম ধারণাও ছিল না, মায়া? কাবার চারপাশে এক, দুই, তিন, সাতবার পর্যন্ত তীর্থযাত্রী যেভাবে প্রদক্ষিণ করেন, আমি সেভাবে তোমার বাড়ির চারপাশে ঘুরেছি। তুমি কি অনুভব করতে পারোনি, আমি কিসের মধ্যে ছিলাম তখন? আমার অমিত আবেগ ধারণ করার মতো পরিসর একটা বাড়ির থাকবেই বা কী করে! তাহলে এ-ও কি সম্ভব, সেলাই মেশিনের ওপর নিবদ্ধ তোমার চোখ দুটি আমার ভালোবাসার জটিল, বিশাল ব্যাপ্তি আর বন্দি আমাকে কখনো দেখতেই পায়নি?

অবশ্য আকাশের মেঘের ওপারে বিমানে বসে জীবনের কথা ভাবতে আবদাল্লাহর মনে হতে থাকে, জীবনে অনেক সুখ সে পেয়েছে, তবু কথা থেকেই যায়। আরো অনেকের সম্পর্কের অপূর্ণতার কথা বলা হয় এ উপন্যাসে। মায়ার ছোট বোন খাওলা অপেক্ষায় আছে, তার প্রেমিক ফিরে আসবে বিদেশ থেকে। বিয়ের ভালো ভালো প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়, একদিন তার কাঙ্ক্ষিত মানুষটি ফিরে আসবেই। আবদাল্লাহর মা অল্প বয়সে মারা যাওয়ার পেছনে শুধুই দুর্ভাগ্য বলে কিছু নয়, তার পেছনে অন্য কিছু কাজ করেছে, বোঝা যায়। বেদুইন নারী নাজিয়ার রূপের ছটায় আবদাল্লাহর বাবা নিজের স্ত্রীকে অবহেলা করতে শুরু করে। নাজিয়ার রূপ চাঁদের মতো। আবদাল্লাহর মা সালিমা বুঝতে পারে তার প্রতি স্বামীর টান কমে যাওয়ার রহস্য। তবু সে শুধু অপেক্ষায়ই থাকে, স্বেচ্ছায় ফিরবে স্বামী।

যেহেতু ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কার পাওয়া আরব উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রথম লেখক জোখা আলহার্থি এবং তিনিই ওমানের প্রথম নারী লেখক, যাঁর উপন্যাস আরবি থেকে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে, তাঁর এ পুরস্কার পাওয়ার পর আরবি ও উপসাগরীয় অঞ্চলের সাহিত্যের প্রতি পাঠকের আগের চেয়ে আরো নিবিড় দৃষ্টি পড়বে। জনপ্রিয়তা আরো বাড়বে। এ প্রসঙ্গে জোখা আলহার্থি বলেন, ‘ভাবতে ভালো লাগছে, মানুষ ‘সিলেস্টিয়াল বডিস’ পড়বে; তবে এ-ও আশা করি, পাঠক আরো আরবি ও উপসাগরীয় সাহিত্য পড়তে চাইবে। ওমানের সাহিত্য বৃহত্তর পরিসরে পঠিত ও আদৃত হবে—সেটা নিশ্চয়ই একটা ভালো সুযোগ।’

বছর দশেক আগে তিনি এডিনবরায় ক্লাসিক্যাল আরবি কবিতার ওপর ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের জন্য কাজ করেন। এ সময়ই তাঁর মনে একটা স্পষ্ট চিন্তা আসে, পরিবর্তনশীল ওমানের পটভূমিতে তিন বোনের জীবন এবং সম্পর্ক নিয়ে উপন্যাস লিখবেন। তিনি বলেন, ‘তখনই আমার মনের ভেতর উপন্যাসের কাহিনি ও চরিত্রগুলো খানিকটা তৈরি হয়ে গেছে। তবে উপন্যাস শুরুর আসল কারণটা হলো, আমি তখন বেশ গৃহকাতর ছিলাম। সুতরাং ওমানের এসব মানুষের কথা লেখার বিষয়টাকে আমার মনের মধ্যে জায়গা দিলাম।’

উপন্যাসটি লেখার সময় ভাবতেই পারেননি, তাঁর উপন্যাস এত বড় সম্মানের পুরস্কার পাবে। কারণ তখন ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কার বর্তমানের এই অবস্থায় ছিল না। এত দিন আগে লেখা উপন্যাস এতটা বিশাল পরিসরের আলোচনায় চলে আসবে, ভাবতে পারেননি তিনি। তাঁর লেখকসত্তা সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সব লেখকই সময়ের সঙ্গে বদলে যান। আমিও এ উপন্যাসটি এখন লিখলে হয়তো এভাবে লিখতাম না। তবে আমি এ উপন্যাসটি নিয়ে গর্বিত, এর আন্তর্জাতিক অস্তিত্ব নিয়ে গর্বিত।’

‘সিলেস্টিয়াল বডিস’ বিখ্যাত হওয়ার গোড়াপত্তন হয় স্কটিশ প্রকাশনা স্যান্ডস্টোন প্রেস যখন এ উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশের দায়িত্ব গ্রহণ করে। স্যান্ডস্টোন প্রেস প্রকাশনার মহাপরিচালক রবার্ট ডেভিডসন বলেন, ‘এই প্রতিভাধর ঔপন্যাসিককে  ইউরোপ এবং বাকি বিশ্বের নজরে আনার ক্ষেত্রে আমাদের ভূমিকা সম্পর্কে আমরা অবিশ্বাস্য রকমের গর্বিত। এটা চমত্কার একটা উপন্যাস; ইতিহাস, একটি জাতি ও তাদের সম্ভাব্য ভবিষ্যেক বাস্তবের চেহারা দিয়েছে এ উপন্যাস।’   

‘সিলেস্টিয়াল বডিস’কে এবারের ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনালের জন্য মনোনীত করেন পাঁচজন বিচারক। তাঁদের প্রধান ছিলেন ইতিহাসবিদ, লেখক ও সংবাদ পাঠক বেটানি হিউজ। আরো ছিলেন অনুবাদক ও পিইএন প্রধান মরিন ফ্রিলি, দার্শনিক প্রফেসর অ্যাংগি হবস, প্রবন্ধকার ও ঔপন্যাসিক পঙ্কজ মিশ্র এবং ঔপন্যাসিক এলনাথান জন। এ উপন্যাসটি সম্পর্কে বেটানি হিউজ বলেন, ‘এ বইটি হূদয় ও মনকে সমানভাবে জয় করে নিতে পারে। পাঠ করার পরও দীর্ঘ সময় রেশ থেকে যায়। উপন্যাসের গতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই চলে আন্তঃসম্পর্কে জড়িত ভিন্ন ভিন্ন স্বর ও সময়ের ধারা। মোলায়েম শৈল্পিক শক্তি পাঠককে চমত্কার কল্পিত সম্প্রদায়ের ভেতরে নিয়ে যায়—সময় ও নৈতিকতা সম্পর্কিত গভীর প্রশ্ন এবং আমাদের যৌথ ইতিহাসের অস্বস্তিকর উপাদানকে বশে আনার মতো করে উপস্থাপন করে এ উপন্যাস। জাতিবাদ, দাসত্ব ও লিঙ্গবাদকে কৌশলে সূক্ষ্মভাবে ব্যবহারজীর্ণ হওয়া থেকে নিরত রাখা হয়েছে। এভাবেই উপন্যাসের বিষয় ও শৈলীর রূপকে প্রকাশ করা হয়েছে। কবিতা ও প্রাত্যহিক জীবনের ভাষার লয় বজায় রেখে অনুবাদের মধ্যে যথার্থতা এবং গীতিময়তা রক্ষা করা হয়েছে। যে শক্তি আমাদের আটকে রাখে এবং যে শক্তি আমাদের মুক্ত করে দেয়—দুটোকেই জাগিয়ে দেয় ‘সিলেস্টিয়াল বডিস’। 

ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কারের তহবিল জোগান দিয়ে এসেছে ম্যান গ্রুপ। ২০১৯ সালের পুরস্কার দেওয়ার মাধ্যমে এ পুরস্কারের পৃষ্ঠপোষকতার আঠারো বছর পূর্ণ করল ম্যান গ্রুপ। বুকার প্রাইজ ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টিরা এ বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করেন, মাইকেল মরিজ কেবিই এবং তাঁর স্ত্রী হ্যারিয়েট হেমানের দাতব্য ফাউন্ডেশন ক্র্যাঙ্কস্টার্ট জুনের ১ তারিখ থেকে বুকার প্রাইজ ও ইন্টারন্যাশনাল বুকার প্রাইজের নতুন পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কাজ শুরু করবে। ক্র্যাঙ্কস্টার্ট প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছর কাজ করার সব শর্ত পূরণ করেছে এবং আরো পাঁচ বছর কাজ করতে পারবে—এমন এখতিয়ার রেখেছে। জুনের ১ তারিখ থেকে আদি বুকার প্রাইজ আগের নামে ফিরে আসবে এবং অনুবাদ সাহিত্যের পুরস্কারটির নাম হবে ইন্টারন্যাশনাল বুকার প্রাইজ।

উল্লেখ্য, চলমান নিয়ম অনুযায়ী ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কারের পঞ্চাশ হাজার পাউন্ডের অর্ধেক পেয়েছেন মূল লেখক এবং অর্ধেক পেয়েছেন অনুবাদক। এ বছর জোখা আলহার্থির উপন্যাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংক্ষিপ্ত তালিকায় ছিল অ্যানি এরনক্সের ‘দ্য ইয়ার্স’, মারিওন পোশমানের ‘দ্য পাইন আইল্যান্ড’, ওলগা টোকার্কজুকের ‘ড্রাইভ ইউর প্লো ওভার দ্য বোনস অব দ্য ডেড’, হুয়ান গ্যাব্রিয়েল ভাসকেসের ‘দ্য শেইপ অব দ্য রুইনস’ ও আলিয়া ট্রাবুকো জেরানের ‘দ্য রিমেইন্ডার’।

 

ভালোবাসার প্রশংসায়

জোখা আলহার্থি

অনুবাদ : দুলাল আল মনসুর

আমি ভালোবাসতাম তার লোহিত রক্তকণিকা, ভালোবাসতাম তার শ্বেতরক্তকণিকা, তার শার্টের বোতাম, তার থোরাকিক কেভিটি বোনস, তার যকৃত, তার জুতা, তার নীল ফিশপ্লেট, তার বাড়ি থেকে ১০ মাইল দূরের নুড়ি, তার পায়ের মেডুলা, তার চুলের গোড়া, তার কালো চা, তার সস্তা সিগারেটের প্যাকেটের রানির ছবি, পানি ঢুকে পড়া তার মোবাইল ফোন, তার চুরি যাওয়া নতুন ক্যামেরা-মোবাইল ফোন, কি-বোর্ডের ওপরে তার আঙুলের টকাস টকাস শব্দ, তার নগরের পতাকা, তার প্লীহা, বের হয়ে আসা তার মাথার খুলির হাড্ডি, বালক বয়সে তার লাথি মারা ফুটবল, তার পান করা কটু পানি, তার ছয় বছর বয়সে যে মেয়েটা তাকে চুমু খেয়েছিল, পাড়ার ছেলেদের সঙ্গে ঈদের দিন বৃষ্টির জমাট পানির যে পুকুরে সে ডুব-সাঁতার খেলেছিল, তার মায়ের হাতের লাঠি, তার ভাইয়ের চশমা, তার বোনের কানে বিয়ের দুলের ঝিলিক, তার থাম-বোনের শ্বেত রং, তার লন্ড্রির ঝুড়ি, তার প্রতিবেশীর ছাদে বুনো ঝোপ, আমার মা-বাবা, যাদের সে মোটামুটি ন্যায্য দামে বিকিয়ে দিয়েছে, তার মুখে ইংরেজি ‘এস’ অক্ষরের উচ্চারণ: আমার সারনেইম, আমার রুটস, আমার হাউস, আমার পুষিক্যাট, আমার সিথোয়েন, আমার কালো ড্রেস। ভালোবেসেছিলাম তার আকাশের সামরিক বিমানগুলো, তার পড়ো-পড়ো স্কুলঘরটা, যে দোকান থেকে সে চেডার চিজ কিনত, তার হার্ট-মাসল, তার কসমকাটা, তার হেড নার্ভস, গুগলে ভেসে ওঠা তার নাম, তাকে গালি দেওয়া বোকাটে মেয়েটা, তার কাঠের জানালার চৌকাঠ, তার গোলাপি রঙের সোফার জাজিম, তার ব্যথা করতে থাকা দাঁত, তার টেপ-প্লেয়ারের ব্যাটারি, আর তার অতিরঞ্জিত সহানুভূতিশীলতা—এই সহানুভূতিশীলতার গুণেই তো সে আমার আদুরে চিঠিগুলো তার প্রিয় স্ত্রীর কাছে দিয়ে দেয়—তার স্ত্রী তার বিছানা পরিপাটি করে দেয়, তার খাবার রান্না করে দেয়, তার ই-মেইল বক্স থেকে ক্ষতিকর আগাছার চারা উপড়ে ফেলে দেয়, আর দেয় অমূল্য উপদেশ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা